ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 
DMP-logo-sm20140118020026-150x150

কোন একদিন আমি এক থানায় খুব জরুরি ভাবে সাধারণ ডায়েরি করাতে রাতে ৮.৩০ টার দিকে গিয়েছি । থানায় যা দেখলাম আর যা অভিজ্ঞতা হলো তাতে নিরবে নিভৃতে অবলোকন করা ছাড়া কোন উপায় ছিল না । থানায় ঢোকার সাথে সাথেই যেখানে কন্ট্রোল রুম সেখানে গিয়ে হাজির হলাম আমাকে ঢোকতে দেখেই কয়েকজন কর্তব্যরত পুলিশ ঠিক আমার সামনে পিছনে হাজির হলো খুব উৎসুক দৃষ্টি তাদের কথা বলার খুব ইচেছ যেন তাদের এক জন একটা জিজ্ঞাস করে আরেকজন আরেকটা জানতে চায় । প্রশ্নের উত্তর দিতে না দিতেই আরো অনেক প্রশ্ন কি উত্তর দিচ্ছি তা শুনলো বলে মনে হয়নি বরং তাকানোর ভঙ্গিটাই যেন ভয়ংকর, ঠিক যেন পিপাসিত, ক্ষুধিত হিংস্র জানোয়ারের মতই মনে হয়েছিল আমার তখন। আমার সাথে আমার এক দিদি ছিলেন । কার সমস্যা জানতে চাওয়াতে আমি বললাম আমার সমস্যা । তারপর তারা দিদিকে বাইরে অপেক্ষা করতে বললেন । আমি বলছি –না দিদি আমার সাথে থাকবে আমি একা থাকবোনা কিন্তু তারা বলছিল কেউ আমার সাথে থাকতে পারবেনা । কী করা সাহস নিয়ে আমি দিদিকে বললাম ঠিক আছে তুমি বাইরে থাকো ।

যে পুলিশ সাধারণ ডায়েরি করার জন্য আমাকে সাহায্য করছে উনি নানা ধরনের প্রশ্ন করছে যেমন – নাম-ঠিকানা-বয়স-স্বামীর নাম- কী করে সব কিছু । এদিকে দিদি বার বার দরজার কাছে এসে আমাকে দেখছে আমি কি করছি। আমার চোখও দরজার দিকে। এখন সমস্যার কথা বলি সে লিখে না বরং নানান কথা নিজের মত বলতে শুরু করেছে। আপনি দেখতে খুব সুন্দর, আপনাকে যে কেউ দেখলেই পছন্দ করবে খুব আকর্ষণীয় আপনার ফিগার, নানান কিছু বলতে বলতে ঠিক আমার পায়ের কাছে তার পায়ের আঙ্গুল লাগিয়ে দিতে চেষ্টা করছিল। আমি এদিকে বিরক্তিভাবে চুপচাপ বসে ছিলাম যখনই তার এমন আচরন টের পেলাম সাথে সাথে বের হলাম দিদিকে ডাকছি। দিদি তড়িঘড়ি করে এসে বলল- কি হয়েছে- কাজ শেষ?

আমি বললাম, না আর ডায়েরি করব না। এমন সময় পুলিশ এসে আমাকে অনুরোধ করছেন, আর বেশিক্ষন লাগবে না শেষ হয়ে যাবে। আমি বলছি, না আমি আর ডায়েরি করব না- কোন কথা না বলে সোজা বাসায় চলে এসেছি। সেদিন আমার আর সাধারণ ডায়েরি আর হয়নি ।

কতজন এভাবে সাধারণ ডায়েরি না করে ফিরে আসে তার কি কেউ হিসাব রাখে? আমি একমাত্র মহিলা এবং নারী হওয়ার কারনেই আর সাধারণ ডায়েরী করতে পারিনি । এর কি কোন পরিবর্তন হবে না?

slide