ক্যাটেগরিঃ আন্তর্জাতিক

 

সদ্যঘোষিত নোবেল শান্তি পুরষ্কার নিয়ে যত বিতর্ক ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে এর আগে এ প্রসঙ্গে এত বিতর্ক ও সমালোচনা হয়েছে বলে আমার জানা নেই। এটা হয়তো হতে পারে আমার অজ্ঞতার কারণে। তাই আমি এ বিষয়ে লিখতে গিয়ে কিছুটা পড়াশোনা করে লিখতে বসেছি। আমার এ লেখা নিয়ে হয়তো অনেকেই অনেক বক্র উক্তি এবং সমালোচনা করবেন। এতে আমার আপত্তি নেই। লেখার শুরুতেই আমি নোবেল পুরষ্কার প্রবর্তন নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত করতে চাই। ‘১৯০১ খ্রিস্টাব্দে নোবেল পুরস্কার প্রবর্তিত হয়। ঐ বৎসর থেকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সফল এবং অনন্য সাধারণ গবেষণা ও উদ্ভাবন এবং মানবকল্যাণমূলক তুলনারহিত কর্মকাণ্ডের জন্য এই পুরস্কার প্রদান করা হচ্ছে। মোট ছয়টি বিষয়ে পুরস্কার প্রদান করা হয়। বিষয়গুলো হল: পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, চিকিৎসা শাস্ত্র, অর্থনীতি, সাহিত্য এবং শান্তি। নোবেল পুরস্কারকে এ সকল ক্ষেত্রে বিশ্বের সবচেয়ে সম্মানজনক পদক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সুইডেনের রসায়নবিদ ও শিল্পপতি আলফ্রেদ নোবেলের উইল অনুসারে এই পুরস্কার প্রদান করা হয়। নোবেল ডিনামাইট আবিষ্কার করেছিলেন, যার মাধ্যমে তার প্রচুর আয় হয়, আর এই আয়ের অর্থ দ্বারাই তিনি পুরস্কার প্রদানের কথা বলে যান। জীবদ্দশায় নোবেল অনেকগুলো উইল লিখেছিলেন, এর মধ্যে সর্বশেষটি লিখেন তার মৃত্যুর মাত্র এক বছর আগে নভেম্বর ২৭, ১৮৯৫ তারিখে। নোবেলের উদ্ভাবনটি ছিল অনেকাংশেই একটি বিস্ফোরক যা প্রভূত ক্ষতির কারণ হতে পারত। তাই যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডিনামাইটের ব্যবহার তাঁকে শঙ্কিত করে তোলে। নোবেল পাঁচটি ক্ষেত্রে পুরস্কার দেয়ার জন্য তার মোট সম্পত্তির শতকরা ৯৪ ভাগ দান করে যান। এর মোট পরিমাণ ৩১ মিলিয়ন এসইকে (৩.৪ মিলিয়ন ইউরো, ৪.৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)। ( সূত্র: উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ )

প্রতি বছর অক্টোবর মাসে নোবেল পুরষ্কার ঘোষিত হয়। যে মহৎ উদ্দেশ্য নিয়ে আলফ্রেড নোবেল এই পুরষ্কারটি প্রবর্তন করেছিলেন সেই সন্মানজনক পুরষ্কারটি এখন পশ্চিমাদের অপব্যবহারে সমালোচনা সৃষ্টি করছে। অনেক দিন থেকেই নোবেল পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন ও বিতর্কীত নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। কিন্তু এ নিয়ে পশ্চিমাদের টনক নড়ছে না। বিশেষ করে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রদানের নির্বাচন পদ্ধতিই প্রতিবার সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি করে। এইবারও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এইবার নোবেল কমিটি পাকিস্তানের মালালার সাথে ভারতের কৈলাশকে পুরুস্কৃত করলো। এ নিয়ে ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক রকম সমালোচনার ঝড় বইছে। আমার এক বন্ধু নোবেল শান্তি পুরস্কারকে বাংলালিংক সিমের সাথে তুলনা করে বলেছেন ‘বিশ্বশান্তি নোবেল পুরস্কার বিজয় এখন বাংলালিংকের মতো সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। আর অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম এর কনট্রিবিউটিং এডিটর ড. জিনিয়া জাহিদ ‘নোবেল শান্তির নামে তামাশা আর কত?’ শিরোনামের নিবন্ধে বলেছেন,‘ শান্তি পুরস্কার দেবার নামে বিশ্ববাসীর সাথে পশ্চিমাদের নির্লজ্জ্ব তামাশা বন্ধ করা হোক। শান্তি পুরস্কারের নাম বদলে বরং অন্য কিছু নাম দেয়া হোক। বিশ্ববাসীকে শান্তির নামে ধোঁকা দেয়া বন্ধ করা হোক।’

