ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

৩১ নভেম্বর ২০১৪ কারওয়ান বাজারের বিসিআইসি ভবনের ১১ তলায় আমার দেশ পত্রিকার ছেড়ে দেয়া কার্যালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে কোন প্রাণহাণী বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও বিসিআইস ভবন ও আমার দেশ পত্রিকার অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ নিয়ে এই ভবনটিতে তিন তিনবার ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনা ঘটলো। এই সরকারী ভবনটিতে বার বার কেন আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে এ নিয়ে নানাজন নানা কথা বলছে। কেউ বলছে এ ভবনটিতে অগ্নিনির্বাপনের পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। তাছাড়া অনেক পুরনো প্রযুক্তির ইলেক্ট্রিক অয়ারিং এর কারণে যখন বিদ্যুতের প্রচন্ড লোড পড়ে তখনই সর্ট সার্কিট হয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ একে অর্ন্তঘাতমূলক কাজ বলেও মনে করে থাকেন। যেমন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী দলের নয়াপল্টনের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে যথারীতি সাংবাদিকদের ডেকে বলেছেন,‘এ আগুন লাগার ঘটনা সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ। সরকার বিএনপির মুখপত্র আমার দেশ পত্রিকাকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্যে সরকারের এজেন্টদের দিয়ে এ আগুন লাগিয়েছে।’ এ খবরটি নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে পাঠকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে।

এই ভয়বহ অগ্নিকান্ডের ঘটনাটি বেশ ক’টি টিভি চ্যানেলের সরাসরি সম্প্রচার করার কারণে দেশবাসী ও তা দেখার সুযোগ পেয়েছে। এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য ও বিবরণে জানা গেছে যে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকাটি তাদের বিসিআইসি ভবনস্থিত কার্যালয়টি অন্যত্র স্থানান্তরের কাজ করছিল। স্থানান্তরের শেষ পর্যায়ে সেখান থেকে ভারী ভারী শীততাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রপাতি, ইলেক্ট্রিক ইকুইপমেন্ট, আসবাবপত্রসহ অন্যন্য মালামাল সরাচ্ছিল। সে অবস্থায়ই বিসিআইসি ভবনের ১১ তলায় আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে আগুন লাগে। সে অবস্থায় রিজভী সাহেবের কথা অনুযায়ী আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে সরকারের এজেন্টরা কিভাবে আগুন লাগালো, সেটা রিজভী সাহেব কি করে দেখলেন সেটাই আশ্চেয্যের বিষয়। বিএনপির মতো একটি দলের একজন দায়িত্বশীল নেতা হয়ে যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণ ও তদন্ত ছাড়াই আমার দেশ পত্রিকার কার্যালয়ে সরকারই আগুন লাগিয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করলেন তা নিয়ে মানুষজন হাসাহাসি করছে। কেউ কেউ বা আবার এ ও বলছেন সরকারী সম্পত্তি বিসিআইসি ভবন পুরোপুরী ধ্বংস করে দেয়ার উদ্দেশেই হয়তো বা বিএনপি-জামায়াত ও হুজির লোকেরাই আগুন লাগানোর কাজটি করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চক্রান্ত হিসেবে এ কাজটি করে থাতে পারে।

আমার কথা হলো আমপাবলিক কত কথাই বলতে পারে। কথা বলতে যেহেতু ‘টেক্সো লাগেনা’ তা-ই যে যা খুশি বলতেই পারে। তবে সরকারের বা কোন বড় রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীদের কথা বলতে অবশ্যই ভেবে চিন্তে কথা বলা উচিৎ, কোনো দায়িত্বশীল পদে থেকে কেউ মুর্খের মতো কথা বললে তার সম্মন্ধে মানুষের আস্থা যে তলানীতে গিয়ে ঠেকে তা সবাই বুঝলেও সেই লাগামহীন লোকেরাই বুঝে বলে মনে হয় না। তা না হলে বিএনপির মতো একটি বড় দলের দায়িত্বশীল পদে থেকে কোন সাক্ষ্য-প্রমান, তথ্য-উপাত্ত; সর্বপরি কোন তদন্ত ছাড়াই বিসিআইসি ভবনের অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে চালিয়ে দিতে গিয়ে বিএনপির অবস্থান কোথায় নামিয়ে নিয়েছেন, তা কি তিনি বা বিএনপির কোন নেতা কি ভেবে দেখেছেন? আজকালের মানুষ যে অনবরত মিথ্যা বলা কাউকে সেই ‘রাখাল ও বাঘ’ গল্পের মিথ্যাবাদী রাখালের মতোই মনে করে থাকে।

এইতো গেল রিজভী সাহেবের কথা। এখন আসি বিএনপির প্রচার সম্পাদক জয়নাল আবেদীন ফারুকের কথায়। পুলিশের ভয়ে খালী গায়ে দৌড়ে পালানো, এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিজ দলের এক নেতার স্ত্রীর সাথে যৌন কেলেঙ্কারীতে জড়িয়ে সংবাদের শিরোনাম হওয়ার পর, জয়নাল আবেদীন ফারুককে অনেক দিন জনসন্মুক্ষে দেখা যায়নি। অনেকদিন পর গতকাল একাত্তর টেলিভিশনের এক টকশো’তে দেখাতে পেলাম তাকে। কাল টকশো’র আলোচনার বিষয় ছিল ‘বিএনপি সাম্প্রতিক রাজনীতি’। বিশেষ করে গোলাম আযমপুত্র আবদুল্লাহিল আমান আযমী কতৃক বিএনপিকে কঠোর সমালোচনা, জামায়াতের সমর্থন ছাড়া বিএনপি কোনদিনই বিএনপি ক্ষমতায় যেতে পারেনি, আগামীতেও যেতে পারবে না। শুধু তা ই নয় আযমী বিএনপিকে ‘অকৃতজ্ঞ’ দল হিসেবে চিহ্নিত করে ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন এবং একাত্তর টেলিভিশনের সাক্ষাতকারে যা বলেছেন, সে সম্মন্দে জানার জন্যেই জয়নাল আবেদীন ফারুককে টেলি কনফারেন্স অতিথি হিসেবে সংযুক্ত করেছিলে একাত্তর টেলিভিশন। তিনিও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচীব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতোই প্রতিক্রিয়ায় বলেন,‘গোলাম আযমের পুত্র জামায়াতের কোন পর্যায়েল নেতা বা কর্মী নয়। আমার মনে হয় এটা জামায়াতের প্রতিক্রিয়া নয়। জামায়াত এ ব্যাপারে অনুষ্ঠানিক কোন কিছুই বলেনি। তবে এটা হতে পারে আবদুল্লাহিল আমান আযমীর ব্যক্তিগত মত তাই এ প্রসঙ্গে আমার কিছু বলার নেই।’

তারপরই জয়নাল আবেদীন ফারুক অপ্রাঙ্গিকভাবে গতকালের জাতীয় গ্রীডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ভারত থেকে বিদ্যুত আনার কারণেই এ বিপর্যয় ঘটেছে। একই সাথে তিনি বলেন, আজ বিএনপি প্রধান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাটোরে যে বিশাল জনসভা রয়েছে সেই জনসভায় প্রদত্ত বেগম খালেদা জিয়ার ভাষণ যাতে দেশের মানুষ টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে শুনতে না পারে সে জন্যেই সরকার পরিকল্পিতভাবে জাতীয় গ্রীডে বিপর্যয় ঘটিয়ে সারাদেশকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিয়েছে’।

জয়নাল আবেদীন ফারুকের এ বক্তব্য কতটা অর্বাচিনীয় বক্তব্য তা দেশের প্রতি মানুষ শুনেছে। জয়নাল আবেদীন ফারুকের এ বক্তব্য সম্পর্কে আমার অভিমত হলো বিএনপি ও বিএনপি-জামায়াতের দুই দফা দেশ শাসনকালে জাতীয় গ্রীডে কয়েক দফায় এর চেয়ে ভয়ানক বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে। তখন দুই বা ততোধিক দিনেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা যায়নি। তখনতো ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানী করা হয়নি, তা হলে তখন কেন বার বার জাতীয় গ্রীড ট্রিপ করেছিল, এর জবাব কি ফারুক সাহেব দিতে পারবেন? তাছাড়া বেগম খাদেলা জিয়াতো আগে বিরোধীদলীয় নেত্রী থাকা অবস্থায় এবং বর্তমান সরকারের চলিত মেয়াদে গত এক বৎসরে অনেক জনসভায়ই বক্তৃতা করেছেন। দেশবাসীতো দেখেনি খালেদা জিয়ার বক্তব্য যাতে দেশবাসী শুনতে না পারে সে জন্যে জাতীয় গ্রীডে বিপর্যয় ঘটাতে। আমরা সবাই জানি, বেগম খাদেলা জিয়া বিভিন্ন জনসভায় যে বক্তৃতা দেন তাতো ক্যাসেটের ফিতায় বন্দি একই বক্তব্য বারবার বিভিন্ন জনসভায় দিয়ে থাকেন। নাটোরের জনসভায়ওতো বেগম খালেদা জিয়া নতুন কিছু বলেননি, যা বলেছেন তা তাঁর পুর্ববর্তী বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি ছাড়া কিছু নয়। একজন দায়িত্বশীল নেতা হয়ে তিনি কি করে এমন অভিযোগ করতে পারেন?

শেষ করবো এই বলেই যে, বিএনপি নেতা-নেত্রীদের কথায় বার বার এমনসব আজগুবি কথা জাতিকে শুনতে হচ্ছে। এটা কখনো সুস্থ্যধারার রাজনীতি হতে পারে না। তাদের মনে রাখা উচিৎ কেবল মিথ্যা, গুজব আর অপপ্রচারের ওপর ভিত্তি করে কোন দল টিকে থাকতে পারেনা। এ কথাটা নেতানেত্রীরা যত তাড়াতাড়ি বুঝতে সক্ষম হবে ততই মঙ্গল।