ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

কোন এককালে ছিল এক নাস্তিক।(এখনো আছে ভুরি ভুরি) সে বলত-‎

ক. গোটা পৃথিবীটা এমনি এমনি প্রাকৃতিক বিবর্তনে সৃষ্টি হয়েছে। এর কোন স্রষ্টা নেই। আসমান-জমিন, নদ-‎নদী আর কিনারাহীন অথৈ সমুদ্র,সুবিশাল পৃথিবী, গ্রহ-নক্ষত্র এগুলি সবই কালের বিবর্তনে প্রকৃতির সৃষ্টি। ‎কোন সুনিপুণ কারিগর তা নিপুণ হাতে সৃজিত করেননি। ‎

খ. জিন জাতি আগুনের তৈরী, জিন জাতি অপরাধ করলেও তাদের জাহান্নামে আগুনের শাস্তি দেয়া হবে। ‎আগুনের তৈরী জিনকে আগুন দিয়ে শাস্তি দেয়া হবে কিভাবে? এটা অসম্ভব ব্যাপার।

গ. স্রষ্টা যদি থাকে তাহলে তিনি কোথায়? তাকে দেখা যায়না কেন? অদৃশ্য কোন বিষয়কে বিশ্বাস করা ‎বোকামী ছাড়া কিছুই নয়।
নাস্তিকের এই সব উদ্ভট দাবির কথা এক প্রাজ্ঞ ইসলামী ব্যক্তিত্ব শুনলেন। তিনি ঐ নাস্তিককে বললেন-“আমি ‎তোমার দাবির অসারতা প্রমাণ করব।” তখন নাস্তিক প্রস্তাব দিল যে, তা প্রমাণ করতে হবে জনসম্মুখে। ‎

শহরে এক বিতর্ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হল। জন সমাগমে পরিপূর্ণ হয়ে গেল বিতর্ক অনুষ্ঠানস্থল। নাস্তিক ‎আগেভাগেই উপস্থিত হয়ে শুরু করে দিল লম্ফঝম্ফ। “হুজুর এখনো আসেনি? ভয় পেয়েছে মনে হয়! হা হা ‎আমি জানতাম! আমার সাথে বিতর্ক করা এতো সহজ নয়। আমার দাবিগুলি দিনের আলোর মত সত্য, ‎এটাকে খন্ডন করার কোন সুযোগই নেই।”‎

এদিকে ইসলামী ব্যক্তিত্ব আসতে ছিলেন না। নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাচ্ছিল। সময় যত গড়িয়ে যাচ্ছিল ‎নাস্তিকের দাম্ভিক উক্তির থুবরি ছুটছিল দেদারসে। অনেক সময় পর। মজলিস ভেঙ্গে যাবার উপক্রম। সে সময় ‎এসে উপস্থিত হলেন বুযুর্গ আলেম হন্তদন্ত হয়ে। নাস্তিক তাকে দেখেই খিস্তি শুরু করে দিল। “কি হে! ভয় ‎পেয়েছ নাকি? নাকি দলিল সংগ্রহ করতে গলধঘর্ম হয়েছে? এত দেরি করে এলে কেন?”‎

-“আসলে আসার পথে একটু সমস্যা হয়ে গিয়েছিল।” শান্তভাবে বললেন আল্লামা।
‎-কি সমস্যা হয়েছিল শুনি হে!‎
‎-পথে আসার সময় সামনে একটি নদী পরেছিল। কিন্তু নদীর ঘাটে কোন নৌকা বা ভেলা ছিলনা। তাই চুপচাপ ‎অপেক্ষা করছিলাম। কিছুক্ষণ পর তাকিয়ে দেখি পাশের একটি বড় গাছ নিজে নিজে ভেঙ্গে পরে গেল। তারপর ‎তা নিজে নিজেই টুকরো টুকরো হয়ে লম্বা কাঠ হয়ে গেল। সেই কাঠগুলি ধীরে ধীরে নৌকায় পরিণত হল ‎আপনা আপনি। এতসব কাজ হতে হতে বেশ দেরী হয়ে গিয়েছিলতো। তাই আসতে আসতে দেরি হয়ে ‎গেছে। আমি দুঃখিত।”‎

