ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

এখন দেশের শিক্ষিত, অগ্রগামী সাধারণ মানুষও জানে যুদ্ধবিধ্বস্থ বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধু যখন তিল তিল গড়ে তুলে সমৃদ্ধি দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক সেই মুহূর্তেই একাত্তুরের সেই দেশি-বিদেশি সম্মিলিত পরাজিত শক্তি স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট চরম আঘাত হানে। তারা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বিশ্বের ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করে। একই সাথে ’৭১-এর পরাজয়ের প্রতিশোধ গ্রহণ করে। সেই অপশক্তির চোখে বঙ্গবন্ধুর অপরাধ ছিলো বাঙালিকে পাকিস্তানীদের শোষণ-বঞ্চনা, অত্যাচার-নির্যাতনের নাগপাশ থেকে মুক্ত চিরবঞ্চিত বাঙালিকে স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভুদ্ধ করা, স্বাধীনতাবিরোধী গোষ্ঠীর সাধের পাকিস্তানকে ভেঙে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। তাই তারা আইএসআই, সিআইএ ও তাদের এদেশীয় দোসর ও এজেন্টদের মাধ্যমে স্বাধীনতা লাভের মাত্র সাড়ে ৩ বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে একাত্তরের পরাজয়ের চরম প্রতিশোধ নিয়েছিল। সে সময় বিদেশে থাকার কারণে বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন; তা না হলে বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানী ভাবধারায় ফিরিয়ে নিয়ে পাকিস্তানের অলিখিত অঙ্গরাজ্যে পরিনত করা সহজ হতো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই তারা ক্ষান্ত হয়নি; এর পর শুরু হয় জাতির পিতার চরিত্র হনন করে ইতিহাস থেকে এবং স্বাধীনতা পরবর্তী প্রজন্মের মন থেকে তাঁকে মুছে দেয়ার বিকৃত ইতিহাস সৃষ্টির ইতিহাস প্রকল্প। কিন্তু সে চেষ্টা তাদের সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সেই অশুভ ও ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর কাছে বঙ্গবন্ধুর নামটি এখন যেন এক মূতিমান আতঙ্ক হয়ে ওঠেছে। যতই দিন যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মনে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে আরো জাগরুক হয়ে ওঠছেন।

স্বাধীনতাবিরোধী, তাদের পৃষ্ঠপোষক রাজনৈতিক দল ও এদের উচ্ছিষ্টভোগীরা শত চেষ্টা করে জিয়াউর রহমানকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমকক্ষ তো দূরে থাক, পাঞ্জাবীর আস্তিনের সমানও প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি, বরং বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডসহ তার কুটিল ও ষড়যন্ত্রকারী চরিত্র নতুন প্রজন্মের কাছে দিনে দিনে উন্মোচিত হয়ে যাচ্ছে তাই তারা বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হননের জন্য মিথ্যাচারের ইতিহাস প্রকল্প শুরু করেছে আর সেই প্রকল্পের ভাড়াটে লেখক হিসেবে বেছে নেয়া হয়েছে, আওয়ামী ঘরানার কিছু বাতিল ও হতাশগ্রস্ত ব্যক্তিদের। যার সর্বশেষ সংযোজন এ.কে খন্দকার। বিএনপি-জামায়াত ও সুশিল সমাজের কিছু তকমাধারী উচ্ছেষ্টভোগীরা বুঝে গেছে যে, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর আদর্শ। ষড়যন্ত্রকারীরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেও ইতিহাস থেকে তাঁর নাম মুছে ফেলতে পারেনি। তাই এখন তারা বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হননের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ইতিমধ্যে জনগণের কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। তাদের এখন মরিয়া প্রচেষ্টা বঙ্গবন্ধুর চরিত্র হনন করে ইতিহাস এবং বাংলার মানুষের মন থেকে তাঁকে মুছে ফেলার ব্যবস্থা করা। এবং তা করতে পারলেই শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের শক্তির ভিত্তি ধ্বংস হবে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসকেও বিতর্কিত করা যাবে। সে চেষ্টাও তাদের ব্যর্থ হয়েছে।

আর শেখ হাসিনার প্রতি তাদের আক্রোশ হলো ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর পদ অলংকৃত করে আওয়ামী লীগের মরাগাঙে জোয়ার ফিরিয়ে এনেছেন, তিন তিন বার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসীন করেছেন। তাই শেখ হাসিনা হলো সেই দেশবিরোধী অপশক্তির প্রধান টার্গেট। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ১২ বার টার্গেট করে বোমা হামলা ও গুলি চালানো হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ সহায় বলেই তিনি বার বার আততায়িদের হামলা থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এ পর্যন্ত শেখ হাসিনাকে কতবার হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে তার বিবরণ নিন্মে তুলে ধরা হলো:

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তখন থেকেই বিএনপি জামাত সহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী হত্যা করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রে সক্রিয় হয়ে ওঠে। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় স্বৈরাচারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে থাকা অবস্থায় ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী’রা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রীনরোডে শেখ হাসিনা ভোটকেদ্রে পরিদর্শন করতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। অল্পের জন্য তখন তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেই গুলিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় শেখ হাসিনা বেঁচে প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৫ সালের মার্চ আওয়ামী লীগ আয়োজিত এক জনসভায় বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় কার্জন হল থেকে অস্ত্রধারীরা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ২০০০ সালের ২০ জুলাই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। আর এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল ও তার আশে পাশের অবস্থান। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। ঘাতকচক্ররা সেখানে বোমা পুঁতে রাখে। গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে। ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে জামাত –বিএনপি চক্র ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে । অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান শেখ হাসিনা। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে গুলিবর্ষণ করে জামাত-বিএনপির ঘাতক চক্র। ২০০৪ সালের ২১ শে আগষ্ট আওয়ামী লীগ’র কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় পাকিস্তানে তৈরি একের পর এক আর্জেজ গ্রেনেড ছুঁড়ে ছোড়া হয় রচিত হয় ইতিহাসের বর্বরচিত আরেক কালো অধ্যায়। শেখ হাসিনা যে ট্রাকে উঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ট্রাকে বৃষ্টির মত নিক্ষেপ করেছে গ্রেনেড। শুধু গ্রেনেড হামলা করেই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ও তাদের দোসররা ক্ষান্ত হয়নি। শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক বুলেট চালিয়েছিল যা বুলেটপ্রুফ গাড়ী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা মানবঢাল তৈরি করে সেই সময় শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও বিএনপি-জামায়াত ইসলামীর বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় নিহত হন আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত ও পঙ্গুত্বজীবন বরণ করতে হয়েছে প্রায় ৩’শ নেতাকর্মীকে। এখনো প্রতিনিয়ত শেখ হাসিনার প্রতি আততায়ির বুলেট টার্গেট করা। আইএসআই, তাদের এদেশীয় দোসর জামায়াত-শিবির রজাকার, বিভিন্ন প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী ও বাংলাদেশের রাজনীতিতে সক্রিয় পাকিস্তানপন্থীরা ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে শেখ হাসিনাকেও বঙ্গবন্ধুর মতো স্বশরীরে শেষ করে দেওয়ার জন্য। তারা বুঝে গেছে শেখ হাসিনা যেভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ধারায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাতে করে রাজনীতি করে ও ভোটের মাধ্যমে তাঁকে কখনো সরানো যাবেনা। তাই সেই চিহ্নিতগোষ্ঠী চাচ্ছে আন্তর্জাতি জঙ্গিসংগঠন আলকায়দা, আইএসআই, আমেরিকা ও ভারতের আওয়ামী লীগবিরোধী শিবিরকে হাত করে শেখ হাসিনাকে শেষ করে দিতে। সম্প্রতি এ ধরনের খবর প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন সংবাদপত্রের শিরোনাম হচ্ছে। এ নিয়ে সারাদেশে শুরু হয়েছে তোলপাড়।

আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ সহায় থাকলে ষড়যন্ত্রকারীদের ষড়যন্ত্র কিছুতেই সফল হবে না। কেননা পৃথিবীর ইতিহাসে ষড়যন্ত্রকারীদের স্থান হয় আস্তাকুঁড়েই। আর জননন্দিত নেতা-নেত্রীদের স্থান হয় মানুষের হৃদয়ের মনিকোঠায়; তা যত বিলম্বেই হোক। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই যার উজ্জল প্রমাণ।