ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজন্ম ভারতবিরোধী বিএনপি এখন ভারততোষণে ব্যস্ত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের আগ্রাসন জুজুর ভয় দেখিয়ে তথাকথিত বিপ্লব ও সংহতির নামে খালেদ মোশাররফকে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতার রাজনীতিতে যে জিয়ার অভিষেক, এবং ভারত বিরোধীতাকে পূঁজি করে শুরু হয়েছিল যে বিএনপির রাজনীতি সেই বিএনপি এখন ভারত তোষণে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। যা আমাদের মতো নালায়েকদের ধান্দায় ফেলে দিয়েছে। কেননা জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান প্রীতি ও ভারত বিরোধীতাই ছিল যে দলটির নীতি সেই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন,‘পেছনে নয় তাকাতে হবে সামনে, এবং ভারত সফর নতুন দিনের সূচনা করেছে।’ তখন ভাবতে হবে যে দেরিতে হলেও বিএনপির বোধদয় হয়েছে, না হয় “ডালমে কুচ কালা হায়”। কেননা, বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বিএনপি ও তাঁর মিত্ররা এতদিন আওয়ামী লীগকে ভারতের তাবেদার বলে গালাগাল করে আসছে। বিশেষ করে প্রায় সকল জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালেই তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারত তাবেদারীর অস্ত্রটি ব্যবহার করে সফলকাম হয়েছে। যদিও ইদানিং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে বিএনপি ও তার মিত্রদের এই প্রচারনাকে অপপ্রচার বলেই প্রতিয়মান হতে শুরু করেছে, তাছাড়া বহু ব্যবহারে এ অস্ত্রটি এখন এতটাই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, তা দিয়ে এখন আর বড় বড় গাছ কাটাতো দূরে থাকুক কচুগাছ কাটাও সম্ভব নয়। এই বোধদয়ের কারনেই হয়তো বিএনপি এখন শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রতি ঝুঁকছে।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি চাতুর্যপূর্ণ মনগড়া খবরকে কেন্দ্র করে চায়ের কাপে ঝড় বইছে। সেই চাতুর্যপূর্ণ খবরটি হলো; আগামীতে বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের চাতুর্যপূর্ণ মনগড়া খবর প্রচার করে দেশের সাধারণ মানুষকে এমন একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে যে, আগামীতে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় ফিরতে পারছেনা। বিএনপি-জামায়াত তথা ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসবে। এ প্রচারনার পক্ষের লোকজনের যুক্তি হলো; ৯১ নব্বই সালের পর বাংলাদেশের কোনো জাতীয় নির্বাচনে পর পর দুইবার বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারনি, সুতরাং আগামী নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সেই প্রথা ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারবেনা। এর কারণ হিসেবে তাদের সরল অঙ্ক হচ্ছে এদেশের ভোটারগণ নাকি পর পর দুইবার কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তবে তাদের এমন ধারণার ভিত্তি কতটা পরিবর্তনশীল বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় কতটা নির্ভরশীল তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই ওই ঘরাণার কর্মীসমর্থকদের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ার বদৌলতে এমন একটি ধারণা মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে যে, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের পুনরায় ক্ষমতায় আসার একটা সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে।…বিএনপিও মোটামুটি নিশ্চিত যে, সামনের বার নির্বাচনে জয়লাভ করে তারা ফের সরকার গঠন করছে এবং নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের কর্মসূচি কি হবে তা ও তারা ইতিমধ্যে ঠিক করে ফেলেছে। তবে জনগণকে তারা এখনো পুরোপুরি আস্থায় নিতে নিতে পারেনি, এই কারণে যে, প্রতিবেশী প্রভাবশালী বড় ভাইকে যদি আগে আগে ম্যানেজ করা না যায়, তা হলে হয়তো ‘সিকে’ নাও ছিড়তে পারে। তাই কিছুদিন আগে বিশ্বের মুরব্বি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে একঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষমতায় আসতে হলে ভারতকে তুষ্ট করার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই এই সফর এ্যারেঞ্জ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ২৯ আগস্ট টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ভারতী জৈনির একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, আগাম নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে, তাই ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে ভারতবিরোধী শক্তিগুলোর সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহের কথা বলা হয় । এ খরবটি উল্লেখ করে পরদিন ৩০ আগস্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকাও ফলাও করে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার মনগড়া খবর প্রচার করে। এর পরই বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় না দেয়ার ব্যাপারে ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে দৈনিক সমকাল তাদের ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ শেষ পাতায় ‘ভারতকে আশ্বস্ত করতে বিএনপির জোর লবিং’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মজিনা খালেদা জিয়ার সাথে দেড় ঘন্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবার কথা বলা হয়।

