ক্যাটেগরিঃ ব্লগ

 

বেসরকারি স্কুল-কলেজ-মাদরাসার দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারিগণ ‘দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিঃ-কালব’ নামক একটি বেসরকারি ঋণ দান সংস্থার উচ্চ সূদে ঋণ গ্রহণ করে সর্বশ্বান্ত হতে শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে অনেক শিক্ষক-কর্মচারি খুইয়ে বসেছেন নিজেদের মূল্যবান গৃহস্থালি ও অন্যান্য সম্পদ। সংস্থাটির ঋণ চক্রজালে জড়িয়ে দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী ও বোচাগঞ্জ উপজেলার অসহায় হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারি। স্পাইডার ট্রাপের মতো ঋণ ও সূদের জালে জড়িয়ে বিশুষ্ক হয়ে উঠেছে তাদের প্রাণ। তারা ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। পারছেন না স্কুল-কলেজ-মাদরাসায় স্বতঃস্ফূর্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করতে। ফলশ্রুতীতে পড়ালেখার মান নিচে নেমে যাচ্ছে। কোনো কোনো শিক্ষক-কর্মচারি ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানের চেয়ে বিকল্প আয়ের সন্ধানে প্রাইভেট ও কোচিং ব্যবসায়ে নিয়োজিত হয়েছেন। কেউ কেউ হাটবাজারের দোকান, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, রাইসমিলে কাজ নিয়েছেন বা অন্যকোনো বিকল্প আয়ের পথ খুঁজছেন ও নিয়োজিত হয়েছেন। এ সকল শিক্ষক-কর্মচারি প্রতিষ্ঠানে এসেই যাই যাই করেন এবং সরকার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন। যার কারণে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনাও বিঘ্নিত হচ্ছে।

সাধারণভাবে কালব’এর এই কার্যক্রম বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের সঞ্চয় তহবিল গঠনের মাধ্যমে আর্থিক নিরাপত্তা এবং সহজে ঋণ প্রাপ্তির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য দেখিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলা হলেও প্রকৃতপক্ষে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের উচ্চ সূদে ঋণ প্রদান করাই এদের মূল কাজ। সংস্থাটির ঋণ প্রদান নিয়ম ও শর্তাবলী লক্ষ্য করলেই তাদের ‘কল্যাণমূলক’ কাজের পরিবর্তে সূদের জমজমাট ব্যবসার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠে।

বিগত ২০০৮ সালের মে মাসে সংস্থাটি দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী উপজেলায় শাখা সম্প্রসারিত করে। বোচাগঞ্জ উপজেলায় তার আগে থেকে কার্যক্রম রয়েছে। বস্তুত জেলার সকল উপজেলাতেই সংস্থাটির উচ্চ সূদের শর্তে ঋণ প্রদান কার্যক্রম চালু আছে। ঢাকা’য় এর প্রধান কাযার্লয়। উত্তরাঞ্চলের রংপুর জেলায় এর কার্যক্রম আরও দোর্দণ্ড প্রতাপে চলছে। সংস্থাটি ফুলবাড়ীতে দু কক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ভাড়া নিয়ে কাগজে লেখা ‘সাইনবোর্ড’ লাগিয়ে অফিস কার্যক্রম শুরু করেছে। এরপূর্বে দিনাজপুর জেলা শাখা থেকে সিনিয়র কর্মীরা এসে স্থানীয় কতিপয় শিক্ষক-প্রভাষককে গ্রামীণ মহাজনী ব্যবসার নাগপাশ থেকে মুক্ত হয়ে কালব’এর স্থানীয় গঠন ও স্থাপন বিষয়ে মটিভেশন দেয়। সেই প্রেক্ষিতে ক্রমে গড়ে উঠে সংস্থাটির শাখা অফিস।

