ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

যানজট আমাদের দিনের অনেকটা সময় বের করে নেয়, একজন চাকুরিজীবী তার দিনের মোট ৬ ঘণ্টা, যেতে ৩ ঘণ্টা এবং আসতে ৩ ঘণ্টা ব্যয় হয়। তাই দৈনিক ৮ ঘণ্টা কর্মস্থলে থাকলে  প্রতিদিন ১৪ ঘণ্টা চলে যায় আয়-উপার্জন করার কাজে। ইচ্ছা করে যানজটের জন্য কেউ সময় ব্যয় করে না। যানজটে বসে থাকতে কার ভাল লাগে, আর অনেকে বলেন “আপনি পায়ে হেঁটে গেলে আগে যেতে পারবেন”। যানজটের কারন অনেক, ঢাকায় রাস্তার পরিমান অনেক কম, প্রাইভেট গাড়ীর সংখ্যা অনেক বেশি, আর মানুসের চাপ অত্তাধিক চাপ। এ্যাম্বুলেন্স বা রোগী পরিবহন করা গাড়ি যানজটে সবচেয়ে বড় সমস্যায় পড়ে। যেসব বাস জনসাধারণের জন্য নিয়মিত রুটে চলাচল করে, সেই বাসের অবস্থা কেমন, যারা এসব বাসে চলাচল করেন তারা ভাল যানেন।

ঢাকা শহরের যানজটের সমাধান কোথায়? সঠিক পরিকল্পনার অভাব ঢাকা শহরকে যানজটের শহরে পরিণত করেছে। ঢাকাতে পানি, বিদ্যুৎ, সড়ক পয়- নিষ্কাসন, আবর্জনা পরিস্কার সব কিছুতে সমস্যা আছেই। কারন ঢাকার জনসংখ্যার চাপ সামাল দেয়ার মত প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থার অভাব।

একজন ছাত্র তার ভাল পড়াশুনা, কর্মজীবনের জন্য ঢাকায় আসলে তাকে ঢাকাতে থাকতে হয় কারন ঢাকাতে অনেক তার কাজের সুযোগ আছে। অন্য বিভাগীয় শহরে এবং গ্রামে সেই সুযোগ নেই। গ্রামে মানুসের কাজের সুযোগ বাড়ানো গেলে ঢাকা মুখি প্রবনতা রোধ করা যায়। ঢাকাতে প্রায় দুই কোটি মানুসের বসবাস। এই বিপুল সংখ্যক মানুসের চাহিদা পূরণ করা সহজ কাজ নয়। অনেক বড় পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করা অনেক সময় কঠিন। জনসমর্থন হারানোর ভয়ে অনেক ভাল পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়না।

হরতাল অবরোধ থাকলে বেশ আরামে অফিস করা যায়, কারন যানজট নেই, কিন্তু আতঙ্কের সাথে জীবন হারানোর ভয় জড়িয়ে যায়। অনেক মানুষ নিহত এবং আহত হয় হরতাল অবরোধ ভাঙচুরের কারনে। এমনকি রোগী পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা গাড়ীর উপর হামলা দুঃখজনক। বার্ন ইউনিটে মানুষের কষ্টকর অবস্থান বলে দেয় হরতাল অবরোধ মানুষকে কতোটা কষ্ট দেয়।