ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

ধর্ম ব্যবসায়ী শব্দটি কি সঠিক ? পাঠক জানলে আওয়াজ দিবেন। আমার মনে হয় ধার্মিক ব্যবসায়ী মানে ব্যবসায়ে যে নৈতিকতা মেনে চলে বা ভাল কোন ধর্ম মেনে চলে তাকে ধার্মিক ব্যবসায়ী বলা যেতে পারে । ধার্মিক ব্যবসায়ী শব্দটিই অধিক যৌক্তিক। যদি ধর্ম ব্যবসায়ী শব্দটি সঠিক হয় তাহলে “ধর্মবিরোধী ব্যবসায়ী” এই শব্দটিকে পাঠকদের গোচরীভূত করতে চাই।

ধর্ম ব্যবসায়ী বলতে যদি বুঝানো হয় – ১. খতম পড়ে টাকা কামানো ২. মাজার পূজার ব্যাবসা ৩. তাবিজ ব্যাবসা ৪. ওয়াজ ব্যাবসা ইত্যাদি তবে আমি একমত হব কিছুটা । কিছুটা এই কারনে যে , এই বিষয় গুলো ইসলাম সম্মত না বরং ইসলামের মুল কনসেপ্ট বিরোধী। ধর্ম ব্যবসায়ী শব্দটিকে যদি খারাপ অর্থে ব্যবহার হয় তবে উপরোক্ত গুনাবলীসম্পন্নদের বলা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে যারা ইসলামী ভাবধারাকে কম সহ্য করতে পারেন তারা ধর্ম ব্যবসায়ী শব্দটিকে ব্যবহার করেন শুধু ধর্মকে প্রসারের জন্য যারা রাজনীতি করেন সেই সব রাজনীতিবিদদের জন্য । অথচ ধর্মকে প্রসারের জন্য যারা রাজনীতি করেন সেই সব রাজনীতিবিদদের রাজনৈতিক দল চলে নিজেদের পকেটের টাকায় . কর্মীদের দানে। কোন সুবিধাভোগীতো তারা ননই বরং দেশীয় ধর্মবিরোধী (তথাকথিত প্রগতিশীল) দ্বারা ও বিদেশী ইশারায় নির্যাতনের স্বীকার হন।

বিষয়টিকে যদি একটু অন্যভাবে বলতে চেষ্টা করি তবে বলা যাবে যে ইসলাম ধর্মটা থাকাতে অনেক ব্যবসায়ী সুবিধা পেয়েছেন । যেমন ঈদুল ফিতরের সময় গামের্ন্টস , টেইলার্স, কাপড় ব্যাবসায়ীদের দারুন ব্যাবসা হয়েছে। ঈদের সময়ের জন্য অনেক ব্যবসায়ী অপেক্ষা করেন অধীর আগ্রহে ব্যবসায়ীক ভাবে লাভবান হযওয়ার আশায়। সেমাই চিনি নারকেল মুরগী ঈদের সময়ে দেদারসে বিক্রি হয়। ধর্ম থাকাতে ব্যবসায়ীদের লাভ হয় ভাল। কুরবানী ঈদ এর সময় গরু ছাগলের হাট চোখে পড়বে সারা বাংলায়। ধর্ম থাকাতে অনেক পশু ব্যবসায়ী সুবিধা পান এ সময়।