সদস্য সংগ্রহ ও সঞ্চয় গ্রহণ কার্যক্রম জোরেশোরে চলতে থাকে। ইতোমধ্যে এই শাখাতে প্রায় দু হাজারের অধিক শিক্ষক-কর্মচারি সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছেন; যার মধ্যে ঋণজালে জড়িয়ে গেছে নব্বই শতাংশ। গ্রামীণ মহাজনী সূদের ব্যবসায় ঋণের সূদ বর্তমানে প্রতিমাসে প্রতি হাজারে পঞ্চাশ টাকা অর্থাৎ একশত টাকার মাসিক সূদ পাঁচ টাকা; যা দু এক বছর আগে একশত টাকায় প্রতিমাসে ছিল ত্রিশ হতে চল্লিশ টাকা অর্থাৎ এক হাজার টাকা ঋণ নিলে এক মাস পর সুদ দিতে হয় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা। এই ঋণ ত্রিশ দিন পর পরিশোধ করলে যা সূদ দিতে হয় একদিন পর করলেও তাই দিতে হয়। তবে তাদের সঞ্চয়ের বা অন্যকোনো বাধ্যবাধকতার শর্ত নেই। একটি ডিডস্ট্যাম্পের সাদা পাতায় স্বাক্ষর করে বেতনভাতা তোলার চেকবই জমা দিলেই ঋণ পাওয়া যায়। এই মহাজনী ঋণ চক্রে পড়ে অনেক শিক্ষক-কর্মচারি সবর্শ্বান্ত হয়ে গেছেন এবং প্রক্রিয়াটি কোথাও কোথাও অব্যাহত আছে। ফলে অনেকেই কালব নামক সংস্থাটির ‘সহজশর্তে’ ঋণের জন্য চোখবন্ধ করে আকর্ষিত হয়। কালব’এর সূদের হার প্রতি মাসের জন্য দুই শতাংশ, অর্থাৎ প্রতি হাজারে প্রতিমাসের সূদ কুড়ি টাকা। কালব’এর ঋণ পদ্ধতি হলো ঋণস্থিতির উপর সূদ গননা। ঋণী শিক্ষক-কর্মচারিকে বেতন হওয়ার আটচল্লিশ ঘন্টার মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কোনো কারণে ঋণ পরিশোধ করতে অবহেলা করা হলে মাসের নির্দিষ্ট তারিখের পাঁচ মিনিট পরেও কিস্তি দিতে হলে পূর্ববর্তী মাসের সূদের উপর পঞ্চাশ শতাংশ জরিমানা দিতে হয়। বিস্তারিত নিয়মকানুন কালবের ‘নীতিমালা’তে দেখা যায়। এই নীতিমালা বাংলাদেশ মাইক্রো-ক্রেডিট অথরিটি কিভাবে অনুমোদন দেয় আর তার কল্যাণমূলক কি বৈশিষ্ট আছে তা খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ফলে মহাজনী ব্যবসার চক্রজাল থেকে মুক্তি মিলবে মনে করে অনেক শিক্ষক-কর্মচারি সংস্থাটির সদস্য হয়েছেন বটে; কিন্তু বাস্তবতা অন্য যা মহাজনী সূদচক্রের আরেক রূপ। আর এক মহাজনী ব্যবসার নামান্তর।

