ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

বিয়ে পূর্ব তরুন-তরুনীর প্রেম ভালবাসা শুনতে অনেকের কাছে খুবই সুন্দর ও অনভিজ্ঞদেরকে খুব আকর্ষন করে এই শব্দগুলো। আমার যৎসামান্য অভিজ্ঞতা থাকলেও অভিজ্ঞদেরকে কাছ থেকে দেখেছি। চরম ভালবাসা একটি মনোরোগই মনে হয় আমার কাছে। কৃত্রিম ভালবাসা হল সামাজিক অপরাধ। কৃত্রিম ভালবাসাকে ছলনা, প্রতারনা , ব্ল্যাকমেইলিংয়ের সাথেও তুলনা করা চলে।

একটি পরিনত বয়সের ছেলে যদি কোন মেয়েকে পছন্দ করে বিয়ের জন্য সে সিদ্ধান্তটি অনেকাংশে সঠিক হয়। কারন ছেলেটির মধ্যে সামাজিকীকরন হয়েছে অনেকাংশে। যদি আপনি সমবয়সী ২ জন তরুন এবং তরুনীকে বিবেচনার জন্য নেন তবে দেখবেন ৫ম শ্রেনী থেকে ছেলেটি ঘর বিমূখী হয় আর মেয়েটি ঘরমূখী হয়। মেয়েটি মিশে ঘরোয়া পরিবেশের লোকজন আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বান্ধবীদের সাথে। বড় হতে থাকা মেয়েটিকে নিরাপত্তা দেয়ার জন্য তার আপন পিতা ,ভাই , চাচা, মুহরেমাত ও সমাজ উঠে পড়ে লাগে। তরুনীর প্রতি আকর্ষিত বেয়াড়া ছেলের দলকে পিছন থেকে রাশ টেনে ধরার জন্য শিক্ষক, অভিভাবক , আইন ও রাষ্ট আছে রক্তচক্ষু নিয়ে। একটি অঘোষিত নিরাপত্তার দেয়ালের ভিতর তরুনী মুসলিম সমাজে বেড়ে উঠে। কিন্তু একটি ছেলে খেলার মাঠে বা আউট অব হোমে লড়াই করে করে বেড়ে উঠে। সে বুঝতে থাকে দায়িত্ব নেয়ার বোঝাটি তার। তার আব্বার মত তাকেই দায়িত্ব নিতে হবে নিজ পরিবারের । কিন্তু বেড়ে উঠা তরুনীটি রিলাক্সে থাকে। ব্রেনটি তাকে সংকেত দেয় “ইউ আর রিলাক্সড ফর বিল্ডাপ ইউর নেক্সট জেনারেশন ” । নবম-দশম শ্রেনীতেই একটি সুন্দরী মেয়ে পেয়ে যায় অনেক প্রেমের প্রস্তাব। সে নিজেকে দামী বা ভেলুয়েবল ভাবতে থাকে । তার থেকে ৪/৫ বছরের বড় তরুনীদেরকে সে দেখে দামী গয়না আর শাড়ী পড়ে বেগম ব্যারিস্টার , বেগম ডাক্তার বা বেগম প্রকৌশলী হতে । কখনোবা কোন তরুনী হয়ে যায় কোন সরকারী কর্মকর্তা বা বড় ব্যাবসায়ী পরিবারের পুত্রবধূ। সেও পৃথিবীর সুখ গুলোকে মাত্র আর ৪/৫ বছর দুরে দেখে।

আর সে বয়সের একজন তরুনের হৃদয় ভয়ে দুরু দুরু করে সমবয়সী বা ছোট – বড় কাউকে প্রেমের প্রস্তাব দিতে। নৈতিকতা বোধে উজ্জীবিত তরুণটি দেখে তার সামনে মিনিমাম ১৫ বছর প্রয়োজন লিগেলী একটি তরুনীকে কাছে পাওয়ার জন্য। তাই সে যুদ্ধ করতে শিখে। দায়িত্ববোধ বা সামাজিকীকরন এই দিক দিয়ে ছেলেটির বেশী হয়।

