ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

এখন বাজে সন্ধ্যা ৭:৩০টা। কয়েকটি চ্যনেলের খবরের ওপর চোখ বুলিয়ে লিখতে বসলাম। আমাগীকাল কি ধরনের নাশকতা বা বিশৃংখলা সৃষ্টি হতে পারে তার কিছুটা আলামত দেখতে পেলাম বিভিন্ন টিভি চ্যানেলের খবরে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ইতোমধ্যে নাশকতার সৃষ্টি করেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন জায়গায় যানবাহন ভাঙচুর ও বাসে আগুন দেয়া হয়েছে। পুরাণ ঢাকায় হাজী সেলিম এমপির এক শালিস বৈঠকে বোমা হামলা করা হয়েছে, এতে একজন নিহত হয়েছে।

আগামীকাল সোমবার বহুল আলোচিত ৫ জানুয়ারি। ভয়াবহ নৃশসতা ও সহিংসতার পরও ৫ জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত। সে ভয়াল নাশকতার পরও সারা দেশে ৪০ শতাংশের ও বেশি ভোট কাস্টিং এর মাধ্যমে এদিন গণতন্ত্রের নবযাত্রার দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্ণ হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ও ১৪ দল এ দিনটিকে পালন করতে চায় ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে, আর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দিনটিকে পালন করতে চায় ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ বিএনপি মুখোমুখি অবস্থানে। দুই দলের এই মুখোমুখি অবস্থানে ৫ জানুয়ারি ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে রাজনৈতিক অঙ্গন তথা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে। দুই দলের হার্ডলাইনে অবস্থানের কারণে চরম উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। এ নিয়ে উৎকন্ঠা প্রকাশ করে দেশের প্রায় প্রত্যেকটি সংবাদপত্রই প্রধান শিরোনাম করেছে বিষয়টিকে। শাসক দল আওয়ামী বলছে, সোমবার বিএনপি-জামায়াতকে রাজপথে নামতেই দেয়া হবে না। সারাদেশের রাজপথ থাকবে আওয়ামী লীগের দখলে। অপরদিকে পাল্টা হুঙ্কার ছেড়ে বিএনপি বলেছে, যে কোন মূল্যে সোমবার তারা ঢাকাসহ সারাদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করবেই। বাধা দিলেই পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। স্পর্শকাতর প্রতিটি স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলাবাহিনী মোতায়েনসহ ওই দিন পুরো বাহিনীকে যে কোন ধরনের নাশকতা দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানে থাকারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আগামীকাল ঢাকার প্রতিটি প্রবেশমুখেও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হবে।

আওয়ামী লীগের নেতাদের কথা ও বক্তব্যে বোঝা যাচ্ছে ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে মোটেও শঙ্কিত নয় শাসক দলটি। । তাদের কথা হলো সম্পূর্ণ জনবিচ্ছিন্ন ও হতাশাগ্রস্ত দলের নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতেই ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে মিডিয়ার মাধ্যমে উত্তাপ-উৎকণ্ঠা ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিএনপি। তবে তারা যতই হুমকি দিক, ৫ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তির কাছে এক মিনিটও টিকতে পারবে না বিএনপি। জামায়াত-শিবিরের ক্যাডার-সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিএনপি যদি আগামীকাল কোন ধরনের নাশকতার চেষ্টা করে তবে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাৎক্ষণিক গণপ্রতিরোধ তুলবে আওয়ামী লীগ।’

