ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিশ্বের কোন গনতান্ত্রীক দেশে এভাবে মানুষ পুড়িয়ে তথাকথিত গনতন্ত্র পুনরুদ্ধার হয়েছে বলে আমি কখনো শুনিনি ও দেখিনি রাজনৈতিক দুর্বত্তের ছোড়া পেট্রলবোমায় জলজ্যান্ত সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ পরিবার সমেত পুড়ে কয়লা হচ্ছে এমন উদাহরণ মনেহয় আমাদের বাংলাদেশ।বর্তমানে গনতন্ত্র হয়ে গেছে পোড়া মানুষ।শুধু যে মানুষ পুড়ছে তা না সাথে পুড়ছে তাদের স্বপ্ন,ভালবাসা,ভবিষ্যৎ।জাতি হচ্ছে কলংকিত।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন আছেন গাইবান্ধার হতদরিদ্র খেটে খাওয়া অসহায় কিছু মূল্যহীন মানুষ।তাদের একজন তারা মিয়া।তিনি বিরোধী দলের ডাকা টানা অবরোধ আন্দোলনে দুষ্কৃতীকারিদের ছোড়া পেট্রল বোমায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।যখন তিনি দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে আসেন তখন উনার সাথে থাকা শিশু ছেলে দগ্ধ কয়লা হয়ে চলে গেছে না ফেরার দেশে।কোন পিতার কাছে সেই মুহুর্ত যে কতো বেদনাময় তা একজন পিতা হয়ে কিছুটা অনুভব করছি বলেই আজকের লেখাটা তাকে উৎসর্গ করেই লিখছি।আমি কোন ধনী বা রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ত না,তাকে আমি কিছুই দিতে পারবোনা শুধু সহানুভূতি ও ভালোবাসা ছাড়া।কস্টটা আরও বেড়ে দিগুণ হয়েছে যখন শুনলাম তার প্রিয়তমা স্ত্রী সোনাবানু যে কিনা ছেলের শোক ও দগ্ধ দেহের যন্ত্রনা সইতে না পেরে চলে গেছেন ছেলের কাছে সেই না ফেরার দেশে।রেখে গেছেন দগ্ধ স্বামী তারা মিয়া ও তার সাথে ৫ বছরের মেয়ে তানজিয়াকে।কতো স্বপ্ন ছিল তাদের,কস্ট করে হলেও সন্তানদের শিক্ষিত করবেন,তারা ভাল চাকুরী করবে,মানুশের মতো মানুষ হয়ে তাদের কস্ট দুর করবে,এগিয়ে নিয়ে যাবে দেশের অর্থনীতি।একটি পেট্রল বোমা কেড়ে নিয়েছে তাদের সব।কোথায় তাদের স্বপ্ন?কোথায় ভবিষ্যৎ?? তিনি কি সত্যিই অপরাধ করেছেন গরীব হয়ে জন্ম নেওয়ার পর স্বপ্ন দেখেছেন বলে?যদি স্বপ্ন দেখা অপরাধ নাই হয় তাহলে এই স্বপ্ন কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।নিতে পারেন না।সেই অধিকার কেউ আপনাদের দেয় নাই।
ব্যবসায়ীরা আছেন লাভ লোকসান নিয়ে।বলছেন লোকসান হচ্ছে তাই বন্ধ করুন এই আন্দোলন না হয় ভ্যাট ও ট্যাক্স দিবেন না।উনারা ইচ্ছে করলেই আমাদের হাসপাতাল ও তার বার্ন ইউনিটকে আরও অত্যাধুনিক করে দিতে পারেন। মানুষ পুড়ছে পুড়ক, তাতে কী!তাদের ব্যাবসায় লাভ হতেই হবে। ক’জন ব্যবসায়ী বা প্রতিষ্ঠান এখন পর্যন্ত এই পোড়াদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে? তাদের একটু ভালো উদ্দ্যেগ বদলে দিতে পারে এই পোড়া মূল্যহীন মানুষগুলির ও জাতির ভবিষ্যৎ। বিরোধী দলের ক্ষমতায় যেতেই হবে তাই চলছে ও চলবে এই জ্বালাও পোড়াও আন্দোলন।সরকারের ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য বিরোধীদলের আন্দোলন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন আরেকটু কঠোরভাবে তাদের দমনে।কিন্তু ভুলে গেছেন এই দমনে আরও কিছু নতুন সন্ত্রাসী তৈরি হতে পারে।তাতে পরিস্থিতি হয়ে উঠতে পারে আরও ভয়ানক। প্রথমে যারা পুড়েছে তাদের তাৎক্ষণিক ১ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছিল,আর এখন যারা পুড়ছে তাদের দেওয়া হচ্ছে ২০ হাজার।যেখানে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড হতে পারে এ খবর দিলেই ১ লক্ষ টাকা সেখানে তাদের ২০ হাজার দেওয়াটা কোন যুক্তির মধ্যে পরে আমার বোধগম্য হয় না।এটাও হয়তো বন্ধ হয়ে যাবে। সীমিত সম্পদের মধ্যে কি আর করার আছে।এখন পুড়া গেলে মিডিয়ার কল্যানে জানতে পারছি।একসময় আসবে মিডিয়াও ক্লান্ত হয়ে যাবে বা ক্লান্ত করে দেওয়া হবে।তাই বলে এই মুল্যহীন জনগনের পুড়া বন্ধ হবে তা ভাবার কোন কারন নেই।হয়তো শারীরিক ভাবে না পুড়ে মানষিক ভাবে পুড়বে।পুড়বে যে নিশ্চিত পুড়তেই হবে।আর এই রাহু চক্রে জনগনের নাভিশ্বাস দিন দিন বাড়ছেই।।বাড়ছে জিনিসের দাম,কমছে আয়ের জায়গা,কস্টের সঞ্চয় করা টাকা ভাংতে হচ্ছে চাহিদা পুরনের জন্য।যাদের সঞ্চয় আছে তারা না হয় করছেন যাদের নেই তারা কি করবেন?রাজনীতির চেয়ে দেশ বড় না দেশের চেয়ে জনগন?উত্তরটা একদম সোজা হলেও এই জনগনেরই কিন্তু পুড়ছে স্বপ্ন ও সন্তান।জনগনের সাথে পুড়ছে জাতি ও দেশের ভবিষ্যৎ। সেই যে ১৯৭১ থেকে পুড়া আরম্ভ হয়েছে তা আজও চলছে ও চলবে।সেদিন পুড়িয়েছে পাকিস্তানী হায়েনারা আর আজ পুরাচ্ছে নিজের দেশীয় ভাইয়েরা।তাহলে কে কার জন্য কি করছে?জনগন কাকে বিশ্বাস করবে? ধৈর্যের বাধ কতদিন টিকবে?