ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য বার বার বুলেট-বোমার টার্গেট করা হলেও প্রতিবারই ব্যর্থ হয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ছাড়া সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেও পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও তাদের বাংলাদেশের এজেন্টরা আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের চাকাকে স্তব্দ করতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকান্ডের পর বাংলাদেশকে একুশ বছর লুটের ও ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করে রাখতে সফল হলেও দীর্ঘ একুশ বছর পর শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হয়ে বাংলাদেশের উন্নয়নের মাইলফলকে এক একটি সাফল্যের পালক সংযোজন করে চলেছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার ও ৩রা নভেম্বর জেলখানায় জাতীয় চার নেতার হত্যাকান্ডের বিচার সম্পন্ন ও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে শেখ হাসিনা সবচেয়ে স্পর্শকাত ও বড় কাজ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাজ শুরু করে ইতোমধ্যে কয়েকজনকে ফাঁসি আমৃত্যু কারাদন্ডের ব্যবস্থা করে পৃথিবীর যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে সবচেয়ে স্বচ্ছ ও আইনী প্রক্রিয়ার বিচারের ব্যবস্থা করে পৃথিবীর বুকে উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থান করেছেন।
তাই পাকিস্তানী গোয়েন্দ সংস্থা ও তাদের এদেশীয় এজেন্টরা শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য একের পর এক মরিয়া চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু আল্লাহর অসীম মেহেরবাণী ও ভাগ্যগুণে তিনি ষড়যন্ত্রকারী গুলি-বোমা-গ্রেনেড হামলার বিভীষিকা থেকে রক্ষা পেয়ে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করে এদেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তাই ষড়যন্ত্রকারীরা উগ্র জঙ্গীদের সাথে আঁতাত করে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আগেও শেখ হাসিনাকে হত্যা করার জন্য ১২ বার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। আসুন এ পর্যায়ে আগে কি ভাবে ১২ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল তার একটি বিববরণ পাঠকদের অবগতির জন্য এখানে তুলে ধরা হলো:
১৯৮১ সালে দেশে ফিরে শেখ হাসিনা যখন আওয়ামী লীগের হাল ধরেন তখন থেকেই বিএনপি, জামাত সহ প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী বাবার মতো শেখ হাসিনাকে করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্রে সক্রিয়। ১৯৮৭ সালের ১০ নভেম্বর শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টায় সৈরাচারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে সচিবালয়ের সামনে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। এ সময় আওয়ামী লীগ কর্মী নূর হোসেন মারা যান। ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে মিছিল করে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে মিছিলে হামলা হয়। শেখ হাসিনার গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেদিন প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী নিহত হয়। ১৯৮৮ সালের ১৫ আগস্ট। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে থাকা অবস্থায় ফ্রিডম পার্টির অস্ত্রধারী’রা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য গুলি ও গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। ১৯৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর; জাতীয় সংসদের উপনির্বাচনের সময় ধানমন্ডির গ্রীনরোডে শেখ হাসিনা ভোটকেদ্রে পরিদর্শন করতে গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। অল্পের জন্য তখন তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ১৯৯৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ট্রেনমার্চ করার সময় ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনের বগি লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। সেই গুলিও লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় সেই ট্রেনমার্চ কর্মসূচীতে বেঁচে যায়। ১৯৯৫ সালের মার্চ মাসের কথা। আওয়ামী লীগ আয়োজিত পথে পথে এক জনসভায় বোমা হামলা চালানো হয়। তখন দলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। ১৯৯৬ সালের মার্চ মাসে এক অনুষ্ঠান থেকে বের হওয়ার সময় কার্জন হল থেকে অস্ত্রধারীরা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। ২০০০ সালের ২০ জুলাই শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় জনসভাস্থলের কাছে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুঁতে রাখা হয়েছিল। আর এই বোমা গোয়েন্দাদের কাছে ধরা পড়ে। বোমাটি বিস্ফোরিত হলে শেখ হাসিনাসহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত জনসভাস্থল ও তার আশে পাশের অবস্থান। ২০০১ সালের ২৯ মে খুলনার রূপসা সেতুর কাজ উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার; ঘাতকচক্ররা সেখানে বোমা পুঁতে রাখে। গোয়েন্দা পুলিশ তা উদ্ধার করে। ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার কলারোয়াতে শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে জামাত –বিএনপি চক্র ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে । অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পান তিনি। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল বরিশালের গৌরনদীতে শেখ হাসিনার গাড়ী বহরে গুলিবর্ষণ করে জামাত-বিএনপির ঘাতক চক্র। ২০০৪ সালের ২১ শে আগস্ট। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশে সমাবেশস্থলে একের পর এক ছোড়া হয় আর্জেজ গ্রেনেড। রচিত হয় ইতিহাসের বর্বরচিত আরেক কালো অধ্যায়। শেখ হাসিনা যে ট্রাকে উঠে বক্তব্য দিচ্ছিলেন সেই ট্রাকে বৃষ্টির মত নিক্ষেপ করেছে আর্জেজ গ্রেনেড। শুধু গ্রেনেড হামলা করেই স্বাধীনতা বিরোধীচক্র ও তাদের দোসররা ক্ষান্ত হয়নি, শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে একের পর এক বুলেট চালিয়েছিল যা বুলেটপ্রুফ গাড়ী এবং দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম তৈরি করে সেদিন সময় শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও বিএনপি-জামায়াত ইসলামের বর্বরচিত গ্রেনেড হামলায় নিহত হয় আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতাকর্মী। আহত ও পঙ্গুত্ব জীবন বরণ করতে হয়েছে প্রায় ৩’শ নেতাকর্মীকে।
তাই, এখন ষড়যন্ত্রকারী গুলি-বোমা ও গ্রেনেড হামলা চালিয়ে বার বার ব্যর্থ হয়ে পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থা ও তাদের বাংলাদেশের এজেন্টদের মদদে শেখ হাসিনাকে হত্যার করার জন্য বিএনপি-জামায়াত মদদপুষ্ট জঙ্গীরা ভয়ানক ড্রোন হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে। জঙ্গীদের এমন একটি ভয়াবহ পরিকল্পনার কথা আগেবাগেই গোয়েন্দা সংস্থা জেনে যাওয়ার কারণে সে পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে গেছে। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন শহীদ ফারুক হোসেন সড়ক এলাকা থেকে কোয়াড হেলিকপ্টার বা ড্রোনের কাঠের তৈরি একটি রেপ্লিকা, ড্রোন তৈরির সরঞ্জাম, বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক ডিভাইস ও উগ্রমতবাদ সংবলিত বইপত্রসহ ডিবির হাতে গ্রেফতার হয় মোঃ তানজিল হোসেন বাবু (২৬) ও মোঃ গোলাম মাওলা মোহন (২৫)। তারা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সক্রিয় সদস্য। সন্ত্রাস বিরোধী আইনে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়েরকৃত মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।
বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে দেশের প্রায় সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে বিস্ফোরক ভর্তি চালকবিহীন ড্রোন দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার মিশন বাস্তবায়নে মরিয়া জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা ও গণভবন। ড্রোন দিয়ে গণভবনে হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যার পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত আরও ৪ জনকে হন্যে হয়ে খুঁজছে গোয়েন্দারা। গুপ্তহত্যার মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমসহ অন্যান্য জঙ্গী সংগঠনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে স্বাধীনতাবিরোধীরা। ড্রোনের রেপ্লিকাসহ গ্রেফতারকৃত আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের দুই সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদসহ বিভিন্ন সূত্রে এমন তথ্য পেয়েছে গোয়েন্দারা।
বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সাংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে যে, শুধু জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নয়, বাংলাদেশের প্রতিটি জঙ্গী সংগঠনকেই স্বাধীনতা বিরোধীরা শেখ হাসিনার ওপর ড্রোন হামলা চালানোর জন্য মদদ ও অর্থ সহযোগিতা করছে। তারা চায় শেখ হাসিনাকে হত্যা করে বাংলাদেশে ইসলামী শাসন ব্যবস্থা কায়েম করতে। এজন্য যেসব সংগঠন ইসলামী শাসন ব্যবস্থার পক্ষে তাদের সহায়তা করে স্বাধীনতা বিরোধীরা। তারা ইসলামের দোহাই দিয়ে জঙ্গী সংগঠনগুলোকে একত্রিত করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। দেশে গুপ্তহত্যার মাধ্যমে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকেও কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।
