ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

অনেক দিন ধরে শুধু দেখেই যাচ্ছি। দিন, মাস, বছর যায়, নীরবে চুপচাপ দেখেই যাচ্ছি। ভেবেছিলাম, অনেক মানুষই তো এ নিয়ে মিডিয়ায় ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলে, পাতার পর পাতা লিখে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ওয়াল ভর্তি করে ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং শাস্তির দাবিতে সোচ্চার হন। তাই এসব ঘটনা তো কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু দিন যতই যাচ্ছে ততই এসব ঘটনা কমা তো দূরের কথা দিন দিন আরো যেন বাড়ছে।

কোন ধর্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হয়েছে এমন খবর চোখে পরেনি। যেহেতু এ নিয়ে সবাই সোচ্চার, তাই আমার নিজের কিছুই বলা লাগবে না, প্রতিবাদ করা লাগবে না এমনই মনে করেছিলাম। কিন্তু সবকিছুই কেমন যেন বিফল প্রতিবাদ বলেই মনে হচ্ছে।

ধর্ষণ, ধর্ষক ও ধর্ষিতা এ শব্দগুলো শুনলে বা দেখলেই শরীর-মন ও চিন্তা-ভাবনা কেমন যেন হয়ে যায়। কেমন অনুভূতি তা বলে বুঝাতে পারবো না। শুধু বলতে পারি, অনুভূতিতে এক চরম আঘাত করে সব যেন চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়।

আমাদের সামাজিক ও ধর্মীয় ভুল ব্যাখ্যা, কুসংস্কার এবং প্রচলিত ভুল প্রথাগুলোর কারণে ধর্ষণের মত অপরাধটি বন্ধ হচ্ছে না। যখনই কোনো ধর্ষণের ঘটনা ঘটে তখন সমাজ প্রথমেই মনে করে ধর্ষিতারই সব দোষ, তার নিজের কারণেই তাকে ধর্ষণ করেছে! এই মনোভাব খুব স্বাভাবিক হয়ে গেছে চারপাশে। মূলত ধর্ষিতার চালচলন, পোশাক, অবাধ বিচরণ, স্বাধীনচেতা মনোভাবকে দায়ি করা হয়। অথচ যে ধর্ষক তাকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা বা তার শাস্তি নিয়ে কমই কথা বলা হয়। এমনকি ধর্ষিতার পরিবার ও অভিভাবকদের নিয়েও আজেবাজে কথা বলতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যে সমাজে নারীদের মর্যাদা নেই, নারীদের মানুষ হিসাবে গণ্য করেনা, পণ্য হিসেবে দেখে, সেখানে এমন ভাবাটা স্বাভাবিকই বটে।

টেলিভিশন টক-শো, পেপার-পত্রিকা, রাস্তাঘাট, আড্ডাখানা, ঘরে-বাইরে সবখানেই এ নিয়ে কাদা ছোড়াছুড়ির কোন কমতি নেই। ধর্ষিতার পক্ষ নিয়ে কথা বললে বা যুক্তি দেখালেই বরং হেনস্থা হতে হয়।

 

 

ধর্ষণের ক্ষেত্রে বয়স কোনো বিষয় না। কারণ আড়াই মাসের অবুঝ শিশু থেকে শুরু করে ৬০-৭০ বছরের বৃদ্ধারাও বাদ যায় না।  ধর্ষিতাকে প্রথমেই দায়ি করার মানসিকতা যতদিনে পরির্বতন না হবে এবং ধর্ষকের শাস্তি নিশ্চিত না হবে, ততদিন এ ধরনের ঘৃণিত কাজ চলতেই থাকবে।

তবে মূল কথা হলো, মানুষকে সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিভঙ্গির পরির্বতন না হলে এমন ঘটনা কোনদিনও থামবে না, বরং বাড়তে থাকবে। যে যেখানেই যে পরিস্থিতির শিকার হোক না কেন তাকে প্রতিবাদ করতে হবে। নারীকেই সাহসী হতে হবে। পাশাপাশি ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ষক যেই হোক না কেন, মৃত্যুদণ্ডই যেন হয় ধর্ষকের সর্বনিম্ন সাজা।