ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

poursova-ooo
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট একটি ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভা। এই পৌর এলাকায় অস্বাভাবিক যানজট, অসহনীয় শব্দ দূষণ, বেহাল রাস্তাঘাট ও অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ডসহ নানরকম অসংগতি দেখা যায়। তম্মধ্যে পৌরশহরের দুই প্রান্তের দুইটি আবর্জনার ডিপো হতে প্রবাহিত দুর্গন্ধ ও পরিবেশ দূষণের কবলে অতিষ্ট হয়ে ওঠছেন এর বাসিন্দা ও পথচারীরা।

শহরাঞ্চলীয় স্বায়ত্তশাসন ব্যবস্থার একক হিসাবে পৌরসভার ব্যাপক গুরুত্ব রয়েছে। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের অধীনে বিভিন্ন প্রকার অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কারের পাশাপাশি পৌর এলাকাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা; পৌরবিদ্যালয়, বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র, পাঠাগার, চিকিৎসা ও বিনোদনকেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করা; পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরী এবং বৃক্ষরোপনসহ পরিবেশ রক্ষা ইত্যাদির মাধ্যমে পৌর-নাগরিকের নিরাপত্তা বিধান করা পৌরসভা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। দৃশ্যত চুনারুঘাট পৌরসভায় নীতিমালার অন্তর্ভুক্ত উক্ত সেবাকর্ম সমূহের অধিকাংশই অনুপস্থিত।

চুনারুঘাট উপজেলা সদর হয়ে বয়ে যাওয়া ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দুইপাশে গড়ে ওঠা দোকান-পাট, বাসা-বাড়ি, অফিস-আদালত নিয়ে চুনারুঘাট বাজারটি ২০০৫ সালের ১০ অক্টোবরে পৌরসভায় উন্নীত হয়। ৮.১ বর্গকিলোমিটার আয়তনের পৌরসভাটির প্রাণকেন্দ্র চুনারুঘাট বাজার। মহাসড়কের দুই প্রান্তের হিসাবে নামকরণ হয়েছে উত্তর ও দক্ষিণ বাজার এবং কেন্দ্রটি মধ্যবাজার।

পৌরশহরের পুরাতন খোয়াই বা মরা নদীর তীর ঘেঁষে সারি সারি ভবন নিয়ে ডিসিপি উচ্চবিদ্যালয় এবং স্কুলটিকে মাঝখানে রেখে দুই পাশে দুইটি আঞ্চলিক সড়ক অবস্থিত। এর উপর দিয়ে উক্ত স্কুলের অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ উপজেলার পূর্বাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষ আসা-যাওয়া করে থাকেন। দুই সড়কের মধ্যবর্তী মরা খোয়াই নদী পৌর-ময়লার উত্তর ডিপো। স্কুলের দুইপ্রান্তের দুই রাস্তার সুবিধা ব্যবহার করে মাঝখানের মরা নদীতে ফেলার উদ্দেশ্যে রাস্তার পাশে এনে জমানো হয় যাবতীয় ময়লা। রাস্তার অনেকাংশ জুড়ে জমে থাকে আবর্জনার স্তুপ। উল্লেখ্য, বিভিন্ন সময় উক্ত মরা নদীকে সংরক্ষণ এবং এর সৌন্দর্য্য বর্ধনের দাবী উত্থাপিত হয়ে থাকলেও উক্ত দাবীকে অগ্রাহ্য করে নদীটিকে দূষণের মুখোমুখি করা হচ্ছে।

poursova-01

অন্যদিকে দক্ষিণ বাজারের ডিপোটি একটি মজাপুকুর যা ‘ডহর’ নামে পরিচিত। এই পুকুরের দক্ষিণে রয়েছে পাইলট বালিকা বিদ্যালয় ও একটি কিন্ডার গার্টেন। দুই প্রতিষ্ঠানের অন্তত বারো’শ শিক্ষার্থী স্কুলে অবস্থানকালে এবং চারপাশে বসবাসরত নাগরিকেরা উক্ত ডিপো সৃষ্ট  দূষণের শিকার হচ্ছেন। মহাসড়কের উপর উপচে পড়া ময়লার স্তুপের বিষাক্ত গন্ধ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমনের শিকার হন যাতায়াতকারী মানুষেরা হাট-বাজারের অংশ ছাড়াও ঘনবসতিপূর্ণ দুই অংশে বসবাসরত বাসিন্দারা সার্বক্ষণিক দুই ডিপো হয়ে প্রবাহিত বাতাস এবং ডিপোশ্রিত মশা-মাছি-ইদুর ইত্যাদির উপদ্রবে অতিষ্ট।

একদিকে মরা নদী এবং অন্যদিকে ডহরটি ভরাট না হওয়া পর্যন্ত বছরব্যাপী এই দূষণের শিকার হতে থাকবে পৌরবাসী। তবে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি পৌরবাসীকে অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব থেকে রক্ষা করা যায়। এছাড়া, সচেতন ও সেবাধর্মী উদ্যোগে চুনারুঘাট পৌরসভা দেশের উন্নত ও সমৃদ্ধ একটি পৌরসভার স্বীকৃতিধন্য হতে পারে। তাই প্রয়োজনীয় সুপরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।