আবার কেউ কেউ এও বলছেন, ‘ শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রদানের জন্যে পশ্চিমারা তাদের পছন্দের কিছু ব্যক্তিকে তৈরি করে নেয়। আমাদের বাংলাদেশেও ক্ষুদ্র ঋণের প্রবক্তা বানিয়ে ড. ইউনূসকে তৈরি করে তাকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কারে ভূষিত করে বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠে নামিয়েছিল। কিন্তু ড. মুহম্মদ ইউনূসকে শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার প্রদানের কোনো যুক্তি খুঁজে পায়নি বাংলাদেশের মানুষ। এ নিয়ে অনেক সমালেচনা হয়েছে। তখন অনেকেই প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেছিল,‘বিশ্ব শান্তি কেন, ড. মুহম্মদ ইউনূস তার নিজ দেশ বাংলাদেশের শান্তি প্রতিষ্ঠায় ন্যুনতম ভূমিকা রাখেননি। তাকে যদি অর্থনীতিতেও পুরষ্কার দেয়া হতো তা হলেও তা মেনে নেয়া যেত। বিগত কয়েক বছর ধরে ড. ইউনূসের মতো মালালাকে পশ্চিমারা এজন্যই তৈরি করে নিচ্ছিল। গত বছরই মালামা নোবেল পুরষ্কার পেয়ে পেয়ে যেত, কিন্তু তার বয়স কম বলে বিশ্বমিডিয়ায় শোরগোল শুরু হওয়ায় গতবার মালালার নোবেল পুরস্কার ফসকে গিয়েছিল। তাই এবার আর মালালার পুরুস্কার প্রাপ্তি নিয়ে কোনো সন্দেহ কারোরই ছিল না।’

প্রতি বছরই নোবেল পুরস্কার দেয়া নিয়ে বেশি আলোচনায় আসে যে ক্যাটাগরি, তা হলো শান্তি পুরস্কার। এ বছরও তাই শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার নিয়ে সমালোচনার অন্ত নেই। এ বছর শিশু ও তরুণদের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নোবেল পুরস্কার পাচ্ছেন ভারতের শিশু অধিকারকর্মী কৈলাস সত্যার্থী এবং তালেবান হামলায় বেঁচে যাওয়া পাকিস্তানি কিশোরি মালালা ইউসুফজাই। নোবেল কমিটির চেয়ারম্যানের মতে, “একজন হিন্দু, অন্যজন মুসলমান; একজন ভারতীয়, অন্যদিকে একজন পাকিস্তানি; একই লক্ষ্য নিয়ে, শিক্ষার অধিকারের দাবিতে এবং উগ্রবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন-যা নোবেল কমিটির কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে।”