বলা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক ক্রেডিট ইউনিয়ন আন্দোলনের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায় পেরিয়ে বাংলাদেশে কালব’এর জন্ম। ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ডের রচডেলের তাঁতী ও শ্রমিকদের সমবায় প্রথার মডেলকে সামনে রেখে জার্মানীর দরিদ্র সাধারণ মানুষের আর্থ-সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে ১৮৫২ সালে ফ্রেডারিক উইলহেম রাফাইসেন ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন। সেসময়ে এটি নাকি দারিদ্র বিমোচনে একটি কার্যকর প্রক্রিয়া হিসেবে পরিলক্ষিত হওয়ায় মডেলটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সম্প্রসারিত হতে থাকে। ১৯০০ সালে আলফন্স ডেজার্ডিন্স নামক এক ব্যক্তি কানাডার কুইবেক শহরের লেভিসে ক্রেডিট ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আমেরিকার এডুয়ার্ড ফিলেন ও রয় এফ বারজেন গ্রেনের সহায়তায় আমেরিকায় ক্রেডিট ইউনিয়ন সম্প্রসারণ ঘটান। ১৯৫৫ সালে ফাদার চার্লস জে ইয়াং বাংলাদেশের ঢাকায় ‘দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন’ প্রতিষ্ঠা করেন। এটি গঠন করা হয় ঢাকার লক্ষীবাজার এলাকায় এবং প্রাথমিক অবস্থায় এর সদস্য সংখ্যা ছিল ৪৬ জন। ক্রেডিট ইউনিয়নের এই সম্প্রসারণ বা ব্যাপ্তি শুরু হয়েছে খ্রীষ্টান পল্লীগুলোতে এবং সূদ ব্যবসার মূল পুজি হলো সাধারণের দরিদ্র অবস্থা। পরবর্তীতে অন্য জাতিগোষ্ঠীর দারিদ্রতার সুযোগে তাদের মধ্যেও সূদ ব্যবসার এই চক্রজালের বিস্তৃতি ঘটে। সে কারণে দেখা যায়, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়নের উদ্যোগেই শিক্ষক-কর্মচারিদের আর্থিক দৈন্যতাকে পুজি করে ‘দি কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লীগ অব বাংলাদেশ লিঃ-কালব’ নামক সংস্থাটি বাংলাদেশে ১৯৭৯ সালের ১৪ই জানুয়ারী জন্মলাভ করে। এটি দেশের পরিধিকে আটটি জোনে ভাগ করে উচ্চ সূদে ঋণ প্রদান কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু করে। সংস্থাটি ১৯৮৬ সালের ৩ জুন বাংলাদেশ সমবায় অধিদপ্তরের নিবন্ধন লাভ করে। এদেশীয় অনেক বেকার তরুণ-তরুণী কালব’এ চাকুরি পেয়েছেন সত্য কিন্তু উচ্চ সূদের কারণে শিক্ষক-কর্মচারিরা পথে বসতে শুরু করেছেন। জানা যায়, ২০১০ সালের ৩০ জুন অবধি বাংলাদেশের ৪৮টি জেলার ১৬০টি উপজেলায় ১০৫৮টি কালব শাখা সংগঠন সম্প্রসারিত হয়েছে। সকল ক্রেডিট ইউনিয়নের মধ্যে ৫৭৬টি সংগঠন ইউনিয়ন সমবায় বিভাগ থেকে নিবন্ধিত হয়ে কালব’এর সদস্য যার মধ্যে ৩০০টি সহযোগি এবং ১৮২টি সেবাধীন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত আছে। প্রতিষ্ঠিত এসব ক্রেডিট ইউনিয়নের সম্মিলিত সদস্য ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৪৭৭ জন এবং সম্পদের পরিমাণ ৫৫৩ কোটি টাকার মতো এবং ঋণ কার্যক্রমে মাঠ পর্যায়ে আউটস্ট্যান্ডিং ফান্ড রয়েছে প্রায় ৪৬০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে যে, ঋণ ও সূদের ব্যবসার প্রসার ও শক্তি কতখানি।

