ক্যাটেগরিঃ আর্ত মানবতা

তাহাঁদের সাথে ঈদ !!!

একান্নবর্তী পরিবার আমাদের বাঙ্গালি সংস্কৃতির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। এই পরিবার নিয়ে রচিত হয়েছে কত নাটক, চলচিত্র। পরিবারে বটবৃক্ষের ন্যায় একজন কর্তা থাকেন। সাধারণত এই কর্তার আসন দাদা বা নানা দখল করে থাকেন। যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে হলে বাড়ির কর্তার পরামর্শ নিতে হত। বাড়ির কর্তা ওনার অতীত অভিজ্ঞতা থেকে সঠিক পরামর্শ দিতেন। বাড়ির ছোট ছেলে-মেয়েরা দাদী-নানীর কাছে মানুষ হত। বাড়ির বধূর কাজ থাকত রান্না বান্না করা আর ঘর সংসার দেখা। দাদী-নানীর আয়েশী ভাবে সব কিছু দেখভাল করতো। কোথাও কোন ত্রুটি দেখলে বিভিন্ন দিস্টান, শ্লোক বলে উপদেশ দিত। তারা তাদের নাতি-নাতনিদের দেখভাল করতো, তাদের গল্প, ছড়া শুনিয়ে ঘুম পাড়াতো। নাতি –নাতনিরাও দাদী-নানীর পিছু ছাড়তো না। মজার মজার ভূতের গল্প, রাক্ষস আর খোক্ষস এর গল্প সব কিছুই তো তাদের কাছ থেকেই শোনা যায়।

এতক্ষন যে ঘটনার চিত্র তুলে ধরলাম আজ তা অতীত হতে চলেছে। একান্নবর্তী পরিবার হয়ত খুঁজলে কিছু পাওয়া যাবে। বাংলার একান্নবর্তী পরিবার আজ ভাগ হয়ে ৫১ টি পরিবারে রূপ নিয়েছে। আমরা ধীরে ধীরে বটের ছায়া থেকে দূরে চলে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে হয়ত সেই বটের ছায়ায় গিয়ে আশ্রয় নেই। কিন্তু ধীরে ধীরে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির আগ্রাসনে আমরা সেই বটকে ধার করাত দিয়ে কেটে ‘বৃদ্ধাশ্রম’ নামক গুদামঘরে ফেলে আসি। যেই বটের ছায়ায় আমরা বড় হয়েছি, সেই গৃহকর্তা রুপী বটবৃক্ষ কেন বৃদ্ধবয়সে আস্তাকুড়ে দিন যাপন করবে?? এ কেমন অপসংস্কৃতিকে স্থান দিচ্ছি আমাদের দেশে??

দেশীয় সংস্কৃতির বিকাশ ও লালনের জন্য আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একদল শিক্ষার্থী ‘লোকসংস্কৃতি রক্ষা করি (লোরক) সোসাইটি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছি। বাংলাদেশ উৎসবের দেশ। ঈদ বাংলাদেশের একটি অন্যতম বড় উৎসব। এই উৎসব আনন্দের সাথে সবাই একসাথে পালনের জন্য আমরা ‘লোরক সোসাইটি’ পরিবারের সদস্যরা এবারের ঈদ বৃদ্ধাশ্রমে কাটাবো। ‘সুবার্তা প্রবীণ সেবা কেন্দ্র, ব্যাংক টাউন, সাভার’ এই বৃদ্ধাশ্রমে আমরা ঈদ করতে যাচ্ছি। ঈদের সময় সবাই যখন পরিবার পরিজন নিয়ে আনন্দে মত্ত তখন তারা অতীত স্মৃতি কল্পনা করে আনন্দ পাবার চেষ্টা করে। তাদের আনন্দ সেই অতীত স্মৃতি টুকু।

আমাদের পরিকল্পনাঃ
১) বৃদ্ধাশ্রমের প্রত্যেক বাসিন্দাদের জন্য হাতে তৈরি ঈদ কার্ড প্রস্তুত করে ঈদের পূর্বে তাদেরকে দেয়া।
২) যারা বৃদ্ধা আছেন তাদেরকে হাতে মেহেদী পড়িয়ে দেয়া। ঐ বৃদ্ধাশ্রমে আটজন বৃদ্ধা আছেন।
৩) তাদের সাথে ঈদের দিন বা ঈদের পরের দিন দুপুর বেলা একসাথে খাওয়া দাওয়া করা।
৪) তাদের জন্য ঈদ উপহার কিনে দেয়া।
৫) র্যা ফেল ড্র এবং পিলো পাসিং খেলার আয়োজন করা
৬) অনুরোধের গান শোনানো।
৭) তাদের সাথে আড্ডা দেয়া।
৮) সর্বোপরি তাদের নাতি নাতনি হয়ে তাদের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করা।

আপনাদের করণীয়ঃ
আমরা সবাই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীবৃন্দ। আমাদের আছে ইচ্ছা শক্তি এবং সময়। এর সাথে যদি আপনারা আর্থিক সহায়তা দিয়ে আমাদের পাশে থাকেন তাহলে আপনাদের এবং আমাদের অবদান মিলে এবারের ঈদটা বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দাদের জন্য সুখকর করে তুলতে পারি সেই সাথে আমাদের ঈদটাও আনন্দময় হতে পারে। আমাদের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আমরা ৪০০০০ টাকা বাজেট ধরেছি। এই টাকা ব্যবস্থা হলে আমরা এই আয়োজন সুন্দরভাবে সফল করতে পারি।

আপনার আর্থিক অবদান আমাদের পাঠাতে এই হিসাব নম্বর ব্যবহার করুনঃ

Name: Mohammad Alamin
Bank A/C NO: 114.101.64690
Bank: Dutch Bangla Bank Limited

অথবা বিকাশ করেও পাঠাতে পারেনঃ ০১৮৩৬৫৫৫৬৪০

আর কোন তথ্য জানার থাকলে যোগাযোগ করতে পারেনঃ ০১৯১৯৪৬৩৩৩০

আসুন বৃদ্ধাশ্রম সংস্কৃতি থেকে দূরে চলে আসি এবং আমাদের সন্তান যেন আমাদের ভালোবেসে যায় মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত সেই দোয়া করি 🙂