ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

কে কতখানি সমালোচনা বা আলোচনা করতে পারবে কোন বিষয়ভিত্তিক আলোচনায়, তার কোন মাত্রা নেই । যে যেভাবে পারছে যে যেমন যুক্তি দেখিয়ে খন্ডনের চেষ্টা চলছে তাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোও ঢেকে যাচ্ছে।  সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে সাধারন জনগনের মাঝে তুলে ধরছে যার কারণে কোনটা সত্য কোনটা মিথ্যা তা বুঝতে যেন তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে যে বিষয়গুলো নিয়ে দেশের সকল মানুষ শংকিত, চিন্তিত, ভাবিত, আতংকিত সেই সন্ত্রাস, জংগী নিয়েও বিভ্রান্তির কোন সিমারেখা নেই।  একটি মিডিয়ার নিউজ একরকম আরেক মিডিয়ার তথ্য আরেক রকম।  একটিতে যদি বলা হয় যৌক্তিকতা আছে আরেকটিতে বলে কোন প্রয়োজনই ছিলনা।  একটাতে ভাল বলে পরিবেশন হচ্ছে আরেকটাতে জঘন্য বলে পরিবেশন হচ্ছে।  মিডিয়ার নিউজ অনলাইন পেপারস এর এত সহজলভ্যতার কারনে যে যেমনভাবে পারছে সে ঠিক সেভাবেই মাত্রাহীন নিজের যুক্তি নিজের ধারনা তুলে ধরছে।  এতে বিভ্রান্ত হয়ে কত মারাত্মক পরিণতি হতে পারে তা কেউ বিচার বিশ্লেষন করে দেখেনা।

নানা মানুষের নানা মত যেমন আছে নানা যুক্তিও থাকা স্বাভাবিক, তাই বলে উল্টা পাল্টা যুক্তি দেখিয়ে মিথ্যা মিথ্যা সমালোচনা করে জনসাধারনকে বিভ্রান্ত করাটা কারো কাম্য নয়।  বর্তমানে দেশের যে পরিস্থিতি তাতে সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবেনা কিন্তু আমরা তাই দেখছি।  সরকার বিরোধী রাজনীতিবিদ, জনসাধারন সবসময়ই বলে যাচ্ছে সরকার নাটক, অভিনয় করে চলেছে। কল্যাণপুরে ৯ জঙ্গিকে মারা, জঙ্গিদের গায়ের পোষাক পরিচ্ছদ সেটাও নাকি অভিনয়।

আমার সাধারণ দৃষ্টিকোন থেকে এসব আলোচনা সমালোচনার মানে খোঁজে পাইনা। রাজনীতি দেশের জন্য জনগনের জন্য নাগরিকের জন্য কিস্তু আমার দেখায় এতটুকুও তা মনে হয়না।  জংগী বানিয়ে জনগনকে ধোকা দেয়ার জন্য সরকার নাহয় অভিনয়ই করলো তাহলে সাধারন জনগনের সামনে প্রমান করে তুলে ধরুক এ অভিনয় ও নাটকের নাট্যকার রূপকার বা লেখক কে বা কারা? পরিচালনাকারী কে সহায়তাকারী কে? কার তত্বাবধানে নাটকটি সংঘটিত হয়েছে তা তো বলেনা।  শুধু সরকারের সমালোচনা করেই জনগনকে আরো বেশী বিভ্রান্তিতে ফেলানোর মাঝেই যেন স্বার্থকতা।

সমালোচনা করার জন্যতো বাধা নেই।  গঠনমূলক সমালোচনা হোক, কল্যানমূলক সমালোচনা হোক, পথ প্রদর্শনের মত সমালোচনা হোক তার জন্যতো মানা নেই।  সরকার যা পদক্ষেপ নিবে সেটাই নাটক যদি হয়ে কি করবে তাহলে সরকার বাহাদুর?

জঙ্গিকে মারলেও দোষ জীবিত ধরলেও দোষ।  আর জীবিত ধরতে গিয়ে যদি নিজেই মরে যায় তাহলে কিভাবে জীবিত ধরবে এ সামান্য ধারনাটুকুও যেন সমালোচকদের মাথা থেকে চিন্তা লোপ পেয়েছে, তাদের উপষ্ঠাপনা শুনে তাই মনে হয়েছে।  আমাকেই যদি গুলি করে মারে তাহলে এই মৃত আমি কিভাবে জীবিত জঙ্গি ধরে আনবো আমার মাথায় তা খেলেনা।

তবে সব কিছু ছাপিয়ে জঙ্গি মানে জঙ্গিই, সে আমার দলেরই হোক বা তোমার দলেরই হোক এ মনোভাব এ মানসিকতা আনতে না পারলে আমাদের সোনার বাংলার জন্য কল্যানকর নয়।  জংগীদের কোন দল নেই, জংগীদের কোন স্থান নেই, জংগীদের জন্য কারো কোন মায়া না থাকুক এর আর যেন একটি জংগীও জীবন্ত না থাকে এ মাতৃভূমিতে এটাও সবার কামনা হওয়া উচিত।

শুধু বিরোধীতার জন্য বিরোধীতা না হোক, সমালোচনার জন্য সমালোচনা না হোক। কোন বিভ্রান্ত যেন সাধারন জনগনের মাঝে আশ্রয় প্রশ্রয় না পেয়ে একটাই আকুতি হোক সকল হৃদয়ের ‘ দেশে জংগীবাদ সমূলে ধবংস হোক, প্রিয় মাতৃভূমি মুক্তি পাক সকল ষড়যন্ত্র থেকে’।