ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

 

লিখতেই হল, যদিও বিষয়টা সামান্য মনে হতে পারে। অতসব হৃদয়বিদারক এবং ‘আকাশ থেকে পড়া’র মত ঘটনা যেখানে নিত্যকার, সেখানে হাট-বাজারের দেয়ালে দেয়ালে লাগানো পোস্টার নিয়ে কথা বলা বাচালতা মাত্র। তবে, অতিমাত্রায় দৃষ্টিকটু ও অরুচিকর হওয়ায় না লিখে পারলাম না।

আধুনিক বাংলা সিনেমার রঙিন পোস্টার আর দুর্বল জীবনে- শরীরে চিতা বাঘের ক্ষিপ্রতা লাভের পাশাপাশি যেকোন জটিল রোগে জীবনের ‘শেষ চিকিৎসার গ্যারান্টিযুক্ত’ বিজ্ঞাপন চোখফোটা বাংলাদেশিরা দেখে থাকবেন।

সিনেমার পোস্টারসমূহ বাংলাদেশের মন-মানসিকতা ও সংস্কৃতির অশালীন উপস্থাপন সামাজিক-বিকৃতির চিত্র তুলে ধরে। অন্যদিকে, হারবাল-হোমিও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো, চিকিৎসার পাশাপাশি পশুশক্তিসম ক্ষিপ্রতা অর্জনের আমন্ত্রণে লাখ লাখ পোস্টার-লিফলেট-ব্যানার লাগিয়ে যাচ্ছে। যেন, এসব এদেশের প্রধানতম বিনোদন এবং দৈহিক-সমস্যা। অর্থাৎ, অশিক্ষা-অপুষ্টি-আলস্য’র ফলে সৃষ্ট সামাজিক অক্ষমতা ব্যক্তি জীবনের সর্বক্ষেত্রে অন্তহীন সমস্যার সৃষ্টি করছে।

এদেশের সামাজিক-সাংস্কৃতিক অবকাঠামো নেই, সামাজিক-শৃংখলাও নেই। তাই, নাগরিকের মানসিক সমস্যা, মানসিক বিকৃতির দিকে ধাবমান। চলচ্চিত্রের পোস্টার আর হারবাল চিকিৎসার বিজ্ঞাপনের বাড়াবাড়ি মানসিক-সামাজিক বিকৃতির নমুনাও বলা যায়। সিনেমার পোস্টার আর হারবালের আগ্রাসী বিজ্ঞাপন এর সেন্সর কিংবা অনুমোদন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। সম্পূর্ণ অবৈধ হোমিও ও হারবাল চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোর অবস্থান ও লোকঠকানো পোস্টারের বাড়াবাড়ি, একসময় জীবনের শেষ চিকিৎসার বিজ্ঞাপন হাতে, পকেটে, কোলে গুঁজে দিত। এখন হাটে-বাজারে, পাড়া-মহল্লার, বাসাবাড়ির দেয়ালে দেয়ালে বাংলাসিনেমার মেগা পোস্টার এবং শেষ চিকিৎসার যাচ্ছেতাই ভাষার রোগ বর্ণনা সম্বলিত পোস্টারগুলো ঘর হতে বের হলেই দেখতে সকলেই বাধ্যপ্রায়। এসবের বিরদ্ধে প্রশাসনের নীরব ভূমিকাকে মানুষের চিকিৎসা সেবার মত স্পর্শকাতর বিষয়ের প্রতি উদাসীনতার ফলে প্রতিদিন প্রতারিত হচ্ছেন সহজ-সরল সাধারণ মানুষেরা।

হয়ত, হত্যা-ধর্ষণ-অপহরণ-দুর্বৃত্তায়ন-লুটপাট যেখানে গুরুত্ব পায় না, সেখানে, ওইসব পোস্টার, লিফলেট নিয়ে সময় নষ্ট করাটাই বাড়াবাড়ি এবং অস্বাভাবিক। তবে, এগুলো সার্বিক নিম্নগামিতার সচিত্র ও বর্ণিত প্রকাশ। তাই, ক্ষুদ্রপর্যায়ে উৎপাটন কর্মসূচি পালন করতে, আমার নাগালের মধ্যে এসব দেখামাত্রই নিজ দায়িত্বে তুলে ফেলি।