অন্য দিকে তরুনীটি বড় হওয়ার প্রাক্কালীন ঘরমূখী হওয়াতে মা , ফুফু , বড়বোন , দাদী ,চাচীর সঙ্গ বেশী পায়। সে পারিবারিক অভ্যন্তরীন বিষয়গুলো অনেক বেশী জানতে থাকে। যখনই তরুনীটি ৯ম- অনার্স বয়সে একা একা পরিবারকে না জানিয়ে জীবন সঙ্গী সিলেক্ট করে তখনই তার ভূল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কারন ছেলেদের কোয়ালিটি , সামাজিক মর্যাদা , চতুরতা, ড্রব্যাক , বংশ ইত্যাদি বিষয়গুলো তরুনীটির বাপ ,ভাইয়েরা বেশী জানবে বা পরিবারে সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলে বেশী পাকাপোক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

অথচ এক্ষেত্রে তরুনীরা বার বার ভূল করছেন। তারা তাদের প্রেমের পদ্ম বিলিয়ে দিচ্ছেন। যারা সেক্সকে প্রেম ভাবেন তারা আজ আমার লিখার বিষয় নয়। কিন্তু যারা প্রেমকে জীবন সংগী সিলেক্ট করার উপায় হিসেবে দেখে তাদের জন্য আজকের নিবেদন।

অনৈতিকতার বিষবাষ্পে আক্রান্ত যে তরুন সে তরুন দেখে তার জন্য লিগেলী একজন নারীবন্ধু পেতে ১৫ বছর দরকার সেতো ছলাকলা করতে পারে । কিন্তু তরুনী তুমি কেন ভূলে যাও

“বালিকা তোমার প্রেমের পদ্ম দিওনা এমন জনকে
যে ফুলে ফুলে মধু পান করে অবশেষে ভাঙ্গে মনকে”

হে তরুনী একাএকা তোমার বিয়ের সিদ্ধান্তটি পাকাপোক্ত ও যথোপযুক্ত নয় বা না হতে পারে। তুমি তোমার বাড়ি থেকে স্থায়ী ভাবে কোথায় গিয়ে থাকবে তার সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার কিছুটা কি তোমার আব্বা বা মুহরেমাত কাউকে দেয়া যায় না?

তোমার ডেলিভারী কেসের কঠিনসময়ে তোমার আম্মু বা আপনজনদের কাছে পাওয়া তোমার জরুরী দরকার। তোমার আপন জনদের দোয়াও তোমার দরকার। তোমার গর্ভ থেকে যে কিউট বেবীটি ভূমিষ্ট হল তার বেড়ে উঠার জন্য সার্বক্ষনিক ডিরেকশন দাতা হতে পারেন একমাত্র তোমার মা। একটি সংসারের বেড়ে উঠার জন্য চারপাশে থাকা দরকার মায়ার বাধঁন।সুখময় জীবনের জন্য পারিবারিক মায়ার জাল দরকার। পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গীর বাইরে তোমার পথ চলাটা হতে পারে তোমার জন্য অনেক বন্ধুর , কষ্টকর , কন্ঠকাকীর্ন। তোমার জীবন সঙ্গী সিলেক্ট করাটা যদি তোমার কাছে ভাল ও যথোপযুক্ত মনে হয় সেটা তোমার অভিভাবককে জানানো উচিত এবং কনভিন্স করা পর্যন্ত ধৈর্য্য ধরা দরকার। তোমার একা একা পথ চলা তোমার জীবনকে অনিরাপদ করতে পারে।

হে আমার তরুনী বোন,

তোমার জন্য জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদের ১ম স্ত্রী গুলতেকিন হতে পারে একটি ভাল উদাহরন। তিনি হুমায়ুনকে হুমায়ুন বানালেন। ভাড়া করা বাসায় ধার করা ফার্নিচারে বাসর করেছিলেন ছন্নছাড়া হুমায়ুনের সাথে। কি পেলেন? তারাও কিন্তু প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন। হুমায়ুন অট্টালিকার নিমার্তা কিন্তু গুলতেকিনই। গুলতেকিনের জীবনে একটি তালাক , একটি নারী হয়ে উঠল ডিনামাইট। সোনার সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল।