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সাথে অনেকেই একমত নন। এ প্রসঙ্গে ড. জিনিয়া জাহিদ বলেন,‘ এবারের শান্তি পুরস্কার যেন, এক তীরে অনেকগুলো পাখি শিকারের মতই। এখানে নোবেল কমিটি একাধারে চিরশত্রু ভারত বনাম পাকিস্তান, হিন্দু বনাম মুসলিম, পুরুষ বনাম নারী, শিক্ষা বনাম উগ্রবাদ সবকিছুকেই টেনে এনেছেন। অথচ, যেসব বিষয় নোবেল কমিটি বিবেচনায় এনেছেন, শান্তির ক্ষেত্রে কোনটাতেই মালালা এবং কৈলাশের কোনো ভূমিকা নেই। এছাড়াও একজন হিন্দু, আরেকজন মুসলমান- ধর্মীয়ভাবে দুজনের পরিচয় আলাদাভাবে উল্লেখ করে যৌথভাবে পুরুস্কৃত করে, নোবেল কমিটি বিশ্ববাসীকে কি মেসেজ দিতে চাইছে সত্যি বোধগম্য নয়।’ অন্যদিকে মালালা যেমন প্রতি মুহূর্ত মিডিয়ার পাদপ্রদীপে ছিলেন, কৈলাশ ছিলেন তার বিপরীত। কৈলাশের কাজ নিয়ে তাদের মিডিয়াগুলোও ছিল অন্ধকারে। অথচ ৬০ বছর বয়সী কৈলাস গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতে শিশুশ্রমের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে আসছেন, গড়ে তুলেছেন ‘বাচপান বাঁচাও’ আন্দোলন। মিডিয়ার আড়ালেই কাজ করে গেছেন তিনি নীরবে। কৈলাসকে খোদ ভারতে রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো পুরুস্কার দেয়া হয় নি, না পদ্মশ্রী, না পদ্মভূষণ কিংবা অন্য কিছু। অথচ পাকিস্তানি মালালার সাথে ভারতের কৈলাশকে নোবেল পুরুস্কার দেয়া যেন অনেকটা ভারসাম্য রক্ষা করার মতই। ভবিষ্যত অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতকে পশ্চিমাদের নিজেদের তাঁবুতে রাখতেই কি না কে জানে, নিজেদের পাপেট মালালার পাশাপাশি অখ্যাত কৈলাশকেও শান্তি পুরস্কার দেয়া বিশ্ববাসীকে শান্তির নামে ধোঁকা দেয়া ছাড়া আর কিছুই নয়।’

বেশ কয়েক বছর ধরেই নোবেল শান্তি পুরুস্কার নিয়ে সমালোচনা বিতর্ক সৃষ্টি হচ্ছে। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তদের তালিকা দেখলে সহজেই অনুমান করা যায় নোবেল শান্তি পুরস্কার যতটা না বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য, তার থেকেও বেশি পশ্চিমাদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য। পশ্চিমারাদের কাছে নোবেল শান্তি জয়ীরা যেন পূর্ব পরিকল্পনায় নির্বাচিত ব্যক্তি। শান্তি পুরস্কার পাবার জন্য সব চেয়ে বড় যোগ্যতা পশ্চিমা ক্যানেকশন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এ পর্যন্ত যারা নোবেল শান্তি পুস্কার পেয়েছেন বিশ্বশান্তিতে তাদের তেমন উল্লেখযোগ্য অবদান নেই বললেই চলে। এ ক্ষেত্রে হেনরী কিসিঞ্জারের মত ঘৃণিত ও কুখ্যাত ব্যক্তিকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দিয়ে নোবেল পুরস্তারের সুনামকে ধূলোয় মিশিয়ে দিয়েছিল। এর পর একে একে ইয়াসির আরাফাত, আইজ্যাক রবিন, মায়ানমারের অং সাং সুকি যে নিজ দেশেই শান্তি আনয়নের জন্য ব্যর্থ, সে ব্যক্তি বিশ্বশান্তিতে কি অবদান রাখতে পেরেছিল, তা প্রশ্নসাপেক্ষ। বারাক ওবামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কা দিয়ে নোবেল শান্তি পুরস্কারকে তামাশায় পরিণত করা হয়।। শান্তি পুরস্কারের আগে বারাক ওবামার বিশ্বশান্তির জন্য কি ভূমিকা ছিল তা কেউ জানেনা। ২০০৭ সালে ক্লাইমেট চেইঞ্জ ও গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর জন্য বড় বড় বাণীর কথা বলা আল গোর যখন আইপিসির সাথে যুক্তভাবে পুরস্কার পেয়েছিলেন, তখন তিনি নিজেই ২০ কক্ষ বিশিষ্ট আলিশান প্রাসাদে গ্যাস ও বিদ্যুতের মাত্রাতিরিক্ত অপচয়ের জন্য সমালোচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালে নোবেল কমিটি চায়না থেকে অখ্যাত একজনকে মনোনীত করেছিলেন। কারাগারে বন্দি চায়নার লিউ শিয়াওবোকে বিশ্বশান্তির জন্য কেন পুরুস্কৃত করা হয়েছিল, সেটা বিশ্ববাসীর কাছে সে সময় দারুণ একটা ধাধার মতই ছিল। নির্ঝঞ্ঝাট চায়নায় শান্তির অভাব ছিল বলে তো কখনো শোনা যায় নি! তবে পরে শোনা গেল, ভিয়েতনাম, কোরিয়া, আফগানিস্তান ও ইরাকে শান্তির নামে আমেরিকার মাতব্বরিকে এই শান্তি পুরস্কার জয়ী আকন্ঠ সমর্থন দিয়েছিলেন।

