ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

রাজাকার শিরোমণি, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী জামায়াতের সাবেক আমির যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ৯০ বছরের দন্ডপ্রাপ্ত আসামী গোলাম আযমের মৃত্যুতে বিএনপির শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া থেকে শুরু করে কোনো প্রর্যায়ের নেতাকর্মীও শোকপ্রকাশ না করায় সর্বপরি জানাযায় অংশগ্রহণ না করায় গোলাম আযমপুত্র আবদুল্লাহিল আমান আযমী বিএনপির প্রতি ‘ওপেন চ্যালেঞ্জ’ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া বিএনপি কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারত না। জামায়াতে সমর্থন ছাড়া ভবিষ্যতে বিএনপি কোনদিনও ক্ষমতায় যেতে পারবে না- এটি তারা মনে রাখলে ভাল করত। জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন ছাড়া আর বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়া অসম্ভব। তারেকের নির্দেশেই বিএনপি গোলাম আযমের জানাজায় যায়নি’ বলে ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গোলাম আযমপুত্র এ মন্তব্য করেছেন। তা ছাড়া আবদুল্লাহিল আমান আযমী একটি অনলাইন পোট্রালে প্রকাশিত খবর ‘তারেকের নির্দেশেই বিএনপি গোলাম আযমের জানাজায় যায়নি’ সংবাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে গোলাম আযমের ছেলে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে এর সত্যতা জানতে চেয়েছেন। তিনি লেখেন ‘কেউ কি আমাকে এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে পারবেন? এরপর আমান আযমী বলেছেন প্রফেসর গোলাম আযমের পরলোকগমনে বিএনপির নীরবতায় গোটা জাতি হতভম্ব। আমি নিশ্চিত নই কেন তারা এমন আচরণ করল। কোন রাখঢাক ছাড়াই আমি বলতে পারি যে, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কোনদিন ক্ষমতায় আসতে পারত না। …‘বিএনপির এই নীরবতা দুঃখজনক, অপ্রত্যাশিত এবং অগ্রহণযোগ্য।’। ‘জামায়াতের সমর্থন ছাড়া ভবিষ্যতে বিএনপি কোনদিন ক্ষমতায় যেতে পারবে না, এটি তারা মনে রাখলে ভাল করত। এটি আমার ওপেন চ্যালেঞ্জ। ‘স্ট্যাটাসে বিএনপিকে অকৃতজ্ঞ বলেও মন্তব্য করেন আবদুল্লাহিল আমান আযমী ।

এ প্রসঙ্গে একাই ক্ষোভ প্রকাশ করেনি গোলাম আযমপুত্র। বিএনপির এ ধরনের আচরণে ক্ষুব্ধ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চড়ান্ত রায়ে আজীবন সাজাপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদীও ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস স্ট্যাটাস দিয়েছেন। গোলাম আযমের মৃত্যুর পর বিএনপির পক্ষ থেকে শোক না জানানোর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৬ অক্টোবর ‘কাদের মোল্লা’ নামের একটি ফেসবুক এ্যাকাউন্ট থেকে ‘জামায়াত ২০ দলীয় জোটের অন্তর্ভুক্ত কোন দল নয়’ শিরোনামে একটি স্ট্যাটাস শেয়ার করেন মাসুদ সাঈদী। স্ট্যাটাসে লেখেন,‘ভাষা আন্দোলন, কেয়ারটেকার আন্দোলন ও ২০ দলীয় জোটের সাবেক ৪ দলীয় ঐক্যজোটের রূপকার মরহুম জননেতা অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যু থেকে দাফন পর্যন্ত সুপার গ্লু মুখে এঁটে নাকে খাঁটি সরিষার তেল আর কাশ্মীরী কম্বল গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে থাকা বিএনপির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করলে আপনাকে এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হতেই হবে। ইন্নালিল্লাহি না বলুক অন্তত ঘৃণা বা ধিক্কার জানিয়ে অথবা খুশি হয়েছে বলেও তারা একটি বিবৃতি দেয়ার মতো সাহস/দুঃসাহস/হিম্মত/ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেছে।’

জামায়াতের অন্যতম দুই শীর্ষ যুদ্ধাপরাধী ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত গোলাম আযম ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসের প্রতিক্রিয়ায় বোঝা যায় যে, বিএনপির প্রতি জামায়াত কতটা ক্ষুদ্ধ। এ প্রসঙ্গে আজ ৩১ অক্টোবর ২০১৪ বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকরা গোলাম আযম ও দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলেদের প্রতিক্রিয়া সন্মন্ধে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতিক্রিয়া জানতে চেইলে ফকরুল ইসলাম আলমগীর অনেকটা পাশ কাটিয়ে যাওয়ার মতো করে বলেন,‘গোলাম আযমের পুত্র জামায়াতের কোন পর্যায়েল নেতা বা কর্মী কি না তা আমার জানা নেই। আমার মনে হয় এটা জামায়াতের প্রতিক্রিয়া নয়। জামায়াত এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানিক কোন কিছুই বলেনি। তবে এটা হতে পারে আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ব্যক্তিগত মত তাই এ প্রসঙ্গে আমার কিছু বলার নেই।’

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মুখে যা ই বলুন না কেন, বিএনপি যে এ বিষয়টি নিয়ে ভীষণ বেকায়দা আছে তা সবাই জানে। তাছাড়া জামায়াতকে নিয়ে দলের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও প্রশ্ন রয়েছে- জামায়াত কী আসলেই বিএনপির ক্ষমতার রাজনীতির সহযোগী শক্তি না বোঝা? তাদের মধ্যে এমন মতও রয়েছে, বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামে যেভাবে জামায়াত-শিবির নির্ভর হয়ে পড়েছে তা চলতে থাকলে একদিন বিএনপি না জানি জামায়াতেই বিলীন হয়ে না যায়। জামায়াত শিবির বিএনপিকে লেজ থেকে গিলতে শুরু করে ফুসফুস ও হার্টের কাছাকাছি চলে এসেছে পুরোপুরি গিলে ফেলতে আর বেশিদিন লাগবেনা।

এ পরিস্থিতিতে বিএনপি জামায়াতকে না পারছে গিলতে না পারছে ওগরাতে। এই কারণেই বিএনপি কর্তৃক বার বার সরকারবিরোধী কঠোর আন্দোলনের হুমকী-ধমকী দিয়েও কোন আন্দোলন গড়ে তুলতে পারছেনা। সম্প্রতি দুইদফা হরতাল ঘোষণা করে হরতাল সুপার ফ্লপ হলে বিএনপির মনোবল আরো ভেঙে যায়। তাই বিএনপি বর্তমানে আর কোন আন্দোলনের ঘোষণা না দিয়ে দলকে সংগঠিকত করার কাজে হাত দিয়ে পদে পদে হোচট খেতে হচ্ছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বর্তমানে বিএনপি একটি বিবৃতিসর্বস্য দলে পরিনত হয়ে পড়েছে। জামায়াতকে ছাড়া যে বিএনপি অচল তা বিএনপি নেতৃত্ব বুঝতে পারলেও তরুণ প্রজন্মের সমর্থন হারানোর ভয়ে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত দল জামায়াতের কোন পর্যায়ের নেতার মৃত্যুতেও শোক প্রকাশ ও জানাযায় অংশগ্রহণ করতে ভয় পাচ্ছে।