ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

ছাত্রজীবন থেকে প্রেমের ঘোরবিরোধী থাকলেও সহপাঠীদের প্রেমের পরিনতি দেখে দেখে হাপিঁয়ে উঠেছি। আতকেঁ উঠেছি….

বর্তমান সমাজে এখন অসংখ্য শারমিন আক্তারকে খুজে পাওয়া যাবে। [লিংক]

অনেকেই লজ্জার কারনে বলেন না।আইন মেয়েদের সুরক্ষা দিয়েছে। আইনি সুরক্ষার ভিতরে এখন একটা মেয়ে ইচ্ছা করলে অনেক কিছু করতে পারে। করতে পারে চরম পুরুষ নির্যাতন। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে প্রেমের অভিনয় করে বয়ফ্রেন্ডদের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার পর গার্জিয়েনদের করা মামলার কারনে পুলিশ যুগলদের যখন খুজে বের করে তখন গার্জিয়ানদের সামনে মেয়ের কাদঁমুখে স্টেটমেন্ট হল প্রেমিক ওরফে স্বামী তাকে কিডন্যাপ করেছে । প্রেমের বিনিময়ে প্রেমিক চলে যায় শ্রীঘরে।

তথাকথিত প্রেমের অভিনয় করে একজন মেয়ে প্রেমিক থেকে যে সুবিধা আদায় করে তা হলঃ

১. প্রতিদিন ২০-৫০ টাকা গড়ে মোবাইলে ইজি লোড নেয়া। বান্ধবীদের সাথে পড়ালেখা বিষয়ক কথা বলতে হবে তো তাই । একপ্রেমিক থেকে মোবাইলে টাকা লোড নিয়ে মেযেটি যাকে পুরুষ সঙ্গী হিসেবে বেটার মনে করে তার সাথে ফুটানি দেখিয়ে নাকি মারিয়ে কল করে।

২.সপ্তাহ বিরতিতে চাইনিজে দামী খাবার খায় মাঝে মাঝে বান্ধবী সহ।মাঝে মাঝে বাসা থেকে ১০ টাকা দামের পিঠা নিয়ে এসে অভিনয়টাকে জীবন্ত করে । প্রতিমাসে বিভিন্ন মনোরম লোকেশনে বেড়ানো। বসুন্ধরার সিনেপ্লেক্সে সিনেমা দেখা। আরও কত কি!!!!!!!!!!!

৩. দামী গিফট নেয়া । যেমন ধরুন মোবাইল , নোটবুক , লেপটপ, ঈদ উপহার, বৈশাখী উপহার, ভেলেন্টাইনস ডে গিফট , বার্থ ডে গিফট , ১লা ফাল্গুন গিফট , নববর্ষ গিফট । আবার প্রেমিকা তো কিছু দিতে পারেনা কারন উনি তো ছাত্রী এবং বেকার । আর হবু লক্ষী বউয়েরা তো শুধু নেয় বিনিময়ে প্রেম দেয়। এদের আচার আচরনে তাসলিমা নাসরিনের মতানুযায়ী লাইসেন্সহীন ক্লাসিক পতিতার বৈশিষ্ট্য দেখা যায়।

৪.হরেক ধরনের ব্যক্তিগত কাজ করিয়ে নেয়া। নীলক্ষেত থেকে বই খুজে কিনে আনা । নোট সংগ্রহ করে ফটোকপি করে আনা। জামা কাপড় কিনিয়ে নেয়া । প্রয়োজনীয় সাজুগোজুর জিনিষ কিনানো। বিউটি র্পালারের সামনে বডিগার্ড হিসেবে বসিযে রেখে বিলটা পে করতে বলা । ইত্যাদি ইত্যাদি…

৫.মাঝে মাঝে টাকা ধার নেয়ার অভিনয় করে টাকা হাতিয়ে নেয়া মানে আর ফেরত না দেয়া । প্রেমিক তো আর লজ্জার কারনে নিতে পারেনা বা খুজতে পারেনা। হাজার হলেও তো হবু ব্উ।