বিশ্লেষক, লেখক, সাংবাদিক নাদিরা মজুমদার, অক্টোবর ৩০, ২০১২ বিডিনিউজ২৪.কমে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নোবেল শান্তি পুরষ্কার বির্তক’ শিরোনামের তার নিবন্ধে বলেন,‘ ২০১২ সালের নোবেল শান্তি পুরষ্কারটি এককভাবে দেয়া হয় ইউরোপীয় ইউনিয়নকে । ইইউ’র পুরষ্কারপ্রাপ্তি, খুশি ও বিতর্ক-দুইয়েরই প্রবল বাক্যবন্যার সৃষ্টি করেছে। ১৯০১ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত এককভাবে, কখনো বা ব্যক্তির সহযোগি হিসেবে, সংস্থাকে শান্তি পুরষ্কার দেয়া হয়েছে। ২০১২ সালের সর্বশেষ গ্রহীতা ইইউ ছাড়াও বিভিন্ন বছরে নানাধরণের সংস্থা শান্তি পুরষ্কারের গ্রহীতা ছিল; যেমন, ইন্টারগভরমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ, গ্রামীন ব্যাঙ্ক, স্বয়ং জাতিসংঘ, কখনোবা জাতিসংঘেরই অধীনস্থ উদ্বাস্তু সংস্থা, শিশু সংস্থা, পীস-কিপিং ফোর্সেস, আন্তর্জাতিক রেড ক্রস, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, বা আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থা কি এ্যমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল ইত্যাদি। কোন কোন সংস্থা আবার একাধিকবার শান্তি পুরষ্কারপ্রাপ্তির গৌরব অর্জন করে। তা সত্ত্বেও কখনোবা সংস্থার শান্তি পুরষ্কার প্রাপ্তি প্রায়শই বিতর্কের জন্ম দেয়। নোবেল পুরষ্কারের ক্ষেত্রে বোধকরি নোবেল শান্তি পুরষ্কারের বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি আত্মলীন, বিষয়কেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গি দ্বারা দূষিত হয়ে থাকে; পুরষ্কারের মাহাত্ম্যের প্রতি আস্থা ও ভক্তির ঘাটতি প্রবল হয়ে ওঠে। ফলে, অনিবার্যভাবেই র্দীঘমেয়াদি পক্ষ-বিপক্ষের বাতবিতন্ডা ও বিতর্কও অব্যাহত থাকে।’

এ প্রসঙ্গে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব আব্দুন নূর তুষার ফেইসবুকে তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরষ্কার বিজয়ী ড. সাহেবরা গাজা আক্রমন সম্পর্কে চুপ করে আছেন কেন? জীবনে কোনদিন তো কথা বলতে দেখলাম না তাদের…ধ্বংসের পর চড়াসুদে ক্ষৃদ্র ঋণ নিয়ে তো ঠিকই আফগানিষ্তান আর আফ্রিকাতে যেমন গিয়েছেন তেমন ওখানেও হয়তো যাবেন.. সবাই মরে গেলে কাকে ঋণ দেবেন?’

লেখার পরিধি আর বাড়িয়ে পাঠকদের ধৈর্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা, তাই এই বলেই শেষ করবো। যে মহান উদ্দেশ্য ও ব্রত নিয়ে আলফ্রেড নোবেল এই পুরষ্কারটি প্রবর্তন করেছিলেন তাঁর সেই মহৎ উদ্দেশ্য আজ বিতর্ক ও সমালোচনায় ধূলোয় মিশে যেতে বসেছে। নোবেল শান্তি পুরস্কার এখন রীতিমতো তামাশায় পরিনত হয়েছে। দেশে দেশে যে ব্যক্তি পশ্চিমাদের যত তৈলমর্দন করে নিজেদের তাদের স্বার্থসিদ্ধির কাজে ব্যবহৃত হতে পারে তারাই পশ্চিমাদের তাবেদারির পুরস্কার হিসেবে পেয়ে যান শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার। তাই সাহিত্যে নোবেল পুরষ্কার পাওয়ার জন্যে আমার মতো যদু-মধুরাও পশ্চিমাদের তাবেদারিতে নেমে গেলে ভাগ্য খুলেও যেতে পারে। আমার এ ভাবনাটা কী খুবই বেমানান?