ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 

২০১৩ সাল থেকে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ জনিত কারণে দুবাইয়ের রাশেদ হাসপাতালে কোমায় আছেন প্রবাসী শ্রমিক আবুল কালাম। আজকের খবরের কাগজে প্রবাসী কল্যান বোর্ড থেকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তার পরিবার বা নিকট আত্নীয় খোঁজার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিষয়টি অনেক ছোট মনে হলেও আসলেই কি এতো ছোট?

একবুক স্বপ্ন নিয়ে সহায় সম্বল বিক্রি করে নিজের ও দেশের ভবিষ্যৎ বদলাতে বিদেশ যাওয়ার পর এমন করুণ পরিণতি আল্লাহ্‌ কোন শত্রুকেও যাতে না দেয়। তার পরিবার হয়ত জানেও না। হাজার ধন্যবাদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে যে উনারা এতদিন অপেক্ষা করেছেন। যে মানবতা দেখিয়েছেন, তা থেকে দেশের হাসপাতাল ও ডাক্তারদের অনেক কিছু শেখার আছে। নিজের দেশে টাকা খরচ করলেও এরকম সম্ভব হতো না।এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন এতদিন এভাবে তাকে সেখানে থাকতে হচ্ছে? তার কি কেউ নেই?

সবাই হয়তো আছে কিন্তু আমরা জানি না। জানার যে রাস্তা সেই পাসপোর্ট এর ঠিকানাটা ভুল, অন্যভাবে বলতে পারেন ভূয়া। এই নকল ঠিকানা ব্যবহার করে উনি পাসপোর্ট কিভাবে পেলেন? যারা উনাকে দিয়েছেন তাদের বা রাষ্ট্রের কি কোন দায়িত্ব নেই? রাষ্ট্রের দায়িত্ব কি শুধু ঠিকানা ও নিকট আত্নীয় খোঁজা? যদি ঠিকানা বা আত্নীয়স্বজন পাওয়া না যায় তাহলে কি করনীয়? এসব প্রশ্ন কার কাছে কে করবে?

আরেকদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই বা আর কতদিন অপেক্ষা করবেন তার আত্নীয়স্বজন বা মারা যাবার জন্য? পরে দেখা যাবে তার কারনে অন্য বাংলাদেশীদের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। তারা ভয় পাবেন শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়ার আগে।

ভূয়া ঠিকানার জন্য সম্প্রতি সৌদিআরব সরকার কঠোরভাবে শর্তাবলী আরোপ করে বাংলাদেশের শ্রমবাজার সাত বছর পর উন্মুক্ত করেছে। এখুনি যদি এই বিষয়ে সরকার নজর না দেয় তাহলে আবারো বন্ধ হওয়ার সুযোগ থেকে যাবে। বিশেষ করে রোহিংগারা যারা আমাদের দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করে বিদেশ পাড়ি দেয় ও সেখানে সব ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ করে এ দেশের সুনাম ক্ষুন্ন করছে, তাদের জন্য আসল বাংলাদেশীদের কর্মসংস্থান, সুনাম দেশে ও বিদেশে নষ্ট হচ্ছে। এসবের দ্বায়ভার কে নেবে?

নতুবা  শুধু দুবাই না, বিশ্বের সব হাসপাতালগুলি ভরে যাবে বাংলাদেশি শ্রমিক দ্বারা। নেতার আত্নীয় মারা গেলে রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে বিশিষ্ট ব্যক্তিগনের ঘুম হারাম হয়ে যায়। বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানিদের শোক বিজ্ঞপ্তিতে পত্রিকার পাতায় জায়গা থাকে না। এমন আবুল কালাম বিদেশের হাসপাতালে দুই বছর না দুইশত বছর থাকলে তাদের কিছু যায় আসে না। কারণ সে সাধারন জনগনের একজন। সাধারন মানুষ মানেই উপেক্ষিত, অসহায়, নিপীড়িত, নিরুপায়, রাষ্ট্রের বোঝা।