ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, রাজনীতি

ভোটের দিন অনেক সচেতন নাগরিকই ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। যদিও কোনো কোনো রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, নাগরিকরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।

কে পেরেছেন, কে পারেননি সে বিতর্কে না গিয়ে যারা ভোট প্রদান করেছেন তারা কোন আশা নিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন তা একজন নাগরিকের দৃষ্টিতে সেটা তুলে ধরতে চাই।

জেফিরাজ দোলন কুবির ফেইসবুক টাইমলাইনে একটি ভোটকেন্দ্রের ছবি দেখলাম। নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় নলছাপ্রা ভোটকেন্দ্র।  বলা হচ্ছে গত ৩০ ডিসেম্বরে ভোটের দিনের ছবি এটি। এক লোক তার তিনমানের শিশুকে কোলে নিয়ে আছেন। এই শীতের সকালে শিশুটির মা ভোট দিতে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। সন্তানকোলে বাবা অপেক্ষা করছেন তাই।

আমি উপলব্ধি করি, দেশের নাগরিকরা ভোট দেওয়াটাকে একটা বড় দায়িত্ব হিসাবেই ভাবতে শিখেছে। আর তাই এত শীতের মাঝে, নানা ধরনের ভয়ভীতি ও গুজব উপেক্ষা করে এত ছোট শিশুটিকে নিয়েও ভোট দিতে চলে আসতে পারেন তারা।

লারা দারিং এর ফেইসবুকে প্রোফাইলে দেখলাম বিরিশিরির দূর্গাপুরের একটি আলোকচিত্র। সব নারী ভোটার লাইন ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ভোটাধিকার প্রয়োগে। খুবই আশাব্যঞ্জক একটি চিত্র। সবাই হাসিখুশি কারো ভিতরে যেন ভয়ের বা অনিশ্চয়তার কোনো ছাপ নেই। মনের ভিতরে  আশা-প্রত্যাশা নিয়েই উৎসব আমেজে ভোট দেওয়ার জন্য সবাই সচেষ্ট। আমি বুঝতে পারি, নারীরা নাগরিক অধিকার বা নিজেদের ভোটাধিকার নিয়ে সচেতন হয়েছেন।

অন্য এলাকার চিত্র নিজে গিয়ে না দেখলেও দেশের উত্তর সীমানার গারো পাহাড়ের পাদদেশে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় নাজিরপুর ইউনিয়নে নলছাপ্রা গ্রামের গারোদের বা গারো নারীদের সবাই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ছিল খুব আগ্রহী এবং সচেষ্ট। সে আনন্দ আমি নিজেই ধারণ করেছিলাম ক্যামেরায়।

ভোটারদের প্রথম চাওয়া থাকে যাকে ভোট দেওয়া হলো, ভোটাররা সবাই চান তিনিই যেন সংসদ সদস্য হন। অর্থ্যাৎ আমার ভোট বিফলে না যায়। এরপরের প্রত্যাশা সরকারের কাছে।

আর এবারের নতুন সরকারের কাছে সাধারণ জনগনের চাওয়াটা একটু বেশিই। বিগত বছরগুলোতে যতটুকু উন্নয়ন হয়েছে সেই উন্নয়নকে ধরে রাখা এবং সামনের পাঁচ বছরে  ইশতেহারে উল্লেখিত বিষয়গুলো যেন বাস্তবায়িত হয়।

প্রধানমন্ত্রী নিজে বারবার ঘোষণা দিয়ে আসছেন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার।  একজন নাগরিক হিসাবে সবাই জানি যে,  প্রতিটি ক্ষেত্রেই দুর্নীতি আর  ঘুষ বাণিজ্য চলে। এমনকি চারিত্রিক সনদপত্র নিতেও ঘুষ দিতে হয়। এই দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলে অন্য উন্নয়নের অন্য পরিকল্পনাগুলো পূরণ করা অনেক কঠিন  হবে।

প্রতিটি গ্রামে নাগরিক সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, যুবসমাজকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর, কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি এসেছে গত দশ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে।

নিঃসন্দেহে বলা যায় ইশতেহারে থাকা সব ওয়াদাই উন্নয়নের জন্য গুরুত্ব রাখে। ইশতেহার একবারে বাস্তবায়ন করাও সম্ভব নয় কোনো সরকারের পক্ষেই। গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইশতেহারের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে ধাপে ধাপেে এটাই নাগরিক আশা।