ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

সাধারণত আমরা মনে করি যে ইউরোপ-আমেরিকার সব মানুষই খুব উচ্চশিক্ষিত এবং অনেক অগ্রসর। কিন্তু আমার দু’বছরের ইউরোপ জীবনে অসংখ্য মানুষের সাথে মেশার সুযোগ হয়েছে যাদের লেখাপড়ার দৌড় স্কুল লেভেল পর্যন্ত। অধিকাংশই বড়জোর হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছে, কয়েক ক্লাস পড়তে চেষ্টা করেছে তারপরে একসময় ওসব ছেড়ে দিয়েছে! খুব কম মানুষেরই উচ্চ শিক্ষা (ইউনিভার্সিটি পর্যায়ে) রয়েছে।

স্বভাবতই মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, তাহলে তারা এতো ভালো জীবনযাপন করে কিভাবে? পেশাগত জীবনেই বা সফল হয় কি করে? এর সহজ জবাব হলো তারা খুব বাস্তববাদী। ট্রাডিশনাল পড়ালেখা যখন ভালো লাগে না তখন তারা কিছু টেকনিক্যাল কোর্সে ভর্তি হয়। এক বা দুই বছর সেই টেকনিক্যাল কাজ শেখার মাধ্যমে বাস্তবজীবনের জন্য যোগ্য হয়ে ওঠে। মজার বিষয় হলো এদের কোর্স বা ট্রেনিং আমাদের দেশের তথাকথিত ‘ভোকেশনাল কোর্স’ এর মতো ফাঁকিবাজি নয়। এখানে শিক্ষার্থীরা সত্যিই দক্ষতা অর্জনে সচেষ্ট হয়। ফলে কোর্স শেষে তারা কাজের উপযোগী হয় এবং কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত দক্ষতা অর্জন করতে চেষ্টা করে।

আরেকটি উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো, প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া কম হলেও বাহ্যিক পড়াশোনায় এরা খুব আগ্রহী। নিয়মিত লাইব্রেরিতে যাওয়া, বই কেনা এবং সুযোগ পেলেই বই খুলে বসা এক বিরাট গুণ। কিন্তু আমাদের দেশে কোনমতে একটা চাকুরিতে ঢুকতে পারলে পড়াশোনার ধারেকাছে ঘেঁষতে চাই না…অথচ তখনিতো প্রকৃতপক্ষে কোন বই/সাহিত্য পড়ে বোঝার মতো ম্যাচিউরিটি আসে। আর সেজন্যই বোধহয় ওরা এতো সফল আর আমরা পশ্চাদপদ। এই ধারায় দ্রুত পরিবর্তন আসা দরকার ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে…সেই সুদিনের অপেক্ষায়।