ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

স্বাধীনতা লাভের দীর্ঘ উনচল্লিশ বছর পর আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বর্বর হানাদার বাহিনী ও তাদের এ’দেশীয় দোসর রাজাকার, আলবদর, আল শামস বাহিনী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানী নিরীহ নিরস্ত্র বাঙ্গালিদের ওপর গণহত্যা চালিয়ে ত্রিশ লক্ষ মানুষকে হত্যা ও তিন লক্ষ মা-বোনের ইজ্জত হরণ, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজের স্বর্গরাজ্য কায়েম করে যে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত করেছিল, সেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতা বিরাধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম ২০১০ সালে এসে শুরু হয়েছে। স্বাধীনতার পর পর বঙ্গবন্ধু সরকার আন্তর্জাতিক (ট্রাইব্যুনালস) অপরাধ অ্যাক্ট ১৯৭৩- আওতায় বিচার কাজ শুরু করে বেশ কিছুসংখ্যক দালাল রাজাকার আলবদর আল-শামসকে সাজা দিয়েছিলেন সেই আইনের আওতায় বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গিকার অনুযায়ী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কাজ শুরু করেছেন। এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের বিচার কাজ শুরু করেছিলেন, কিন্তু দেশি ও আন্তর্জাতিক চক্রান্তে ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে সেনা শাসক জিয়াউর রহমান দালাল আইনটি বাতিল করে বিচার কাজটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন; শুধু তাই নয় বঙ্গবন্ধুর আমলে সাজাপ্রাপ্ত রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের সাজা মওকুফ করে কারাগার থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। একই সাথে রাজাকার শিরোমনি গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে ফিরিয়ে এনেছিলেন, রাজাকারদের মধ্যে শাহ আজিজকে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য কাউকে কাউকে মন্ত্রীসভার সদস্য পর্যন্ত নির্বাচিত করে মুক্তিযুদ্ধে আত্মাহুতি দেয়া ত্রিশ লাখ শহীদের সাথেও বেঈমানী করেছিলেন। যাহোক এ ইতিহাস সবারই কম বেশি জানা, তাই প্রসঙ্গান্তরে চলে যেতে চাই।

২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনচতুর্থাংশ আসনে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্যা কন্যা শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার লক্ষ্যে ২৫ মার্চ ২০১০ তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল গঠন করে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য গণমানুষের দাবীর প্রেক্ষিতে সম্প্রতি সরকার দ্বিতীয় ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে।
প্রাথমিকভাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থার সন্দেহভাজন যুদ্ধাপরাধীদের তালিকার মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হলেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, চট্রগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ধর্মপ্রতিমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন শাজাহান, জামায়াতে ইসলামের সাবেক নেতা, চারদলীয় জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির নেতা মাওলানা শাখাওয়াত হোসেন, জামায়াতের সাবেক আমির গোলাম আযম, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনরেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহান, নায়েবে আমির আব্দুল কাদের মোল্লা, নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদী, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং দিগন্ত টিভির মালিক মীর কাশেম আলী, চট্রগ্রাম মহানগর আমির মাওলানা শামসুল ইসলাম এমপি, সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলার নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য মোঃ রিয়াসত আলী বিশ্বাস, মৌলভীবাজারের এএনএম ইউসুফ, জয়রুর হাটের আব্দুল আলীম, খুলনার শাহ মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস প্রমুখসহ প্রায় সারা বিভিন্ন জেলা উপজেলার ৩৬ জন যুদ্ধাপরাধীদের নাম রয়েছে বলে বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা গেছে।

এদের মধ্যে ইতিমধ্যেই যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনের জন্য বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বর্তমান আমির মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারী জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, সিনিয়র সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল এটিম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির আব্দুল কাদের মোল্লা, নায়েবে আমির দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীকে গ্রেফতার করা হয়েছে; এদের বিরুদ্ধে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে অনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তদন্ত শেষে রাজাকার শিরোমনি গোলম আযমের বিচারও শুরু হয়েছে।

কিন্তু যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে সংগঠিত অপরাধের চলমান বিচার ব্যবস্থা নিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতে ইসলাম ও তাদের আজন্মের সহচর বিএনপি বিতর্ক সৃষ্টি করে ধূম্রজাল সৃষ্টির মাধ্যমে জনগণকে বিভ্রান্ত করার হেন চেষ্টা নেই যা তারা করছে না। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বিএনপির অবস্থানে এখন আর লুকোছাপা নেই। তারা যুদ্ধপারাধীদের বিচার বানচাল করার নানামুখি তৎপরতা চালাচ্ছে।

