ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

মাহবুবুল আলম ।।

 

২৫ জুন ২০১৪ বুধবার রাতে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের মোদি সরকারের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে প্রথম বিদেশ সফরে ঢাকা এসেছিলেন ভারতের  পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। গতমাসে ভারতের লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভার প্রথম কোন সদস্য ঢাকা সফরে এলেন। যদিও নির্বাচনী প্রচারে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করায় বাংলাদেশে মোদি ও বিজেপি সন্মদ্ধে জনগণের মধ্যে বিরূপ মনোভাবে সৃষ্টি হয়েছিল। এ নিয়ে তখন অনেক সমালোচনাও হয়েছিল। সেহেতু নরেন্দ্র মোদি ক্ষমতায় আসার পরও বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার সম্পর্কের ভবিষ্যত নিয়ে কিছুটা সংশয় দেখা দিয়েছিল। কিন্তু মোদি সরকারের বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের এ সফরের মাধ্যমে প্রমানিত হলো যে মোদির সেই বক্তব্য ছিল নির্বাচনী মাঠের কৌশলী মন্তব্য। তবে তা যাই হোক ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন হলো বলে দু-দেশের কুটনীতিকরাই মনে করছেন। এ সফরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আগামী দিনের সম্পর্কের নতুন ভিত্তি গড়ে ওঠার ইঙ্গিত বহন করে।

 

ভারত শুধু আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রই নয় গুরুত্বপূর্ণ বন্ধু রাষ্ট্র ও। বন্ধু রাষ্ট্র বলাটাও কম হবে। ভারত বাংলাদেশের নিকট প্রতিবেশী ও বন্ধুপ্রতীম দেশ। শুধু তাই নয় এ দেশটির সাথে আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সার্বিক সহযোগিতা না পেলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতে পারতো কিনা তা নিয়ে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। ভারত আমাদের অর্থ দিয়ে অস্ত্র গোলাবারুদ সরবরাহ করে, সর্বোপরি প্রায় কোটি বাংলাদেশী শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে আমাদেরকে চির কৃতজ্ঞতার পাশে আবদ্ধ করে রেখেছে। যদিও ভারতের সাথে বাংলাদেশে বাণিজ্য ঘাটতি গঙ্গার পানির নায্য হিস্যা, সীমান্ত বিরোধ, সিটমহল করিডোরসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কিছু টানাপোড়েন আছে তবু বিশ্বের বৃহত জনশক্তির দেশ যার সীমান্ত বাংলাদেশকে দক্ষিণ দিক অর্থাৎ বঙ্গোপসাগর ছাড়া তিন দিক থেকে ঘিরে রেখেছে সে হিসেবে তাদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে চলতে পারলে আমাদের লাভ ছাড়া ক্ষতি হবার কথা নয়। তবু পাকিস্তানের জন্মলগ্ন ৪৭’ সাল থেকে শুরু করে স্বাধীন বাংলাদেশেও ভারতবিরোধী বড় একটি জনগোষ্ঠী গড়ে ওঠেছে। তারপর দেশের অধিকাংশ মানুষ ভারতের সাথে সু-সম্পর্কের বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দিয়ে থাকে।  সুতরাং সুষমা স্বরাজের এ সফর দুই বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক উন্নয়নে বড় অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। সেদিক থেকেও এ সফর খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।

 

আমাদের প্রধানমন্ত্রীশেখ হাসিনার সাথে বৈঠককালে প্রথমেই সুষমা স্বরাজ তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি সই ও স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছেন। একই সঙ্গে সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর তরফ হতে প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান এবং প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদির পত্র হস্তান্তর করেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকেও বাংলাদেশে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানান। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, নারী ক্ষমতায়ন, দারিদ্র্য বিমোচন ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব সাফল্যের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনন্য অবদান উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, দু’দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক সামনের দিনগুলোতে নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে। বৈঠককালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্ব সময়োত্তীর্ণ বলেও মন্তব্য করেন। বাংলাদেশে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ভারত সর্বদা পাশে থাকবে বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান। এ সম্পর্ক আরও জোরালো হবে। দুই দেশের মধ্যে যেসব বাধা বিপত্তি তা দূর করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাব আমরা । খোলা মন নিয়ে বাংলাদেশে এসেছি। কোন ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ-ভারত খুবই মজবুত সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, আশা করছি ভবিষ্যতেও তা অটুট থাকবে। আমাদের এ সম্পর্ক রক্তের বন্ধনে আবদ্ধ।

 

