ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

[প্রিয় পাঠক ব্ন্দঃআসসালামু আলাইকুম ।আশা করি আল্লাহর রহমতে সবাই ভালোই আছেন । আজ আমি আপনাদের সাথে কিছু খোলামেলা আলোচনা করতে চাই ।]
পড়ন্ত বিকেল ।ঠিক ৫:৩০ মিনিটে নামাজ পড়ে আমি এবং আমার রুম্মেট আনিস ভাই সহ রওনা দিলাম বাজারের দিকে কিছু ফলমূল কেনার জন্যে । শরীর টা কয়েকদিন থেকে ভাল যাচ্ছিল না । যাওয়ার পথে কিছু মেয়ে আমাদের চোখে পড়ল ।দেখলাম কিছু টাইট ফিট পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে ।যা দেখে চোখ সড়ানো আমাদের পক্ষে কিছু মুশকিল হয়ে পড়ছিল ।তবুও অনেক কষ্টে চোখ সরালাম ।যে পোষাক পড়লে পুরুষদের মনে যৌন উত্তেজনার তৈরি হয় ,তা নিঃসন্দেহে জঘন্যতম পোষাক হিসেবে অভিহিত করা যেতে পারে ।
আসলে যৌন বিষয়টা উপরওয়ালা প্রদত্ত ।এটা আসলে কেউ কেউ কন্ট্রোল করতে পারে আবার কেউ কেউ পারে না ।যৌন বিষয়টা এমন একটা জিনিস ,যা মাথায় উঠলে থামানো বড়ই কঠিন, তা আমরা সবাই জানি । তবুও কেন জানি সবাই আইন কানুন চালু করে ধর্ষন প্রতিরোধ করার ব্থা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।ধর্ষন সংগঠিত হওয়ার মূল জিনিসটা খুঁজতে হবে আমাদেরকে । না ওটা বলিনি ,আইনও দরকার আছে । তবে তার মধ্য দিয়ে কিছু বিষয় মেনে চললে হয়ত ধর্ষন প্রতিরোধ করতে আমরা সক্ষম হব ।যা আমি সবার সাথে আলোচনা করতে যাচ্ছি ।

রীতিমত দেশে ধর্ষণের ব্যাপক চাষ হচ্ছে ।যা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ।অনেকেই বলে যে এক্ষেত্রে পুরাটাই পুরুষেরই দোষ । আমি এর বিপক্ষে । তবে হ্যাঁ পুরুষেরো দোষতো আছেই । কিন্তু মেয়েদেরও এর কিছু দায়ভার নিতেই হবে ।প্রথমেই আমাদের পুরুষের মনে ধর্ষনের আকাঙ্খা উদ্ভব হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করতে হবে ।একটু গভীর ভাবে লক্ষ্য করলেই দেখা যাবে যে , ধর্ষনের উতসটা হল মেয়েদের দেহ । আর বর্তমানে মেয়েদের দেহকে পুরুষদের সামনে ফুটিয়ে তোলার জন্য কিছু উটকো মার্কা পোষাক তৈরি হচ্ছে এবং তা জনপ্রিয়তার সহিত ব্যবহ্ত হচ্ছে ।যা প্রথমেই আমি এবং আমার রুম্মেট এর উদাহরণ দিয়েছি । একটা উদাহরণ এর মাধ্যমে এটা পরিষ্কার হয়ে যাবে ।

সানি লিওন। একজন দেহ ব্যবসায়ী অভিনেত্রী। পত্রিকার ভাষায় পর্ণোস্টার। পোশাক হয়তো তার উদ্ভট, যা পরলে মানুষকে দেখা যায় উৎকট। বিকৃত রুচির যুবকদের কাছে তার বেশ কদর।
বাংলাদেশে এবারের ঈদের বাজার নতুন সব ব্রান্ডের মাঝে একটি পোশাকের ব্রান্ডের নাম শুনে সবাই চমকে ওঠে,থমকে যায়। এও সম্ভব! সেই কূরুচি সম্পন্ন পতিতার নামে ও তার পরা ডিজাইনের জামা মার্কেটে! এবং তার চেয়েও বেদনাদায়ক হলো সেটা জনপ্রিয় হয়েছে!

