ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

ইভ মানে কী? টিজ শব্দটা ইংরেজী, যার অর্থ হল-বিরক্ত করা, জ্বালাতন করা, নির্যাতন করা ইত্যাদি। কিন্তু ‎ইভ মানে কী? এটা ইংরেজী শব্দ না, এটা হিব্রু শব্দ। যা মূলত নেয়া হয়েছে খৃষ্টানদের বাইবেল ও ‎ইহুদিদের পুরাণে বর্ণিত আদি মানব সৃষ্টির গল্প থেকে।

যতটুকু জানা যায় আল্লাহ প্রথমে এডামকে (আদম আ:) সৃষ্টি করার পর তার জন্য একজন সঙ্গিনী সৃষ্টি ‎করলেন যার নাম ছিল “লিলিথ”। লিলিথ ছিল উগ্রপন্থী, স্বামীর কথা শুনত না, যৌনতার ক্ষেত্রেও সে ছিল ‎বিকৃত মানসিকতার স্বীকার। বলা হয় সে রাগ করে জান্নাত থেকে তথা স্বামীর ঘর থেকে বের হয়ে বাহিরে ‎চলে যায় উগ্র হয়ে। ‎

অবশেষে এডাম (আদম আ:) বিরক্ত হয়ে আল্লাহর কাছে আবেদন করলেন-“হে আল্লাহ! আমার জন্য ‎একজন অনুগত সঙ্গিনী সৃষ্টি করে দাও যে আমার কথামত চলবে। উগ্রতা করবে না, আমার গৃহ জান্নাত ‎থেকে বাহিরে যাবেনা আমার অনুমতি ছাড়া।” তারপর আল্লাহ তায়া’লা তার আবেদন অনুযায়ী এডামের ‎বাম পাঁজর থেকে ইভকে সৃষ্টি করলেন। যেই “ইভ” ছিল আনত নয়না, মিষ্টিভাষী, বিনম্র, বেপর্দা হয়ে ‎বাহিরে বের হয়না। ‎

পুরাণের এই বর্ণনা মেনে নিলে আমরা নির্দ্বিধায় বলতে পারি আমাদের দেশের কোথাও “ইভ টিজিং” হয়না, ‎বরং “লিলিথ টিজিং” হয়। ‎সারা দেশের কোথাও ইসলামী শরীয়তের পবিত্র বিধান মেনে যে সকল মেয়ে বের হয় তারা কখনো রাস্তায় ‎পিচ্চি ছেলের নোংরা উক্তির স্বীকার হয়না। বরং অতি আধুনিকা, অশালীন পোশাক পরিহিতা, উগ্র ‎লিলিথরাই ভিকটিম হচ্ছে আজকের সমাজে। একটু খোলা মন নিয়ে দেখলেই আমরা বিষয়টির বাস্তবতা ‎দেখতে পাবো। ‎

বিনম্র ইভ নয়, বেপর্দা লিলিথই’ টিজের স্বীকার। তাই আসুন এখন থেকে “ইভ টিজিং নয়, বলি লিলিথ ‎টিজিং।”‎ নিজেদের মা-বোনের মত মেয়েদের যেসব বখাটেরা নোংরা উক্তি করে আসুন তাদের বুঝিয়ে এ ঘৃণ্য কর্ম ‎থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করি। চব্বিশ ঘন্টা “প্রেম আর সন্ত্রাস ও প্রেমের জন্য মা-বাবার সাথে বেয়াদবি ‎করা বৈধ” শিক্ষা দানকারী ডিশ কালচারের যুগে আইন নয় নৈতিকতা জাগরণই মুল হাতিয়ার হতে পারে। ‎

বি:দ্র: লিলিথ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন- www.somewhereinblog.net/blog/benqt60/28865952‎

***
লুৎফুর রহমান ফরায়েজী
ইমেইল-lutforfarazi@yahoo.com