ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

আজ ৩ই সেপ্টেম্বর। একে একে শেষ করেছি আমাদের কান্নার মাস, শোকের মাস, পিতা হারানোর মাস আগস্টকে। যখন যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে একটু মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছিল। ঠিক তখনি ঘাতকরা
জাতির পিতাকে আর বাচঁতে দিলো না। তারা বুঝতে পেরেছিলো, যদি বঙ্গবন্ধুকে বাঁচিয়ে রাখা হয় তাহলে এই জাতি সহজে উন্নতির শিখরে আরোহন করবে। তাই তারা এই জাতিকে নেত্রিত্ব শুন্য করে, তারা
ন্যাক্কারজনক ভাবে জাতির পিতাকে হত্যা করে। তারা শুধু জাতির পিতাকে হত্যা করে ক্ষান্ত হয়নি। তারা তার পরিবার পরিজন সকলকে হত্যা করেছে। সেই সাত বছরের শিশুটিকেও তারা বাচঁতে দেইনি।

তারা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে ঠিকই। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে তারা হত্যা করতে পারিনি, মানুষের মন থেকে তাকে উঠাতে পারেনি। আজ প্রতিটি বঙালীর মনে গেঁথে আছেন তিনি। আমরা দেখিছি বাংলার মানুষ কিভাবে এই মাসটিকে পালন করেছে। যে যেভাবে পেরেছে সে সেইভাবেই চেষ্টা করেছে, জাতির পিতার সম্মানে কিছু করার জন্য। কেউবা দোয়া করে ,কেউবা মানুষকে খাইয়ে, কেউবা আলোচনা সভা, র‌্যালীর মাধ্যমে। মানুষ যে কতটা তার শুন্যতায় ভুগতেছে তা এসব দেখলে, বুঝার বাকি থাকার কথা নয়।

কিন্তু অতি দুঃখের বিষয় হলেও সত্য, যে দল বঙ্গবন্ধু তার রক্ত, মাংস দিয়ে তিলে তিলে গড়ে তুলেছেন। যে দলের অবদান মুক্তিযুদ্ধের সময়, বলে শেষ করার মতো নয়। সে আওয়ামি লীগকে আজ কারা নেতিৃত্ব দিচ্ছে? যেদিন
বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছে কোথায় ছিলো ওরা। কই সেদিন তাদের কাউকে তো দেখা যায়নি। বঙ্গবন্ধুকে দাফন করার মতো সেদিন নাকি লোক ছিলো না। তাহলে কোথায় ছিলো এসব প্রবীণ রাজনীতিবিদরা? হ্যাঁ, তবে খুশির সংবাদ এটা যে এখন কিছু নেতা তা নিয়ে কথা বলছেন।

জানিনা এ কথা বলাবলি কোথায় গিয়ে শেষ হবে। এইতো সেইদিন আওয়ামি লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম এক অনুষ্ঠানে কে এম শফিউল্লাহ কে বলেন, আপনি তখন সেনা প্রধান ছিলেন কিন্ত আপনি
কেন নিরব ছিলেন। আমরা জানি একজন সেনাপ্রধানের ক্ষমতা কতটুকু। কিন্তু তিনি তার উত্তর দিলেন তার কথা নাকি সেদিন সেনাবাহিনী শুনেনি।

অথচ সেদিন কর্নেল সাফায়াত, জামিল ছুটে এসেছিলো বঙ্গবন্ধুকে বাচাঁনোর জন্য। কিন্তু তারা পারেননি উল্টো তারাও মৃত্যুর পদযাত্রি হলেন বঙ্গবন্ধুর সাথে। একটা প্রশ্নতো তখন থেকে যায় কে এম শফিউল্লাহ তখন কি আঙ্গুল
চুষছিলেন ? যখন অন্য সেনারা বঙ্গবন্ধুকে বাচাঁনোর জন্য আসলেন। বঙ্গবন্ধুর প্রতি তার এতো ভালবাসা , তাহলে কেন তিনি ছুটে আসলেন না তাকে বাচাঁনোর জন্য। তেমনি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সহ আরো কয়েকজনের বিরুদ্ধে এই জাতিয় কথা ইদানিং পত্রিকার পাতায় আসছে। আমরা জানিনা এর সত্ত্বতা কতটুকু। তবে আমরা এতটুকু বলবো, এই বংলার জমিনে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের থাকার কোন অধীকার নেই । অতি দ্রুত প্রকৃত খুনিদের বিচার করা হোক।

সেদিনই বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পাবে। বাংলার মানুষ অভিশাপ থেকে মুক্ত হবে।