ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

 

আমার আজকের এ নিবন্ধে বর্তমান সরকারের বিপক্ষে যাবে এমন কিছু বাস্তব তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরতে হবে তাই আগেবাগে সরকার বাহাদুরের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। সরকার বলতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বীন মন্ত্রীসভাকে বোঝালেও আমার এ লেখা মানীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করেই। কেননা তিনিই সরকারের ক্ষমতাধর ব্যক্তি; যা বলার তা প্রধানমন্ত্রীকেই বলতে হবে। অন্যদেরকে বলেতো লাভ নেই, বিশেষ করে আপনাকেই বিরোধী হিসেবে নয় একজন সুহৃদ হিসেবেই বলছি প্রধানমন্ত্রী। এতে আপনার কোনো দোষ নেই, আপনিইবা একা কতদিক সামলাবেন।

এবার মূল বক্তব্যে আসি। মে মাসের মধ্যভাগ থেকে ছুটিতে প্রায় ১৬ দিনের মতো আমার কর্মস্থলের বাইরে ছিলাম। প্রথমেই আমি এই সময়ে অর্জিত কয়েকটি তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা বলবো। প্রথমে বললো ট্রেন যাত্রার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা। মে মাসের প্রচন্ড গরমে একটু আরাম করে পরিবার নিয়ে ভ্রমনে যাব বলে ১০দিন আগেই পাহাড়িকার এসি কম্পার্টন্টে ‘স্নিগ্ধায়’ টিকেট করেছি। ১৬ মে শ্রীমংগল থেকে প্রায় সঠিক সময়েই ট্রেন ছাড়লো চিটাগাং এর উদ্ধেশ্যে। কিন্তু ভেতরে ঢুকেই বুঝতে পারি এসি কম্পার্টমেন্টে টিকেট কেটে কি ভুলই না করেছি। প্রচন্ড গরমে সব যাত্রিই ঘামছে। মহিলারা ফেরীওয়ালাদের কাছ থেকে হাত পাখা কিনে বাতাস করছে। কিছুক্ষণ পরপরই যাত্রিরা তেড়ে যাচ্ছে সেই কোচের এটেনডেন্টের ওপর। অসহায় বেচারা যাত্রিদের বুঝ দেয়ার জন্য কিছুক্ষণ পর পরই এসির ডিজিটাল বোর্ড নাড়াচাড়া করছে। পুরো কাচে জানালা সিল করা থাকায় বাতাস চলাচল বন্ধ, শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মরার জোগার। এরই মধ্যে ফেরীওয়ালাদের বাড়তি উপদ্রব। চাটনি-চানাচুর-আনারস-শশা থেকে শুরু করে ইসলামী বই, আম-লিচুজ্যুস-চা, ভিক্ষুক থেকে শুরু করে হিজরা কি নেই সেই কোচে। এ ছাড়াও একটু ঠান্ডার পরশ পাবার আসায় বিভিন্ন কোচ থেকে এসি কোচের করিডোর দিয়ে লোক আসা যাওয়ার উছিলায় কাধের ওপর এসে পড়ছে ভাসমান বা স্টেন্ডিং টিকেটের যাত্রিরা। কেউ কেউ আবার বিনা টিকিটের যাত্রিও। আমাদের চোখের সামনেই টিসি ও এটেন্ডডেন্টদের দু-পাইস কামানোর বাণিজ্য ভালই চলছে। কেউ বলছে এসি মেরামতের কাজ চলছে একটু পরেই সব ঠিক হয়ে যাবে। এই অপেক্ষাতে সব কিছু সহ্য করতে হয়। কিন্তু কুমিল্লা এসেও দেখি তথৈবচঃ কার এসি কে মেরামত করে। এভাবেই অনেক কষ্ট, অনেক যাতনা ও বিরম্বনা সহ্য করে সময় মতোই চিটাগাং পৌঁছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলি। ফিরতে পথে ২৫ মে এসে শুনি এসি কোচটি বন্ধ দেয়া হয়েছে। অগত্যা সাধারণ কোচেই উদয়ন এক্সপ্রেসে রাতের যাত্রা। সে সে রাতের যাত্রাপথের বিরম্বনা যে আরো কতটা ভয়াবহ ছিল তা বর্ণনা করতে গেলে লেখার পরিধি বাড়বে আর পাঠকের বিরক্তি বাড়বে এই বিবেচনায় পুরো বর্ণনায় গেলাম না। বর্ণনার সংক্ষিপ্তসার এইটুকু- কোনো ভদ্রঘরের মানুষের সিলেট-চট্টগ্রাম রেলপথে ভ্রমণ না করাই শ্রেয়। এ বিষয়ে সরকার বাহাদুরের কাছে প্রশ্ন রেলমন্ত্রনালয় নামে আলাদা মন্ত্রনালয় সৃষ্টি, সে মন্ত্রনালয়ে একজন পূর্ণ রেলমন্ত্রী থাকার পরও এখন রেলের এ দুরাবস্থা কেন। ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ ছাড়া সারাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা রেল নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত নেই। স্বল্পখরচ, নিরাপদ ও আয়েশের ভ্রমন হিসেবে এখনো মধ্যবিত্ত মানুষ যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলকেই পছন্দ করে। কিন্তু একবার ট্রেনে ওঠে দুঃসহ বিরম্বনার শিকার হলে মানুষ কেন ট্রেনে ভ্রমন করবে। এখানে একটি কথা না বললেই নয়, এক্ষেত্রে সব চেয়ে অবহেলার শিকার সিলেট-চট্টগ্রাম রেল পথ। এই পথে একদিনে মাত্র দুইটি গাড়ি চলাচল করে। এর একটি পাহাড়িকা দিনে এবং উদয়ন রাতে অপ ডাউন চলাচল করে। এ লক্কর-ঝক্কর মার্কা দুইটি ট্রেনেই যাত্রিসাধারণের প্রয়োজনী সূযোগ সুবিধা নেই বললেই চলে। তার ওপর ধারন ক্ষমতার কয়েকগুণ বেশি স্টেন্ডিং যাত্রি; সেই সাথে মরার ওপর খাড়ার ঘা-এর মতো ভিক্ষক, হিজরা, ভবঘুরে, চোর-চেচর ও ফেরিওয়ালাদের উপদ্রব যাত্রিসেবার মানকে তলানীতে নিয়ে ঠেকিয়েছে। বিপুলসংখ্যক যাত্রী সাধারণ পরিবহনে এই পথে রেলকে লাভজনক করার অনেক অনেক সুযোগ থাকলেও কেন তা অবহেলার শিকার তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি।

