ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

গনমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থা গোটা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ বদলে দিতে পারে।গনতন্ত্র ও গনমাধ্যম একে অপরের পরিপূরক। সামাজিক যোগাযোগব্যবস্থায় তথ্য আদান প্রদানের জনপ্রিয় ও গুরুত্বপুর্ন মাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক।এর যেমন সুফল আছে তেমনি আছে কুফল। দৈনন্দিনখবর,রাজনৈতিক,আন্তর্জাতিক থেকে শুরু করে ব্যাক্তিগত সবকিছুই মুহুর্তের মধ্যে পাঠকের কাছে পাঠানো হচ্ছে এই ফেসবুকের মাধ্যমে।তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র।ব্যক্তিগত ভাবে কেউ সৎ ও সেবার উদ্দেশ্য নিয়ে ব্যবহার করেন,আবার কেউ করেন ঠকবাজি ও অন্যকে বিরক্ত করতে। পত্রিকাভিত্তিক খুব কম প্রতিষ্ঠান পাওয়া যাবে যারা এর সাহায্য নেন না। কিন্তু অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার পর পাঠক যে কাজটি করেন তা হলো পছন্দ ও মন্তব্য। আর এই কাজটির উপর ভিত্তি করেই বদলে যায় বা নির্ভর করে অনেক কিছু।তাই পাঠকের পছন্দ ও মন্তব্য অনেক গুরুত্বপুর্ন বিষয়। যদিও আমাদের দেশে এর তেমন কোন প্রভাব পরিলক্ষিত হয়না।তবুও দিন দিন পাঠকের সংখা বাড়ছে সেই সাথে বাড়ছে পছন্দ ও মন্তব্য।কিন্তু এই পছন্দ ও মন্তব্যগুলির আকার দিন দিন কেমন জানি সংক্ষিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। পাঠক হাঁপিয়ে যাচ্ছেন দিতে বা করতে।মন চাইলে টুপ করে দিলাম লাইক আবার সত্যি সত্যি যদি কোনটার লাইক দেওয়া দরকার সেখানে দিলাম না।এখানে আমরা স্বাধীন,অন্য কিছুর বেলায় স্বাধীন কিনা জানিনা তবে এখানে একদম স্বাধীন। ধরুন কোন প্রতিবেদনে মন্তব্য করতে ইচ্ছে করছে কিন্তু হাতের আংগুল গুলি টাইপ করতে চাচ্ছে না।এর কারন কি একগুঁয়েমি না অন্য কিছু? কারন অনেক কিছু হতে পারে। যেমন প্রতিবেদন গুলিকে যদি আলাদা করি মূলত ১)জাতীয় ২)রাজনৈতিক ৩)আন্তর্জাতিক ৪)ব্যাক্তিগত ৫)বিনোদন ও ৬)ধর্ম এই বিষয় গুলিকে প্রাধান্য দিয়েই বেশিরভাগ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে থাকে।আরেকটি বিষয় প্রকাশ কম হয় কিন্তু পছন্দ ও মন্তব্য বেশী হয় পাঠকের তা হলো সেক্স বা যৌনতা।এ যায়গায় আমরা স্বাধীন না হয়ে বরং নিজেকে লুকিয়ে রাখতে বেশী পছন্দ করি।উপরে উল্লেখিত ছয়টি বিষয়ের মধ্যে জাতীয় প্রতিবেদনের যায়গা দখল করে নিয়েছে এখন রাজনীতি,যদিও তা হবার কথা না।এ কারনে বলছি যে,বিভিন্ন পত্রিকার জাতীয় ও রাজনৈতিক ট্যাব দেখলে একই প্রতিবেদন দেখা যাবে এই দুই ট্যাবে,পার্থক্য শুধু আগে বা পরে।তাহলে আলাদা ট্যাব করে কি লাভ? দুটিকে এক করে নতুন নামকরণ হওয়া উচিৎ তা হলো জাতীয় ও রাজনৈতিক।