তোমার জীবনে চলে আসতে পারে এমন কোন দূর্ঘটনা।

যৌবন সুন্দরে দূতিময় হে তরুনী:

যে ছেলেটি সারা জীবন তোমারমত কোন তরুনীদের উত্ত্যক্ত করেনি। ক্লাসের পড়াগুলোতে অনেকবেশী মনোযোগী ছিল । যে ছেলেটি তার যৌবনকে কন্ট্রোল করেছিল অনেক কষ্ট করে। কঠিন এক পরিশ্রম করে বাগিয়ে নিয়েছে একটি সুন্দর জব। সে ছেলেটি আশাহত হয় তোমাকে এনগেজড দেখে। সে ভূল বার্তা পায়। সমাজের সবচেয়ে নৈতিকতাবোধ সম্পন্ন ছেলেটি যদি নড়ে চড়ে যায় সমাজ ধ্বসে পড়তে পারে। কয়েকশ কুত্তার বাচ্চা সমাজের চালক নয় । একটি মাষ্টার কি(চাবি) ই সমাজের গতি সঞ্চারক। তোমাদের আচরনের কারনে সে যদি নিজেকে বদলিয়ে পেলে তবে সমাজ ধ্বংশোম্মুখ হবে। সমাজের স্থিতিশীলতার জন্যে, তোমাদের নিরাপদ ফিউচারের জন্যে তোমাদের দায়িত্বশীলতা দরকার হে তরুনী বোন…।

প্রেমিক বদলানো কোন সুখকর বিষয় নয়:
যখন তখন প্রেমিক বদলানো আরেক ভয়ংকর, আত্বঘাতি, সমাজ বিধ্বংসী মরনখেলা। তোমার প্রেমিক বদলানোর আগে দরকার ছিল এই তরুন দিয়ে তোমার চলে কিনা সেটিই গভীরভাবে যাচাই বাচাই করা।তার জন্য তুমি তোমার অভিভাবক বা তোমার আম্মুর বা কোন নির্ভরযোগ্য অভিভাবকের হেল্প নিতে পারতা। অথচ হুট করে সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রেমিক বানালা আর ধুম করে তুমি ঐ প্রেমিক পরিবর্তন কর!!! কয়দিন পর পর তোমার মনে হয় ঐটা দিয়ে তোমার চলেনা । কি আশ্চর্য্য!!!!!!

তুমি কি জান তুমি নারী জাতির কি ক্ষতি করেছ? যে তরুনটি তোমার কর্তৃক হয়রানী হয়েছে সে আস্তে আস্তে বহু নারীতে অভ্যস্ত হয়ে যাবে। যে তরুনটি ইললিগেলি কোন তরুনী কর্তৃক নাজেহাল হয়েছে সে তরুনটি ও তার বন্ধুরা কখনোই তার বউদের আর বিশ্বাস করবেনা। তার কামিনের টাকা সে পে করবেনা। বউয়ের নামে সে কোন প্রপার্টি বা সম্পদ করবেনা। একটি কৃত্রিম ভালবাসার সংসারে সে দিনাতিপাত করবে। সংসার , সমাজ , দেশের জন্য এটি মারাত্বক থ্রেড।পরিবারগুলো ভেঙ্গে যাবে। পরিবার প্রথা ভেঙ্গে যাবে। ওল্ড হোম ও চাইল্ড হোম বেড়ে যাবে। ছেলেরা মেয়েদের দায়িত্ব নিতে চাইবেনা। হে তরুনী , তোমার সাময়িক এনজয় তোমার সমলিংগকে ইনসিকিউরড করছে। তোমার অনেক আচরন সমাজে তোমার সম্মান ও আস্থা কমাচ্ছে । এমন মরন খেলা সভ্যতা বিধ্বংসী।

যদি তুমি সজ্ঞানে চাও যে ইউরোপ ,আমেরিকার ফ্রি সেক্স এদেশে আসুক , লিভটুগেদার সংস্কৃতি বা সমকামীতা এদেশে আসুক তাহলে আমার আজকের আলোচনার বিষয় তুমি নও।