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অংশীদারিত্বের সর্ম্পক আরও জোরালো হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরের মধ্য দিয়ে ভারতের নতুন সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের উত্তম সূচনা হলো বলেও জানিয়েছেন তাঁরা। সুষমার ঢাকা সফরকে অত্যন্ত সফল ও পরিপূর্ণ হিসেবে দেখছে ভারত। এ সফরের মধ্যে দুই দেশের সহযোগিতার ভিত আরও মজবুত হবে বলেও আশা করছে দেশটি। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা ত্যাগের আগে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সৈয়দ আকবর উদ্দিন এমনই অভিমত প্রকাশ করেছেন।

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে বৈঠকে সুষমা স্বরাজ আরো বলেন বলেন,‘ বাংলাদেশের সঙ্গে চলমান ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়নমূলক সম্পর্ক গড়তে আশাবাদী ভারত। এক্ষেত্রে দু’দেশের পারস্পরিক সমস্যাগুলো আলোচনার মাধ্যমে মিটিয়ে ফেলতেও আগ্রহী নয়াদিল্লী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে স্বাক্ষাতকালে ভারতের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ তাঁর সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। সীমান্তে সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গীবাদের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স দেখানো হবে। সন্ত্রাসী ও জঙ্গীদের জন্য বাংলাদেশের মাটি নয়। নূর হোসেনসহ বাংলাদেশের যেসব অপরাধী ভারতে লুকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী তাদের ফেরত দিতে বলেছেন বলেও জানান তাঁর প্রেস সচিব। তিনি বলেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি, তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি ও সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকা- দ্রুত সমাধান করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। ওদিকে সুষমা বলেছেন, স্থল সীমান্ত বিল পার্লামেন্টে আছে এবং এটা প্রক্রিয়াধীন। অপরদিকে বাংলাদেশের পক্ষা থেকে স্থল সীমান্ত চুক্তি, তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তি ও সীমান্তের বিএসএফের হত্যার বিষয়গুলো দ্রুত সমাধান করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। এ প্রসংগে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজও আমরা বাংলাদেশের সঙ্গে খুব ইতিবাচক এবং ক্রমশ উন্নয়নশীল সম্পর্ক দেখতে চাই। আন্তরিক আলোচনার মাধ্যমে আমরা পারস্পরিক সব বিষয়ের সমাধান করতে চাই। দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্কের ব্যাপারে ভারতের অবস্থান সব সময় একই থাকবে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগরতলায় চাল পরিবহনের জন্য রোড কন্ডিশন ভাল করা দরকার বলে অভিমত ব্যক্ত করে। এ ব্যাপারে ভারতের সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেছেন, আগরতলার সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে সেখানকার মানুষ আমাদের সহায়তা করেছে। সেজন্য সেখানে চাল পাঠানোর ব্যাপারে বাংলাদেশ যা যা করার করবে। প্রধানমন্ত্রী, মৈত্রী ট্রেনের বগি বাড়ানো, বাস সার্ভিস বাড়ানোর কথা বলেছেন। আমাদের নিউক্লিয়ার প্রকল্পে ট্রেনিংয়ের জন্য ভারতের ভাবাতে ট্রেনিং সুবিধা দেয়ার কথা বলেছেন। অসম-নাগাল্যান্ডের রিফাইনারি থেকে পার্বতীপুরে পাইপলাইন দিয়ে তেল আনার জন্য বলেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত-চীন-মিয়ানমারের জোট বিসিআইএম নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত-ভুটানের ত্রিপক্ষীয় জলবিদ্যুত উৎপাদন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

 

দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের বৈঠকে ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা নদীর অববাহিকায় পানির ন্যায্য হিস্যা প্রতিষ্ঠায় অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাংলাদেশের পক্ষ হতে গুরুত্বারোপ করা হয়। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি দ্রুত সম্পাদনের বিষয়টি উত্থাপন করার প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন যে, এ বিষয়ে অভ্যন্তরীণ ঐকমত্য গঠনের জন্য প্রচেষ্টা চলছে। তিনি তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের পক্ষ হতে স্থল সীমা চুক্তি ১৯৭৪ এবং ২০১১-এর প্রটোকলটি অনুসমর্থনের জন্য ভারতীয় পক্ষকে পুনরায় অনুরোধ জানানো হয়। জবাবে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এটি সম্পাদনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদপত্র ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ-প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে বৈঠকে যেসব বিষয়ে দুই দেশ পক্ষ সম্মত হয়েছে এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে ৬৫ বছরের অধিক বয়সের এবং ১৩ বছরের কম বয়সীদের ৫ বছরের মাল্টিপল ট্যুরিস্ট ভিসা সুবিধা প্রদান। আগরতলায় বাংলাদেশ ভিসা অফিসকে সহকারী হাইকমিশনে উন্নীতকরণ। গুয়াহাটি-ঢাকা বাস সার্ভিস পরীক্ষামূলকভাবে চালু। মৈত্রী এক্সপ্রেসের ফ্রিকোয়েন্সি ও যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি। ত্রিপুরার পালাটানা হতে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত আমদানি। মেঘালয় সীমান্তে নতুন চারটি বর্ডার হাট স্থাপন। দু’দেশের সুবিধাজনক সময়ে যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রিপর্যায়ের সভা অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দু’পক্ষ সম্মত হয়। দু’দেশের সুবিধাজনক সময়ে যৌথ পরামর্শক কমিশনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের সভায় যোগদানের জন্য ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান এবং এটি শীঘ্রই অনুষ্ঠানের ব্যাপারে দু’পক্ষ সম্মত হয়। দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে যে বিষয়গুলো আলোচিত হয় তার মধ্যে রয়েছে।