৬.আনন্দদায়ক উত্তম সঙ্গের জন্য রাতের ১২ টার পর যুবকের সময় নষ্ট করে টাইম পাস -টাইম পাস খেলা। সেই যুবক দিনে ঠিক মত আর সার্ভ করতে পারে না। মোবাইলে যৌনালাপ এর জন্য কায়দা করে মেয়েটি আহবান জানাবে কিন্তু শেষে দোষ চাপাবে ছেলেটির ঘাড়ে কারন ওতো ঐ রকম মেয়ে না । মেয়েটি এসব করতে চায় না।জাষ্ট প্রেমিকের সুখের জন্য এবং ছেলেটির প্রতিদিনে ১০০ টাকা মোবাইলে খরচ করানোর জন্য। দোষ সব প্রেমিকের। প্রেমিক বাবা তো লক্ষী ছেলে শুধু বকা শুনে যায় খাঁটি প্রেমিক হাবা ! প্রেমিকার কখনোই কোন দোষ দেখেনা।

৭. যুবকের সমাজসেবা, ক্যারিয়ার গঠনের এবং পড়ালেখার টাইমগুলো নষ্ট করে যুবককে হতাশায় নিমজ্জিত করে।

৮. ২টি মোবাইল সেটের মাধ্যমে ৪ টা সিম ব্যবহার করে অনেকের সাথে প্রেমের অভিনয় তথা ফাদঁ পাতা। চাইনিজ সেটগুলো তো ১৫০০ টাকায় পাওয়া যায়।আম্মু আব্বু মোবাইল কেড়ে নিয়েছে বলে মোবাইল সেটগুলোও প্রেমিকদের থেকে কালেকশন করা হয় । সবশেষে প্যারালাল প্রেমের মাধ্যমে বেটার কারো গলায় ঝুলে পড়া । তারপরেও চলে পরকীয়া…. স্বামী সাহেব অফিসে যাও । চাকর গিরি করে টাকা কামিয়ে আমাকে খাওয়াও। আমি হচ্ছি লক্ষী বউ । চাকরী না করে স্বামীর সেবা করি আর পুরোদিন পরকীয়ার স্বাদ নিই।

এ হচ্ছে বর্তমান সময়ে একজন যুবকের প্রতি কিছু আধুনিক ললনার আধুনিক ক্রাইম।

প্রেমিকের সাথে তো ঘরবাধাঁ যায় না কারন সে তো দুর্বলতা সব জানে বিধায় ঝগড়া বা খোটাঁ দিতে পারে তাই নতুন কাউকে দরকার ।ঝগড়া কর আর সম্পর্কের ইতি টানো পূর্ব পরিকল্পিত কারো গলায় ঝুলে পড়ো।

বিচারে বানী নিভৃতে কাদেঁ । দেখার কেউ নেই। জয়নাল হাজারীর ভাষায় বলতে হয় “পুরুষ নির্যাতন প্রতিরোধ আইন চাই”।

সম্প্রতি সেকঁ খাওয়া আমার বন্ধু লিমনকে নিয়ে লেখা আমার কবিতাটাটি দেখুন:

http://www.amarblog.com/blogger/lokmanbinyousuf

লিমনের অনুভূতি দেখে আমার আকুতি দেখুন:
http://sonarbangladesh.com/blog/lokmanbinyousuf/93737

তরুন সমাজে কিছু কথা আর মনোভাবের প্রচলন লক্ষ্য করছি আর তা হলঃ

১.হৃদয় দেয়ার দরকার নাই । হৃদয়ে ফটোকপির ফটোকপি দিতে হবে।
২.আর প্রথম সুযোগেই সেক্স করে ছেড়ে দাও।
৩.অন্যের বউ হোক আর অন্যের প্রেমিকা হোক মোবাইলে কথা বল আর ইমোশনালী কনভিন্স করে সেক্স কর।
৪. টাইম পাস কর। এনজয় কর।
৫. একমেয়ের সাথে সাধু বালকের মত প্রেম করবে । অন্য প্রেমিকার সাথে মোবাইলে যৌনালাপ করবে আর অন্য মেয়ের সাখে সেক্স করবে। যাকে বিয়ে করার নিয়ত আছে তার কাছে সাধু পুরুষ।
৬. কয়েকজনের সাথে প্রেম কর আর যাকে পায় সমস্যা নাইক্যা । অন্তত সেকঁ খেতে তো হবে না।

আমার আগের একটি লেখা থেকে কিছু অংশ উদৃত্ত করছি:

