ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

 

 

index

মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি, গত আওয়ামী লীগ সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) একে খন্দকার হঠাৎ করেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে প্রশ্নবিদ্ধ সব কথা লিখে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তার লেখা ‘১৯৭১ : ভেতরে বাইরে’ প্রকাশিত গ্রন্থে স্বাধীনতার ঘোষণা ও বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে বিএনপির নেতাদের মতো বিশেষ করে স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর মতো করে বিতর্কিত করার চেষ্টা নিয়ে দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেবল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষই নয় ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ সংসদ অধিবেশনেও একে খন্দকারের এ বিতর্কীত বই নিয়ে দুই ঘন্টার অনির্ধারিত বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। এ বিতর্কে সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করে একে খন্দকারের ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে নিন্দা জানান।

এ প্রসঙ্গে ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪ দৈনিক জনকন্ঠে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনের অংশবিশেষ এখানে তুলে ধরছি‘ প্রকাশনা উৎসবেই একে খন্দকারের লেখা নিয়ে বিশিষ্টজন থেকে আপত্তি তোলেন। ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আনিসুজ্জামান, যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক আলী রিয়াজ এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ডা. সারওয়ার আলী। প্রত্যেকেই এক অংশের প্রশংসা করলেও তাঁরা আরেক অংশের সমালোচনা করেন। ডাঃ সারওয়ার আলী বলেন, একে খন্দকার মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিলেন। তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে তাঁর সর্বক্ষণিক যোগাযোগ ছিল। জেনারেল ওসমানীরও সঙ্গী ছিলেন। এ বইয়ে দু’টি অংশ রয়েছে। একটি অংশে ২৫ মার্চের আগের পরিস্থিতি এবং অন্য অংশে পরবর্তী সময় সম্পর্কে বলা হয়েছে। ২৫ মার্চের আগের পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কিছু কিছু মন্তব্য বিতর্কের জন্ম দেবে। এ বিষয়ে একে খন্দকারের মন্তব্য আমার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। যেমন তিনি লিখেছেন, ৭ মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলেছেন। কিন্তু আমরা যে সব তথ্যপ্রমাণ পেয়েছি তাতে বঙ্গবন্ধু এ ধরনের কথা বলেছেন বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নানা বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে। একে খন্দকারের মতো মানুষের বক্তব্য তাদের হাতে হাতিয়ার তুলে দিতে পারে। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ৭ মার্চের ভাষণকে আমরা যে দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখে থাকি একে খন্দকার তার থেকে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখেছেন। তিনি সমালোচনার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে এ ভাষণকে দেখেছেন। বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলেছেন বলে তার বর্ণনাও বিতর্ক তৈরি করেছে। তিনি আরও বলেন, ২৬ মার্চ সকাল থেকে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারিত হয়েছে। অন্তত তিনটি সূত্র থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণার কথা জানা যায়। বঙ্গবন্ধু যদি বার্তা না দিয়েও থাকেন কেউ না কেউ তাঁর নামে বার্তা দিয়েছেন এবং তা বঙ্গবন্ধুর নামেই প্রচারিত হয়েছে।

একে খন্দকার বলেন তার বইয়ে বলেছেন‘…মুক্তিযুদ্ধের সময় গৃহীত পরিকল্পনার সঙ্গে সব কিছু খাপ খায়নি। শুরুতে যখন গেরিলা যোদ্ধা নেয়া শুরু হয় তখন একটি দল থেকেই নেয়া হয়েছিল। কিন্তু পরে দেখা গেল তারা যথেষ্ট পরিমাণে যোগ্য নন। পাঁচ মাস পর যোগ্যতার ভিত্তিতে গেরিলা নিয়োগ শুরু হয়। …‘ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হওয়ার ঠিক আগে শেখ সাহেব ইপিআরের বেতারযন্ত্রের মাধ্যমে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরীর কাছে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠিয়েছিলেন। এই তথ্যটি মোটেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।’ (পৃ. ৫৭) একে খন্দকার এ বিষয়ে প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদেরও উদ্ধৃতি দিয়েছেন (কোন মৃত ব্যক্তিকে সাক্ষী মানা যদিও কোনো সৎ লেখকের কাজ নয়) ‘একদিন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম ‘স্যার, বঙ্গবন্ধু গ্রেফতার হওয়ার আগে আপনি কি তাঁর কাছ থেকে কোন নির্দেশনা পেয়েছিলেন?’ উত্তরে তিনি বলেছিলেন, ‘না, আমি কোন নির্দেশ পাইনি’ (পৃ. ৪৩)। আরও লিখেছেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন ব্যক্তি স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে নানা কথা বলেন। সেগুলো সত্য কী অসত্য, তা জানার উপায় নেই। এগুলোর পক্ষে বা বিপক্ষে কেউ কোন দলিল উপস্থাপন করেননি। আমার মনে হয়েছে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা আবেগপ্রসূত (পৃ. ৫৩)। এ বিষয়ে আমাদের প্রাথমিকভাবেই নির্ভর করতে হয়েছে বিদেশী সংবাদপত্রের প্রতিবেদক ও বিদেশী রাষ্ট্রের গোপন নথির ওপর।’