একজন প্রথম শ্রেণী পতিতাকে মডেল মেন তার ডিজাইনের পোশাক পরে মেয়েরা কি বোঝাতে চায়! তারাও কি তার মত বহুভোগ্যা মানসিক বিকৃত এক পতিতার রূপে গর্ববোধ করে! এরা কি এদেশের মেয়ে! সমাজের অংশ! এদের অভিভাবকই বা কত কুরুচি সম্পন্ন যে এসব পোশাকের পেছনে হাজার হাজার টাকা খরচ করে। আচ্ছা! এরপর এই মেয়েদের যদি খারাপ
দৃষ্টির পুরুষেরা উত্যাক্ত করে তার কোনো দায়ই কি মেয়ের নেই! আহ! এরা ঈদ পালন করে কিন্তু রোজা রাখেনা।

পর্ণোস্টারদের খোঁজ রাখে কিন্তু আয়শা (রাঃ) কিংবা ফাতেমা (রাঃ) কে চেনে না। নিজের ঐতিহ্য ঢিলেঢালা পোশাক ও হিযাবকে ঘৃণা করে। খোঁজ নিলে দেখা যাবে এরা কালিমাও নির্ভুল
পড়তে জানে না। আমরা কথায় কথায় গর্ব করি মুসলিম দেশ, এই কি মুসলিম দেশের চিত্র! এদেশে হিযাবের ওপর আদালত পরোয়ানা জারি করে পতিতার পোশাকে নয়! আমাদের রুচিবোধে পঁচন ধরে গেছে, দ্রুত চিকিত্সা না হলে পতনের দেরি নেই, ঘন্টা শুনতে পাওয়া যায় . . . . . ।

উপরিউক্ত উদাহরণের একটাই সারমর্ম আসে যে, ধর্ষন প্রতিরোধ করতে হলে মেয়েদের শরীর কিছু ঢিলেঢালা পোষাক দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে ।একটা ঢিলেঢালা পোষাক কখনই যৌন উত্তেজক হতে পারে না । তাই বলে মেয়েরা ঘরের বাইরে বের হবে না, সেটা কিন্তু নয়। বাস্তবিক পক্ষে বলাটা অনেক সহজ কিন্তু করাটা বেশ কঠিন । আরো একটা উদাহরণ দেওয়া যাক ।

এক লোক যদি একটা কাঁঠাল অর্ধেক খেয়ে বাকিটা ঘরের এক কোনে রেখে দিয়ে ,তার আশেপাশে কাগজে লেখে দিল যে, এই কাঁঠালে যে মাছি বসবে তাকে যাবজ্জীবন ,ফাঁসি ইত্যাদি দেওয়া হবে । তবে সেই ভয়ে মাছি কিন্তু কাঁঠালে বসবে না তা কিন্তু নয় ।আর ওভাবে না লিখে দিয়ে যদি কাঁঠালটা ভালোভাবে কাপড় দিয়ে বেঁধে রাখা যেত ,তাহলে মাছি ওখানে পড়ত না ।
আসলে বলা যায় যে ,মেয়েরা যেখানেই যাক পর্দা করলেই হয়ত কতগুলো নিকষ্টতম মানুষের হাত থেকে বাঁচা যেত । মেয়েদের সম্ভ্রম মেয়েদের নিজেদেরই রক্ষা করতে হবে ।শাস্তির ভয় দেখিয়ে ঐসব মানুষদের হাত থেকে বাঁচবার উপায় নেই ,যা বর্তমানে চলতেছে ।
তবে হ্যাঁ শাস্তি অবশ্যই থাকবে । তার পরেই যদি আমরা এই পোষাকের বিষয়টা মাথায় রাখি ,তাহলে আমরা পুরাপুরি ধর্ষন প্রতিরোধ করতে পারব বলে আশাবাদী ।