রাজনৈতিক বিষয়ে পাঠক যে মন্তব্যগুলি করেন,তা পড়ি আর নিজেই চিন্তা করি,যদি কোন পাঠক খারাপ গালিগালাজ জানেন না তাহলে মন্তব্য গুলি পড়তে পারেন আপনার কোন শিক্ষক দরকার নেই।যদি লাগাতার তিন দিন পড়েন আপনি হয়ে যাবেন এই বিষয়ে বিষেশজ্ঞ।বিষেশ করে আমাদের ক্ষুদে পাঠক এই শিক্ষাটা খুব দ্রুত গ্রহন করে নিচ্ছে।আমি আমার ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতায় বলছি।এখন পাঠক কেন এই বিরুপ মন্তব্য করেন এর একটু গভীরে প্রবেশ করলে দেখতে পাবো এর জন্য দলের চেয়ে রাজনীতিবিদদের ব্যাক্তিগত কারনই এর জন্য মুলত দায়ী।যেমন একবার যিনি মিথ্যা বলেন পরবর্তিতে উনার সত্য ও ভালো কিছু পঠকের গ্রহন করতে অনেক অসুবিধে হয়।এতে পাঠকের জমে থাকা ক্ষোভ মন্তব্য আকারে প্রকাশ পায়।যদিও এতে তাদের কিছু যায় আসেনা।উনারা যদি সত্যিই বুঝতেন যে একজনের বিরুপ মন্তব্য আরেকজনকে একই মন্তব্য করতে উৎসাহীত করে তাহলে উনারা মন্তব্য প্রকাশ করার সাথে সাথে তা খন্ডন করে ব্যাক্ষা চাইতেন।আর এরকম হলেই পাঠক ২য় বার এমন বিরুপ মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতেন তাদেরকেও এমন বিব্রতকর অবস্থায় পরতে হতো না।যদিও উনারা বিব্রত বোধ করেন কিনা আমার জানা নেই।দুখের বিষয় উনারা তা করেন না।সমাজ নিয়ে যাদের কারবার তাদের অনেকের এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি নেই।থাকলেও উনারা তা জানাতে চান না বা এড়িয়ে যান।কেউ কেউ দিচ্ছেন তবে তা শুধুই দেখতে কোন মন্তব্য করার অধিকার কাউকে দেন না।ভয়ে বা লজ্জায় যে কারনেই হউক তারা এটা দিচ্ছেন না।কিন্তু তিনি নিজেকে পাবলিক প্রোফাইলার দাবী করেন।ঠিক ধরি মাছ না ছুই পানি।এতে তাদের ও পাঠকের মাঝে দুরত্ব তৈরি হচ্ছে যা সমাজ ও জাতির উপর ইতিমধ্যে বিরুপ প্রভাব ফেলা শুরু করে দিয়েছে।যা হতে পারতো ইতিবাচক এখন হচ্ছে নেতিবাচক।উনাদের এই অজ্ঞতা,অসেচনতা ও দায়ীত্বহীনতা নতুন প্রজন্মকে রাজনীতিবিদ হতে উৎসাহী করে না নিরুউৎসাহী করে উনারাই ভালো বলতে পারবেন।এতে উনাদের কি ক্ষতি হচ্ছে জানি না তবে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ যে অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে এতে কোন সন্দেহ নেই।