এইতো গেল একটি বিরম্বনার কথা। এখন আসি বিদ্যুতের বেহাল দশার কথায়। সরকার বাহাদুরের মন্ত্রীরা প্রায়ই বিদ্যুত উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্যের কথা প্রচার করছেন। কিন্তু প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের কথা বলা হলেও বিদ্যুত নিয়ে মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। ১৮ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত আমরা পর্যটন শহর কক্সবাজার ছিলাম। সেখানে বিদ্যুতের বেলাহ দশা, ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের সরকারের সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। যে কয়দিন কক্সবাজার ছিলাম, সেই কয়দিনই দিনে-রাতে কয়েকবার ঘন্টার পর ঘন্টা লোডসেডিং করা হয়েছে। এতে পর্যটকরা যেমন সরকারের ওপর ত্যক্ত-বিরক্ত তেমন ব্যবসায়ী, দেশি-বিদেশি পর্যটক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ হয়েছে চরম নাখোশ। একটা পর্যটন শহরের যখন এ অবস্থা তখন গ্রাম-গঞ্জের বিদ্যুত পরিস্থিতি কেমন তা সহজেই অনুমেয়। আর আমার কর্মস্থল মৌলভীবাজার সরকারের সমাজকল্যাণমন্ত্রী নিজ শহর হলেও এখানে বিদ্যুত সরবরাহ পরিস্থিতি আরো খারাপ। এখানে যা হচ্ছে তাকে কিছুতেই লোডসেডিং বলা যায়না। বলা নেই কওয়া নেই যখন-তখন চলে বিদ্যুতের আসা যাওয়ার লুকোচুরি খেলা। কখনও কখনও কিছুক্ষণ পরপরই বিদ্যুত চলে যায় আবার দু’এক মিনিটের মধ্যেই ফিরে আসে। এটাকেতো কিছুতেই লোডসেডিং বলা যায় না। এতে একদিকে মানুষ যেমন সরকারের ওপর চরম ক্ষুব্দ, অন্যদিকে টিভি, ফ্রিজসহ ইলেকট্টনিক্স সামগ্রী বিকল হয়ে যাচ্ছে। আর একটুখানী জোরে বাতাস দিলেই বন্ধ হয়ে যায় বিদ্যুত সরবরাহ, তখন অপেক্ষার পালা কখন আসবে বিদ্যুত। বিদ্যুত সরবরাহ পুনঃস্থাপিত হতে কখনো কখনো এক দিনের বেশি সময় লেগে যায়। তাই সরকার বাহদুরের কাছে প্রশ্ন এই যে ১২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত উৎপাদনের কথা বলা হয় সেই বিদ্যুৎ গেল কই? নাকি সর্ষের মধ্যে ভূত লুকিয়ে আছে? যে ভূত সরকারের অর্জনকে ম্লান করে দেয়ার জন্যে সাবোটাজ করছে।