ইয়ং জেনারেশনের হাতে মোবাইল আসার পর আমি ময়দানে একটি নেগেটিভ পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি। আর তা হল ইন্টেরেস্ট লেস কর্মীর অভাব দেখা দেওয়া । মানুষজন সবাই স্বার্থপর হয়ে উঠছিল চরমভাবে। আমার মত দায়ী তখনো ময়দানে একটিভ থাকলেও বিকল্প কিছুই মাথায় আসছিলনা। তাকওয়া জাগ্রত করা ছাড়া তরুন সমাজকে অপরাধ ফ্রি রাখার কোন কৌশলই আর কার্যকরী রাখা যাচ্ছিলনা।

মোবাইল জেনারেশনের মধ্যে নিম্মের উপসর্গ গুলো বেশী করে দৃশ্যমান হচ্ছিল

১.ভাল ছাত্রছাত্রীরা রাতে না ঘুমিয়ে মোবাইলে অনর্থক টাইম নষ্ট করে অর্থ ও শরীর নষ্ট করছিল।

২. ঘর বাধার স্বপ্ন নিয়ে তৈরী হওয়া গভীর প্রেম সংস্কৃতি ধুলিসাৎ হয়ে ” টাইমপাস ও একটি পর্যায়ে ক্ষুদ্র আঙ্গিকে লিভটুগেদার” প্রেমে কনর্ভাট হওয়া।

৩. আগে প্রেমের মধ্যস্বত্বভোগী অনেক ছিল । ধরুন প্রেমিকাকে কেউ গিফট দিল একসেট জামা । এই জামার উৎপাদনকারী , পাইকারী ও ক্ষুদ্রব্যবসায়ী ,জামা পরিবহনে নিয়োজিত পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সবাই প্রেমের বিনিফিসিয়ারী ছিল । আর এখন শুধু মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীগুলো প্রেমের বিনিফিসিয়ারী হয়ে গেল।

৪. মানুষ যান্ত্রিকতার দিকে ধাবিত হল।

৫. সন্ত্রাসের হাতিয়ার হিসেবে মোবাইল ব্যবহার বেড়ে গেল।

৬. ইভটিজিং এর হাতিয়ার হিসেবে মোবাইল এখনো প্রথম স্থানে।

৭. স্বেচ্ছাসেবী মানসিকতা লোপ পেয়ে আরাম আয়েশ করে সব কিছু হাতের নাগালে মানুষ চাইতে লাগল ।

বিজ্ঞানের চমৎকার আবিষ্কার মোবাইলের পক্ষে অনেক কিছুই বলা যাবে। আমি নিজেও কম্পিউটার এন্ড কমিউনিকেশন ইন্জিনিয়ারিং এ গ্র্যাজুয়েট। দুঃখের সাথে বলতে হয় আমরা মোবাইল ইউজ করছি খারাপ কাজে । আমাদের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, ইমাম, শিক্ষক মহোদয়গন, অভিভাবক , সমাজবিজ্ঞানীগন , স্বেচ্ছাসেবী মহীয়সীগন এখনো পর্যন্ত ইয়ং জেনারেশন এর মোবাইল ব্যবহারের ধ্বংসাত্মক নেগেটিভ ব্যাপ্তি সম্পর্কে সম্যক অবগত নন।

আমার ধারনা মোবাইল কালচার যেদিকে যাচ্ছে তাতে ” বাংলাদেশের সমাজ অচিরেই ফ্রি সেক্স নির্ভর” দেশে রুপান্তরিত হতে পারে। সর্বশক্তি দিয়ে ইয়ং জেনারেশনের মোবাইলের ব্যবহারের রাশ টেনে ধরা না গেলে জাতির জন্য ভয়াবহ বিপদ অপেক্ষা করছে। বাঙ্গালী মুসলিম সমাজের স্থিতিশীলতা , শান্তি , নান্দনিকতা , ধারাবাহিকতার মারাত্বক ব্যাঘাত হয়ে ভঙ্গুর সংসার , চাইল্ড হোম, ওল্ড হোম বাড়বে। প্রজন্মের যথার্থ ক্রমবিকাশ ও সামাজিকীকরণ স্তব্ধ হয়ে যাবে। যৌন রোগ ও যৌন অক্ষমতা বাড়বে। মেয়েরা বেশী পরিমানে ইনসিকিউরড হয়ে মানের অবমূল্যায়নের স্বীকার হবে। সংসার বিমুখতা, সহজ ও পশুর যৌনাচারে সমাজ ধাবিত হবে । একটি সামাজিক মহাপ্রলয়ের জন্য বাংলাদেশ অপেক্ষা করছে।

ছাত্র , তরুন ও যুবক সমাজ সাবধান হবে কি??????