আল্লামার কথা শেষ না হতেই চেঁচামেচি শুরু করে দিল নাস্তিক। “কি বলছো হে! তোমার মাথাতো দেখছি ‎পুরোপুরি খারাপ হয়ে গেছে। এরকম পাগলের সাথে কেউ বিতর্ক করতে আসে? এই উন্মাদ! কোন গাছ কি ‎নিজে নিজে কাটা হতে পারে? আবার নিজে নিজে কাঠ হতে পারে? তারপর নিজে নিজে নৌকা হতে পারে? ‎এমন গাঁজাখুরী গল্প শুনাতে কি তুমি এখানে এতবড় মজলিশে এসেছো?”‎

এবার আল্লামা শান্তভাবে জিজ্ঞেস করলেন-“আচ্ছা! সামান্য একটা গাছ যদি নিজে নিজে কেটে নিজে নিজে ‎নৌকা হতে পারে বিশ্বাস না কর, তাহলে এই সুবিশাল পৃথিবী, হাজারো গ্রহ-নক্ষত্র কি এমনি এমনি হয়ে ‎গেছে একথা বিশ্বাস করছো কিভাবে?”‎

এবার নাস্তিক ধাক্কা খেল চূড়ান্ত। থম মেরে যায় আচমকা। আসলেই তো! এই উদ্ভট বিশ্বাস করি কিভাবে? ‎নাস্তিক চুপ মেরে যাবার সাথে সাথে আল্লামা পকেট থেকে একটি ইটের টুকরা বের করে নাস্তিকের কপালে ‎মারলেন এক ঘা। আঁউ করে চিৎকার মেরে উঠল নাস্তিক। ব্যথায় কুঁকরে উঠল সে। ফুলে গেল কপালের ‎খানিকটা। হতভম্ভ হয়ে গেল নাস্তিক। আক্রোশে ফেটে পরল সাথে সাথে-“তোমার কত বড় সাহস তুমি ‎আমাকে আঘাত করলে কেন?” ‎
‎-তুমি আঘাত পেয়েছ নাকি?‎
‎-আঘাত পেয়েছি মানে? ব্যথায় আমার মাথা ঘুরাচ্ছে! তোমার এত বড় সাহস হল কিভাবে?‎
‎-তুমি তো মাটির তৈরী। আর আমি মাটির তৈরী ইট দিয়ে তোমাকে আঘাত করেছি, তাতে তুমি ব্যথা পেলে ‎কিভাবে? মাটির তৈরী বস্তু দিয়ে যদি মাটির তৈরী প্রাণীকে ব্যথা দেয়া যায়, তাহলে আগুনের তৈরী জিনকে ‎আগুন দিয়ে আল্লাহ শাস্তি দিতে পারবেন না, একথা বিশ্বাস কর কিভাবে?? তোমার ব্যথা কোথায় একটু ‎দেখাও তো!‎
নাস্তিক হতভম্ব হয়ে গেছে। সবকিছু তার প্রতিকূল হয়ে যাচ্ছে দেখে রেগে গেল প্রচন্ড।“তুমি কি আমার সাথে ‎তামাশা করছো? ব্যথা কি দেখা যায়? এটাতো অনুভব করার জিনিস।”‎
এবার আল্লামা চূড়ান্ত ঢিল ছুড়লেন-“ব্যথা দেখা না গেলে বিশ্বাস কর কিভাবে? বাতাস দেখনা বিশ্বাস কর ‎কিভাবে? শুধু অনুভবের মাধ্যমে? তাহলে শোন-স্রষ্টাকে দেখা যায়না, কিন্তু তার সুনিপুণ সৃষ্টি আর আর ‎নাজিলকৃত ঐশী গ্রন্থ দ্বারাও তেমনি অনুভব করা যায় স্রষ্টা একজন আছেন। সবকিছু এমনি এমনি হয়ে ‎যায়নি।”‎

***
সংগৃহিত