এখন দেখা যাক, শিক্ষক-কর্মচারিরা কোন্ নিয়মকানুনের ভিত্তিতে ঋণ গ্রহণ করে থাকেন এবং কিভাবে ঋণ জালে জড়িয়ে পড়েন! যে শিক্ষক বা কর্মচারির চাকুরির মেয়াদ অন্ততপক্ষে চার বছর বাকি রয়েছে তিনি ১০০ টাকার ভর্তি ফরমে আবেদন করলে পরিচালক মণ্ডলীর সভার অনুমোদন ক্রমে সদস্য হবেন। এরপর তাকে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে বাধ্যতামূলক সঞ্চয় ১০০ টাকা, শেয়ার সঞ্চয় ৫০ ও ঐচ্ছিক সঞ্চয় ৫০ টাকা সব মিলিয়ে মোট ২০০ টাকা কালব’এ জমা করতে হবে। এই সঞ্চয়ের উপর কালব বাৎসরিক মাত্র ৮% হারে মুনাফা দিয়ে থাকে। সঞ্চয়ে অনিয়ম হলে প্রতি মাসের জন্য ৫ টাকা করে জরিমানা দিতে হয়। এরপর তিনি ঋণ আবেদন করতে পারবেন যদি তার বাধ্যতামূলক ও শেয়ার সঞ্চয়ের পরিমাণ আবেদনকৃত ঋণ পরিমাণের অন্তত ১১% হয়ে থাকে এবং চাকুরির মেয়াদ আরও তিন বছর বাকি থাকে। ঋণের জন্য ‘ঋণ আবেদন ফরম’ ২০০ টাকায় কিনতে হয় এবং টাকা গ্রহণকালে বেতনভাতা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকের চেকবই প্রতি পাতায় স্বাক্ষর করে জমা দিতে হয়। সূদের পরিমাণ প্রতিমাসে হাজারে ২০ টাকা অর্থাৎ সরল হিসাবে বাৎসরিক ২৪%। ঋণ পরিশোধ করতে হবে সর্বোচ্চ ৪০টি কিস্তিতে এবং সূদ গণনা করা হবে ঋণস্থিতির উপর ২ শতাংশ হারে। শিক্ষক-কর্মচারিদের বেতন ভাতা ব্যাংকে এসে পৌছুবার অন্তত ৪৮ ঘন্টার মধ্যে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। কোনো কারণে এর অন্যথা হলে ও মাসের হিসাব শেষ হয়ে গেলে ঋণী শিক্ষক-কর্মচারিকে সূদের উপর ৫০% জরিমানা গুণতে হবে। এছাড়া অন্যান্য চার্জ ও শর্তাবলীও রয়েছে। যেমন আবশ্যিক সঞ্চয়, শেয়ার সঞ্চয় ও ঐচ্ছিক সঞ্চয় ঋণের কিস্তির সাথে সাথে দিতে হবে। সঞ্চয় ও শেয়ার সঞ্চয়ের উপর হাজারে এক টাকা করে মিউচুয়াল ফি’ এবং গৃহিত ঋণের উপর হাজারে এক টাকা করে অন্য আরেক মিউচুয়াল ফি’স দিতে হবে। মিউচুয়াল ফি ফেরতযোগ্য নয়। সংস্থাটির ঋণ সিলিং বেশ উঁচু; প্রায় দুই লক্ষ টাকা পর্যন্ত। এলাকা বিভিন্নতায় কোথাও কোথাও আরও বেশি।

শিক্ষক-কর্মচারিদের জন্য বিভিন্ন ব্যাংক হতে বিভিন্ন রকম ঋণ গ্রহণের সুবিধা রয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ ব্যাংক কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের অসাধুতা (যেমন: ১০ শতাংশ ঘুষ), ঋণ অংকের পরিমাণ কম ও নানান জটিল প্রক্রিয়ার কারণে শিক্ষক-কর্মচারিরা খুব সহজে ব্যাংকে যেতে চান না। ফলে তারা প্রায় দলে দলে কালব’এর সদস্য হচ্ছেন ও ঋণ জালে জড়িয়ে সর্বশ্বান্ত হয়ে চলেছেন।

দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের একটা বৃহদাংশ আর্থিকভাবে স্বচ্ছল নন এবং তারা ব্যাংক বা এনজিও’র নানান সমস্যার কারণেও সেসব ক্ষেত্র থেকে ঋণ গ্রহণ করতে খুব একটা ইচ্ছুক থাকেন না। কিন্তু তাদেরও কোনো কাজ করানোর জন্য একসাথে একটি মোটা অংকের টাকার প্রযোজন পড়ে। এই সুযোগে গ্রামীণ মহাজনেরা উচ্চ সূদের কশাইসুলভ ব্যবসা করে থাকে। গ্রামীণ মহাজনের তুলনায় কালব’এর সূদের হার কম; তবে হিসাব করলে এরও সূদ চক্রজাল কম নয়। একজন শিক্ষক-কর্মচারি ৭০ হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করলে তাকে সম্পূর্ণ কিস্তি পূর্ণাঙ্গ মেয়াদে পরিশোধ করতে হলে সূদ গুণতে হয় ২৫২০০ টাকার মতো। তাকে প্রথম মাসে সুদ গুণতে হয় ১৬০০ টাকা এবং শেষ কিস্তিতে ২০ টাকা। এছাড়া রয়েছে নানান বাধ্যতামূলক ‌’মিউচুয়াল ফি’স। এর পরিমাণও কম নয়। হাজারে এক টাকা। অর্থাৎ ঋণস্থিতির উপর এক টাকা হিসাবে ৭০০০০ টাকার প্রথম মিউচুয়াল ফিস ৭০ টাকা। সঞ্চয়ের মিউচুয়াল ফিস স্থিতির উপর এক টাকা। এখানে আবারও উল্লেখ্য যে, সুদের হিসাব করা হয় ঋণস্থিতির উপর অর্থাৎ Declining পদ্ধতিতে। বাংলাদেশ মাইক্রো-ক্রেডিট অথরিটি সুদের সর্বোচ্চ হার বাৎসরিক ২৪% বেঁধে দিয়েছে। কোনো সংস্থা ২৭ শতাংশও নিয়ে থাকে বলে জানা যায়। কিন্তু দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারিদের জন্য সুদের এই হার অনেকটা অত্যাচারের মতো।

কালব শিক্ষক-কর্মচারিদের জন্য ঋণ প্রাপ্তির বিষয়টিকে সহজ করেছে এবং গ্রামীণ মহাজনের ঋণ চক্রজালের কব্জা থেকে দূরে সরে থাকার সামান্য সুযোগ করে দিয়েছে। অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বাদ দেয়া যায় না। তারপরও এর সুদের হার ও অন্যান্য বিষয় শিক্ষক-কর্মচারিদের গ্রামীণ সুদের চক্রজাল থেকে পুরোপুরি মুক্ত করতে পারেনি এবং কোনোমতেই সমর্থনযোগ্য নয়। আমরা জানি, সুদ একটি অর্থনৈতিক অভিশাপ। এর ধ্বংসযজ্ঞতা সর্বদাই দরিদ্রের রক্তে পুজিবাদীকে রঞ্জিত করেছে। এবং তাদের অস্তিত্বের দ্বারা পুজিবাদীদের আরাম-আয়েশের সুবিধা জুগিয়েছে। কালব একটি খ্রীষ্টিয় মতাদর্শ ভিত্তিক অর্থলগ্নিকারী সংগঠন এবং এর হর্তাকর্তা ব্যক্তিগণ সেই পুজিবাদী গোষ্ঠী যারা কি না দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারির রক্ত শুষে মোটা হচ্ছে। একটি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মূলনীতি বিশিষ্ট সংবিধানের দেশে এই সুদ ব্যবসা ও সুদের চক্রজাল চলমান রাখা ঠিক হচ্ছে কি না তা নীতি নির্ধারকদের ভেবে দেখতে হবে এবং দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারিদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে, এ কথা অনস্বীকার্য। আমরা মনে করি, কালব’এর উচ্চ সুদের হার দরিদ্র শিক্ষক-কর্মচারিদের সর্বশ্বান্ত করে চলেছে। প্রাথমিকভাবে বাংলাদেশ সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচিৎ হবে কালব’এর সমুদয় কার্যক্রম খতিয়ে দেখা এবং সুদের হার হাজারে ২০ টাকার স্থলে ৫ টাকা অর্থাৎ বাৎসরিক ৬% নির্ধারণ করা। অন্যথায় শিক্ষক-কর্মচারিরা শুধু সর্বশ্বান্তই হবেন না শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থার পরিণাম হবে ভয়াবহ।*