তার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে বলতে চাই-দেশে এ পর্যন্ত রচিত সব ইতিহাসগ্রন্থ ও ইতিহাসবিদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর এবং নিরাপত্তাবিষয়ক দলিল-দস্তাবেজ যদিও এই সাক্ষ্য দেয় যে, ২৬ মার্চ শেখ মুজিব স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানে সামরিক আমলা সালেক সিদ্দিকীর ‘উইটনেস টু সারেন্ডার বইতে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার উল্লেখ রয়েছে এবং ইয়াহিয়া খান তার ভাষণে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার সরাসরি ইঙ্গিত রয়েছে। তার পরেও একে খন্দকার কি করে বলেন ‘এর কোন দলিল আমরা এখন দেখিনি।’ জিয়াউর রহমানের ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ প্রসঙ্গটিও একে খন্দকার উত্থাপন করেছেন তাঁর বইয়ে। পরবর্তীতে তিনি তার নিজের বক্তব্যের স্ববিরোধীতা করেছেন লিখেছেন ‘মেজর জিয়ার ঘোষণাটিকে কোনভাবেই স্বাধীনতার ঘোষণা বলা চলে না। মেজর জিয়া রাজনৈতিক নেতাও ছিলেন না বা স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিও ছিলেন না (পৃ. ৬০)’। তার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে এ প্রশ্ন করা অবশ্যই ‍যুক্তিযুক্ত যে জিয়া যদি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব না ই হন তা হলে কোন রাজনৈতিক নেতার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিচালিত হয়েছিল? ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন একে খন্দকার। যদিও সারাবিশ্বের কাছেই ভাষণের প্রতিটি মুহূর্ত পরিষ্কার টেলিভিশনের মাধ্যমেই। সারাবিশ্ব ভাষণে বঙ্গবন্ধুর দরাজ কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ শুনতে ও দেখলেও একে খন্দকার লিখেছেন বঙ্গবন্ধু ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন। তিনি তো সেই সময় পাকিস্তানের একজন অনুগত সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। পরে মে মাসের মধ্যভাগে এসে তিনি মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করেন। তার পদমর্যাদার কথা চিন্তা করেই প্রবাসী সরকার তাকে মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি হিসেবে নিযুক্ত করেছিল।

এখন আমি একে খন্দকারের ‘১৯৭১: ভেতরে বাইরে’ বইটি নিয়ে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনা অংশবিশেষ সচেতন পাঠকদের জন্য তুলে ধরতে চাই। এ প্রসঙ্গে স্পীকারের আসনে থাকা ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া বলেন, ‘ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময় আমারও কিছুটা সম্পৃক্ততা ছিল। জাতির জনককে হত্যার পর খুনী মোশতাককে সমর্থনকারী তাঁর বইতে কী লিখল, তাতে জাতির কোন যায় আসে না। ৭ মার্চ ভাষণ সম্পর্কে উনি যা লিখেছেন, তা অবশ্যই জাতির সামনে অবমূল্যায়িত হবে। কেননা বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ, বাংলাদেশ মানেই বঙ্গবন্ধু।’

তোফায়েল আহমেদ চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ বঙ্গবন্ধু ‘জয় বাংলা’ বলেই শেষ করেছিলেন। ৭ মার্চের ভাষণের দিন আমরা মঞ্চেই ছিলাম। আমরা মঞ্চে থেকে জানলাম না, অথচ একে খন্দকার সাহেব তাঁর লেখায় বললেন-বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শেষে নাকি ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছেন! এটা উনি কোথায় পেলেন? ’৫২ সাল থেকে ’৬৯ সাল পর্যন্ত একে খন্দকার পাকিস্তানে ছিলেন। এ দেশে কী হয়েছে, তা তিনি জানতেন না। এই একে খন্দকারই বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রেডিও স্টেশনে গিয়ে খুনী মোশতাককে সমর্থন দিয়েছিলেন। …৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র জাতিকে সশস্ত্র জাতিতে পরিণত করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। যুদ্ধের সব নির্দেশনা দিয়ে গিয়েছিলেন। যুদ্ধের সময় কোথায় থেকে অস্ত্র আসবে, নেতারা কোথায় থাকবেন-সেটিও আগেই বলে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু।’

একে খন্দকারের বিতর্কীত এই বই নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠন প্রতিবাদ অব্যাহত রেখেছে। সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এক বিবৃতিতে একে খন্দকারেরবইয়ের ভুল তথ্য সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘স্বাধীনতার দীর্ঘ ৪৩ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের ডেপুটি চীফ অব স্টাফ এ কে খন্দকার তাঁর বইতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেয়া ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। বিষয়টিকে আমরা চরম দুর্ভাগ্যজনক এবং বস্তুনিষ্ঠ নয় বলে মনে করি। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সম্পর্কে এ কে খন্দকারের দাবিটিকে বাস্তবতা বিবর্জিত বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে বিবৃতিতে। সেক্টর কমান্ডার ফোরামের নেতারা আরও বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের প্রাণপুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণা একটি প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক সত্য যা সারাবিশ্বে সংরক্ষিত আছে। সেক্টর কমান্ডার ফোরাম এয়ার ভাইস মার্শাল (অব) এ কে খন্দকারের লেখা বই অবিলম্বে সংশোধন ও পরিমার্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, ‘এ কে খন্দকার তাঁর বইতে যে মতামত দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণই তাঁর নিজস্ব। এসব মতের সঙ্গে ফোরামের নীতি, আদর্শ ও ঐতিহাসিক সত্য উপলব্ধির কোন মিল নেই। এ বই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতিতে লিপ্ত দেশী-বিদেশী চক্রান্তকারীদের হাতে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নতুন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার হতে পারে বলে আশঙ্কা করছি।’