 

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সুষ্ঠু পরিচালনার বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনার ব্যাপারে আবারও ভারত সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করা হয়। সীমান্তে অপরাধমূলক কার্যক্রম নির্মূলে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে ডিসি-ডিএম পর্যায়ের বৈঠক নিয়মিত অনুষ্ঠানের বিষয়ে উভয়পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এছাড়াও বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে আঞ্চলিক যোগাযোগের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে সার্ক, বিমসটেক ও বিসিআইএমের কার্যক্রমে দু’দেশ একত্রে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছে। ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিসিআইএমের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরে এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে একত্রে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। উপআঞ্চলিক সহযোগিতার আওতায় পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুত-জলবিদ্যুত ক্ষেত্রে সহযোগিতা ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় যোগাযোগের ব্যাপারে পরবর্তী যৌথসভায় অংশগ্রহণে বাংলাদেশ সম্মত হয়। জনসংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা-গুয়াহাটি এবং ঢাকা-শিলং বাস সার্ভিস দ্রুত চালুর বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয় ।
এ সফরকালে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মানীয় স্পীকার ড. শিরিণ শারমিন চৌধুরী, বিরোধী দলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ এর সাথে বৈঠকে মিলিত হয়ে দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন। বিরোধী দলী নেত্রীর সাথে বৈঠককালে দুই দেশের অমিমাংশিত বিষয়গুলো দ্রুত মিমাংসার ওপর অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। রওশন এরশাদ বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে বেশ ইতিবাচক ছিলেন বলে জানা গেছে। অপর দিকে ২৬ জুন ২০১৪ হোটেল সোনারগাঁওয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনাকালে দেশে কোন গণতন্ত্র নেই বলে নালিশ করেছেন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া । তিনি বলেন ‘বর্তমান সরকার বাংলাদেশের জনগণের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব করে না। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ ভারত। পার্শ্ববর্তী দেশে গণতন্ত্র অনুপস্থিত থাকলে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। গণতন্ত্র ব্যতিরেকে উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে বৈঠককালে বিএনপির পক্ষ থেকে আর কি কি অভিযোগ করা হয়েছে তা সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমতি না থাকার কারণে জানা যায়নি। তবে যতটুকু জানা গেছে বিএনপি নেত্রীর এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুষমা স্বরাজ বলেছেন ‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তাদের আগ্রহ নেই। বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ যে সমস্যা রয়েছে তার সমাধান এখানকার জনগণকেই করতে হবে। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে যে ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে, সে সম্পর্ককে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায় ভারত। বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে ভারতের নতুন সরকার কাজ করে যাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

 

পরিশেষে এই বলেই শেষ করবো, যারা ভেবেছিল মোদি সরকার ক্ষমতায় এলে বর্তমান সরকারের ওপর থেকে কংগ্রেস সরকারের দেয়া সমর্থন প্রত্যাহার করে তাদের পক্ষে কাজ করবে তাদের সে ভাবনাটা যে অমূলক ছিল তা সুষমা স্বরাজের সফরের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো। পরবর্তীতে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীদের উভয় দেশে সফরের মাধ্যমে যে আরো সুদৃঢ় হবে তা পরিস্কার হলো। মোদি নির্বাচনের আগে যা ই বলেছেন, নির্বাচনের পরে যে তিনি বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের প্রধানমন্ত্রীর মতোই নিজকে তুলে ধরতে সম্মত হয়েছেন তা তিনি তার বর্তমান বিদেশনীতির ক্ষেত্রে অনেকাংশেই প্রতিফলিত করছেন। বাংলাদেশের মানুষ চায় ভারতের সাথে সু-সম্পর্ক। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সেসব সমস্যা রয়েছে তা দ্রুত নিরসনের ব্যবস্থা নিলে দুই বন্ধুপ্রতীম প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সুসম্পর্কের ভিত যে আরো মজবুত হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।