আন্তর্জাতিক বিষয়ে সবার আগ্রহ এক না।মন্তব্য গুলি হয় অনেকটা দায়সারা ও আফসোস এর মতো।আন্তর্জাতিক বলতে পাঠক ইন্ডিয়ান ফিল্ম ও নায়ক-নায়িকা,ইন্ডিয়ান রাজনীতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন গুলিতে পাঠক লাইক ও মন্তব্য বেশী করেন।তাতে আমাদের জাতীয়ভাবে কিছু করার বা হওয়ার নেই।তাই বলেও লাভ নেই।এর প্রভাব রীতিমত পড়তে শুরু করেছে যেমন হিন্দি ছবি আমদানি ও প্রদর্শন বন্ধ করতে চলচিত্র সংস্লিস্ট সবাইকে রাস্তায় নামতে হয়েছে।যদিও তারা হিন্দি টিভি চ্যানেল গুলির বিষয়ে কিছু বলছেন না।আর এগুলি এখন এতো জনপ্রিয় যে বড় বড় অনেক দেশীয় প্রতিষ্ঠান স্থানীয় গনমাধ্যম কে বাদ দিয়ে তাদের গনমাধ্যমে পন্যের প্রচার শুরু করে দিয়েছেন।এর শেষ কোথায় ও এতে দেশ ও জাতির কি হবে আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন।
ব্যাক্তিগত প্রতিবেদন খুব কম হয়।হয় না যে তা না।এই যেমন কিছুদিন আগে মাননীয় রেল মন্ত্রীর বিয়ে নিয়ে যা প্রতিবেদন হয়েছে এবং যে পরিমান লাইক ও মন্তব্য পাঠক করেছেন তা এখন ইতিহাস।

বিনোদন বলতে একটু আগে ইন্ডিয়ান প্রসংগে যা বলেছি এখানে শুধু মহিলাদের সাস্থ ও রুপচর্চা যোগ করতে পারেন।যদিও পুরুষের রুপচর্চা নিয়ে কমই ফিচার দেখা যায়।কিন্তু পুরুষ পাঠকই মন্তব্য বেশী করেন।যা কোন কাজে আসে না আসবেও না।

ধর্ম নিয়ে যে সব প্রতিবেদন হয় তাতে পচ্ছন্দ ও মন্তব্য তুলনামুলকভাবে বেশী হয়।এর কারন কি সামাজিক না ব্যাক্তিগত তা বলা মুসকিল।হতে পারে ধার্মিক হলে মেয়েরা ছেলেদের বা ছেলেরা মেয়েদের পছন্দ তারাতারি করবে,বন্ধুত্ব্বও একটু জলদি হবে।এমনও দেখেছি যে নামায ও রোযা রাখে না অথচ তার পাবলিক প্রোফাইল ধার্মিকতার দিক দিয়ে হিংসা করার মতো।এর মানে কি হতে পারে আমি জানি না।

সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং বেশী মন্তব্য ও পছন্দ যে প্রতিবেদনে দেওয়া হয় তা হলো সেক্স বা যৌনতা নিয়ে কোন প্রতিবেদন।যদিও অধিকাংশ আইডি ফেক বা নকল।আইডির চেয়ে মন্তব্যগুলি আরও বেশী বিপদজনক।যৌনতা বা সেক্স এখন মোটামোটি সব দেশেই সিলেবাস এ অন্তর্ভুক্ত শিক্ষনীয় বিষয়।কিন্তু আমাদের সমাজে লোকচক্ষুর আড়ালে রেখে এ থেকে শিক্ষা না নিয়ে বরং মজা নেওয়ার অভ্যাস তৈরি হচ্ছে।বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যে ধরনের ভিডিও আপলোড করা হচ্ছে তা না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন যে আমাদের ছেলে মেয়েরা কতো অভিজ্ঞ।এমন প্রশিক্ষণ তারা কোথায় পেলেন?এতে কি গর্ব করবো না নিজের বাংগালী পরিচয় মুছে ফেলবো? এই যে সামাজিক অবক্ষয় তা যদি বন্ধ করতে হয় তাহলে এই বিষয়ে এখনি সিদ্ধান্ত নিতে হবে।পছন্দ ও মন্তব্য হউক ভালো হউক মন্দ তার নিজস্ব যুক্তিযুক্ত কারন থাকতে হবে।নিজের পয়সা খরচ করে মন্তব্য করবো আর তা যদি সমাজ ও জাতির উপকারে না আসে তাহলে কি লাভ এই অহেতুক সময় নস্ট করে।