ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বিএনপির চেয়ারপার্সন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে দীর্ঘদিন থেকে একটা বিতর্ক চলে আসছে । এ নিয়ে দেশনেত্রী যে ইমেজ সঙ্কটে ভুগছেন তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এ বিতর্ক বিএনপি’র মতো বড় দলের একজন বড় নেত্রীর পক্ষে খুব শোভনীয় নয়। এ নিয়ে বিএনপির নেতা-নেত্রীরা যেমন বিব্রত তেমননি বিরোধীপক্ষ এটা নিয়ে হাস্যকৌতুক করার প্রয়াস পাচ্ছে। যা দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আমাদের কাছে কাম্য নয়। এ বিষয়টি নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি না করে একটা সুরাহা করা উচিত।

এ যাবত বিভিন্ন পত্র পত্রিকা ও সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন সন্ধন্ধে যে সব তারিখ পেয়েছি তাতে আমার নিজের কাছেই খটকা লেগেছে, একজন মানুষের একাধিক জন্মদিন হয় কি করে? বেগম খালেদা জিয়া তার ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় দেখা যায় তাঁর জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬ খ্রিষ্টাব্দ, যদিও এই পরীক্ষায় তিনি পাশ করতে পারেননি। ঢাকা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক স্বাক্ষরিত কাগজপত্রে দেখা যায় যে, খালেদা জিয়া ১৯৬১ সালে দিনাজপুর সদর গার্লস হাইস্কুল থেকে দিনাজপুর কেন্দ্রে পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তাঁর রোল নম্বর ছিল দিন নং এফ -৭৯২, জন্ম তারিখ ৫.৯.১৯৪৫। সে কাগজপত্রে খালেদা জিয়ার পুরো নাম-খালেদা খানম।পিতা মোহাম্মদ এসকেন্দার।

তাছাড়া, ১৯৭৮ সালের ১ এপ্রিল খালেদা জিয়ার প্রথম পাসপোর্টের আবেদন পত্রে তিনি তাঁর জন্ম তারিখ দিয়েছেন ১৯৪৬। তখন আবেদন পত্রে কোন তারিখ উল্লেখ করেননি। ঢাকা পাসপোর্ট অফিসের ইস্যু করা সে-পাসপোর্টের নম্বর ছিল-ডি-০০৯০৬। ১৭ নভেম্বর ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয়বার পাসপোর্টে জন্মতারিখ দেয়া হয় ১৫ আগস্ট ১৯৪৬। ইস্যুকৃত সে পাসপোর্টের নম্বর ছিল-এফ-৩৭৯০৬৯। ১৯৯১ সালে বাংলাদেশের প্রথম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ করে প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতাসীন হওয়ার সময় সরকারী তথ্য বিবরণীতে খালেদা জিয়ার জীবন বৃত্তান্তে জন্ম তারিখ উল্লেখ করা হয় ১৯ আগস্ট ১৯৪৬ । তদুপরি তাঁর কাবিনের জন্ম তারিখটি ঠিক নেই বলেও বিভিন্ন সময়ে পত্রিকার খবরে জানা গেছে । উপরোক্ত তথ্য উপাত্তের নিরিখে তাই প্রশ্ন : একটা মানুষ কতবার জন্মগ্রহণ করে? খালেদা জিয়ার জন্মদিন আসলে কোনটি- ৫ সেপ্টেম্বর, ১৫ আগস্ট, নাকি ১৯ সেপ্টেম্বর?

খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে আগে কোনো বিতর্ক ছিলনা। খালেদা জিয়া তাঁর নিজের মতো করে জন্মদিন পালন করেছেন। কিন্তু বিতর্ক শুরু হয়েছে যেদিন থেকে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুবার্ষিকীতে জন্মদিন পালন শুরু করলেন। এই দিনটিতে দেশনেত্রীর জন্মদিন পালন নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন মুখরোচক আলোচনা চলছে, তবু বিএনপির নেতা-নেত্রীরা এই দিনেই বিশাল বিশাল কেক কেটে নেত্রীর জন্মদিন পালন করেন। তর্কের খাতিরে ধরে নেয়া যাক, ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন। এই দিনটিতে শুধু বেগম খালেদা জিয়ারেই জন্মদিন নয়। বাংলাদেশের এমন অারো অনেক ব্যক্তি আছেন জন্মগ্রহণ করেছেন। দেশের অনেক প্রতিথযশা লোকেরও জন্মদিন এই দিন হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু কেউতো এমন ঘটা করে এমন একটি শোকবহ দিনে তাদের জন্মদিন পালন করছেন বলে আমাদের জানা নেই। আসলে বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন ১৫ আগস্ট হয়ে থাকলেও এদিন ঘটা করে উৎসবের আমেজে জন্মদিন পালন না করে মিলাদ মাহফিলের আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালন করতে পারেন বা পারতেন। দেশনেত্রীর মতো এমন একজন নেত্রী ও দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী (অনেকে ১৯৯৬ সালের ১৫ আগস্টের একতরফা ভোটার বিহীন নির্বাচনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর শপথ গ্রহণকে হিসেবে ধরেন না তাই তাদের মতে দুইবার।) জাতীয় নেত্রীর পক্ষে জন্মদিন পালন নিয়ে বিএনপির নেতা-নেত্রীরা কতটা বিব্রত ও হতাশ তা গত বৎসর আগস্ট মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষের দিকে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিএনপির সাবেক এমপি মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান যে বিবৃতি দিয়েছেন তা যে এমন হতাশারই বহির্প্রকাশ বলে মনে হয়। আখতারুজ্জামান তার বিবৃতিতে বলেছেন, ‘১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বৃহত্তর বরিশালের তৎকালীন এক ধুরন্ধর এমপি, যিনি বর্তমানে তার নেত্রীর সঙ্গে নেই , তার কুবুদ্ধিতেই ১৫ আগস্ট নেত্রীর তথাকথিত জন্মদিন পালন শুরু হয়। সময়ের প্রেক্ষাপটে এখন ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের মাটিতে ঘটা করে কারও জন্মদিন পালন করা শুধু অশালীন ও অসৌজন্যমূলক নয়, তা জনগণের বিশ্বাসের প্রতি অপমানের ও বহির্প্রকাশ…।’

তাই বিএনপি নেতা-নেত্রীরদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই-শুধু আখতারুজ্জামনই নয়, খুঁজলে বিএনপিতে এমন হাজারো আখতারুজ্জামানের সন্ধান পাওয়া যাবে, যারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের জাতীয় এই শোক দিবসে জন্মদিন পালন করাকে মেনে নিতে পারছে না। তাদের সাহসের ঘাটতি আছে বলেই তারা আখতারুজ্জামানের মতো করে সত্যকে সত্য বলতে পারছেন না।