এরপর যে বিষয়টির কারণে সরকার এখন বেশি সমালোচিত তা হচ্ছে আইন-শৃংখলার চরম অবনতি। কে কখন অপহরণ বা গুপ্তহত্যার শিকার হবে তার বিশ্বাস নেই। আইন-শৃংখলা অবনমিত পরিস্থিতি নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিনতিপাত করছে দেশের মানুষ। কেন হঠাৎ করে দেশে আইন-শৃংখলার এমন অবনতি ঘটলো তার কোনো কূলকিনারা করতে পারছে না, আইন-শৃংখলা বাহিনী তথা সরকার। আর দেশের মানুষের বহুল প্রতিক্ষিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার কি কারণে ঝুলে আছে তাও কেউ জানেনা। তাই স্বাভাবিকভাবেই দেশে চলমান যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়ার বিলম্ব নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া তরান্বিত করতে আন্তরিক নয়। আবার অনেকে আগবাড়িয়ে এমন কথাও বলছেন, সরকার হয়তো জামায়াতের সাথে হেফাজত ইসলামের মতো গোপন কোন সমঝোতা করছে, যার কারেণে ইতি মধ্যে দুই জনের চুড়ান্ত রায় এবং আরো দুইজনের বিচারিক কাজ শেষ হলেও রায় ঘোষণা না করে কালক্ষেপনের আশ্রয় নিয়েছে।

এ এসব বিষয়ে আওয়ামী লীগ তথা বর্তমান শেখ হাসিনার প্রতি দুর্বল লেখক ও কলামিস্টরাও তাদের লেখা কলামে আক্ষেপ ও বিরক্তির কথা বলে লিখে যাচ্ছেন কিন্তু কে শোনে কার কথা। প্রখ্যাত সাংবাদিক-কলামিস্ট ও আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রয়ারি অমর সঙ্গিতের রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী, ৪ জুন ২০১৪ দৈনিক জনকন্ঠে `আওয়ামী লীগকে পরামর্শ দিয়ে লাভ কী?’ শিরোনামে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলেছেন,‘…আমার ধারণা, একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও দন্ড দানের ব্যাপারে শেখ হাসিনা আগ্রহী ও আন্তরিক। কিন্তু তিনি যে সরকারে নেতৃত্বে রয়েছেন, সেই সরকার আন্তরিক নয়। এই সরকারে কিছু মন্ত্রী ও উপদেষ্টা আছেন, যাঁরা সামনে দেখান, তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর জি হুজুরের দলে। কিন্তু তলে তলে প্যাঁচ কষেন। এস্টাবলিশমেন্টের একটি অত্যন্ত প্রতিক্রিয়াশীল অংশের সঙ্গে এদের যোগাযোগ এবং তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলেছেন। এ ছাড়া এঁদের পেছনে শক্তিশালী আন্তর্জাতিক চক্রীরা তো রয়েছেই।… আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের রেকর্ড অসাধারণ। কিন্তু উন্নয়ন দেখিয়ে জনসমর্থন ধরে রাখা যাচ্ছে না। কারণ, দেশে আইনের শাসন নেই। দেশের মানুষের মনে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ নেই। গুম-খুন-অপহরণ নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধীরা ধরা পড়ছে না অথবা তাদের ধরা হচ্ছে না। অনেক খুন-অপহরণ ক্ষমতাসীন দলে লুটেরা রাজনীতির অন্তর্দ্বন্দ্বের ফলও। প্রধানমন্ত্রী কঠোর হতে পারছেন না ‘

