ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

 

৪ বছর পর আবার এলো বিশ্বকাপ ফুটবল। এই খেলাকে কেন্দ্র করে আনন্দের শেষ নেই বাংলাদেশেও। আর মাত্র তিন দিন বাকী বিশ্বাকাপ ফুটবল আসরের। আগামি ১২ জুন শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বাকাপ ফুটবল আসর। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে কাপঁতে শুরু করেছে। সেই সাথে শুরু হয়েছে ব্রাজিল না আর্জেন্টিনা তর্ক-বিতর্ক। ফুটবল বিশ্বকাপ এমন এক বিশ্ব আসর, যা যে ঋতুতেই হোকনা কেন, বিশ্বে উত্তাপ ছড়াবেই। তাই বিশ্বকাপ আসরকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের মানুষও নিচ্ছেন নানান প্রস্তুতি নানা আয়োজনে আসরের প্রায় প্রতিটি খেলাকেই সবাই উপভোগ করতে চায়।

এই আসরের বাংলাদেশের বড় প্রাপ্তি ব্রাজিলের জার্সিতে মেডইন বাংলাদেশ লিখে বিশ্ব আসরে মাঠে থাকবে দলটি। তাই এ নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই। রানা প্লাজার ধ্বসে নিহত ও আহত কর্মী এবং বাংলাদেশের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোয় ব্রাজিলের দর্শক প্রিয়তাও বাড়বে মনে করেন অনেকেই। বাংলাদেশে দুইটি দলের সমর্থন বেশি সে দল দুটি হলো ব্রাজিল ও আজেন্টিনা। তবে ইতিমধ্যে যেটা স্পষ্ট হচ্ছে তা হলো গতবারের চেয়ে ব্রাজিল ও আজেন্টিনার এই দুটি বড়দলের সমর্থকদের ভিড়ে অনেকেই এবার ভিন্ন দলের সমর্থকে পরিনত হয়েছে।

আগেই বলেছি, বিশ্বের তাবৎ ফুটবলপ্রেমিদের মতো বাংলাদেশের ফুলবল প্রেমিরাও আসন্ন ‘ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল’ জ্বরে ভোগছে। আর এরই মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমিরা বিভক্ত হয়ে গেছে বিভিন্ন দেশের ফুটবল দলের সমর্থক হিসেবে। বাড়িতে বাড়িতে উড়ছে আর্জেটিনা, ব্রাজিল, জার্মানী, ফ্রান্স বা অন্য কোন দেশের পতাকা। এ নিয়ে যথেষ্ট সমালোচনা হলেও কে শুনছে কার কথা। ফুটবল উত্তেজনায় কাঁপা দোষের নয় বরং খেলার প্রতি টান থাকাই উচিত । তাই বলে নিজের দেশের পতাকাকে অবমাননা করে অন্যকোন দেশের পতাকাকে আকাশচুম্বীভাবে উড়ানো কোনো দেশপ্রেমিকদের কাজ হতে পারে না । দেশের পতাকাকে সর্বোচ্চ স্থানে রেখে তার নিচে অন্য কোন দেশ কিংবা সংস্থার পতাকা উত্তোলনে দোষের নয়; তবে নিজ দেশের পতাকার চেয়ে অন্য দেশের পতাকার বৃহদাকৃতি কিংবা নিজ দেশের পতাকার উপরে অন্য দেশের পতাকা উড়ানো অবশ্যই অবমাননাকর। শুধু নিজ বাড়ির ছাদ বা আঙ্গিনায়ই পতাকা উড়ানো শেষ কথা নয় ফেইসবুকে ইতোমধ্যে কেউ কেউ তাদের প্রোফাইল পিকচার বা কভার ফটোতে নিজেদের প্রিয় দলের পতাকা জুড়ে দিয়েছে। আমি সবার এ আবেগের জায়গাটাকে সন্মান করি। তবে কোনো কিছুতেই অতি উচ্ছ্বাস ভাল নয়।

তবে এখানে একটি কথা না বললেই নয়, আর সে কথাটা হলো ইতিমধ্যে এই ফুলবল উন্মাদনায় প্রিয় দলের পতাকা টানাতে গিয়ে বিদ্যুৎপিষ্ট হয়ে দু’জন বাংলাদেশী তরুণ সমর্থক প্রাণ হারিয়েছে যা আমাদেরকে যুগপৎভাবে আহত ও ব্যথিত করেছে। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে অনেক। কেউবা প্রিয় দলের পরাজয়ে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা গেছে অথবা কেউ প্রিয় দলের হারে আত্মহত্যা করেছে; যা অতি উচ্ছ্বাস বা আবেগেরই বহিঃপ্রকাশ। খেলাকে খেলা হিসেবেই নিতে হবে। জীবনের চেয়ে খেলা কিছুতেই মূল্যবান হ’তে পারে না। জীবন চলে গেলে সব খেলাই বন্ধ হয়ে যায়। এটাই হলো আসল কথা।

আসুন, সবাই খেলাকে খেলা হিসেবেই দেখি। আমাদের প্রত্যেককে একটি কথা স্মরণ রাখতে হবে খেলার জন্য যেন আমাদের আবেগ ও উচ্ছ্বাসের মাত্রা কখনো ছাড়িয়ে না যায়। আর যেন কোন জীবনহানী না ঘটে। ঝগড়া-বিবাদ করে অযথাই সময় নষ্ট না করি।