ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

বর্তমান শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে চাকুরী বিধি লঙ্ঘন করে বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে বৈঠককারী সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা বৈঠক করতে পারেন কি না এ নিয়ে সারা দেশে রাজনীতির মাঠে তোলপার চলছে। গভীর রাতে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে প্রজাতন্ত্রের কর্তকর্তা-কর্মচারীদের এ বৈঠক হয়েছে কি হয়নি, এ নিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে স্ববিরোধী কথা বলা হচ্ছে। বিএনপির ভারভাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর এ ধরনের বৈঠকের কথা সরাসরি অস্বীকার করে প্রতিদিনই কোন না কোন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিয়ে অথবা বিবৃতির মাধ্যমে বলেছেন,‘ এ বৈঠকের খবরটি আদৌ সত্য নয়। বিএনপি চেয়ারপার্সনের সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তাদের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের খবরটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার জন্য অপপ্রচার করা হচ্ছে। রাজনৈতিক হীন উদ্দেশে এ সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে। এ ধরনের অসত্য খবর প্রচারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান তিনি। কিন্তু অপর দিকে বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, হান্নান শাহ, শমসের মুবিন চৌধুরীরা পরোক্ষাভাবে বৈঠকের কথা স্বীকার করে বলেছেন,‘সরকারের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও অত্যাচার-নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সাথে এ ধরনের বৈঠক করতেই পারেন, এতে দোষ বা অন্যায়ের কিছু নেই। খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তাদের বৈঠক প্রসঙ্গে তার প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল বলেন, বৈঠক নয়, ওনারা দেখা করতে এসেছিলেন। আর তারা তো আসতেই পারেন। শেখ হাসিনার সঙ্গে জনতার মঞ্চে যাওয়া আমলারা দেখা করতে পারলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সরকারী কর্মকর্তারা দেখা করতে পারবেন না কেন? এ হলো বিএনপি নেতাদের সবিরোধী কথাবার্তা। এতে যে তারা ভীষণ বিব্রত তা তাদের স্ববিরোধী কথাবর্তায় ফুটে ওঠে।

৪ ডিসেম্বর ২০১৪ বৃহস্পতিবার রাতে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের চাকরিচ্যুত কর্মচারী মোঃ তোহা গ্রুপের ১৫-১৮ কর্মকর্তা-কর্মচারী খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয়ে আসেন। রাত ৯টার কিছু সময় পরে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। সাড়ে ৯টার দিকে তাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইবরাহিম মিয়াজী, মুজিবুল হক (আইএমইডি), মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, আজিমউদ্দিন, আবদুল মান্নান, তৌফিকুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম, একেএম হুমায়ুন কবির, বাদিউল কবির, শহিদুল হক, মামুন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা যায়।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক এপিডি (যুগ্ম-সচিব) একেএম জাহাঙ্গীরের নেতৃত্বে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সচিবালয়ে বিএনপিপন্থী সহকারী সচিব আবদুল খালেক ও প্রশাসনকি কর্মকর্তা বখতিয়ার গ্রুপকে বাদ দেয়ার কারণে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায়। বখতিয়ার গ্রুপ সচিবালয়ে বিএনপিপন্থী সক্রিয় গ্রুপ হিসেবে পরিচিত। বৃহস্পতিবার দুপুরে খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে জানাজানি হওয়ায় পরে একেএম জাহাঙ্গীর সেখানে যাননি। সূত্রমতে তারা বর্তমান সরকারকে দ্রুত ক্ষমতাচ্যুত করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এ বৈঠক করেছেন। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীর কয়েকজন ছিলেন উত্তরা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। এর মধ্যে সাবেক এপিডি ও বর্তমানে ওএসডি যুগ্ম সচিব একেএম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম মিয়াজি উত্তরা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া বৈঠকে সাবেক সচিবদের মধ্যে ছিলেন শমসের মবিন চৌধুরী, সাবিহ উদ্দিন আহমেদ, এম এ কাইয়ুম, সাবেক কেবিনেট সচিব এম এ হালিম। সূত্র মতে, খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়া সরকারী কর্মকর্তারা সচিবালয়ে নিয়মিত বিএনপি-জামায়াতপন্থী কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করতেন। তারা জনতার মঞ্চের আদলে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এর আগে তারাই সচিবালয়ে সরকারবিরোধী লিফলেট ছেড়েছিলেন।
বিএনপি নেত্রীর গুলশান কার্যালয়ে প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে খালেদা জিয়ার এ ধরনের বৈঠক নিয়ে রাজনীতির মাঠে তোলপাড় চলছে। সিসিটিভির ফুটেজে ধরা পড়েছে বৈঠককারীদের ছবি। তাই মূল উদ্যোক্তাদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা একই সাথে তদন্ত কমিটি গঠন করে বৈঠককারীদের খুঁজছে সরকার। ভিডিও ফুটেজ দেখে ইতমধ্যেই যে সব সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈঠকে যোগদান করেছিল যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে এর সত্যতা পেলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা জানা গেছে। গোয়েন্দারা বলেছেন, ওএসডি যুগ্ম সচিব একেএম জাহাঙ্গীর হোসেনের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে যোগদানকারী সদস্যের অধিকাংশই সচিবালয়ে কর্মরত দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারী। ধানমন্ডিতে বসবাসকারী এই আমলার নেতৃত্বে সরকারবিরোধী ২৫-৩০ জনের একটি গ্রুপ এর আগে সচিবালয় এলাকায় নানা ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। গোয়েন্দা নজরদারিতে থাকায় তাদের কার্যক্রম ধোপে টেকেনি। আবার তাদের মধ্যেও রয়েছে নেতৃত্ব নিয়ে ঠেলাঠেলি। এ কারণেই বৈঠকে অনুপস্থিত অপর আরেকটি গ্রুপ সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ করে দেয়। ৪ ডিসেম্বর রাতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দু’ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন বিএনপি-জামায়াতপন্থী প্রায় ২০ বর্তমান ও সাবেক সরকারী কর্মকর্তা। এদিকে খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত হওয়া সচিবালয়ের ৯ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চিহ্নিত করেছে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা। ওই ৯ কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন যুগ্ম সচিব (ওএসডি) এ কে এম জাহাঙ্গীর হোসেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইব্রাহিম মিয়াজি, সিনিয়র সহকারী সচিব (ওএসডি) এহসানুল হক, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা বাদিউল কবির, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের নুরুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আব্দুল মান্নান ও এ কে এম হুমায়ুন কবীর, তথ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস সহকারী শহীদুল হক ও এজি অফিসের কর্মচারী আব্দুল মান্নান।
বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘জামায়াত-বিএনপি পন্থী কর্মকর্তাদের পাশাপাশি সরকারের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত কোন কোন কর্মকর্তা পর্দার আড়াল কলকাঠি নাড়ছেন। সরকার সমর্থক এই সকল কর্মকর্তার চরিত্র ধরা পড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সময় তাদের দূরে ঠেলে দিয়েছে সরকার। কেউ কেউ ছিটকে পড়েছেন সরকারের আস্থা থেকে। চুক্তিভিত্তিক চাকরির মেয়াদ বৃদ্ধি না পাওয়া, ভাল পদায়ন না হওয়া, প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ছিটকে পড়াসহ বিভিন্ন কারণে তারা সরকারের বিরুদ্ধে অবস্থান করছেন। সুযোগসন্ধানী এসব কর্মকর্তা গোপনে বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করছেন। ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে ফ্রন্টলাইনে না গিয়ে এ সকল কর্মকর্তা, এও, পিওসহ তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের ব্যবহার করছেন। সময়মতো তারা সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাবেন। সংবাদ মাধ্যমের খবর থেকে আরও জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া বৈঠকে অংশ নেয়া সরকারী কর্মকর্তাদের বলেছেন, সময় হলে আপনাদের মূল্যায়ন করা হবে। আপনারা যথাসময়ে আমাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত সাড়া দেবেন। এ সময় সরকারী কর্মকর্তারাও তাদের সাধ্যমতো সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচীতে সহায়তা করার আশ্বাস দেন। বৈঠকে খালেদা জিয়া তাদের সরকারবিরোধী আন্দোলনের জন্য সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভেতরে ভেতরে আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। অতীতে সরকারী কর্মকর্তারা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এবারও তিনি যখন আন্দোলনের ডাক দেবেন তখন যেন তারা অতীতের মতো রাজপথে নেমে আসেন।

জনতার মঞ্চ সরকারী কর্মকর্তারা ১৯৯৬ সালে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটায়। ২৩ মার্চ ঢাকা শহরের মেয়র ও আওয়ামী লীগের নেতা প্রেসক্লাবের সামনে ‘জনতার মঞ্চ’ নামে বিশাল এক মঞ্চ তৈরি করেন। সরকারী ও আধা সরকারী সংস্থাগুলোর কর্মচারীরা বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে মিলে আন্দোলনে সমর্থন দিয়ে ‘জনতার মঞ্চে’ শামিল হতে থাকেন। বেসামরিক কর্মকর্তাদের নেয়া এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ দেশের প্রশাসনিক শৃঙ্খলাকে ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়। বেসামরিক প্রশাসন তখন থেকেই কার্যত দলীয় ভিত্তিতে বিভাজিত হয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রহসনের নির্বাচনের পর ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বে ৪৭ সদস্যের একটি নয়া মন্ত্রিপরিষদ শপথ গ্রহণ করে। একই দিনে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন যে, সংবিধানে একটি উপযুক্ত সংশোধনী আনা হবে যাতে আগামী সাধারণ নির্বাচন একটি নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি যখন বিরোধী দলের দাবি মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন তখন সংসদ ভবনের আশপাশের এলাকা এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। রাজধানীতে নির্বিচারে যানবাহন, পেট্রলপাম্প, দোকানপাট ও সরকারী বাসভবনগুলোতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ১৯৯৬ সালের ২৫ মার্চ রাতভর আলোচনা শেষে ভোরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস এবং সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২৬ মার্চ সকাল ৬টায় জাতীয় সংসদে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাসের পর সংক্ষিপ্ত ভাষণে বলেন, আমি আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ করলাম। ৩০ মার্চ সন্ধ্যায় সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর অধীনে সর্বশেষ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান প্রধান উপদেষ্টা ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ নেন। বেগম খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা উভয়েই সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর পর বহুল আলোচিত ওয়ান-ইলেভেনের আগে সাবেক রাষ্ট্রপতি ড. ইয়াজউদ্দীন আহম্মদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে উত্তরায় কিছুসংখ্যক আমলার উদ্যোগে এক যড়যন্ত্রমূলক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠক দেশের রাজনীতিতে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছিল। গত চারদলীয় জোট সরকারের কাছের কিছু আমলার সমন্বিত উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৪ নভেম্বর শুক্রবার রাতে রাজধানীর উত্তরার ১ নম্বর সেক্টরের ৭ নম্বর সড়কের ১৬ নম্বর বাড়িতে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বাড়ির মালিক ছিলেন বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত পেশাজীবী পরিষদের নেতা ও চারদলীয় জোট সরকারের জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান। নির্বাচনকে সামনে রেখে আমলাদের এ ধরনের বৈঠককে যড়যন্ত্র এবং আবারো চারদলীয় জোটকে ক্ষমতায় বসানোর নীলনকশা হিসেবে অভিহিত করেন তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগসহ সুশীল সমাজের লোকজন। গোপন ও ষড়যন্ত্রমূলক বৈঠকে সচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের যোগদানকারী কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদুল আলম, আব্দুল কাইয়ুম, আব্দুল আজিজ সরদার, ফজলুর রহমান, জহুরুল ইসলাম, আ ন হ আক্তার হোসেন, আব্দুল মতিন চৌধুরী, বদরুল আলম তরফদার, আজহার আলী, ড. আব্দুস সবুর, আব্দুস সবুর, হারুনুর রশিদ, আব্দুল বারী, মাহফুজুল হক, মজিবুর রহমান, শামসুল আলম, এ কে এম জাহাঙ্গীর, আব্দুল খালেক, জাকির হোসেন কামাল, জাহাঙ্গীর আলম, আলমগীর হোসেন, এ এস এম সালেহ, ড. জাকিরুল ইসলাম, আব্দুল মতিন, মো. ইয়াহিয়া, আবু তালেব, লোকমান হোসেন, আফজাল হোসেন, সালাহউদ্দিন নাগরী, নাসিরউদ্দৌলা, ফিরোজ মাহমুদ, ফরিদুল ইসলাম প্রমুখ। উত্তরায় পৌনে দুঘণ্টা বৈঠক চলার পর এতে উপস্থিত এক কর্মকর্তা মোবাইলে খবর পান বাড়ির বাইরে সাংবাদিক ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন অপেক্ষা করছে। এরপর বৈঠক শেষ করেই সবাই বেরিয়ে যান। বিএনপি নেতা মাহমুদুর রহমান কৌশলে সাংবাদিকদের দূরে ডেকে নিয়ে কথা বলার সময় কর্মকর্তারা কেউ পালিয়ে, কেউ মুখ লুকিয়ে চলে যান। ওই সময় বাড়ির বৈদ্যুতিক মেইন সুইচ বন্ধ করে দিয়ে কর্মকর্তাদের পালিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।

শেষ করবো এই বলেই যে, উপরোক্ত আলোচনা থেকে স্পষ্ট যে, বিভিন্ন সরকারের আমলে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীরা বিভিন্ন সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে বিরোধীদলের নেতাদের সাথে অনেক সময় আঁতাত করে থাকে। আঁতাতের পাশাপাশি সরকার হটানোর ষড়যন্ত্রও হয়েছে এর আগে। তবে জনতার মঞ্চের সাথে উত্তরা ও গুলশান ষড়যন্ত্রের চরিত্রগত পার্থক্য রয়েছে। কেননা, বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট বিরোধী দলের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিকে পাত্তা না দিয়ে সব দলের বর্জনের মুখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি এক তরফা নির্বাচন করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার অপচেষ্টা করলে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের অপ্রতিরোধ্য আন্দোলনের এক পর্যায়ে প্রেস ক্লাবের সামনে ঢাকার প্রথম নির্বাচিত মেয়র মুহম্মদ হানিফের নেতৃত্বে জনতার যে জনতার মঞ্চ তৈরি করে তাতে প্রকাশ্যে তখনকার চারদলীয় বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রশাসনের নাকের ডগায় সে সরকারের প্রতি অনান্থা জানিয়ে রাজনৈতিক সকল বিরোধী রাজনৈতিক দল ও জনসাধানের সাথে একাত্বতা ঘোষণা করে সচিবালয়সহ বিভিন্ন দপ্তর অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারিরা চার দলীয় জোট সরকারের প্রতি বিদ্রোহ ঘোষণা করে রাজপথে নেমে এসে জনতার মঞ্চে যোগ দিয়ে সরকার পতনের আন্দোলনকে আরো বেগবান করে তুলে। এ গণআন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের পতন ঘটে। তাই এক কথায় বলতে গেলে ওই আন্দোলন ছিল এক ধরনের বিপ্লব বা গণঅভ্যূত্থান। আর উত্তরা ও গুলশান ষড়যন্ত্র হলো সরকার পতনের লক্ষ্যে গভীর রাতের রাতের ষড়যন্ত্র। কাজেই দুটো বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়। কেননা এভাবে মধ্যরাতে গোপন ষড়যন্ত্র করে কখনো কোন সরকার পতন ঘটানো সম্ভব নয়। সরকারের পতন ঘটাতে চাই কার্যকরী জনসম্পৃক্ত গণঅভ্যূত্থান। আর গণঅভ্যূত্থানে যোগদানকারীদের কে রাজনৈতিক নেতা আর কে সরকারী কর্মচারী তা বিবেচনায় নেয় না জনগণ।