২০০৯ সালে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হয় হিজবুত তাহরীর নামে জঙ্গী সংগঠনটি। নিষিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই জঙ্গী সংগঠনটি আনসারুল্লাহ বাংলা টিম নামে সংগঠিত হতে থাকে। তারা আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চরমভাবে ক্ষিপ্ত। সংগঠনের সদস্যরা ৪ থেকে ৫ জনের একেকটি দলে বিভক্ত হয়ে স্লিপার সেল পদ্ধতিতে কার্যক্রম চালাতে থাকে। যাতে একটি দল ধরা পড়লেও আরেকটি দল সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ না পায়। তারা ইসলামী শাসন কায়েমের পক্ষে। এমন আদর্শের কারণে স্বাধীনতা বিরোধীরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিমকে নানাভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে। স্বাধীনতা বিরোধীরা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, জেএমবি, হিযবুত তাহরীর ও হুজি জঙ্গীদের দিয়ে দেশে গুপ্তহত্যা চালিয়ে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতাচ্যুত করার ক্ষেত্র তৈরি করার একের পর এক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের গোয়েন্দ বাহিনী ও আইন-শৃংখলা রক্ষাবাহিনীর কঠোর নজরদারীর কারণে অপারেশনের আগে এরা ধরা পড়ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যা করে নিষিদ্ধ করার বদলা নিতে চায় আনসারুল্লাহ বাংলা টিমে থাকা হিযবুত তাহরীর সদস্যরা। ক্ষমতায় থাকাকালে সেটি প্রায় অসম্ভব বিধায় তারা ড্রোন আবিষ্কারের চেষ্টা করছে। তাদের হামলার প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা ও গণভবন। তৃতীয় মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা লাভের পর জঙ্গী সংগঠনগুলো আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বিশেষ করে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ড্রোন দিয়ে ২৫ থেকে ৩০ তলা উঁচু ভবনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছিল। তারা ২৫ থেকে ৩০ কেজি ওজনের বিস্ফোরক বহনে সক্ষম একটি চালকবিহীন ড্রোন তৈরির দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল। বিস্ফোরক ভর্তি ড্রোনে আকাশপথ দিয়ে দূর নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র দ্বারা গণভবনে হামলা চালানোর পরিকল্পনাও ছিল তাদের। পুরো প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করতে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের সিংহভাগ আসার কথা ছিল স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছ থেকে।
গোয়েন্দারা বলছেন জঙ্গীদের প্রধান টার্গেট শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনাকে হত্যা করতেই নানা মিশন নিয়ে নেমেছে তারা। তারই ধারাবাহিকতায় সব জঙ্গী সংগঠন একত্রিত হওয়ার চেষ্টা করছে। নিজেদের মধ্যে প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে উন্নতমানের মারণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। সেই সূত্র ধরেই চালকবিহীন আধুনিক ড্রোন আবিষ্কার করছিল তারা। ড্রোন আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তেও পৌঁছে গিয়েছিল আনসারুল্লাহ বাংলা টিম। জঙ্গীরা মনে করেছে গণভবনে হামলা করে শেখ হাসিনাকে হত্যা করা সহজ হবে, এমন ভাবনা থেকেই আনসারুল্লাহ বাংলা টিম ড্রোন তৈরি করছিল। বিস্ফোরক ভর্তি করে ড্রোনটি দিয়ে গণভবনে হামলা চালানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। গণভবন, বিমানবন্দরসহ বিভিন্নস্থানে যে মানুষবিহীন আকাশযান ‘ড্রোন’ হামলা ও প্রস্তুতকারী জঙ্গী সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলাটিমের সঙ্গে আল কায়েদার নেতৃত্বাধীন সমষ্টিগত জঙ্গী জোটের যোগসূত্র আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখছে গোয়েন্দারা।
উপসংহার টানবো এই বলেই, নাইজিরিয়ায় বোকো হারাম যেভাবে একের পর এক স্কুলছাত্র ও ছাত্রীদের ওপর হামলা করে চলেছে; সে রকম হামলার কথা গোয়েন্দারা উড়িয়ে দিতে পারছে না। নাইজিরিয়ায় বোকো হারাম-এর মতো এমন একটি জঘন্য হামলা ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানে দেখেছে বিশ্ববাসী। তাই বাংলাদেশ যে এদের পরবর্তী টার্গেট হবে না তা ই বা কে বলতে পারে। সুতরাং বাংলাদেশের প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিককে এসব জঙ্গীদের ব্যপারে সুক্ষ্ম দৃষ্টি রাখতে হবে যাতে কিছুতেই ইসলামী হুকুমত কায়েমের নামে মানবতাবিরোধী জঙ্গীগোষ্ঠী আমাদের দেশকেও আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মতো অকার্যকর জঙ্গীরাষ্ট্রে পরিনত করতে না পারে।