ধর্ম একটি বড় এবং প্রাচীন পার্টি। কারেকটারিসটিকস ,বৈশিষ্ট্য , গুনাগুন এ শব্দগুলো খুবই পরিচিত সবার। রসায়নে মৌলের ধর্ম কথাটির সাথে রসায়নের ছাত্র ও রসায়ন নিয়ে যাদের আইডিয়া আছে সবার পরিচয় আছে। ধর্ম মানে বৈশিষ্ট্য । ধর্ম বিরোধিতা একটি বৈশিষ্ট্য মানে একটি ধর্ম। অর্থাৎ আপনি ধর্মের বাইরে থাকতে পারছেন না । নাস্তিকতা ও একটি বৈশিষ্ট্য মানে একটি ধর্ম। গুনাগুনের ক্লাসিফিকেশনের বাইরে কিছু থাকতে পারেনা। আর গুনাগুন মানেই ধর্ম। আলীগ ,বিএনপি, ডেমোক্রেট, রিপাবলিকান, লেবার, টোরি সবার কিছু না কিছু ধর্ম আছে। এটি ক্ষুদ্র অর্থে। বৃহৎ অর্থে মুসলিম , হিন্দু ,খ্রিষ্টান , বৌদ্ধ হল ধর্ম। বর্তমানে কম্পারেটিভ রিলিজিয়ন অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে জনপ্রিয় সাবজেক্ট। সকল ধর্মের মধ্যে অনেক গুলো বিষয় কমন। যেমন সত্য কথা বলা, আমানত রক্ষা, অন্যকে ক্ষতি না করা, মা বাবাকে সম্মান , গুরুজনে সম্মান, ছোটদের স্নেহ, জীবে দয়া ইত্যাদি। উপানুষ্ঠানিক কিছু প্রোগ্রাম এর ভিন্নতা আছে । এক ধর্মের কিছু রুলস এর সাথে অন্য ধর্মের সিমিলার বিষয়ের রুলসের সুপারিয়রিটি আছে । অর্থাৎ নীতি থেকে শক্তিশালী নীতি , এফেক্টিভ নীতি।

এক্ষেত্রে ইসলামকে এগিয়ে রাখা যায় । ওয়েস্টার্ন পরিচিত পত্রিকাগুলোর একটি কিছুদিন আগে উপসম্পাদকীয়তে লিখেছে ইসলাম গত শতকগুলোতে বিশ্বকে কিছুদিতে পারেনি শুধু মাত্র ১. নান্দনিক পরিবার প্রথা (সমাজের জন্য)২. প্রপিট লস শেয়ারিং (অর্থনীতিতে) দিতে পেরেছে।

মানুষের শ্রাব্যতার পাল্লা ২০হার্জ- ২০ কিলোহার্জ। এর বাইরে মানুষ শুনতে পায়না। তার অর্থ এই নয় যে এর কম বেশ কোন শব্দ নেই। বরং শ্রাব্যতার পাল্লা ২০হার্জ- ২০ কিলোহার্জ এর বাইরে না শুনাটা সৃষ্টি হিসেবে মানুষের অক্ষমতা। সৃষ্টিকর্তার অক্ষমতা নয়। ঠিক তেমনি স্রষ্টার ধর্মকে বুঝতে না পারাটা ধর্মবিদ্বেষীদের জ্ঞানের সীমাবদ্বতা হতে পারে স্রষ্টার ধর্মের কোন সমস্যা নয়। মৌলবাদ ইংরেজী ফান্ডামেন্টালিস্ট আর মৌলবাদ বিরোধী ইংরেজী এন্টি ফান্ডামেন্টালিস্ট না হয়ে zero মেন্টালিস্ট হওয়া বাঞ্চনীয়। আগা বাদীও বলা যেতে পারে। কারন এদের কম্পাংক শব্দ দুষনের সৃষ্টি করেছে বিশ্বব্যাপী । বিশ্ব সমাজের শান্তির জন্য বড় হুমকী এরা । জর্জ বুশ সাহেব ছিলেন ব্রান্ড ফেইস।

ধর্ম একটি বড় বিশ্ব পার্টি এর মেম্বার অনেক । তাই ধর্ম বিরোধীরা আছেন সুবিধা জনক অবস্থানে । একটু ধর্ম বিরোধীতাই এনে দিতে পারে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি , জশ , সুনাম আর অর্থ। কারন একজন ধর্ম বিরোধীর বিরোধিতা কারী অনেক। ক্ষুদ্র ধর্ম বিরোধী ব্যবসায়ীরা আছেন দারুন রমরমায় কারন তারা ১.মদ ব্যবসা২. হোটেলে নারী ব্যবসা ৩.সুদ ঘুষ ব্যবসা ৪. প্রতারনা ব্যবসা ৫. শেয়ার কেলেংকারী ৬. নানা অবৈধ ব্যবসা করে কোটিপতি হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া করেননা । অন্যদিকে তথাকথিত প্রগতিশীল কর্তৃক আখ্যা পাওয়া ধর্মব্যবসায়ী গোবেচারারা নীতির কথা বলতে গিয়ে শুধু পকেট এ বিশাল একটা শূন্য নিয়ে ঘোরেন।