ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

গতকাল মানে ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭ রাতে একটি ভিডিও লিংকে দেখেছিলাম যে, খোলা রাস্তায় একজন মা অসহায় ভাবে একজন নবজাতক ভূমিষ্ঠ হচ্ছিল। গর্ভবতী মা কোথায় কোনো কাজের উদ্দেশ্যে হয়তো যাচ্ছিল হঠাৎ করেই তার গর্ভজাত শিশুটির প্রাকৃতিকভাবে জন্ম হ্ওয়ার সময় হয়েছিল। এমন দুর্ভাগ্য এবং অসহায় মা এত দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিল হয়তো বা, যার কারণে উনি নিজেই ভুলেই গেছেন তার গর্ভের শিশুটির কথা যার কারণে খোলা জায়গায় রাস্তায় সব লজ্জা জলাঞ্জলি দিয়ে তার গর্ভের শিশুটির জন্ম দিতে হলো।

একটু কল্পনা করেন, কিভাবে সম্ভব? পাকা রাস্তা সবাই ব্যস্ত যার যার কাজের উদ্দেশ্যে, সাথে কোন কাপড় চোপড় নেই, আশে পাশে কোন দোকানপাট নেই, ফাঁকা রাস্তা, রাস্তার মাঝখান দিয়ে মাঝে মাঝে গাড়ি শাঁ করে চলে যাচ্ছে আর দূরে দূরে কিছু মানুষের আনাগোনা যার যার কাজে। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে রাস্তার মধ্যেই প্রসব বেদনা আরম্ভ। কোথাও আশ্রয় নেয়ার মত কাছাকাছি কোন বাড়ি নেই। এমন ব্যাথা বাধ্য হয়ে একা একাই নিজের পরনের কাপড় খুলে একটু বসার চেষ্টা যখনি ঠিক তখনি শিশুর জন্ম রাস্তার উপর, মা নিজেই হয়তো হতবাক! কোনভাবেই ধরে রাখা সম্ভব ছিলনা যার কারণে রাস্তাতেই তার নবজাতকের জন্ম দিতে হলো।

অনেকক্ষণ  মা যখন সদ্য ভূমিষ্ঠ হওয়া শিশুকে এবং নিজেকে সামাল দেয়ার জন্য প্রাণপনে চেষ্টা করছে তখন কিছু মানুষজন এসে সাহায্য করবে কি করবে না এমন ভাব তারপর কারো হাতেই তো কোন কাপড়-চোপড় নেই সেখানে দেখলাম ‍ওড়না শাড়ি বা এমন ড্রেস পরা ছিলোনা যার কারণে বাড়তি কাপড়ে শিশুটিকে জড়ানোর জন্য কোন কিছুই পাচ্ছেনা। শেষ পর্যন্ত কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে মার প্যান্ট দিয়েই শিশুটিকে মুড়িয়ে কোলে তোলা হলো। এ ভিডিও দেখার পর বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় সমস্যা রোহিঙ্গাদের কথা খুব মনে  এলো।

বিভিন্ন পত্রিকায়, টিভি সংবাদে নির্যাতনের, নিপীড়নের চিত্র, মানবতার পরাজয়ের বিভৎস চিত্রগুলো দেখতে দেখতেই নিজের অজান্তেই কেমন যেন নেতিবাচক চেতনা, অনুভূতির জন্ম হচ্ছে অবচেতন মনেই। বিশেষ করে খারাপ লাগে শিশুদের কথা চিন্তা করলে। বাস্তবে গিয়ে দেখার সুযোগ করতে পারিনি কিন্তু একটু চোখ বন্ধ করে কল্পনা করলেই যেন স্পষ্ট দেখতে পাই। থাকার ঘর নেই, খাবার পানি নেই, খাবার নেই, শূন্য চারিদিকে, কিভাবে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করবে তার কোন ঠিক ঠিকানা নেই, একটু পরে বা কালকে কী হতে পারে কিছুই জানেনা ্ এত লক্ষ লক্ষ মানুষ কিভাবে জীবনটাকে নিয়ে বেঁচে আছে চিন্তা করলে গা যেন ছম ছম করে।

’৭১ সালের যুদ্ধের কথা শুনেছি, যন্ত্রনার কথা শুনেছি, নির্যাতনের কথা শুনেছি, বর্বরতার কথা শুনেছি। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসেও এমন মানবতার পরাজয় চিন্তা করা যায়না।  পত্রিকা অনুযায়ী প্রতিদিন ৭ জন করে রোহিঙ্গা শরনার্থী  শিশুর জন্ম হচ্ছে যাদের বেঁচে থাকার কোন নিশ্চয়তা নেই । এসব নবজাতক শিশুরা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাথে সাথে কান্না করে আমাদের জন্য কি তথ্য দিচ্ছে বা কিভাবে তিরস্কার করছে অথবা কী বার্তা দিচ্ছে আমরা কেউ জানি না। শুধু এটুকু অনুধাবন করতে পারি যে কোন অশুভ সংবাদ বা অশনি সংকেতই যেন আমাদেরকে দিচ্ছে তাদের কান্নার মাধ্যমে যা আমরা জানিনা। তারা ধিক্কার দিয়ে বলতে চাইছে হয়তো বা এ পৃথিবী কলুষিত। এ মানবতা পাপীষ্ঠ। এ জগৎ দূষিত। বিশেষ করে মানুষ নামের অমানুষগুলো আরো বেশি ভয়ংকর যা নিজের অধিকারকে নিজেই ধবংস করছে নিজেদের অজান্তেই। তারপরও হাসিমাখা রোহিঙ্গা শিশুদের ছবি দিচ্ছি যা আমার এক আত্বীয় মৃত্যুঞ্জয় জেংছাম এর ধারণকৃত।

হাসি দিয়েই জীবন জয় হোক

কত কষ্ট কত যন্ত্রনা কত অনিশ্চিত তাদের জীবন, কী খাবে, কী করবে, কোথায় থাকবে, কেউ কেউ মা বাবা দুজনকেই হারিয়েছে, অসহায় এতিম তারপরও তাদের এই হাসি জানান দেয় কত পবিত্র র্নিমল এই শিশুরা কত স্বপ্ন প্রত্যাশা তাদের চোখে মূখে, তাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য যেন হাসিমূখে কাকুতি মিনতি জানাচ্ছে মানুষ নামের অমানুষগুলোকে ।