ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

(নীচের সবগুলো ঘটনা কুরবানী ঈদের পরের ও উচ্চ শিক্ষিত ফ্যামিলির)

আমার এক আপনজন ফোন করে বলল তার ৬ মাস বয়সের বোনের মেয়েটির বুদ্বিমতি হয়ে উঠাটাকে সে দারুন এনজয় করছে। আমি বললাম কিভাবে ? উত্তরে সে বলল তার ভাগ্নি একটি বোতাম ছিড়ে মুখে পুড়ে দিয়ে ড্যাব ড্যাব করে আমার ও আমার বড় বোনের দিকে দুষ্টু দুষ্টু চোখে তাকাচ্ছে। সে যে ভাল করছেনা এটা বুঝতে পেরে আমার আর তার মার দিকে তাকাচ্ছিল।

১. এর রেশ কাটতে না কাটতেই ফেনী থেকে ফার্মেসী এম.এস (মাস্টার্স অব সায়েন্স) এর ছাত্র ফুয়াদ আমিন ফোন করে বলল তার বড় ভাইয়ের মেয়েটি বাথরুমের পানি ভর্তি বালতিতে পড়ে মারা গেল । মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে উঠল । জিজ্ঞাসা করলাম এটা কিভাবে সম্ভব? উত্তরে ফুয়াদ আমিন বলল “ঘরের সবাই যার যার কাজে ব্যস্ত ছিল এরই ফাকেঁ সে খেলতে খেলতে বাথরুমের বালতিতে পড়ে গিয়ে করুন মৃত্যুর শিকার হয় ” । বাসার সবাই একটু সতর্ক হলে এই মৃত্যুটি হয়ত এড়ানো যেত!

২. রুবেল । চট্টগ্রাম কলেজের ছাত্র । একসময় আমরা পাশাপাশি থাকতাম । সৃজনশীল অনেক প্রতিভা তার । নরওয়েতে গ্রাজুয়েশন করার জন্য যাবে সে। কুরবানী ঈদের পরেরদিন সে তার অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা করিয়ে ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরেছে। রাত ১১.৩০ অবধি তার আম্মু দেখতে আসা মেহমানদের সাথে কথা বলে। আর রুবেল যারা তার মাকে দেখতে এসেছে সবাইতে আপ্যায়ন করে ঘুমুতে যায় । ডাক্তার বলেছে একটু শ্বাসকষ্ট হবে এবং এ সময় অক্সিজেন দিতে হবে। ভোরে (কুরবানী ঈদের ৩য় দিন ) রুবেলের আম্মুর শ্বাসকষ্ট হতে থাকে আর রুবেল দৌড়ে যায় হাসপাতালের দিকে অক্সিজেন আনার জন্য। ততক্ষনে তার মা জান্নাতবাসী হয়েছেন। অক্সিজেন আগেরদিন এনে রাখলে কি হত????

৩. আমি ব্যাংকের আইটিতে জয়েন করার আগে একটি বেসরকারী পলিটেকনিক এর কম্পিউটার টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক ছিলাম । আমার একসময়ের কলিগ সাংবাদিক রায়হান আজাদ । চমৎকার লেখনী তার । তার এক ভাই আবার বিচারপতি। গত শনিবার কলেজে গেলাম সবার সাথে দেখা করার জন্য। গিয়ে শুনলাম রায়হান আজাদ এর বড় ভাইয়ের বউ ডেলিভারী কেসে মারা গেছেন। বুকফাটা আর্তনাদ করেছে সে । আধুনিক যুগে এমন মৃত্যু?????

ডাক্তার বলেছিল যে ডেলিভারী কেসটি হবে একটু ক্রিটিকেল! তবু তারা আগে হাসপাতারে ভর্তি নিলেন না কেন?

৪. আমার সেই আপনজন যে তার ৬ মাস বয়সের বোনের মেয়েটির বুদ্বিমতি হয়ে উঠাটাকে দারুন এনজয় করছিল সে আবার ফোন করে বলল হলিফ্যামিলি রেডক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজের এক ছাত্রীর মৃত্যুর কথা। ছাত্রীটির আব্বা ও আম্মা বয়োবৃদ্ব। অন্য সহোদরেরা দেশের বাইরে পড়াশোনা আর চাকরী নিয়ে ব্যস্ত। জানা যায় এই ছাত্রীটি নিঃসঙ্গতায় ভোগছিল । মেডিকেলের আইটেম এ পাশ না করতে পারা ও কিছু কারনে ফাইনাল পরীক্ষায় কর্তৃপক্ষ এই ছাত্রীটিকে অংশগ্রহনের অনুমতি দেয়নি । এদিকে আবার বাসা থেকে চাপ দেয়া হচ্ছিল বিয়ের জন্য । সব চাপ গিয়ে ঠেকল আত্বহত্যায় । মেয়েটি বেচে নেই । অভিমানী মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।

কেউ তাকে বুঝলনা !! মা বাবা , বন্ধুবান্ধব , সহপাঠি , শিক্ষক । কেউ তাকে বুঝলনা !!!!!

অসাবধানতার জন্য যারা মৃত্যু বরন করল সবার জন্য আমার শোক ও ভালবাসা । আসুন আমরা একান্ত আপনকে সময় দিই। তাদের বুঝবার চেষ্টা করি । একান্ত আপনজনের সাথে হৃদ্যতা তৈরী করি ও যত্নের সাথে আনন্দঘন সর্ম্পক গড়ি।