বিভিন্ন গোয়েন্দা বাহিনীর তথ্যে জানা গেছে, ৫ জানুয়ারির দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানের সুযোগ নিতে চায় জামায়াত-শিবির। এজন্য তাদের ব্যাপক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তারা বিএনপিকে সামনে রেখে সমাবেশ বা মিছিলের মধ্যভাগে থাকবে। আইন-শৃংখলা বাহিনী বা শাসকদলের নেতাকর্মীদের প্রতিরোধ সামলাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ব্যর্থ হলে তারা এগিয়ে আসবে তখন নাশকতা সৃষ্টি করতে যা যা প্রয়োজন তা ই করবে জামায়াত শিবিরের নেতাকর্মী ও ক্যাডার বাহিনী। কালকের বিএনপি তথা ২০ দলের সমাবেশের আড়ালে কি ধরনের নাশকতা হতে পারে গোয়েন্দা সূত্রে তা অবগত হয়েছেন সরকার ও আওয়ামী লীগের নেতারা, তাই আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন ৫ জানুয়ারি বিএনপি-জামায়াত বিশৃঙ্খলা করলে তাদের রাজপথেই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রতিহত করবে। এদের (বিএনপি) শক্তি শেষ হলেও ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে। বিএনপি বেশি বাড়াবাড়ি করলে রাজপথেই তার দাতভাঙ্গা জবাব দেয়া হবে।

৫ জানুয়ারি প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশ করার না পেলে এর পরিবর্তে যেকোন মূল্যে রাজপথে সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনে গোপনে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুমতি পাবেন না ধরে নিয়েই নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করতে চাচ্ছে তারা। এখানে সমাবেশের অনুমতি পেলে রাজধানীর বিভিন্নস্থানে ঝটিকা সভা-সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে শোডাউন করবে বিএনপি। সমাবেশের অনুমতি না পেলে আগামীকাল রাজধানীসহ বিচ্ছিন্নভাবে সারাদেশের অলিতেগলিতে কালো পতাকা মিছিল করার চেষ্টা করবে তারা। সেটিও সম্ভব না হলে দেশব্যাপী হরতাল ডাকাও হতে পারে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে ৫ জানুয়ারি যেকোন মূল্যে কর্মসূচী পালনের কথা জোরগলায় বলা হলেও শেষ পর্যন্ত এ অবস্থানে থাকতে পারবে কিনা, এ নিয়ে টেনশনে আছে বিএনপির হাই কমান্ড থেকে তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও।

তবে ৫ জানুয়ারি কি হতে পারে এ সন্মন্ধে নাশকতা ও নৈরাজ্যের আশঙ্কা করে সরকারের যথাযথ কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিয়েছে গোয়েন্দা সংস্থা। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে রাজধানীতে কোন সমাবেশ করার অনুমতি দিচ্ছে না ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধাপরাধী ও জঙ্গী গোষ্ঠীগুলো ৫ জানুয়ারির সমাবেশের আড়ালে মাঠে নামার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে। এ জন্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের যুদ্ধাপরাধীর পক্ষের দল ও উগ্র মৌলবাদী ধর্মান্ধ দলগুলোর পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ সমর্থন ও সহযোগিতা পাচ্ছে।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ শনিবারও বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটকে রাজধানীর কোথাও সমাবেশ করার অনুমতি দেয়নি। সমাবেশের অনুমতি চেয়ে আবেদনের পর শনিবার সকালে দ্বিতীয় দফায় ঢাকায় ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিফল হন বিএনপি নেতারা। এ ব্যপারে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার বলেছেন, ‘যে-ই আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের চেষ্টা করবে, সেখানেই আমরা সচেষ্ট হব, নাশকতা করার চেষ্টা হলে আমরা তা প্রতিহত করব।’

শেষ করেবো এই বলে যে, আজ বিকেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ভাবে যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ একজন নিহত হওয়াসহ অনেক লোক আহত হওয়ার খবর মানুষ দেখেছে, তাতে যে কেউ শংকিত না হয়ে থাকতে পারে না। এ নিয়ে মানুষের উদ্বেগ-উৎকন্ঠার শেষ নেই। কাল দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে দেশের রাজনৈতক অবস্থা যে আরও কোন ভয়াভহ পরিস্থিতির দিকে মোড় নেয় কিনা তা উদ্বেগাকূল দেশের প্রতিটি নাগরিক। দেশের মানুষ কোন অশান্তি বা নাশকতা চায়না। তারা চায় শান্তিপূর্ণভাবেই এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।