ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

শান্তির ধর্ম ইসলামে যুদ্ধের মত সহিংস অবস্থানেও মানবতার এক অতুলনীয় দীক্ষা দিয়েছে। অযথা যুদ্ধ ‎ইসলামে কাম্য নয়। তাই ইসলামের যত বড় শত্রুই হোক না কেন তাকে প্রথমে সমঝোতার জন্য আহবান ‎করা হবে। কিন্তু তারপরও যদি কোন কারণে যুদ্ধ বেঁধে যায়, তবে চোরাগুপ্তা হামলা ইসলাম অনুমোদন ‎করেনা। বরং শত্রুকে জানিয়ে দিবে যে, আমরা তোমাদের উপর আক্রমণ করব। বলা ছাড়াই কারো উপর ‎চোরের মত গিয়ে হামলা করা ইসলাম অনুমতি দেয় না। ‎

ইসলামে যুদ্ধাপরাধ কী?

১. শত্রুকে ঘোষণা না দিয়ে তার উপর আক্রমণ করা।
২. নারী নির্যাতন করা, শারিরিক, মানসিক সর্বক্ষেত্রে।
২. শিশু হত্যা করা।
৩. পঙ্গু, অচল, বিকলাঙ্গ,এক কথায় অসমর্থ মানুষকে হত্যা করা।
৪. যুদ্ধ করেনা বা করতে আগ্রহীও নয় এমন সাধারণ জনগণকে হত্যা করা।
তবে যদি উল্লেখিত ব্যক্তিবর্গ অস্ত্র নিয়ে ময়দানে উপস্থিত হয়ে যায় যুদ্ধ করার জন্য, তবে তাদের হত্যা করা অপরাধ নয়।
৫. ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র জ্বালিয়ে দেয়া, তবে যদি জ্বালিয়ে দেবার মাঝে কোন উপকার নিহিত থাকে তবে ভিন্ন কথা।
৬. জন সাধারণের জন্য উপকারী স্থাপনা ধ্বংস করা।

যুদ্ধাপরাধী কারা?

এক কথায় বললে বলা যায়, উল্লেখিত অপরাধে যে সকল ব্যক্তি জড়িত তারাই ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধী। সুতরাং ইসলামের দৃষ্টিতে একাত্তরে যারা স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন তারা সবাই ইসলামের দৃষ্টিতে যুদ্ধাপরাধী নয়। তবে যারা গোলাম আযম, নিজামী, কামারুজ্জামান, আলী আহসান মুজাহিদ,সাকা চৌধুরীদের মত উল্লেখিত অন্যায়ে জড়িত ছিল তারা অবশ্যই যুদ্ধাপরাধী। কিন্তু তৎকালের সকল স্বাধীনতা বিরোধীরা যুদ্ধাপরাধী একথা সঠিক নয়। বরং অনেক স্বাধীনতা বিরোধী ছিলেন, যারা পাকিস্তানকে নিজের দেশ মনে করে দেশ বিভাজ্য হয়ে যাচ্ছে ভেবে স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছেন। যদিও তাদের বুঝটি সঠিক ছিলনা। কিন্তু তারা কেউ মানবতা বিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন না। সুতরাং ঢালাওভাবে ৭১ এর স্বাধীনতা বিরোধীদের যুদ্ধাপরাধী সাব্যস্ত করাটা সমীচিন হবেনা। তবে যাদের ক্ষেত্রে অপরাধ প্রমাণিত, স্বীকৃত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করে ৭১ এর শহীদদের আত্মিক ক্ষোভ প্রশমিত করা হোক এটাই আমাদের কামনা।