ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

আয় ছেলেরা আয় মেয়েরা ফুল তুলিতে যাই/ ফুলের মালা গলায় দিয়ে মামার বাড়ি যাই/ মামার বাড়ি ঝড়ের দিনে আম কুড়াতে সুখ/ পাকা আমের মুধুর রসে রঙ্গিন করে মুখ/ পল্লি কবি জসিম উদ্দিনের কবিতার এ পক্তি গুলো যেন জ্যৈষ্ঠ মাসেরই প্রতিধ্বনি। কারন বৈশাখ পেরিয়ে জৈষ্ঠতে পা দিলেই বন্ধ হতে শুরু করে আমাদের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় গুলো। আর তখনি শুরু হয় নানা বাড়ি, দাদা বাড়িতে বেড়ানো। তাইতো বাংলা সনে ‘জ্যৈষ্ঠ’ মধু মাস হিসেবে বেশ পরিচিত। কারন এ মাসে থাকে বাহারি রসালো ফলের সমারোহ।

তারই ধারাবাহিকতায় সবুজের রাজধানী, সাংস্কৃতির রাজধানী, অতিথি পাখির রাজধানী খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) এখন যেন কাঁঠালের রাজধানী। প্রকৃতির লীলাভূমি এ ক্যাম্পাসটি কাঠালের রূপে সেজেছে নতুন করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি রাস্তার দু’ধারে দাড়িয়ে আছে অসংখ্য ছোট বড় কাঁঠাল গাছ। আর তাতে ঝাঁকে ঝাঁকে ঝুলে রয়েছে অসংখ্য কাঁঠাল। আর এসব কাঁঠালের মন কাড়ানো লোভনীয় মৌ মৌ গন্ধে এখন মুখরিত জাবির প্রতিটি আঙ্গিনা। কাঠালের রসনা তৃপ্তির অপূর্ব আনন্দ যেন ছড়িয়ে পরেছে জাবির প্রতিটি শিক্ষার্থীদের মাঝে। কারন এ কাঁঠাল যে সব ধরনের ক্যামিক্যাল মুক্ত। তাই এর স্বাদও অনন্য।

titas112blog_1326986803_1-k2হহহহ

তাইতো এখন চলছে এ কাঁঠাল পারার পূর্ণ প্রতিযোগীতা। কার চেয়ে কে বেশী কাঁঠাল পারবে? হলে হলে, রুমে রুমে ছড়িয়ে পরেছে এ প্রতিযোগিতা। কারন কয়েকদিন পরেই ক্যাম্পাস বন্ধ। যেতে হবে বাড়িতে। তার আগে যদি ক্যাম্পাসের এ কাঠাল গুলো শেষ করে না যাওয়া যায়! তাহলেতো বাড়ি থেকে দীর্ঘ ছুটি শেষ করে আসতে আসতে পাওয়া যাবে না একটিও। তাই যে যেভাবে পারছে সে সেভাবেই কাঠাল পারার প্রতিযোগীতায় এক দাপ এগিয়ে থাকার লক্ষে কাজ করে যাচ্ছে।

বড় আকাড়ের এ কাঁঠাল ফলটি শুধু জাতীয় ফলই নয়, গরিবের ফল নামেও বেশ পরিচিত। এ ফলটি কাঁচা অবস্থায় সবজিরূপেও মজা করে খায় এদেশের মানুষ। মোটকথা এর কিছুই পালা যায়না। শুকনা বীজ সেঁকে, সিদ্ধ করে কিংবা সবজিরূপে তরকারি হিসেবে খাওয়া যায় এ ফলটি।

এ সময়ের আরেকটি জনপ্রিয় ফল জাম! কবিতার সে লাইন মনে আছেতো, ‘পাকা জামের মধুর রসে রঙিন করে মুখ’। জাম সাধারণভাবে দুই প্রকার ১. কালো জাম; ২. বুনো জাম। কালো জাম বড় আকারের এবং বুনো জাম ক্ষুদ্র। জাবির এ আঙ্গিনায় দুধরনেরই জামই পাওয়া যায়। তবে তা কাঠাঁলের মত এত বেশী না। এ ক্যাম্পাসে রয়েছে অসংখ্য আম গাছ। কিন্তু তাতে নেই এখন একটি আমও। কারন জাবির বাসিন্দার হয়তো কাঁচা আম ভিষণ পছন্দ করেন। তাইতো কাঁচা থাকতেই শেষ প্রতিটি গাছের প্রতিটি আম। পাকার সুযোগ হয়নি তাদের একটিরও।