তোফায়েল আহমেদ আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ৬ দফা না দিলে আগরতলা মামলা হতো না, মামলা না হলে ’৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান না হলে বঙ্গবন্ধু মুক্তি পেতেন না, ’৭০-এর নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হতো না, বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। মেজর সিদ্দিক সালেকের ‘উইটনেস অব সারেন্ডার’ বইটি পড়ার জন্য একে খন্দকারকে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এ সব লিখে অন্যদের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হয়।’

সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব) রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম বলেন, কোন মহলের প্ররোচনায় ইতিহাসের তথ্যগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল করা হচ্ছে। আমি একাত্তরের ২৪ মার্চ চট্টগ্রামে যুদ্ধ শুরু করেছি। সে দিন জিয়াউর রহমান সেই যুদ্ধে যোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। বাংলাদেশকে ১০ সেক্টরে ভাগ করা হয় ১০ এপ্রিলে, তার আগে নয়। …আমরা সবার আগে যুদ্ধ করেছি রাজনৈতিক নেতৃত্বের নির্দেশে। কোন সামরিক অফিসারের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়নি, হয়েছে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে। পৃথিবীর কোন দেশ জনগণের সম্পৃক্ততা ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ছাড়া স্বাধীন হয়নি, বাংলাদেশও নয়। জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, যিনি জাতীয় পার্টির মন্ত্রী ছিলেন, মাত্র কয়েক দিন আগে আওয়ামী লীগেরও মন্ত্রী ছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর যারা খুনী মোশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন, তাদের মধ্যে একজন একে খন্দকার সাহেব। স্বাধীনতার এত বছর পর তিনি মিথ্যা ইতিহাস লিখে জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। ‘জয় পাকিস্তান’ উনি কোথায় পেলেন? এ সমস্ত কুলাঙ্গাররা বিকৃত বই লিখে জাতিকে বিভ্রান্ত করছে। একে খন্দকারের কঠোর সমালোচনা করে জাসদের মইনউদ্দিন খান বাদল বলেন, বাংলাদেশে প্রবাদ আছে-বাংলাদেশে উপকার করলে গালি খেতে হয়। উনি সমস্ত সুবিধা নিলেন, পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন। মন্ত্রী থাকাকালে কোন ফোরামে এ ব্যাপারে সামান্য কথা বলেননি কেন?

শেষ করবো এই বলেই যে, একে খন্দকারকে দেশের মানুষ চেনে একজন ভদ্রবেশী সুবিধাবাদী মানুষ হিসেবে। তার এ সুবিধাবাদী চরিত্রের কারণে তিনি যেমন খুনি মোসতাকের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছেন তেমনি জিয়াউর রহমানের সময়ে রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বও পালন করেছেন। আবার এরশাদের আমলে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনও করেছেন। তেমনিভাবে গত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পরিকল্পনা মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন পাঁচ বছর। তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের কারণে ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শেষ হাসিনা তাকে মনোনয়ন দেবেন না আচ করতে পেরেই মনোনয়ন আওয়ামী লীগের মনোনয়নই আর চাননি। তাই হয়তো মন্ত্রীত্ব ও এমপির পদ হারানোর বেদনায় এ ধরণের বিতর্কীত বই লিখে মনের জ্বালা কিছুটা লাঘব করতে চেয়েছেন। কেননা তার এই বই লেখা নিয়ে সংসদের ভেতর ও সংসদের বাইরে সমালোচনার ঝড় বইলেও বিএনপি ও জামাতিরা একে খন্দকারের পক্ষ নিয়ে সংবাদ মাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিতর্ককে উসকে দেয়ার অপচেষ্টা করছেন। স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির চক্র বিএনপির মদদপুষ্টরা এক খন্দকারের এই বইকে অস্ত্র বানিয়ে আবার নতুন করে অপপ্রচারে মেতে ওঠেছে। এই গোষ্ঠী একে খন্দকারের বইটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে দেশে-বিদেশে বইয়ের তথ্য তুলে ধরে স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে চালাচ্ছে অপপ্রচার। জামায়াত-শিবিরের ফেসবুক পেজ বাঁশের কেল্লাসহ সকল উগ্রবাদী মাধ্যমেও চলছে সমানতালে অপপ্রচার। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী ইতিহাস বিকৃতকারীরা একদিন ইতিহাসের বাগাড়ে নিক্ষিপ্ত হবেই।