ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে মাহে রমাদান অত্যন্ত পবিত্র ও সংযমের মাস হিসেবে পরিগণিত হলেও দেশের সমাজ ও রাষ্ট্রবিরোধী চক্র ও গোষ্ঠীর কাছে পবিত্র মাহে রমজান মাস হলো চুরি-ডাকাতি, জালিয়াতি, প্রতারণা ও অতিমুনাফা লাভের মাস । এ মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা সারাদিন রোজা রেখে সর্বোচ্চ আত্মসংযমের মাধ্যমে সৃষ্টি কর্তার করুনা লাভের আশায় ইবাদত বন্দেগীতে মশগুল থাকে। কেননা এ রমজান মাসেই আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআন নাজিল হয়েছিল। তাই রমজান মাস হলো প্রতিটি মুসলমান নর-নারীর কাছে অত্যন্ত পুন্য ও আমলের মাস। পাপ থেকে মুক্তির মাস। কিন্তু ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে এটি পুন্যের মাস হলেও সমাজবিরোধী চক্র ও গোষ্ঠীর কাছে এ মাস হলো অধিক মুনাফা অর্জন, জালিয়াতি, প্রতারণার মাধ্যমে আখের গোছানোর মাস। কেননা এ মাসে ধর্মপ্রাণ মানুষেরা বাজেটের চিন্তা মাথায় না রেখে দু’হাত খুলে খরচ করে। এ এক মাসে খাদ্য ও বস্ত্রখাতে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়ে থাকে। আর এ বিশাল অঙ্কের লেনদেনের দিকেই নজর থাকে সমাজ বিরোধীদের। তাই তারা চুরি-ডাকাতি, ছিনতাই, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে কিভাবে সাধারণ মানুষকে ঠকানো যায় সেই ধান্দায় থাকে। তারা খাদ্যসামগ্রীতে ভেজাল, নকল টাকা ছড়িয়ে দেয়া, মলম ও নানা ধরনের চেতনা নাশক অসুদ খাইয়ে মানুষের সর্বস্ব লুটে নেয়াসহ হেন কাজ নেই যা ওইসব সমাজ বিরোধীরা করেনা । এমনকি সারাদিন রোজা রেখে মানুষ যে ইফতার খায় সেই ইফতারেও অতি মুনাফালোভী ব্যবসায়ীদের ভেজাল মেশাতে বিবেকে বাঁধেনা।

এইতো গেল ভেজালের কথা। রমজান ও ঈদকে ঘিরে আরেক শ্রেণীর সমাজবরোধী অধিকমাত্রায় তৎপর হয়ে ওঠে তারা হলো জাল টাকা তৈরীকারী। এরা এই মাসে কয়েক’শ কোটি টাকার জালনোট ছাপিয়ে বাজারে ছেড়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে। আগে একশত ও পাঁচশত টাকার নোট জাল করলেও এখন ওই জালিয়াতচক্র ৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার টাকার নোট জাল করছে। ছোট নোট জাল করার কারণে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ ও প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এর ফলে মুদ্রাস্ফিতি বেড়ে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে দেশের অর্থনীতিরও।

এখানেই প্রতারণার শেষ নয়; মানুষজন কেনাকাটা করে দেশের বাড়িতে প্রিয়জনদের সাথে ঈদ করতে যাওয়ার পথে `জলে কুমির ডাঙ্গায় বাঘ’ প্রবাদটির মতো অজ্ঞান ও মলমপার্টির শত শত সদস্য ওতঃ পেতে বসে থাকে হাটবাজার, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, নৌবন্দরে। সুযোগ বুঝেই বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সাথে চেতনানাশক অসুদ খাইয়ে অজ্ঞান করে, অথবা চোখে-মুখে মলম মাখিয়ে মলম পার্টির সদস্যরা ঘরমুখো মানুষের সর্বস্ব কেড়ে নিচ্ছে । এদের সাথে রাঘবোয়ালরা জড়িত থাকে বলে দেশের প্রচলিত আইনের ফাঁক-ফোকর গলে বেরিয়ে যাচ্ছে। আইন আছে কিন্তু যথাযথ প্রয়োগ নেই। এসব অপরাধের জন্য যে শাস্তি দেয়া হয় তাকে `গুরু দন্ডে লঘু শাস্তি’ হিসেবেই গণ্য করা যায়। এই পবিত্র রমজানেই আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর হাতে এসব সমাজবিরোধীদের অনেকেই ধরা পড়েছে । কিন্তু সরষের মধ্যেই যদি ভূত থাকে তা হলে ভূত তাড়াবে কে?

এদেরকে প্রতিরোধ করতে প্রয়োজন সম্মিলিত প্রয়াস । সরকারের পক্ষ থেকে কঠিন শান্তির বিধান করে যেমন কঠোর আইন প্রণয়নের দরকার তেমনি দরকার জন প্রতিরোধ। আর কালক্ষেপণ না করে আসুন সবাই মিলে ওইসব সমাজ বিরোধীদের প্রতিরোধ করি।