তবে এটি মানতেই হবে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বৈরিতার জিইয়ে রেখে বর্তমান যুগে রাজনীতি করা খুবই কঠিন ব্যাপার সে দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগে এ সফর আয়োজন করা হয়ে থাকলে খুবই ভাল লক্ষণ। কিন্তু ‘গাঙ পার হইলে মাঝি কার শালা”প্রবাদের মতো যদি এ সফরের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে এ সফর সম্মন্দে যতই ঢাকঢোল পিছিয়ে প্রচারনা চালানো হোক না কেন তা এক সময় ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হতে বাধ্য। তবে মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে ও শুনতে পেলাম বিএনপি নেত্রী যে ভাবে ভারতকে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করেছেন, তা কিন্তু তোষণের পর্যায়ে চলে গেছে বলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেই কানাঘুষা হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রকাশিত সে’দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় এ সফর নিয়ে যতটা না ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এর চেয়ে বেশী প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহ। এ প্রসংগে ‘খালেদা জিয়ার ভারত সফর’ শিরোনামে মানস ঘোষের লেখা(অনুবাদ: মুস্তফা মাসুদ, জনকন্ঠ ৩০ অক্টোবর ২০১২) থেকেই স্পষ্ট‘ ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন, যাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে ভিড়েছেন। এবং মা ও ছেলের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ তৈরি করতে চাইছেন। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, তাঁরা ভারতের সমস্ত ডিম আওয়ামী লীগের ঝুড়িতে রাখতে চাননা ’

তবে আওয়ামী লীগের জন্যে এটা ভালই হলো এই কারণে যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আর আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলে গালাগাল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাবে না; উল্টো আওয়ামী লীগই বিএনপির বিরুদ্ধে ভারত তোষণের তরতাজা অস্ত্রটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে। ে

আজন্ম ভারতবিরোধী বিএনপি এখন ভারততোষণে ব্যস্ত। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের আগ্রাসন জুজুর ভয় দেখিয়ে তথাকথিত বিপ্লব ও সংহতির নামে খালেদ মোশাররফকে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতার রাজনীতিতে যে জিয়ার অভিষেক, এবং ভারত বিরোধীতাকে পূঁজি করে শুরু হয়েছিল যে বিএনপির রাজনীতি সেই বিএনপি এখন ভারত তোষণে ব্যস্ত হয়ে ওঠেছে। যা আমাদের মতো নালায়েকদের ধান্দায় ফেলে দিয়েছে। কেননা জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান প্রীতি ও ভারত বিরোধীতাই ছিল যে দলটির নীতি সেই দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে তারা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন,‘পেছনে নয় তাকাতে হবে সামনে, এবং ভারত সফর নতুন দিনের সূচনা করেছে।’ তখন ভাবতে হবে যে দেরিতে হলেও বিএনপির বোধদয় হয়েছে, না হয় “ডালমে কুচ কালা হায়”। কেননা, বাংলাদেশের রাজনীতির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, বিএনপি ও তাঁর মিত্ররা এতদিন আওয়ামী লীগকে ভারতের তাবেদার বলে গালাগাল করে আসছে। বিশেষ করে প্রায় সকল জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালেই তারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ভারত তাবেদারীর অস্ত্রটি ব্যবহার করে সফলকাম হয়েছে। যদিও ইদানিং নতুন প্রজন্মের ভোটারদের কাছে বিএনপি ও তার মিত্রদের এই প্রচারনাকে অপপ্রচার বলেই প্রতিয়মান হতে শুরু করেছে, তাছাড়া বহু ব্যবহারে এ অস্ত্রটি এখন এতটাই ভোঁতা হয়ে গেছে যে, তা দিয়ে এখন আর বড় বড় গাছ কাটাতো দূরে থাকুক কচুগাছ কাটাও সম্ভব নয়। এই বোধদয়ের কারনেই হয়তো বিএনপি এখন শক্তিশালী প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রতি ঝুঁকছে।

দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি চাতুর্যপূর্ণ মনগড়া খবরকে কেন্দ্র করে চায়ের কাপে ঝড় বইছে। সেই চাতুর্যপূর্ণ খবরটি হলো; আগামীতে বিএনপি ও তার মিত্ররা সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন যাবত বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ ধরনের চাতুর্যপূর্ণ মনগড়া খবর প্রচার করে দেশের সাধারণ মানুষকে এমন একটি ধারণা দেয়ার চেষ্টা চলছে যে, আগামীতে আওয়ামী লীগ আর ক্ষমতায় ফিরতে পারছেনা। বিএনপি-জামায়াত তথা ১৮ দলীয় জোট ক্ষমতায় আসবে। এ প্রচারনার পক্ষের লোকজনের যুক্তি হলো; ৯১ নব্বই সালের পর বাংলাদেশের কোনো জাতীয় নির্বাচনে পর পর দুইবার বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসতে পারনি, সুতরাং আগামী নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ সেই প্রথা ভেঙে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসতে পারবেনা। এর কারণ হিসেবে তাদের সরল অঙ্ক হচ্ছে এদেশের ভোটারগণ নাকি পর পর দুইবার কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তবে তাদের এমন ধারণার ভিত্তি কতটা পরিবর্তনশীল বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় কতটা নির্ভরশীল তা নিয়ে প্রশ্ন আছে। তাই ওই ঘরাণার কর্মীসমর্থকদের মধ্যে বেশ চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। বিভিন্ন মিডিয়ার বদৌলতে এমন একটি ধারণা মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে যে, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত জোটের পুনরায় ক্ষমতায় আসার একটা সম্ভবনা দেখা যাচ্ছে।…বিএনপিও মোটামুটি নিশ্চিত যে, সামনের বার নির্বাচনে জয়লাভ করে তারা ফের সরকার গঠন করছে এবং নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের কর্মসূচি কি হবে তা ও তারা ইতিমধ্যে ঠিক করে ফেলেছে। তবে জনগণকে তারা এখনো পুরোপুরি আস্থায় নিতে নিতে পারেনি, এই কারণে যে, প্রতিবেশী প্রভাবশালী বড় ভাইকে যদি আগে আগে ম্যানেজ করা না যায়, তা হলে হয়তো ‘সিকে’ নাও ছিড়তে পারে। তাই কিছুদিন আগে বিশ্বের মুরব্বি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বেগম খালেদা জিয়ার সাথে তাঁর গুলশানের কার্যালয়ে একঘন্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ক্ষমতায় আসতে হলে ভারতকে তুষ্ট করার পরামর্শ দিয়ে এসেছেন। সেই পরামর্শের ভিত্তিতেই এই সফর এ্যারেঞ্জ করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসূত্রে জানা গেছে। এ প্রসঙ্গে ২৯ আগস্ট টাইমস অব ইন্ডিয়ায় ভারতী জৈনির একটি প্রতিবেদনে বলা হয় যে, আগাম নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আসার সম্ভবনা দেখা দিয়েছে, তাই ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের ভূখন্ড ব্যবহার করে ভারতবিরোধী শক্তিগুলোর সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে পারে বলে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সন্দেহের কথা বলা হয় । এ খরবটি উল্লেখ করে পরদিন ৩০ আগস্ট বাংলাদেশের বিভিন্ন পত্রিকাও ফলাও করে আগামী নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতাসীন হওয়ার মনগড়া খবর প্রচার করে। এর পরই বিএনপির পক্ষ থেকে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে প্রশ্রয় না দেয়ার ব্যাপারে ভারতকে আশ্বস্ত করা হয়। এ ব্যাপারে দৈনিক সমকাল তাদের ৬ সেপ্টেম্বর ২০১২ শেষ পাতায় ‘ভারতকে আশ্বস্ত করতে বিএনপির জোর লবিং’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপারে উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য বাংলাদেশে নিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত মজিনা খালেদা জিয়ার সাথে দেড় ঘন্টার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হবার কথা বলা হয়।

তবে এটি মানতেই হবে যে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে বৈরিতার জিইয়ে রেখে বর্তমান যুগে রাজনীতি করা খুবই কঠিন ব্যাপার সে দৃষ্টিকোণ থেকে প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক মেরামতের উদ্যোগে এ সফর আয়োজন করা হয়ে থাকলে খুবই ভাল লক্ষণ। কিন্তু ‘গাঙ পার হইলে মাঝি কার শালা”প্রবাদের মতো যদি এ সফরের উদ্দেশ্য হয়ে থাকে তবে এ সফর সম্মন্দে যতই ঢাকঢোল পিছিয়ে প্রচারনা চালানো হোক না কেন তা এক সময় ব্যর্থতায় পর্যবেশিত হতে বাধ্য। তবে মিডিয়ার কল্যাণে দেখতে ও শুনতে পেলাম বিএনপি নেত্রী যে ভাবে ভারতকে প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করেছেন, তা কিন্তু তোষণের পর্যায়ে চলে গেছে বলে ভারত ও বাংলাদেশ দুই দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যেই কানাঘুষা হচ্ছে। ভারতীয় বিভিন্ন পত্রপত্রিকার প্রকাশিত সে’দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনায় এ সফর নিয়ে যতটা না ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এর চেয়ে বেশী প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহ। এ প্রসংগে ‘খালেদা জিয়ার ভারত সফর’ শিরোনামে মানস ঘোষের লেখা(অনুবাদ: মুস্তফা মাসুদ, জনকন্ঠ ৩০ অক্টোবর ২০১২) থেকেই স্পষ্ট‘ ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এমন কেউ কেউ আছেন, যাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে বিএনপি-জামায়াতের পক্ষে ভিড়েছেন। এবং মা ও ছেলের মধ্যে একটা সেতুবন্ধ তৈরি করতে চাইছেন। এর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, তাঁরা ভারতের সমস্ত ডিম আওয়ামী লীগের ঝুড়িতে রাখতে চাননা ’

তবে আওয়ামী লীগের জন্যে এটা ভালই হলো এই কারণে যে, আগামী নির্বাচনে বিএনপি আর আওয়ামী লীগকে ভারতের দালাল বলে গালাগাল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাবে না; উল্টো আওয়ামী লীগই বিএনপির বিরুদ্ধে ভারত তোষণের তরতাজা অস্ত্রটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে।