ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

 

মাহবুবুল আলম।।

ইফতার রাজনীতির সুযোগে বিএনপি প্রধান বেগম খালেদা জিয়া ঈদের পর সরকার পতনের কঠোর আন্দোলন শুরু করবেন বলে ঘোষণা দিয়েই চলেছেন। এ জন্য তিনি তার নিজ দল বিএনপিসহ জোটভুক্ত অন্যন্য দলের নেতাকর্মীদেরও রণডঙ্কা বাজিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে নেমে পড়ার প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে চলেছেন। বাংলাদেশ আন্দোলনের দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করলেও কোনো রাজনৈতিক দলই পবিত্র রমজান মাসে আন্দোলনের কোন কর্মসূচি দেয়না। এটা অনেক দিনেরই বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি। আওয়ামী লীগ বিএনপির মধ্যে সব বিষয়ে চিরবৈরিতা থাকলেও এ বিষয়ে দুই দলই রাজনৈতিক এ সংস্কৃতি মেনে চলছেন দীর্ঘ দিন থেকে। তবে রোজার মাসে যে রাজনীতি একবারে বন্ধ থাকে তা কিন্তু নয়। এ সময়ে ইফতার মাহফিল নয় ইফতার পার্টির নামে নামে দেদারছে চলে রাজনীতি। আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল রমজান মাসে মাঝে মধ্যে ঈফতার মাহফিলের আয়োজন করে পবিত্র সিয়াম সাধনার রমজান মাস এর তৎপর্য তুলে ধরে তারাও যে ধর্মের প্রকৃত অনুসারি তা প্রমাণের চেষ্টা করতো। কিন্তু হাল আমলে, ইফতার মাহফিলের ধরনটাই আমূল বদলে দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। এখন অনেক দলই ইফতার মাহফিলের পরিবর্তে করছেন ইফতার পার্টি। এসব ইফতার পার্টিতে পবিত্র রমজানের তাৎপর্য বয়ানের পরিবর্তে প্রতিপক্ষের গিবদ-কুৎসা প্রচারের অনুষ্ঠানে পরিনত হয়েছে; এই বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে সিভিল সোসাইটি এবং সাধারণ মানুষও সমালোচনায় মুখর হয়েছে। তাদের কথা রমজান মাস হলো বিশ্বের মুসলমানদের জন্য আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস। সুতরাং এ মাস যদি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তা না হয়ে গিবদ প্রচারের মাসে পরিনত হয় তখন তাদের ধর্মবিশ্বাস নিয়ে প্রশ্ন করাই যেতে পারে। এ নিয়ে দেশের মানুষ কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের ওপর ত্যাক্ত-বিরক্ত।

তবে এবারের ইফতার রাজনীতির পুরো সংজ্ঞাটাই পাল্টে দিয়েছে বিএনপি ও জামায়াত। এবারের রমজানে বিএনপি ইফতার পার্টির নামে একেবারে ইফতার মোচ্ছব শুরু করে দিয়েছে। রমজান মাস জুড়ে বিএনপি এককভাবে ৬০০০ ইফতার পার্টি দেওয়ার টার্গেট নিয়ে এগুচ্ছে। এটা কোন কথার কথা নয়। বিএনপির প্রথম সারির নেতারাও কোন রাখডাক না করে সরাসরি এ কথা স্বীকার করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচারও করছেন। এ বিষয়টি প্রথমই মিডিয়ার সামনে খোলসা করেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া। উদ্দেশ্য হচ্ছে ৫ জানুয়ারি নির্বাচন প্রতিহত না করতে পারা কর্মীদের হতাশা কাটানো, মনোবল চাঙ্গা করা, ঈদের পর আবার মাঠে নামানোর মন্ত্রে উজ্জীবিত করা। কিন্তু প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক ইফতার পাটি কোথায় কিভাবে আয়োজন করবে তা কিন্তু ব্যারিস্টার রফিক স্পষ্ট করে কিছুই বলেনি। এই বিশাল আয়োজনে যে প্রায় অর্ধশতকোটি টাকার মহোৎসব হবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর টাকার কথা? এটাও তাদের কাছে তো জিয়ার সেই বিখ্যাত থিউরী ‘মানি ইজ নো প্রোবলেম’।

বিএনপির ৬ হাজার ইফতার পার্টিকে মহোৎসব বললে বিএনপির দোসর আর যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামায়াতে ইসলামের ‘দেড় লাখ’ ইফতার পার্টি দেয়ার উৎসবকে কি উৎসব হিসেবে অবহিত করা যায় ডিকসনারী গেটে তেমন কোন শব্দ পাওয়া যায়নি। তারা এবার বিএনপিকে টেক্কা দিয়ে এত বিপুলসংখ্যক ইফতার পার্টির আয়োজন করছে এ খবরও আমরা পত্রিকার খবরেই জানতে পেরেছি । রমজান মাস জুড়ে দেড় লাখ ইফতার পার্টির ব্যবস্থা করলে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ সহস্রাধিক ইফতার পার্টির আয়োজন করতে হবে তাই রোজার ত্রিশ দিনই (প্রতিদিনই) প্রায় প্রতি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় ইফতার পার্টির আয়োজন করতে হবে তাদের। আর অর্থের হিসাবে এই দেড়লক্ষ ইফতার পার্টি আয়োজন করতেতো ন্যুনতম চার থেকে সাড়ে চারশতকোটি টাকার জোগার করতে হবে, এটাতো দেখছি হরি হরি এলাহি কান্ড। এ খবর কিন্তু আমাদের না, এ খবর জামাতিরাই পত্রিকায় ফলাও করে প্রচার করেছে।

সে যাক লাগলে টাকা দেবে গৌরীসেন এটাই হয়তো তাদের মূলমন্ত্র। আর এ মূলমন্ত্রের গৌরীসেনটা কে তা আমজনার জানারও দরকার নেই। তবে বিএনপির মিত্র প্যাডসর্বস্য দলগুলোও কিন্তু ইফতার পার্টির আয়োজনে পিছিয়ে নেই। এদের ইফতার পার্টি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই যেনতেন ভাবে নয় একেবারে তারকা হোটেলে আয়োজন করা হচ্ছে। আর জোটের প্রধান দল বিএনপি এখন প্রতিদিন একটি করে বড় বড় ইফতার পার্টি দিচ্ছে। বিএনপির বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের উদ্যোগেও আয়োজিত ইফতার পার্টিতে তিনি শরিক হচ্ছেন। সেই সব ইফতার পার্টির প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া অংশ নিচ্ছেন, বক্তৃতাও দিচ্ছেন কখনো কখনো মোনাজাত করে জালেম সরকারের (তাদের ভাষায়) হাত থেকে রক্ষা করার জন্য বদদোয়াও করছেন। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণে যে বিষয়গুলো প্রায় প্রতিদিনই উঠে আসে তা হচ্ছে প্রায় একই রকম, যেন ক্যাসেট বন্দি একই বক্তৃতা প্রতিদিন প্রচার করা হচ্ছে। তার বক্তৃতার মূল বক্তব্যটা ঠিক এ রকম,‘এ সরকার অবৈধ, স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ, দেশ ধ্বংসকারী, গণতন্ত্র হত্যাকারী সরকার, এ সরকারের পেছনে দেশের জনগণ নেই। গত ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ১৯ দলীয় জোটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ৯৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষই এখন সরকারের বিরুদ্ধে, ২০ দলীয় জোটের পক্ষে আছে। দেশের মানুষ অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় দিনাতিপাত করছে, গুম ও খুনের ভয়ে মানুষ আতঙ্কে আছে। আমাদের ওপর দেশবাসীর চাপ আছে, জনগণ বলছে বিএনপি কেন এই সকারের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করতে আন্দোলন করছে না। তাই ঈদের পর ২০ দলের নেতাকর্মীদের সরকার উৎখাতের আন্দোলনে যুক্ত হতে এখন থেকেই জোর প্রস্তুতি নিতে হবে।’ আর যুদ্ধাপরাধীদের দল জামায়াতো ইফতার পার্টির নামে কেবল গিবদ ও কুৎসা রটনাই নয় তারা ইফতার মাহফিলের উছিলায় প্রায়ই বিদেশী কুটনীতিকদের ডেকে সরকারের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনার পাশাপাশি দেশবিরোধী অপপ্রচার সম্বলিত ডিভিডির কপি প্রত্যেকের হাতে তুলে দিচ্ছেন। এ নিয়ে প্রগতিশীল মানুষের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে সরকার কোন পদক্ষেপ নিতে পারছেনা, কেন নিতে পারছেনা তা বোধগম্য না হলেও হয়তো জামায়াতের এসব দেশেবিরোধী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষে নিতে গেলে বিএনপি-জামায়াত সমসুরে চিৎকার শুরু করবে যে, সরকার এমনই স্বেরাচারী যে, পবিত্র রমজান মাসে আমাদের ঠিক মতো ধর্মকর্ম করতে দিচ্ছে না।

বিএনপি নেত্রীর বক্তৃতায় দেশের ৯৫ ভাগ তাদের পক্ষে থাকার বক্তব্যের অনেকটাই বিরোধিতা করে ১৭ জুলাই দৈনিক জনকন্ঠে মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী ‘ঈদের পর আন্দোলনের হুমকি’ শিরোনামে বলেছেন‘‘বিএনপি চেয়ারপার্সন দাবি করেছেন যে, ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৯৫ শতাংশ মানুষ অংশ নেয়নি এবং এই ৯৫ শতাংশ মানুষ তার দল বা জোটের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে- এমনটিই দাবি করেছেন। প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর জানা আছে। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বর্জনের পাশাপাশি প্রতিহত করার জন্য যে ধরনের তান্ডব, ধ্বংসলীলা, হত্যাকান্ড ও জোরজবরদস্তি করা হয়েছিল তা থেকে ভোটে অংশগ্রহণের সংখ্যা ব্যাপক না হলেও যা তিনি দাবি করেছেন তা বাস্তবের সঙ্গে মোটেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন নিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং পরিণতি সম্পর্কে গেল দু’সপ্তাহে এই কলামেই প্রকাশিত আমার লেখা দু’টোতে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে। সুতরাং এ নিয়ে নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই। তবে মোট ভোটারের ৯৫ শতাংশ যদি বিএনপি-জামায়াত জোটের সমর্থক হয়ে থাকেন তাহলে সরকারের অবস্থান ৬ জানুয়ারিতেই নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার কথা। বাস্তবে তেমন হয়নি। মানুষ একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপির মতো একটি বড় দল এবং তার নেতৃত্বাধীন জোট সেই নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে তা প্রতিহত করতে সকল শক্তি নিয়োগ করলে নির্বাচনের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। নিজেরা অংশগ্রহণ না করে প্রতিযোগিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে না দেয়া- একটি রাজনৈতিক দ্বৈতচারিতা বা চালাকি বলা যায়। সে ধরনের নির্বাচনকে নিয়ে মনগড়া কথা বলা, বানোয়াট তথ্য দাবি করা, নির্বাচনকে অবৈধ বলে চালিয়ে দেয়া কোন সৎ রাজনৈতিক অবস্থান হতে পারে না।’’

এ প্রসংগে আমার নিজের একান্ত বক্তব্য হলো গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াতের নজিরবিহীন সহিংসতা, নৈরাজ্য সৃষ্টির পরও কিন্তু গড়ে ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিএনপি-জামায়াত আমলের মতো অবাধে সিল মারতো তা হলে ভোট কাস্টিং আরো ২০ভাগ বাড়িয়ে দিতে পারতো। আওয়ামী লীগের বড় শত্রুও কিন্তু নির্বাচনে এ ধরনে কোন অপকর্ম বা ভোট রিগিং এর কথা বলতে পারেনি। সেই কারণেই হয়তো সুপার পাওয়ার আমেরিকা, রাশিয়া, চীন, জাপান, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের সব দেশ ও দাতাগোষ্ঠী ৫ ই জানুয়ারির নির্বাচনকে মেনে নিয়ে বর্তমান সরকারের সাথে কাজ করার অঙ্গিকারের মাধ্যমে কাজ করে যাচ্ছে। তা না হয়ে যদি ১৯৯৬ সালে বিএনপির অধীনে অনুষ্টিত ঐতিহাসিক! একতরফা ১৫ ফেরুয়ারির মতো এক্কেবারে ভোটারবিহীন নির্বাচন হতো, যে নির্বাচনে জোর করে নিজেদের বিজয়ী ঘোষণা করেও বিশ্বনেত্রীবৃন্দ ও বিভিন্ন দাদাগোষ্ঠী ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপে ১৮ দিনের বেশি ক্ষমতায় টিকতে পারেনি। বাধ্য হয়ে তাদের ১৮ দিনের মাথায় বিএনপিকে পদত্যাগ করে নতুন করে নির্বাচন দিতে হয়েছিল। যে নির্বাচনে জয়লাভ করে দীর্ঘ একুশ বছর পর শেখ হাসিনা রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়েছিলেন। কিন্তু ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যতি ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হতো তা হলেতো আন্তর্জাতিক মহল কিছুতেই নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গিকার ব্যক্ত করতো না। একই সাথে দেশের মানুষও এ ফলাফল মেনে না নিয়ে ১৫ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন পরবর্তী সময়ের মতো কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে এই সরকাকেও হটিয়ে নতুন নির্বাচন দিতে বাধ্য করতো। কাজেই বিএনপি নেত্রীর এসব ঢালাও অভিযোগ জনগণের কাছে বিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছেনা বলেই তাদের কথায় কেউ কান দিচ্ছে না। যদি তাদের কথায় কানই দিত তা হলে ২০১৩ সালেই শেখ হাসিনার জনসমর্থনহীন সরকারকে( বিএনপির ভাষায়) ঝেটিয়ে বিদায় করতো।

পরিশেষে আমি এখন বিএনপির নেত্রীর আন্দোলনের প্রসংগে নাটককের মতো ‘রিক্যাপ’ বা একটু পিছন ফিরে তাকাতে চাই। আমাদের দেশের জনগণ যাদের স্মৃতি এখনো শিথিল হয়ে যায়নি তাদের নিশ্চয়ই মনে আছে যে গত বছরও রমজানে ইফতার পার্টিতে একইভাবে সরকার উৎখাতে কর্মী সমর্থকদের রমজানের পর মাঠে নামতে আহ্বান জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল ঈদের পরে এই জালেম সরকারকে উৎখাত না করে বিএনটি নেতাকর্মী ও তথা ১৮ দলের নেতা-কর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না। তখন পরিস্থিতি ছিল যেন আগ্নেওগিরির জ্বালামুখ। সময়টা ছিল নির্বাচন পূর্ববর্তী অবস্থা ছিল, জামায়াতের অংশগ্রহণ বলতে গেলে একচেটিয়া। আর আর অন্যান্য আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল দলগুলোও ছিল সরকারের বিরুদ্ধে। তখন বিএনপি ও জামায়াতের অনেক শীর্ষ নেতাই পায়জামা-পাঞ্জাবীতে কড়া ইস্ত্র দিয়ে রেখেছিলেন এর কারণে যে যেই মাত্র সরকারের পতন হবে তখনই যেন কালবিলম্ব না করে বিজয় মিছিলে মেনে আসা যায়। তারপরও বিএনটি-জামায়াত ১৮ দলভুক্ত তথাকথিত অন্যন্য দল বলতে গেলে প্রায় সব দলই আন্দোলনে শরিক হয়ে ঈদের পর আন্দোলন জমাতে পারেনি। কিন্তু গত বছরের সাথে বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর বাংলাদেশের আন্দোলনের ইতিহাস বলে, আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের বামদলগুলো ছাড়া কেউ কোনদিন গণআন্দোল সৃষ্টি করতে পারেনি, আর বিএনপিরতো গণআন্দোল করে সরকার হটানোর কোনো ইতিহাসই নেই। আর গত বৎসর বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত আন্দোলনের নামে যা করেছে সে ভয়ানক স্মৃতিতো মানুষ এত সহজেই বিস্মৃত হয়ে যায়নি।

———–