ক্যাটেগরিঃ শিল্প-সংস্কৃতি

২০১১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি (১ ফাল্গুন) দেশীয় সংস্কৃতিকে ভালোবেসে এবং দেশীয় সংস্কৃতির প্রসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীরা মিলে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করে যার নাম ‘লোকসংস্কৃতি রক্ষা করি (লোরক) সোসাইটি’। দেখতে দেখতে পথচলার এক বছর হয়ে গেল। এক বছরের আশা-নিরাশার গল্প আপনাদের শোনাতে চাই।

লোরকের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

এই সংগঠনের প্রধান উদ্যোক্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আলামিন। ব্যক্তিগত ভাবে বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত ঘুরে তিনি লোকছড়া সংগ্রহ করতেন। তার এই লোকছড়া সংগ্রহ নিয়ে চ্যানেল আইতে একটি ডকুমেন্টারি প্রচারিত হয়। এই ডকুমেন্টারি তাকে উৎসাহিত করে বড় কিছু করার। এরপরেই তার সংগঠন করার চিন্তা মাথায় আসে। তার আহবানে পরে যোগ দেয় আরো অনেকে। লোকসংস্কৃতি নিয়ে বিশেষায়িত সাময়িকী ‘মাচাঙ’ নামে একটি ষাণ্মাসিক সাময়িকী প্রকাশের মাধ্যমে লোরকের যাত্রা শুরু হয়। ইতিমধ্যে মাচাঙ এর দুইটি সংখ্যা প্রকাশিত হয়েছে। এই সাময়িকী প্রকাশ আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করেও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা করা যায়নি। একসময় প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছিলাম। পরে অনেক কষ্টে ব্যবস্থা করা গিয়েছে। আমরা এই সাময়িকী অনলাইনেও প্রকাশ করে থাকি। আপনারা চাইলে আমাদের ওয়েবসাইটে গিয়েও মাচাঙ সাময়িকী সংগ্রহ করে পড়তে পারেন।

গত একবছরের উল্লেখযোগ্য কিছু ঘটনাঃ

১৪ এপ্রিল (১ বৈশাখ): বাংলা নববর্ষ উপলক্ষ্যে আমাদের দেশীয় খেলার আয়োজন করা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে।
২১ এপ্রিলঃ রাজবাড়িতে বাউল নির্যাতনের প্রতিবাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপারাজেও বাংলার পাদদেশে মানব বন্ধন এর আয়োজন করা হয়। উক্ত মানব বন্ধনে উপস্থিত থেকে সংহতি প্রকাশ করেন বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর ডঃ ফরাস উদ্দিন আহমেদ।

লোরকের মানব বন্ধন


২০ মেঃ লোরক পরিবার গফুর ভাই নামে একজন বংশীবাদক ও গায়েনকে একটি মোবাইল সেট ও চিকিৎসার জন্য ১০০০ টাকা দেয়। গফুর ভাই ঢাবি ক্যাম্পাসে আজ ২৬ বছর ধরে বাঁশী বাজিয়ে চলছেন। তার খুব শখ একটি মোবাইল সেটের। লোরক পরিবার তার শখ পূরণ করতে পেরে আনন্দিত।

জুনঃ বাংলাদেশের একমাত্র ফোকলোর বিভাগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভ্রমণ। সেখানে ফোকলোর বিভাগের সাথে সভাপতি সাথে বৈঠকে মিলিত হলে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জুলাইঃ মানিকগঞ্জ থেকে দুইটি পুঁথি সংগ্রহ।

আগষ্টঃ লোরক ও বুয়েটের যৌথ সহযোগিতায় ১০০ টি পরিবারকে ঈদ খাবার ও ৫০ জনকে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

সেপ্টেম্বরঃ জয়েন্ট স্টোক কর্পোরেশন থেকে সোসাইটি হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন পেশ। নিবন্ধনের প্রক্রিয়া প্রায় সম্পূর্ণ।

নভেম্বরঃ মাচাঙ এর দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশ।

জানুয়ারিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় কিসসা শোনার আসরের আয়োজন।

অনেক দীর্ঘ পরিকল্পনা ও এই সংগঠনকে আন্তর্জাতিক মানের সংগঠন করার প্রত্যয়ে আমরা পথচলা শুরু করেছিলাম। আমাদের কিছু আসন্ন প্রকল্প আছে। তার মধ্যে ভাওয়াইয়া গানের কর্মশালার আয়োজন করা এবং আমাদের দেশীয় খেলা গুলোর চিত্র ভিত্তিক প্রদর্শনীর আয়োজন অন্যতম।

কিছু দুঃখের কথাঃ

আমরা যারা উদ্যোক্তা তারা সবাই শিক্ষার্থী। একটি সংগঠন চালানো খুবই ব্যয়সাধ্য। নিজেদের পকেটমানি বাঁচিয়ে এই সংগঠন চালানো হচ্ছে। সত্যিকার অর্থে আমাদের কোন দাতা গোষ্ঠী নেই। ফেইসবুকে ব্লগে এর আগে অনেকবার সহযোগিতার কথা বললেও আপনারা সাড়া দেননি। তবে আমরা বিশ্বাস করি আপনারা একদিন না একদিন অবশ্যই সাড়া দিবেন। কারণ আমরা আমাদের দেশকে প্রসারের জন্য কাজ করছি। দেশীয় সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করছি। এই দেশ আমার, আপনার সকলের। তেমনি এই লোরক সংগঠন আমার, আপনার, সকলের। আপনাদের সহযোগিতায় এই সংগঠন চলবে। মাচাঙ এর পরবর্তী সংখ্যা প্রকাশ নিয়ে চিন্তায় আছি। আপনারা চাইলে অনুদান বা আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। এর আগে হারমোনিয়া ও তবলা কেনার টাকা চেয়েও পাইনি। তাই ভাওয়াইয়া গানের কর্মশালা করতে দেরি হচ্ছে। আমাদের দাতা গোষ্ঠী দরকার। আপনার যদি মাসিক ১০০ টাকাও দেবার সামর্থ্য থাকে তাহলে তা দিয়েই আমাদের সহযোগিতা করুন। আমাদের সংগঠন সম্পর্কে যেকোন বিষয়ে জানার জন্য, পরামর্শের জন্য এবং আপনার অনুদান পাঠানোর জন্য মোবাইল করুন ০১৯১১৯১৯১০২ এবং ০১৬৮০০৬১৪৩৫

আমাদের কাজ যদি আপনার ভালো লেগে থাকে এবং যদি চান আমাদের পাশে থাকবেন আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী, তাহলে অনুদান পাঠাতে পারেন এই একাউন্ট নাম্বার ব্যবহার করে –

Name: Mohammad Alamin
A/C No.: 114.101.64690
Bank: Dutch Bangla Bank Limited
Swift Code: DBBL BD DH
Country: Bangladesh