ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

অনেকদিন ধরে লক্ষ্য করছি দেশের প্রথম সারির পত্রিকাগুলোও কিছু বাংলা ছায়াছবি নিয়ে অতিরিক্ত মাতামাতি করছে। বিডিনিউজও ওইসব বাংলাছবির রঙিন বোল্ডেড সংবাদ প্রকাশ করছে। করতেই পারে, সংবাদপত্রও একটা বিজনেস সেক্টর। মেনে নিতে হয়। কিন্তু, মানি না যখন, বিডিনিউজ ব্লগেও কয়েকটি দেশিয় চলচ্চিত্রের প্রশংসা আলোচনা ও সমালোচনার জোয়ার দেখি। আবার, যখন দেখি ব্লগ নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ চলচ্চিত্রের উপর লেখাগুলোকে প্রাধান্য দিচ্ছেন তখন কর্তৃপক্ষের বানিজ্যিক চেহারা ফুটে ওঠে। ব্লগলেখকদের লেখায় কোন এক ব্যক্তি ও তার প্রোডাকশন গ্রুপের জয়গান- গুণগান আশা করিনি বলে হয়ত বিজ্ঞাপন বলে মনে হয়। আহত হই, ব্লগলেখক যখন মেধাবি ব্রিলিয়ানট ডিরেক্টর এর দার্শনিকতার নানা দিক তুলে ধরার চেষ্ঠা করেন। বিনোদন মৌলিক চাহিদা হলেও ষষ্ঠ অবস্থানে। বাংলাদেশের মৌলিক চাহিদার প্রথমটি হচ্ছে- বিনোদন। বাংলাদেশ একটি প্রাকৃতিক বিনোদনের দেশ।

আমাদের নিকট বাংলা-সিনেমা বিষয়ক বাড়াবাড়ি রকমের আলোচনা দেশের দূর্যোগপূর্ণ অবস্থায় অহেতুক, স্থুল, কালক্ষেপন ও হঠকারিতা। জীবন যাপনে বিনোদন আবশ্যিক। কিন্তু এর মৌলিকত্বকে ছাড়িয়ে যাওয়া নয়। সামাজিক-পরিবেশিক অবস্থাভেদে বিনোদনের ভিন্নতাই কাম্য। তাই, সে যতই হৃদয়বিদারক হোক না কেন আমাদের পরিসরে বাংলাছবি নিষিদ্ধ। চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বা বিএফডিসির ভবনের সকল অলিগলি, রাস্তা, পাড়া ঝর্ণা সবকিছু দেখা শেষ। সাম্প্রতিক কালে, বাংলা সিনেমার একপাল অভিনয়জীবীর মাঝে গ্রুপিং পাল্টাগ্রুপিং এবং টানাটানি চলছে। অন্তত এই ক্ষেত্রেও, ভিন্নধর্মিতার কোন পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে না।

একটি দুইটি অন্যরকম সিনেমা নয় ঘটনা বা পরিবর্তন প্রয়োজন। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মানুষের মাথার হিসাব- নিকাশের রাজনৈতিক-সিনেমা যেখানে ২৪ ঘন্টার লাইভ দেখা যায়, সেখানে অন্যরকম চলচ্চিত্রসমূহ দেখার সুযোগ আর কই।বাংলাছবি নিয়ে মাতামাতিতে মনে হয়, সিনেমাটি কোন মহাসংকেত হয়ে ; মহান বার্তা নিয়ে আসছে। যুগান্তরী কিছু রেখে যাবে । অথচ, বিডিব্লগে প্রকাশিত বাংলাছবি নিয়ে লেখাগুলো পড়ে দেখা যায়, আলোচিত মুভিটি ভিন্ন পটে, ভিন্ন্ নাটক নিয়ে নির্মিত এবং এর সাথে ব্লগলেখকের ব্যক্তিগত কোন সম্পর্কও নেই; তিনি উচ্ছ্বসিত দর্শক কিংবা ফ্যানদের মতোই একজন।

