ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

 

সর্বশেষ তথ্য মতে-বর্তমানে আমাদের দেশে কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা বেশি, নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা অনেক কমে যাচ্ছে এটা আমাদের জন্য খুবই ইতিবাচক দিক। বাংলাদেশ জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে অষ্টম এবং এশিয়ার মধ্যে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক কর্মক্ষম মানুষ রয়েছে। এ অবস্থা আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। সাম্প্রতিককালে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড আহরণের সুযোগে বাংলাদেশের অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত। এর একটি বড় অঙ্ক যাতে শতকরা ৬৩ ভাগ লোক অর্থাৎ প্রায় দশ কোটি কর্মক্ষম বয়সসীমায় অবস্থান করছেন। প্রায় দেড়শত বছর পর এমন সুবর্ণসুযোগ এসেছে বলে সম্প্রতি এটিএন নিউজের এক্সট্রা আওয়ার্স-এর আলোচনায় দেশের প্রথম সারির অর্থনীতিবিদরা মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে আমদানী নির্ভর বাংলাদেশে যত বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের প্রয়োজন হয় তার একটি বড় অংশ আসে আমাদের প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছ থেকে। ২০১২ সালে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশের শ্রমিকেরা প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন । প্রতিবছর ১০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি হবে এটা ধরে নিলে ২০১৫ সাল নাগাদ সেটা হবে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ইউএস ডলারের কাছাকাছি। যা আমাদের কর্মক্ষম মানবসম্পদেরই অবদান। তাই এই তরুণ ও যুবশক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চআয়ের দেশের রূপান্তরের ভিশনকে সামনে নিয়ে যে কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে, একে আরও গতিশীল করতে ‘তোমার জয়ে বাংলার জয়’ স্লোগানে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগাতে ‘ইয়ং বাংলা’ নামে একটি নতুন সংগঠন গড়ে অাত্মপ্রকাশ করেছে। ১৫ নভেম্বর ২০১৪ এই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক অভিযাত্রায় শরিক হয়েছিলেন দেশের ৬৪ জেলার প্রায় ২৫০টি তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধি।

সংগঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘তরুণরাই দেশের ভবিষ্যত। তারাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়বে। সারাদেশ থেকে মেধাবী তরুণদের নেতৃত্বের সামনের কাতারে নিয়ে আসতে হবে।’ ‘ইয়ং বাংলা’ নামে তরুণদের নতুন এই সংগঠনটির আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনাকালে প্রতিটি তরুণকে উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ শুধু কর্মসংস্থান তৈরি নয়, তরুণদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করছে। প্রতিটি তরুণই যেন উদ্যোক্তা হয়, তারা চাকরি না খুঁজে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে, অন্যের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারে সেজন্য ক্ষুদ্রঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গত ৫ বছরে সরকার সবচেয়ে বেশি ক্ষুদ্রঋণ দিয়েছে। তিনি বলেন, সরকার গত ৫ বছরে তরুণদের গুরুত্ব দিয়ে নানা উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত করেছে। শিক্ষক, চিকিৎসকসহ সাড়ে ১২ হাজার উদ্যোক্তা তরুণদের মধ্য থেকে নির্বাচিত করা হয়েছে।’

সেন্টার ফর রিসার্স ম্যান্ড ইনিশিয়েটিভের (সিআরআই) উদ্যোগে ‘ইয়ং বাংলা’ প্লাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন তরুণ সংগঠন যুক্ত হয়ে উদ্যোক্তা হওয়ার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা পাবে। অনুষ্ঠানে সিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির শামস বলেন, ‘এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হলো তরুণদের উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা। ইয়ং বাংলা একটি জাতীয় প্লাটফর্ম এবং সিআরই তাদের সাচিবিক সহায়তা দেবে বলে জানান সাব্বির শামস। ইয়ং বাংলার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সর্বস্তরের যুবকদের সমন্বিত করে তাদের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়া তথা রূপকল্প ২০২১ এ অন্তর্ভুক্ত করা।
ইয়ং বাংলার আহ্বায়ক তরুণ সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক বলেন, দেশের চার কোটি তরুণ সমাজকে সম্পৃক্ত করে রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ২০২১ সাল পর্যন্ত ইয়ং বাংলা কার্যক্রম চালাবে বলে জানান উদ্যোক্তারা।
অনুষ্ঠান শেষে সংবাদ সম্মেলনে ইয়ং বাংলার উদ্যোক্তারা বলেন, ‘ইয়ং বাংলার মূল লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের সর্বস্তরের যুবকদের সমন্বিত করে তাদের জাতীয় উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা। যুবসমাজের অর্জনকে প্রচারের মাধ্যমে উজ্জীবিত করা। আর তাদের সম্ভাবনাময় সকল অর্জনের সূচনা ও প্রসারের জন্য একটি সোপান হিসেবে কাজ করা অন্যতম লক্ষ্য।’
ইতমধ্যেই আমরা ‘সিআইএ- দ্যা ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক, এর তথ্যে জানতে পেরেছি যে, যখন কোন দেশের কর্মক্ষম লোকের সংখ্যা আনুপাতিক হারে সবচেয়ে বেশি থাকে তখন একটি দেশ ডেমোগ্রাফিক বোনাসে প্রবেশ করে। ২০১২ সালে আমাদের বাংলাদেশ এ ডেমোগ্রাফিক বোনাস-এ প্রবেশ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জনসংখ্যার ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ বছরের নিচে। ২০১২ সালে বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৬০ মিলিয়ন বা ১৬ কোটি; এই হিসাবে প্রায় ৭ কোটি জনগণ ১৮ বছর এর নিচে। উন্নত এবং উন্নয়নশীল খুব কম দেশই এই বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী পেয়েছে। চীনে বিপুল জনগোষ্ঠী থাকলেও ২০১২ সালে দেশটি ডেমোগ্রাফিক বোনাস থেকে বের হয়ে গেছে, অর্থ্যাৎ দেশটিতে এখন নির্ভরশীল জনগনের সংখ্যা বেশি। এই কথা থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বিভিন্ন উন্নয়নশীল দেশে বেলাও প্রযোজ্য। আর উন্নত বিশ্বের কথা বলতে গেলে সেখানে দিনে দিনে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে নির্ভরশীল মানুষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। খুব বেশি দিন নয় সে সব উন্নত দেশে আগামী ৫০ বছরের মধ্যে কর্মক্ষম মানব সম্পদের পরিমান আশঙ্কাজনক হারে কমে যাবে।

কাজেই ‘ডেমোগ্রাফিক বোনাস’-এর এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ও যুবাকে বাংলাদেশ বিণির্মানের সুযোগ করে দিতে পারলে আমাদের বাংলাদেশ অচিরেই একটি মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবে সে আশা কোনো উচ্চাশা নয়, বরং বাস্তসম্মত। সুতরাং আমাদের উদ্যমী তরুণ ও যুবসমাজকে ‘ইয়াং বাংলা’র পতাকাতলে সমবেত হয়ে দেশ ও নিজেদের ভাগ্যন্নোয়নে এগিয়ে আসতে হবে। কেননা, আমাদের দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ ও যুবাই আমাদের দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।