এই মধ্যে হবিগঞ্জ জেলা চুনারুঘাট উপজেলার ভারতের সীমার্ন্তবর্তী অরণ্যে বিপুল পরিমানে অর্থাৎ একটি মাঝারীমাত্রার যুদ্ধ পরিচালনার জন্যে যে সব জীবন ও প্রাণঘাটি সর্বোপরি বড় বড় স্থাপনা ধ্বংস করে দেয়ার মতো বিধ্বংসী অস্ত্র-ও গোলাবারুদ উদ্ধার আতঙ্কিত মানুষকে আরো ভাবিয়ে তুলেছে। প্রশাসন ও গোয়েন্দাদের নাকের ডগায় কারা কোন উদ্দেশ্যে এত বিপুল অস্ত্র-শস্ত্রের মজুদ গড়ে তুলতো তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি লেখক কলামিস্ট মাসুদা ভাট্টি সম্প্রতি একটি প্রচারবহুল পত্রিকায় এক নিবন্ধে বলেছেন,‘…‘কিন্তু দেশের মানুষের সামনে আওয়ামী লীগ কি প্রমাণ করতে পারছে যে, তাদের হাতে দেশের মানুষ নিরাপদ? কিংবা তারা এখনও জনগণের রাজনীতিই করছে? …জনসাধারণই আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। …দলের কিছু দুষ্কৃতিকারী নেতার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের অস্তিত্ব নিয়ে টান পড়েছে। গণমাধ্যম সোচ্চার হয়েছে, সত্য-মিথ্যে মিলিয়ে দেশের মানুষের সামনে আওয়ামী লীগকে সত্যিকার অর্থেই ‘পচানোর’ চেষ্টা করেছে।’

এসবের পরও আমরা বিশ্বাস করি ও জানি সরকারের অনেক অনেক সাফল্য আছে। এর মধ্যে বিশ্বে ধনী দেশগুলোও যেখানে এখনো পরপর দুইটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্ধা কাটিয়ে ওঠতে পারেনি, সেখানে বাংলাদেশ দুই দুইটি মন্দা মোকাবেলা করে চরম রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, নাশকতা, একটি গোষ্ঠীর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চক্রান্তের পরও সদ্য সমাপ্ত হতে যাওয়া অর্থবছরে ৬.১ প্রবৃদ্ধি অজূন করেছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে প্রায় ১ হাজার দুইশত মার্কিন ডলার। মানুষের জীবনযাত্রা মানে অগ্রগতি হয়েছে ঈর্শ্বনীয়। এই সরকারের আমলেই প্রায় সাড়ে ৮ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুত জাতীয় গ্রীডে যোগ হয়েছে। গ্যাস উৎপাদনও বেড়ে অনেক। যোগাযোগ ব্যবস্থায় অগ্রগতি চোখে পরার মতো। বড় বড় অবকাঠামোতে অগ্রগতি হয়েছে অনেক। আগের সরকারের চেয়ে জনশক্তি রপ্তানী হয়ে দ্বিগুণেরও বেশী। রপ্তানী বাণিজ্যের ব্যারোমিটারও অনেক উর্ধগতি। আগামী অর্থ বছরে নিজেদের অর্থায়নে পদ্মাসেতুর মতো মেগাপ্রকল্প বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। ২০১৪-১৫ অর্থ বছরে ২ লক্ষ ৫০ হাজার ৫০৬ কোটি টাকার মেগাবাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপিত হয়ে। বৈদেশিক রেমিটেন্স প্রবাহ দ্রুত গতি ফিরিয়ে এনেছে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করতে দৃশ্যমান ব্যাপক কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি নেয়া হয়ে অনেক বাস্তবমুখী পদক্ষেপ। সরকারের এত সাফল্যের পরও মানুষ কেন হতাশ তা সরকারকে ভেবে দেখতে হবে। সাধারণ মানুষ অর্থনীতির অগ্রগতির জটিল বিষয় প্রবৃদ্ধি, রপ্তানী, বিশাল আকারের বাজেট অর্থনীতির অগ্রগতির সূচক এসবে কিছুই বুঝে না। তারা চায় দৃশ্যমান অগ্রগতি। অমিমাংশিত নানা ইস্যুর দ্রুত মিমাংশা। সরকারকে জনগণের নাড়ির স্পন্দন বোঝতে হবে। তা না হলে অতি সম্প্রতি ভারতের নির্বাচনের ফলাফল যে বার্তা দিল তা এদেশে ঘটলে অাশ্চার্য হওয়ার কিছু থাকবে না।