ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

শিরোনাম দেখেই অনেকে হয়তো মনে মনে ভাবছেন এ আবার কি বলে? জানা কথা নিয়ে কি কেউ প্রশ্ন করে? পাঠক বলতে পারেন এই জানা কথার আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে আমাদের আপত্তি কোথায়? এই মামলার আদেশ কে দিবে বা কোথায় পাবো এই প্রশ্ন আমার ঘনিষ্ঠ কিছু বড় ভাই ও বন্ধুদের করাতে আমার উপড় তারা মহা ক্ষেপা।কিন্তু তারা এই জাতির আগামী ভবিষ্যৎ অন্ধকারের বিষয়ে একমত। সবার আলোচনা ও চিন্তার শেষ ফলাফল সেই অন্ধকার।

কেউ কেউ এই ভবিষ্যৎটাকে নিয়ে মহা পরিকল্পনা করে রেখেছেন। যেমন এক বড় ভাই বলছেন বেশিদিন এ দেশে থাকবেন না।নিজেদের যা হয়েছে তাতো বদলাতে পারবেন না তাই বলে সন্তানের ভবিষ্যৎ নস্ট করতে একদম নারাজ। অন্যত্র পাড়ি দেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।এমনিতেই যারা এই দেশ বা জাতির ভবিষ্যৎ আলোকিত বা বদলানোর দায়ীত্ব নিয়েছেন তারা অনেক আগেই সন্তান ও পরিবারকে অন্যত্র স্থায়ী করেছেন।তাহলে উনারা আরও বেশি বুদ্ধিগুণ সম্পন্ন বুদ্ধিমান প্রানী।যদি প্রানী গুলিকে মানুষের শ্রেনীতে বিভাজন করা হয় তাহলে ধনী ও রাজনীতিবিদ ছাড়া আর কাউকে এই শ্রেনীতে পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না।উল্লেক্ষ্য যে ধনীদের জন্য রাজনীতি করা সুন্নত আর রাজনীতি যারা করেন তাদের জন্য ধনী হওয়া ফরয।তাই একে অপরকে পচ্ছন্দ ভালই করেন।ব্যবসা থেকে শুরু করে আত্নীয়তা,পরিকল্পনা,অত্যাচার সব কিছুর মধ্যে মিল রেখেই করেন।দেশ ও জাতির কি হবে?তারা কি দিয়েছে?তাদের এনিয়ে চিন্তা করার সময় কোথায়।

আবার কেউ কেউ অন্ধকারকে আলোকিত করতে বিদেশ থেকে ডিগ্রীলাভ করে নিজ দেশে ফিরেছেন।পরিচয় দেন নিজেকে আদর্শবান সুনাগরিক হিসাবে।আমরা তাদের বলি সুশিল সমাজ বা বুদ্ধিজীবী। যারা অধিকাংশ সময় কারনে ও বিনাকারনে সরকারের ও জনগনের বিরুদ্ধে কথা বলেন।তাদের কথা মানুষ শুনে তবে মানে না কেউ।তারা সকালে বলে বিকালেই ক্ষমা চান। বেচারারা কাজ করেন মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে।তারা শিক্ষিত বুদ্ধিমান এই কারনে যে ভবিষ্যৎ অন্ধকার ঠিক আছে বলা যায় না কখন আবার আলোর দেখা মিলে যাবে,তাই নিজেরা ঝুঁকি নিতে চান না।যা হয় হবে চাকুরী আর ব্যাংক এ নগদ আর সম্পদ জমানো তাদের নেশা।আর বাংগালী এমনিতেই ভালো কথা বা ভালবাসার পাগল।মিস্টি মিস্টি কথা বলে যে দেশে নেতা হওয়া ও ক্ষমতায় যাওয়া যায় তাদের সাথে এর বেশি আর কি দরকার আছে। দেশ বা জাতির কি হবে বা করা যায় তা নিয়ে তাদের কিছু যায় আসে না।মাল্টিপল ভিসা নিজের ও পরিবারের আগে থেকেই নেয়া আছে।৭/১১ হলে পাড়ি দিবেন বিদেশ নতুবা টিভি ও মিডিয়ায় জ্বালাময় টকশোতে অংশগ্রহণ করবেন।যিনি সরকারী চাকুরী করেন তাদের কথা আলাদা করে বলার কিছু নাই।তাদের সদিচ্ছা বদলে দিতে পারে ইতিহাসকে।

আরেকদিকে অনেকে আছেন পিতার বা দাদার রেখে যাওয়া সম্পদ ভোগ করছেন।দিন দিন তাদের রেখে যাওয়া সম্পদ ফার্মের মুরগীর মতো এতটাই দ্রুত বর্ধিত হচ্ছে যে উনাদের যা ইচ্ছা যখন ইচ্ছা তাই করতে পারেন ও পারবেন।তাই দেশের ভবিষ্যৎকাল অন্ধকার হলে উনাদের কিছুই যায় আসে না।
পাঠক ইচ্ছা করলে আরও অনেক লেখা যাবে।অনেক পাঠক পড়ে নতুন আরেকটি পড়া শুরু করবেন।তাতে আমাদের অন্ধকার দুর হবে এই নিশ্চয়তা কেউ কি দিতে পারবেন?আমি পারবো না।

একবারও কি ভেবেছেন, যারা রাজনীতি করেন না,ধনীও না বা হওয়ার কোন সুযোগও নেই,মাল্টি কোম্পানিতে চাকুরী করেন না,পিতার রেখে যাওয়া পর‍্যাপ্ত সম্পদ নেই,নিজের আয় করে পরিবারের ভরন পোষন করতে হবে,তারা কি করবেন?
যারা শিক্ষিত হয়েও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান করে দেশ ও জাতির অন্ধকার ভবিষ্যৎকে আলোকিত করার চেষ্টা করছেন তারা পারছেন না সরকারের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দুর্নীতির জন্য।সরকার বদলায় কিন্তু যারা দুর্নীতি করছেন তারা বদলায় না।শুধু বদলায় চেহারা ও টাকার অংক।বিরোধী দলের পুনরায় সাধারন মানুষের রক্ত চোষার জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টা ও জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দেশের অর্থনীতি ধংস করার কর্মকান্ড ভবিষ্যৎ কে আরও অন্ধকার করছে।সরকারের একগুঁয়েমি ও বিরুধীদলের জ্বালাও পোড়াও এর মাঝখানে সাধারন মানুষের অবস্থা কি তা সবাই বুঝেন শুধু বুঝেন না দুই দলের লোকজন।এভাবে কি আন্ধকারকে আলোয় রুপান্তর করা যাবে কিনা জানি না তবে এইটা বলতে পারি যে এরকম চেষ্টা করা মানে সময়ের অপচয়।

তাহলে কি অন্ধকার কোনদিন দূর হবে না।আসলেই কি আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার?