ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

 

আমাদের মাতৃতূল্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তাঁর পরিবারের এদেশের ও এদেশের মানুষের জন্য যে আত্মত্যাগ রয়েছে তাতে এ কথা সহজেই অনুমেয় এদেশ, দেশের মানুষ এবং দেশের সম্পদের জন্য অন্য যে কারো তুলনায় ওনার দরদ এবং চিন্তা বেশী থাকবে। আবার এটাও সত্য মাঝে মাঝে গভীর জেদ ও ক্ষোভ মানুষকে ভুল পথে পরিচালিত করে।

সুন্দরবনের সুরক্ষা ও মঙ্গলের জন্য কোনটা ভাল হবে এবং কি এর জন্য ক্ষতিকর হবে সে বিষয়ে সঠিক বৈজ্ঞানিক তথ্য আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কাছে নেই। তবে আমাদের স্বাভাবিক বিবেক-বিবেচনায় সুন্দরবনের কি ভাল হবে আর কি মন্দ হবে তা বোঝার বোধটুকু আছে। সাধারণ একটি ইটের ভাটা আমরা আমাদের লোকালয় কিংবা ফসলের জমির আশেপাশে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি না। কেননা ইট ভাটা হতে নির্গত কালো ধোঁয়া যত উঁচু চিমনির সাহায্যে ছাড়া হোক না কেন তা পরিবেশের কিছুটা ক্ষতি করবেই। তারপরও উন্নয়নের স্বার্থে আমরা এ ক্ষতিটুকু মেনে নিতে বাধ্য হই। কিন্তু এমন ক্ষতি আমরা সবকিছুর ক্ষেত্রেই মেনে নিবো কিনা তা ভাবা উচিত। যতই যুক্তি তর্ক, গণমাধ্যম কিংবা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করা হোক না কেন সাধারণের একটা বড় অংশ এখনো মনে করে, সুন্দরবনের এত কাছাকাছি রামপালের মতো জায়গায় বড় একটা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র হবে যা কিনা সুন্দরবন সংলগ্ন পরিবেশ তথা নদী, নদীপথ এবং নদীর পানির উপর গভীর ভাবে নির্ভরশীল থাকবে অথচ তাতে সুন্দরবনের কোন ধরণের ক্ষতি হবেনা এটা বিশ্বাস যোগ্য নয়। যেহেতু পৃথিবীতে এখনো এমন প্রযুক্তি হয়নি যা কিনা কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ক্ষতি পুরোপুরি দূর কিংবা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাই রামপালে সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহারও এ নিশ্চয়তা দেয় না যে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ফলে আশেপাশের পরিবেশের তেমন ক্ষতি হবে না।

মজার বিষয় হচ্ছে, রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা সুন্দরবন সংলগ্ন বড় বড় মিল কারখানার ফলে সুন্দরবনের যে ক্ষতিসাধন হবে তা হয়তো আগামী এক-দুই কিংবা পাঁচ-দশ বছরে দৃশ্যমান হবেনা। বরং চল্লিশ-পঞ্চাশ বছরও লেগে যেতে পারে সুন্দরবনের উপর রামপালের কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কুপ্রভাব গুলো দৃশ্যমান হতে। সিডর-আইলার মতো প্রাকৃতিক দূর্যোগের সময় সুন্দরবন মায়ের মতো আমাদের দক্ষিণাঞ্চলকে রক্ষা করে এবং নিজস্ব সক্ষমতায় নিজের বিধস্ত অবস্থা কাটিয়ে উঠে। ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র তথা আশেপাশে নির্মিত বড় বড় কারখানার ফলে সুন্দরবন ধীরে ধীরে নিজস্ব সক্ষমতা হারাতে থাকবে। সে সময় হয়তো এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পক্ষে-বিপক্ষে যারা আছেন তাঁদের অনেকেই বেঁচে থাকবেন না, কিন্তু ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর কুফল ভোগ করবে।

আমাদের মাতৃভূমির উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ তথা নতুন নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র অপরিহার্য। আবার রামপালে বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা নিয়ে আমাদের দেশে আরো অনেক জায়গা পাওয়া যাবে, যেখানে এ কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করা যায়। হয়তো এর ফলে অন্য কোথাও কিছুটা ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে, আর আমাদের দেশের মানুষ উন্নয়নের স্বার্থে সেটা মেনেও নিবে। কিন্তু ‘মায়ের মতো সুন্দরবন’ এর সামান্যতম ক্ষতিও এদেশের সাধারণ মানুষ মানতে পারবেনা এবং তা পারবেনা আমাদের মাতৃভূমির বৃহত্তর কল্যাণের কথা চিন্তা করে।

একটি আন্দোলন কোন ব্যানারে হচ্ছে সেটাকে গুরুত্ব না দিয়ে বরং দেখা দরকার আন্দোলনের বিষয়বস্তুর প্রতি সাধারণ মানুষের মনোভাব কি এবং সে অনুযায়ী সরকারের উচিত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।