ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

পবিত্র শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে রাজনীতি করে মানুষের বিশেষ করে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মী সমর্থকদের হাত-পায়ের রগ কর্তন করে হত্যা বা চিরতরে পঙ্গু করে দেয়ার মতো নৃশংস কাজ দীর্ঘদিন থেকে করে আসছে জামায়াত-শিবিরের চক্র। শুধু রগকাটাই নয় হত্যা, চোখ উপড়ে ফেলা, হাত-পায়ের রগ কেটে পঙ্গু করে দেয়া, কানের ভেতর সাইকেলের স্পোক ঢুকিয়ে মগজ বের করে ফেলার মতো জঘণ্য ও ঘৃণ্য কর্মকান্ড করে আসছে ওরা ধর্মের নামেই।

 

দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের চোরাগোপ্তা হামলা, নাশকতা ও সহিংসরূপ সচোক্ষে প্রত্যক্ষ করেছে এদেশের জনগণ। সে সময় এ গোষ্ঠী প্রকাশ্য দিবালোকে চোরাগোপ্তা হামলা করে পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যসহ অসংখ্য মানুষকে নৃশংস কায়দায় কুপিয়ে-পিটিয়ে হত্যা করেছে,  ট্রাক-বাস-সিএনজি চালকের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়ে  তাদের হত্যা করে উল্লাস নৃত্যে মেতে ওঠেছিল। তাদের এ মানুষ হত্যার উৎসবের নৃশংসায় কত মানুষ যে জীবন দিয়েছে এবং কতশত মানুষ যে আগুনে পুড়ে চিরতরে পঙ্গু হয়েছে তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।

 

এ প্রসংগে সম্প্রতি সহযোগি এক দৈনিকে স্বদেশ রায় তাঁর এক নিবন্ধে বলেন,‘২০১৩ সালে বছরজুড়ে সারা দেশে শিবির যে সন্ত্রাসী কার্যক্রম, নরহত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে তা কোনক্রমেই শুধু ফৌজদারি অপরাধ ছিল না। এগুলো আন্তর্জাতিকমানের জঙ্গী হামলা ও দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের পর্যায়ে পড়ে। শিবির যখন এসব অপরাধ একের পর এক সংঘটিত করে চলে তখন সরকার একদিকে যেমন ব্যস্ত ছিল এই অপরাধ দমনে অন্যদিকে শিবিরের অপরাধী কর্মকাণ্ডকে রাজনৈতিক কভারেজ দিয়ে যাচ্ছিল বিএনপি তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আন্দোলনের নামে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনী সফলতার পর শিবিরের সন্ত্রাস কিছুটা কমেছিল। কিন্তু আবার তারা শুরু করেছে। ২৮ তারিখ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশ্যে যা ঘটিয়েছে তাকে ভয়াবহ সন্ত্রাস বললেও কম হবে। অন্যদিকে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য শিবির ইতোমধ্যে নতুন কিছু পথ বেছে নিয়েছে। এর ভেতর তাদের প্রথম কাজটি হলো র‌্যাব ও পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করা।

 

বিভিন্ন সময়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত জামায়াত-শিবিরের এসব জঘণ্য নৃশংসতার তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা যায়, ১৯৮৮ সালে ৩১ মে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ শাখা ছাত্রমৈত্রীর সভাপতি জামিল আকতার রতনকে চার হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করার মধ্য দিয়ে রগ কাটার রাজনীতির সূচনা করে শিবির। সেইবছর ১৯ সেপ্টেম্বর শেরেবাংলা হলের সামনে ছাত্রমৈত্রীর নেতা জুবায়ের চৌধুরী রিমুকে হাত-পায়ের রগ কেটে নৃশংসভাবে হত্যা করা। ১৯৯৪ সালে ছাত্রমৈত্রীর নেতা প্রদ্যুত রুদ্র চৈতী পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় তৃতীয় বিজ্ঞান ভবনের সামনের রাস্তায় শিবিরকর্মীরা তার হাতের কব্জি কেটে নিয়ে যায়। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফরহাদের হাতের কব্জি কেটে নিয়ে যায় শিবিরকর্মীরা। ওইদিন ছাত্রদলের আরও ২৫ নেতাকর্মীর হাত-পায়ের রগ কেটে দেয় শিবির। এরপর ১৯৯৯ সালের ১৬ নবেম্বর রাতে ছাত্রলীগকে ক্যাম্পাস ছাড়া করার পরবর্তী এক দশক শিবিরের রগ কাটার রাজনীতি প্রায় বন্ধ ছিল। আবার ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যাকান্ডের মধ্য দিয়ে শিবির আবারও রগ কাটার রাজনীতিতে অন্ধকার পথে ফিরে আসে। ওইদিন শিবির ছাত্রলীগ কর্মী ফিরোজ হোসেন, আরিফুজ্জামান, শহিদুল ইসলাম এবং সাইফুর রহমান বাদশাসহ ৬ জনের হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এর পর প্রায় আড়াই বছরের অধিক সময় শিবিরের রগ কাটার রাজনীতি বন্ধ ছিল। জামায়াত-শিবির সারা দেশেই এসব মানবতাবিরোধী অপরাধ করলেও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেই সবচেয়ে বেশীসংখ্যক মানুষের হাত-পায়ের রগ কেটেছে শিবির। শিবিরের এ রগকাটার রাজনীতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে যে কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে তা কোনদিনই মুছে যাবার নয়। গত পাঁচ বছরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও এর আশপাশের এলাকার অন্তত ১৫ নেতাকর্মীর হাত ও পায়ের রগ কেটেছে এরা । যাদের রগ কটেছে এদের সবাই এখন পঙ্গু। শিবিরের এ রগকাটার রাজনীতির কারণে পঙ্গুত্ব বরণের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছেই। সর্বশেষ ২৮ এপ্রিল ২০১৪ মঙ্গলবার দিনের বেলা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দুই নেতাকর্মীর রগ কেটে দেয়া হয়। এ সময় ছাত্রলীগ কর্মী মাসুদের দুই পায়ের গোড়ালি থেকে পাতা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে তারা।

 

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকার অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের রায়কে কেন্দ্র করে বড় আগামিতে আরো বড় ধরনের ধরনের নাশকতা পরিকল্পনা করছে শিবিরের ক্যাডাররা। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী এবার পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলা এবং দেশের বড় বড় স্থাপনায় আঘাত হেনে আইনশৃংখলা বাহিনীকে বিতর্কীত করতে তাদের ‘সুইসাইড স্কোয়াড’ ব্যবহার করবে। কাজেই সরকারকে অবশ্যই শিবিরের এসব দেশবিরোধী অপতৎপরতা সম্পর্কে সজাগ দৃষ্টি দিয়ে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় কার্যকরী ব্যবস্থা নিতে হবে। সাঈদীর চুড়ান্ত রায়ের পর নাশকতা, সহিংসতাসহ যে কোন ধরনের নৃশংসতা, হত্যা, গুম দেশের সম্পদ বিনষ্টসহ সকল অপতৎপরতার বিরুদ্ধে দেশপ্রেমিক জনগণ ও আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সম্পৃক্ত করে এর দাঁতভাঙ্গা জবাব দিতে হবে। আমরা চাই এই অশুভ শক্তির নৃশংসতায় যেন এর একটি জীবনহানী না ঘটে।