ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সদ্য সমাপ্ত টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের উপনির্বাচনে সরকার দলীয় প্রার্থী শহীদুল ইসলাম লেবু তারই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানার কাছে গো-হারা হেরেছেন। এর মাধ্যমে সরকার দলীয় প্রার্থীকে ঘাটাইলবাসী হলুদ কার্ড দেখালো। এর আগে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচন ও হবিগঞ্জ (বাহুবল-নবীগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছিল নারায়নগঞ্জ ও হবিগঞ্জ একটি আসনের নির্বাচকমণ্ডলী। যদিও ফুটবলের মাঠে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়েই লালকার্ড দেখিয়ে কোন খেলোয়ারকে মাঠ থেকে বহিস্কার করা হয়ে থাকে সে হিসেব চলে না রাজনীতির মাঠে। তিন বা ততধিকবার হলুদ কার্ড দেখেও আমাদের দেশের রাজনীতির মাঠের খেলোয়াড়রা বহিস্কৃত হন না। বরং জোর করে খেলার মাঠেই থেকে যান। ফুটবল মাঠের রেফারিদের মতো রাজনৈতিক মাঠের রেফারি বা নির্বাচকমণ্ডলীর তত ক্ষমতা নেই। থাক সে কথা, আবার ফিরে আসি হলদকার্ড প্রসঙ্গে। এই উপনির্বাচনে কেন সরকার দলীয় প্রার্থীর বিপুল ভোটে ভরাডুবি হলো তা নিয়ে শাসকদল নির্বাচন সুষ্ঠ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও দলের নেতাকর্মীরা কিন্তু হতাশ। কেননা, বিরোধী দল কিন্তু সরকারের জনপ্রিয়তা যে তলানীতে গিয়ে ঠেকেছে তা জোরগলায় প্রচারের মওকা পেয়ে রাজনীতির মাঠ দাবরিয়ে বেড়ানোর সুযোগ পেল।

কেন সরকারের শেষ সময়ে এসে সরকার দলীয় মনোনিত প্রার্থী প্রায় ৫০ হাজার ভোটের বিপুল ব্যবধানে হেরে গেল, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা প্রার্থী মনোনয়নের গলদকেই দায়ি করছেন। যদিও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি এ নির্বাচনে বয়কট করেছে তবে নিজ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর কাছে এ হেরে যাওয়াকে আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ডের দূরদর্শিতাকেই দায়ি করছেন। মাঠের প্রকৃত অবস্থা জরিপ না করে গ্রুপিং ও লবিং এর কারণে যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দিল সেই প্রার্থীর যে এলাকার জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা নেই তা ই প্রমাণ করে দিল ঘাটাইলের জনগণ। এ ফলাফল নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরাও বিভ্রান্ত ও হতাশ। তাদের প্রশ্ন এলাকায় জনপ্রিয় ও আওয়ামী লীগের পরীক্ষিত পরিবারের একজন তৃণমূল নেতা হিসেবে আমানুর রহমান খান রানাকে মনোনয়ন না দিয়ে, ঘাটাইলের রাজনীতিতে নবীন ও বিতর্কিত শহীদুল ইসলাম লেবুকে সংসদীয় বোর্ড কিভাবে ও কি কারণে মনোনয়ন দিল? প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন আওয়ামী লীগের সংসদীয় বোর্ড প্রার্থী বাছাইয়ে কেন এমন ভুল করলো এ প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে অজানা। তাছাড়া নির্বাচনের কয়েকদিন আগে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান রানাকে দল থেকে আজীবন বহিস্কার নিয়েও নানা প্রশ্নে জন্ম দিয়েছে। দলের নীতিনির্ধারকদের মতে আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কাউকে বহিস্কার করতে গেলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের প্রয়োজন হয়। নির্বাচনের কয়েকদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়েছে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সভা। ওই সভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানাকে বহিস্কারের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। তা হলে কিভাবে প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম শহীদুল ইসলাম লেবুর নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আমানুর রহমান রানাকে বহিস্কারের ঘোষণা দিয়ে দলকে বিভ্রান্তকর পরিস্থিতিতে ফেললেন? তা হলে কি আওয়ামী লীগের চেইন অব কমান্ড বলতে কিছু নেই? রানাকে বহিস্কার না করলে এ পরাজয়েও মুখ রক্ষা হতো। কিন্তু এ পরাজয়ের মধ্যমে দলের শৃঙ্খলায় যে ক্ষতের সৃষ্টি হলো এ ক্ষত নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হয়েছে বলে আত্মতৃপ্তিকে সারাতে পারবে বলে নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মনে করেন না। এ ফলাফল আগামী জাতীয় নির্বাচনের শাসকদলের জন্য অশনিসংকেত বলেই মনে করা হচ্ছে। ঘাটাইলবাসী সরকারকে যে হলুদকার্ড দেখালো তা শোধরানোর কার্যকরী ব্যবস্থা না নিলে হলুদ কার্ডের পরিবর্তে লালকার্ড দেখাও অসম্ভবের কিছু না।