ষোড়শ সংশোধনীকে অবৈধ ঘোষণা করে গত আগস্ট মাসে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্ট কতৃক প্রকাশিত রায়খানা ভয়ংকর রূপ নিয়েছিল। এর সাথে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব এবং মানুষের অধিকার জড়িত। সম্প্রতি, সংবিধান এর সর্বশেষ আশ্রয়কর্তা বিচার বিভাগ ও বিচারপতি নিয়ে যে পালা চলছে তা দেখার মত। অতীতের সকল সামরিক সরকার কোন একজন বিচারপতিকে সামনে ধরে নিজেকে বৈধ করে নিয়েছেন। বেসামরিকিকরণ প্রক্রিয়ায় বিচারপতির চরিত্র একান্ত আবশ্যক। সেই বিচার বিভাগকে বিতর্কিত করে জাতির সর্বশেষ আশ্রয়স্থল ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগ নিয়ে ঘটনা প্রবাহ এখনও চলছে। শেষ পর্যন্ত, দেশত্যাগী প্রধান বিচারপতি পদত্যাগ করলেন; রাষ্ট্রপতিও পদত্যাগপত্র গ্রহন করলেন। সিনহা-কেস শেষ। কোথায় একজন প্রধান বিচারপতির বাণী আর কোথায় তার পলায়নের ঘটনা। উনি মিথ্যুক বলে প্রমাণিত। কর্মজীবনেও তার কর্মে অসততা পক্ষপাতদুষ্টতা রয়েছে। নইলে, এসব সিনেমা। সিনহা দম্পতির বিদেশ গমণের পর্বগুলোও ছিল উপভোগ্য। এরচেয়ে বাস্তব চলচ্চিত্র হয় না। ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে সততা নিষ্ঠা বিচারিক মর্যাদা দেখানোর চেষ্ঠা করেছিলেন তার বিপরীত অবস্থান তাকে অসম্ভবরকমের প্রতারকের মত দেখায়। বাংলা সিনেমার জন্ম দেন । এছাড়াও দেশের রাজনৈতিক জীবন্ত ছবিগুলো রম্যতায় ভরপুর, যেমন;- সংসদের পিছন দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে একজনকে এমপি হিসাবে শপথ করানো হয়, বস্তাবন্দী নেতা ভারত পড়ে আছেন। বিচারপতি সিনহা বিদেশ যাবার উদ্দেশ্যে বাসভবনের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। পুলিশী বাধায় কিছু বলতে পারবেন না জেনে উনি হাতের লেখা চিঠি বা মনের কথা লেখা কাগজ সাংবাদিকদের দিকে ছুড়ে দেন। রম্যের সাথে এখানে রোমান্টিকতাও আছে। সিনহাপত্নীকে দেশত্যাগে বাধা দেওয়ায় যে বিচ্ছেদ শুরু আবার সিনহার নিকট পত্নীকে পাঠিয়ে যে মিলনাত্মক দৃশ্যের অবতারণা হয় তা হলে দাঁড়িয়ে তালি দেওয়ার মত।
যদি বিনোদনের কথা তাহলে এই মুহূর্তে একটিমাত্র ছবি নিয়ে আলোচনা ও উৎসাহ প্রকাশ করা উচিত। ষোড়শ সংশোধনী এ যাবৎকালের সর্বশেষ হিট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে ষোড়শ সংশোধনী বাতিল, সরকার ও বিচারপতির গতিবিধি ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে ঢেকে রাখতে নতুন ইস্যু তৈরী হয়ে যায়। তখন হয়ত বেরিয়ে আসে সিনেমা দম্পতির অজানা বা গোপন মজাদার এবং হাস্যকর কোন খবর। সেজেগুজে কাঁদতে বসার জৈবনিক চলচ্চিত্র। তাই বাংলাসিনেমা দেখতে দর্শককে হলমুখি করতে বর্তমান আলোচিত ছবিগুলো ছবির প্রযোজক পরিচালক কলাকুশলীর পাশাপাশি হলব্যবসায়ীদেরকে লাভবান করবে। কিন্তু দর্শক ও দেশ কি পায় তা নিয়ে কথা নয়। তাই বাংলাছবি নিয়ে এত ঊচ্ছ্বাসভর্তি লেখা যখন ব্লগে প্রদর্শিত হয় তখন মনে হয় ওই ব্লগাররা এস কে সিনহার ’ডুব’ দেখেননি। ডকুমেন্টারি আর্টফিল্ম ও থিয়েটার কম জনপ্রিয় হলেও এসবের সময়োপযোগী ঐতিহাসিক ভিত্তি থাকে, সমাজের চিত্র তুলে ধরে এর উত্তরনের পথ দেখায়। এস কে সিনহা’র ডুবের সাথে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্ণর আতিউর রহমানের ডুবের মিল রয়েছে। ডুব দিয়েছিলেন আরেক গভর্ণর ফখরুদ্দিন। এগুলো রোমান্টিক ধাঁচের আর্টফিল্ম না হলেও দেশে চলবে ভাল। দর্শকদের আহবান জানাই, এস কে সিনহা’র ডুবকে দেশে চলমান অদ্ভূত সব ঘটনা নিয়ে নির্মিত ও আলোচিত অন্যান্য ছবি বা সিনেমার মত জনপ্রিয় করে তুলি।