ক্যাটেগরিঃ অর্থনীতি-বাণিজ্য

 

রাজধানীর অভিজাত এলাকায় যেমন ধানমন্ডি, গুলশান,বনানী, নিকুঞ্জ, উত্তরা, বিশেষ করে সব বারিধারা ডিওএইচএস, বসুন্ধরার মধ্যে এখন বিদেশিরা ফ্ল্যাট বাসা ভাড়ায় নিয়ে তাতে হোটেল বাণিজ্য খুলছেন। অতীতে গুটিকয়েক দেখা গেলেও সময়ের সাথে সাথে এখন এরকম ফ্ল্যাট হোটেল সংখ্যা খুব দ্রুত প্রসার লাভ করছে। এতে বাড়ির মালিকগনের পকেটের ওজন যেমন বাড়ছে তেমনি সমান তালে বাড়ছে অসামাজিক কার্যকলা্প।তাই বলে সব খারাপ তা বলছি না।এমন হোটেল কাম গেস্ট হাউজের সঠিক সংখ্যা কতোগুলি হবে তা আল্লাহই ভালো জানেন।যাক এ নিয়ে বিতর্কে না যাওয়াই ভালো।বাড়ির মালিকগন জানেন না বা বুঝেন না যে তিনি যা ভাড়া পাচ্ছেন তার ৩০ গুন টাকা বিদেশি হোটেল মালিকেরা আয় করছেন। বিদেশিদের ভ্রমনকালীন হোটেল ভাড়া ও খাবার বাবদ এই টাকা যা আমাদের দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সাথে যোগ হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হয়ে সব মুদ্রা খুবই সূক্ষ ও জটিল পথে পাচার বা ফেরত পাঠিয়ে দিচ্ছেন। অনেকেরই এই হোটেল ব্যবসা ছাড়া আর অন্য কোন ব্যবসা নাই। তারপরেও বিনিয়োগ বোর্ড থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকল জায়গা থেকে অনুমতি নিয়ে বসবাস ও ব্যবসা করে যাচ্ছেন বছরের পর বছর ধরে।দেখার কেউ নেই। কিন্তু কোন বাংলাদেশীর পক্ষ্যে অন্য দেশে এমন ব্যবসা করাটা যে কতো ঝামেলার তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না, এক কথায় অসুম্ভব।
রাজধানি ঢাকাতে চীনা, তাইওয়ানিজ, জাপান থেকে শুরু করে এমনকি নাইজেরিয় নাগরিকগণ একটু বড় দেখে ২-৪ তলা ভাড়া নিয়ে পাতলা শক্ত প্লাইউড দিয়ে ছোট ছোট রুম বানিয়ে নিয়েছেন। আর এই ছোট রুমগুলিকেই নিজদেশি ও ভীনদেশিদের কাছে ভাড়া দিচ্ছেন। সার্বক্ষনিক একটি গাড়ি ও ড্রাইভার রাখা আছে শুধু গেস্টকে এয়ারপোর্ট থেকে আনা নেওয়ার জন্য। থাকা ও খাবার মিলিয়ে জনপ্রতি নূন্যতম তিন হাজার টাকা এক দিনের জন্য রুম ভাড়া নেওয়া হয়ে থাকে। দেখাযায় সারা মাস জুড়েই অতিথি আসা যাওয়ার মধ্যে থাকে। তাই বাড়ি মালিক বা অন্য কেউ বুঝতেই পারেনা যে হোটেলগুলিতে আয় কতো? এমনিতেই আমরা দূর থেকে ভিনদেশিদের দেখতে পছন্দ করি। তারা কি করছে না করছে তা নিয়ে আমাদের মাথাব্যাথা কম। এসব হোটেল গুলিতে সুযোগ সুবিধা বেশি ও ঘরের পরিবেশ বিরাজ করায় সব সময় ভিড় লেগে থাকেই।

কিন্তু সবচেয়ে বড়কথা ও মূলকথা হচ্ছে হোটেলগুলি কি সরকারকে রাজস্ব বা ভ্যাট দিচ্ছে? বা সরকার কি তাদের হোটেল গুলিতে কখনও ভ্যাট আদায় করতে চেষ্টা করেছেন? আমার মনে হয় না বা আমি দেখিনি আজও।অথচ রোজ দেখি রাস্তায় গরীব স্বব্জী বিক্রেতা যদি পুলিশ কে ২০ টাকা না দেয় তাহলে তারা বিক্রেতার দাড়িপাল্লা নিয়ে যায়। নতুন করে বিভিন্ন যায়গায় সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স বাড়িয়েছেন।

এমনই এক হোটেলের চীনা মালিক কে প্রশ্ন করেছিলাম যে আপনারা কি সরকার কে ভ্যাট ও ট্যাক্স দিচ্ছেন? প্রশ্নটা শুনে সে রহস্যের হাসি দিয়ে ও গর্ব করে উত্তর দিলো,দ্বিগুণ বাসা ভাড়া দিচ্ছি,এবং এই শর্তে বাড়ী ভাড়া নিয়েছেনকোন ভ্যাট দিতে হবে না এমন কি যদি আইনতঃ কোন ঝামেলা হয় তাহলে বাড়ীর মালিক বুঝবেন।আমি আবার বললাম যদি তিনি কোন সাহায্য না করে সে ক্ষেত্রে কি করবেন?।তিনি বললেন এরকম সাধারনত হয়না,হলেও তিনিই বুঝবেন।সেই ক্ষমতাও উনার আছে। কারন বাড়ীর মালিক একজন (অবঃ) সেনা কর্মকর্তা।তাহলে সবাই কোন না কোন ভাবে প্রভাবশালী বাড়ীর মালিক।সরকার যে ভ্যাট/ট্যাক্স পায়না এর জন্য কে দায়ী কে? ভিনদেশী হোটেল মালিক যাকে না দেওয়ার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে,না আমরা নিজেরা যে দ্বীগুন ভাড়া পাচ্ছি ঠিকই কিন্তু নিজেও দিচ্ছি না ভাড়াটিয়াকেও দিতে দিচ্ছি না।আসলে এতে করে আমরা কার ক্ষতি করছি?কার বেশী লাভ হচ্ছে?যারা কোটি কোটি টাকা খরচ করে হোটেল বানিয়ে বসে আছেন গ্রাহক নেই। তারাই বা এই বিষয়ে কেন নীরব ভূমিকা পালন করছেন আমার বোধগম্য হয় না।তারা ইচ্ছে করলে একত্রে আলোচনা করে বেংঙের ছাতার মতো গড়ে উঠা এসব অবৈধ,অনুমতি বিহীন,ওনিরাপদ,অসামাজিক তথাকথিত হোটেল কাম গেস্ট হাউজ উচ্ছেদ করতে সরকারের কাছে আবেদন করতে পারেন।বন্ধ হলেই দেশের মুল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা পাচার রোধ করা সম্ভব।দেশীয় হোটেল ব্যবসার গুনগত মান ভালো করার প্রতি্যোগিতা তৈরি হবে।