বর্তমান সরকার তাদের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী যুদ্ধাপরাধীদের যে বিচারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে তাতে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখার চেষ্টার কোনো ত্রুটি করছেনা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণহত্যার বিরুদ্ধে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের আলোকেই যে বাংলাদেশেও যুদ্ধপরাধী ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠনকারীদের বিরুদ্ধে করা হচ্ছে দেশের জনগণ ও নতুন প্রজন্মের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি কেননা এই নতুন প্রজন্মই গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ইস্তেহারে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের অঙ্গিকার করায় তাদের পক্ষে বিপুল রায় দিয়েছিল।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণহত্যার বিরুদ্ধে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল বিশ্বস্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য একটি বিচার ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে এই বিচার ব্যবস্থা প্রথম বিচার প্রক্রিয়া। ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে গণহত্যার দায়ে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৩০ জনকে মুত্যুদন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেয়া হয়। ১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর বিশ্বে গণহত্যার বিরুদ্ধে গঠিত আন্তর্জাতিক আদালতে ২৫ ঘন্টাব্যাপী রায় প্রদানের মাধ্যমে এ শাস্তি প্রদান করা হয়েছিল। সেই বিচারে প্রত্যক্ষদর্শী কোনো সাক্ষীর প্রয়োজন হয়নি। প্রত্যক্ষ সাক্ষী প্রমাণের চেয়ে সংবাদ, দালিলিক তথ্যত্রি, ডকুমেন্টারি এবং চলচ্চিত্রকে প্রধান প্রমাণপত্র হিসাবে প্রাধান্য দেয়া হয়েছে।

১৯৪৫ সালের ২০ নভেম্বর প্রথম আন্তর্জাতিক আদালতে এই বিচার হয়। বিভিন্ন সময়ে আদালতের রায়ে ২৪ জনের মধ্যে ২২ জনকে দণ্ডাদেশ দেয়া হয়। এদের মধ্যে হিটলারের মন্ত্রীসভার সদস্য ও সামরিক বাহিনীর প্রধানরা দন্ডিত হন।এই রায়ে বেশ কয়েকজনকে মৃত্যুদন্ড দেয়া হয়। এদের মধ্যে যারা দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তাদের দলপতি এবং মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামী হারমান গোয়েরিং দন্ডাদেশ পাওয়ার পর ফাঁসির আগের দিন রাতে শ্লাঘা ও অপমানে আত্মহত্যা করেছিলেন।

বিশ্বের আইন শাস্ত্রের ইতিহাসে ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মতো এতো ব্যাপক আয়োজনে পৃথিবীর কোথাও গণহত্যার বিচার হয়নি। ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের রায়ে ১৭ হাজার পৃষঠার ধারাবিবরণী ছাপা হয়েছিল। যা পরবর্তীতে ৪২ খন্ডে প্রকাশিত হয়। জার্মানির বর্বর নাৎসিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয়া হয় ৬৫ পৃষ্ঠার। ১০ মাস ১০ দিন ধরে চলা এই আদালতের শুনানির অধিবেশন বসেছিল ৪’শ তিনটি। ১’শ ২৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছে ২’শ ৯৬ দিন ধরে। ১৪৩টি লিখিত জবানবন্দী আদালতে জমা দেয়া হয়। চারহাজার দালিলিক প্রমাণ এবং ৩৮ হাজার এফিডেভিট আদালতে জমা দেয়া হয়। শুধুমাত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটর প্যানেল এবং তাদের সহযোগিদের সংখ্যা ৬শত ৪০ জন। এদের মধ্যে এক’শ পঞ্চাশজন ছিল আইনজীবী। ন্যুরেমবার্গ আদালতের বিচারক, প্রসিকিউটর এবং নাৎসি খুনিদের নিরাপত্তায় শত শত সেনা সদস্য নিয়োগ করা হয়। পাঁচটি টেঙ্ক সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করে এবং রায়ের দিন অতিরিক্ত ১ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল ছিল গত শতাব্দীর সবচে বড় আদালত, আইনী লড়াই এবং জনবহুল নিরাপত্তার ব্যবস্থা।

নাৎসি বাহিনীর গণহত্যা পৃথিবীর সবচেয়ে আলোচিত হত্যাকাণ্ড। নাৎসিরা ১৩টি ক্যাম্প থেকে গেস্টেপো বাহিনীর মতো ৭টি বাহিনী তৈরি করে গণহত্যা চালিয়েছে। অচউইজ কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে লেফটেনেন্ট কর্নেল রুডলফ এস এ্যান্ডট্রান্স ফার্ডিনান্ড ওয়েস কমপক্ষে সাড়ে ৩ লাখ লোককে হত্যা করে। যদিও আদালতে প্রথমে তারা গণহত্যার বিষয়টি অস্বীকার করে। শেষে তারা আড়াই লাখ লোক হত্যা করেছিল বলে স্বীকার করে। ন্যুরেমবার্গ আদালতে এক পর্যায়ে তারা সাক্ষ্য হিসাবে কাজ করলেও ১৯৪৬ সালে এই বিচারের এক পর্যায়ে তাদের ফাঁসি হয়। জার্মানির ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল যেখানে হয় সেই‘ প্যালেস অব জাস্টিজে’ কক্ষসংখ্যা ছিল পাঁচ শতাধিক। সেই বিচারেও খুনিরা গণহত্যার কথা বেমালুম অস্বীকার করেছিল।

তেমনিভাবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানী বাহিনীর এদেশীয় দোসর ঘাতক দালাল রাজাকার, আলবদর, আল শমসসহ ৭টি বিভিন্ন বাহিনী গঠন করে হত্যা নির্যাতন, লুন্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো নৃশংসতা চালিয়েছিল। তারা ৩০ লক্ষ নিরপারাধ নিরস্ত্র বাঙালি নারী-পুরুষকে হত্যা করেছিল, হরণ করেছিল দুইলাখ মা-বোনের ইজ্জত। এ সব জঘন্য কাজ করে তারা মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত করেছিল। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের প্রায় ৪০ বৎসর পর সেই নরঘাতকদের বিচার কার্যক্রম শুরু হলে জার্মানির নাৎসি বাহিনীর মতোই তারা নিজেদের অপরাধ অস্বীকার করে আদালতে এ বিচারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে। কিন্তু তাদের এই চ্যালেঞ্জ ধোপে টেকেনি। তারা যেমন এ বিচারকে চ্যালেঞ্জ করেছিল ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছিল। কিন্তু সেই আদালতও তাদের অপরাধ অস্বীকারকে কোনো পাত্তই দেয়নি। গণহত্যার কোন চাক্ষুস প্রমাণ নেই বলে এই চ্যালেঞ্জ করেছিল নাৎসি বাহিনী কিন্তু আইনজীবীদের যুক্তিতর্কে ওঠে আসে আত্মরক্ষা চিন্তায় গণহত্যা পরিদর্শনে কেউ প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসাবে দাঁড়িয়ে থাকতে পারে না। তাই এই বিচারে গণহত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনাকেই মূল অপরাধ হিসাবে বিবেচনা করতে হয়। এতে চাক্ষুস সাক্ষ্য প্রমাণের চেয়ে সংবাদ, আলোকচিত্র, দালিলিক তথ্যচিত্র, ছবি, ডকুমেন্টারী ও চলচিত্রকেই মূখ্য প্রমাণপত্র হিসাবে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কেননা হিটলারের নাৎসি বাহিনীর গণহত্যা কোনো সাধারণ ফৌজদারি অপরাধ ছিল না। তাই বিশেষ আইনে এই গণহত্যার বিচার হরেও এখানে অপরাধীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছিল। কিন্তু দন্ডাদেশ পুনবিবেচনার জন্য আপিলের কোনো সুযোগ ছিল না। তবু সব বিচারেই ন্যুরেমবার্গ ট্রায়াল বিশ্বস্বীকৃত ও গ্রহণযোগ্য আন্তর্জাতিক আদালত।

ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালে যারা দন্ডপ্রাপ্ত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন, বোরম্যান, হ্যানস ফ্রাঙ্ক,উইলহেম ফ্লিক, গোয়েরিং আলফ্রেড জন্ড, সেনাপ্রধান আর্নেস্ট কালটেনব্রুনার, এসএস কমান্ডার উইলহেলম কেইটেল, হেড অব আর্মস ফোর্সেস হাইকমান্ড এরিক রিডার, কমান্ডার অব নেখিভ জোয়েসিম ফন রিবোনট্রপ, বিদেশমন্ত্রী আলফ্রেড রোজেনবার্গ, প্রোটেকটর অব দ্য ইস্টার্ন আকুপাইড টেরিটরিজ ফ্রিজ সাউকেল, নাৎসি বাহিনী অন্যতম কর্তা আর্থার সিয়েস-ইনকার্ট, জুলিয়াস ট্রিচার এবং একটি প্রত্রিকার সম্পাদকসহ আরো অনেকে।

নুরেমবার্গ ট্রায়ালে গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল, গণহত্যাকারীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ, বিচার প্রক্রিয়া এবং দন্ড প্রদানের প্রামাণ্যচিত্র ধারণ করা হয়। বিচার প্রক্রিয়ার রায় ঘোষণার সময় লাগে ২৫ ঘন্টা। পুরো বিচারের প্রক্রিয়াটির ডকুমেন্টারি করেন প্রখ্যাত চলচিত্র নির্মাতা জন ফোর্ড। ২৫ ঘন্টার এ বিচার প্রক্রিয়ার প্রামাণ্যচিত্রটির সারসংক্ষেপ করে দুটি পর্ব সম্প্রতি বাংলাদেশে দেখানো হয়। ন্যুরেমবার্গ বিচার পার্ট ওয়ান ও পার্ট টু এই দুই ভাগে দেখানো হয়। যা বাংলাদেশে শুরু হওয়া যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত কারীদের বিচারের ক্ষেত্রেও প্রয়োজন পড়বে। কাজেই এই বিচার নিয়ে জামায়াত ও তাদের মিত্র বিএনপি যতই বিতর্ক ও ধূর্মজালের সৃষ্টি বিচার বানচালের অপচেষ্টাই করুক না কেন বাংলার মাটিতে ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য যে বিচারের কার্যক্রম চলছে পৃথিবীর কোনো শক্তিই তা রোধ করতে পারবেনা বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা চাই যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে তা দ্রুততার সাথে শেষ করে আগামী বিজয় দিবসের আগেই বিচার কাজ সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা হোক।

***
লেখাটি প্রকাশিত হয়েছে: http://thebengalitimes.com, ২৭ জানুয়ারি ২০১১