ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

আমাদের মায়েরা সন্তানকে লালন করেন অপার স্নেহ আর মমতা ‎দিয়ে। আগলে রাখেন সকল বিপদের হাত থেকে আদরের দুলাল ‎‎/দুলালীকে। গভীর রাতে, অশ্রুসজল চোখে, স্রষ্টার দরবারে প্রার্থনা করেন ‎সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য।

কেটে যায় দিন। ছোট্ট শিশুটি মায়ের ‎কোল ছেড়ে হাটতে শিখে। ধীরে ধীরে মিষ্টি কথাও। মায়ের স্বপ্ন বাড়ে। ‎স্বপ্নের বীজে ডালপালা গজায়। কল্পনায় মহিরুহ হয় স্বপ্নগুলো। ‎তৃপ্তির ঢেকুর আসে মনের অজান্তে। আহ! আমার ছেলে/মেয়েটা আমার মুখ ‎উজ্জ্বল করবে।

সময় পাল্টে যায়। পেড়িয়ে যায় বসন্তের পর বসন্ত । মায়ের ‎স্বপ্নগুলো দানা বাঁধে নতুন করে। আদরের মেয়েকে চোখের জলে বিদায় ‎দেন পরের ঘরে।

দুঃখিনী মায়ের বয়স বাড়ে। আজীবন সেবা করে করে ‎এখন সেবা পাবার মুখাপেক্ষী হয়ে পড়েন। সদা হাস্যোজ্জ্বল মিষ্টি মুখটা ‎অসুখের তীব্রতায় চিপসে যায় কখনো। সদা তৎপর কর্মঠ হাত-পা বিদ্রোহী ‎হয়ে উঠে। যেন বলে- আর কত খাটাবে আমাকে? শরীরটা আর আগের ‎মতো ভালো যায়না। অজানা সব রোগ আঁকড়ে ধরে মায়েদের দুর্বল ‎শরীরে। তবুও মায়েদের স্বপ্ন বোনা শেষ হয়না সন্তানকে ঘিরে। মেয়েটাকে ‎পরের ঘরে পাঠিয়ে ছেলের টুকটুকে বউ দেখার স্বপ্নে হন বিভোর। জীবনের ‎শেষ বসন্তে এসে একটু শান্তিতে ইবাদাতে নিমগ্ন হতে চান তারা। তীব্র ‎ঠান্ডায় একটু গরম পানি। টুকটাক সহযোগিতা চান আগত অতিথিটার ‎কাছে। ‎
যেমনটি তিনিও করেছিলেন এক সময় মনে-প্রাণে । কিন্তু বাস্তবে ‎কী তারা তা পান?‎

‎আমাদের মায়েরা স্বপ্ন দেখেন। অনেক সুন্দর সে স্বপ্ন। স্বপ্নটা ‎বেশি সুন্দর বলে সেটি কেউ বাস্তবায়ন করার সাহস পায়না, তাই সুন্দর ‎সেসব স্বপ্নগুলো রয়ে যায় মায়েদের স্বপ্ন কুটিরে, স্বপ্নময় চোখের তারায়। ‎কখনোবা স্বপ্নগুলো একাকীত্বের ভার সইতে না পেড়ে ঝরে পরে। ভাসিয়ে ‎দেয় গণ্ডদেশ। চোখের স্বচ্ছ জলে ভেসে উঠে অপূর্ণ স্বপ্নের ক্রুর হাসি।