ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

আমাদের রাজনীতিবিদরা জনগণের নামে নিজেদের সকল অপকর্ম চালিয়ে দিয়ে দীর্ঘদিন থেকেই এক ধরনের ধোঁকাবাজি ও ঠকবাজি করে আসছে। ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই’ এই আপ্তবাক্য প্রয়োগ করে তারা সব সময়ই ধোঁকাবাজির সুযোগটি গ্রহণ করে। কিন্তু তাঁরা একবারও ভেবে দেখে না ধোঁকাবাজির খেলায় সব সময় জেতা যায় না। জনগণ এখন রাজনীতি বিষয়ে এতটাই সচেতন হয়ে ওঠেছে যে, আগে বার বার ধোঁকাবাজি বা পল্টি খেলেও এখন তাদের মধ্যে অনেক রাজনৈতিক পরিপক্কতা এসেছে। গ্রামে-গঞ্জে চায়ের দোকানে একটু ধৈর্য ধরে বসে কান খাড়া করলেই তাদের রাজনীতি বিষয়ে আলাপ আলোচনা শুনলে মনে হবে যে, তারা রাজনীতিবিদদের চেয়ে কম জানে না। এদের কাউকে কাউকে রাজনীতিবিদদের চেয়েও বড় রাজনীতিবিদ বলেই মনে হয়। আর এই রাজনৈতিক সচেতনার মূলে কাজ করেছে আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রিন্ট ও ইলেকক্টনিক মিডিয়ার প্রচার ও প্রসার প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে যাওয়ার কারণেই।

১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে যতগুলো নির্বাচন হয়েছে, তার প্রায় প্রতিটি নির্বাচনেই বিএনপি-জামায়াত ও এদের মিত্রদের কথায় বিশ্বাস করে বার বার ঠকেছে এদেশের সহজ-সরল সাধারণ মানুষ। নির্বাচন এলেই তারা জনগণকে মিথ্যা ভারত জুজু ও ভারতীয় আগ্রাসনের ভয় দেখিয়ে তাদের সরল বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণের মধ্যে সে বোধদয়ের কারণেই ১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেই ‘গণেশ উল্টে যায়’। ততদিনে তারা বোঝতে পেরেছে বিএনপি-জামায়াত ভারত জুজু ও ভারতীয় আগ্রাসনের ধূঁয়ো তোলে, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্নের আশঙ্কা জাগিয়ে তোলাটা ছিল তাদের ঠকবাজির ব্যাপার। মানুষ যতই জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে, ততই রাজনীতি সম্পর্কে তাদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। তারা এখন বোঝতে পারছে একবিংশ শতাব্দির তথ্য প্রযুক্তির সুপার হাইওয়ের এ যুগে এবং বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির বাস্তবতায় কোন রাষ্ট্র ইচ্ছে করলেই তার প্রতিবেশি রাষ্ট্র সে রাষ্ট্র যতই দুর্বল হোক না কেন তা দখল করে নিতে পারে না।

বাংলাদেশে বিভিন্ন সাধারণ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশ হিন্দু রাষ্ট হয়ে যাবে, মসজিদে মসজিদে আযানের পরিবর্তে উলুধ্বনী শোনা যাবে; বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বলতে কিছু থাকবে না। শান্তি চুক্তির ফলে ফেনি পর্যন্ত ভারতের দখলে চলে যাবে। আওয়ামী লীগ ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে দেবে। বাংলাদেশে মুসলমানরা আর দাড়ি-টুপি নিয়ে রাস্তায় বের হতে পারবে না। বাংলাদেশে পুরোপুরিই রামরাজ্য হয়ে যাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু মানুষ কি দেখল? মানুষ দেখলো পঁচাত্তরের পরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দুই দুইবার করে ক্ষমতায় এলেও কোনো মসজিদেই আযানের পরিবর্তে উলুধ্বনী শোনা যায়নি। জনগণ দেখলো শান্তি চুক্তির কারণে ফেনি পর্যন্ত ভারতকে ছেড়ে দেওয়া হয়নি। বরং বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, ফেনি থেকে চার বার নির্বাচিত হয়ে দুইবার প্রধানমন্ত্রী ও দুইবার বিরোধী দলীয় নেত্রী নির্বাচিত হয়েছেন। দেশের জনগণ দেখলো হাসিনা দুইটার্মে ক্ষমতায় এসে ভারতের কাছে দেশতো বিক্রি করে দিলই না উপরন্তু ভারতের কাছ থেকে গঙ্গার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়, সিটমহল সমস্যার সমাধানসহ দু’দেশের মধ্যে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। আর শেখ হাসিনার আমলে মসজিদে উলুধ্বনীতো শোনা যায়ইনি, বরং মুসলমানদের ধর্মপালনে অধিক সুযোগ সুবিধা সৃষ্টির পাশাপাশি চিরদিনের পশ্চাৎপদ ও অবহেলিত মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়নের ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে সাধারণ শিক্ষার সমমানে উন্নীত করেছেন এবং মানুষের দাড়ি ও টুপির আরো সুরক্ষা করেছেন।

বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে আমরা কি দেখেছি, দেখেছি বাংলাদেশকে ভারতীয় বাজারে পরিনত করেছে। শান্তির ধর্ম ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে ইসলাম ধর্মকে জঙ্গিধর্মে পরিনত করেছেন। আর জঙ্গিলালনে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর সহযোগিতা নিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সুসম্পর্ক নষ্ট করেছেন। ভারতীয় জুজুর ভয় দেখিয়ে বিএনপি-জামায়াতের প্রিয় পাকিস্তানও একইভাবে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে জন্মলগ্ন থেকেই। সেটা ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপি-জামায়াতের মধ্যেও চলে এসেছে। বাংলাদেশের ২০১৪ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবেশী দেশ ভারতকে আস্তায় নিতে ভারত সফরে গিয়ে অঙ্গিকার করে এসেছিলেন ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়লাভ করে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ভারতীয় কোনো বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না; ঠিক একই অঙ্গিকার তিনি করেছিলেন ২০০১ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালেও। তখন ভারতের কাছে বিএনপি নেত্রীর অঙ্গিকার ছিল বাংলাদেশে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী বা ভারতবিরোধী জঙ্গি সন্ত্রাসিদের কোনো আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না। কিন্তু ২০০১ সালের শালসা মার্কা নির্বাচনের কল্যাণে বিএনপি-জামায়াত রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসার পর আমরা দেখলাম, তারা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতকে দেয়া তাদের অঙ্গিকারের কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে বা অঙ্গিকার ভঙ্গ করে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য বাংলাদেশকে স্বর্গরাজ্যে পরিনত করেছেন। সেই সময় অনুপ চেটিয়াসহ তামিল টাইগারদের শীর্ষনেতারা অবাধে বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন সেই সময় বাংলাদেশ ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীর অভয়ারণ্য। সেই সময়েই বাংলাদেশে অস্ত্র চোরাচালানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনাটি ঘটে। আইএসআইয়ের সহযোগিতায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ভারতীয় ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে তুলে দেয়ার জন্য ১০ ট্রাক অত্যাধুনিক অস্ত্র চোরাচালানের করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম। ভাগভাটোয়ারায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে অস্ত্র খালাস শেষ হওয়ার আগেই পুলিশেরই কোনো সদস্য বা অধস্তন কোনো কর্মকর্তা অস্ত্র চোরাচালানের বিষয়টি ফাঁস করে দেয়। পরে বিষয়টি ধামাচাপ দেওয়া হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে অস্ত্রপাচারের প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য মামলাটি পুনরুজ্জীবিত করলে কেঁচো খুড়তে সাপ বেরিয়ে আসতে থাকে। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, এই চোরাচালানের ঘটনার সাথে লুৎফুজ্জামান বাবরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়, তারেক রহমানের হাওয়া ভবন, মতিউর রহমান নিজামীর শিল্প মন্ত্রনালয়ই শুধু নয় খোদ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কার্যালয় পর্যন্ত জড়িত। এই কারণেই হয়তো এতবড় অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়া সম্ভব হয়েছিল।

বিএনপির ভারতবিরোধিতা নতুন কোনো বিষয় নয় দলটির জন্মলগ্ন থেকেই আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধী। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো বিএনপি হলো সেই দল যে দলটি ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের শতভাগ বেনিফিশিয়ারি। সে হিসেবে বিএনপির আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার। সে জন্যেই ১৯৮১ সালে বিশ্ব জনমত বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রবল চাপে সামরিক শাসক জিয়াউর রহমান দেশে গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হলেও তিনি চাননি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রক্তের উত্তরাধিকার শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ নেতৃত্বে ফিরে আসুক। ১৯৮১ সালে তৎকালীন হোটেল ইডেনে আওয়ামী লীগের যে দিন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়, সেদিন সেনাশাসক জিয়াউর রহমান বঙ্গভবনে নির্ঘুম রাত কাটিয়েছিলে। শেখ হাসিনার দেশে ফিরে আসায় বাঁধা সৃষ্টির জন্যে সামরিক জান্তা জেনারেল জিয়াউর রহমান ও তার প্রশাসনযন্ত্র শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ভারত বিরোধী অপপ্রচারে মেতে ওঠে। শেখ হাসিনা দেশে ফেরার প্রাক্কালে ‘তালপট্টি দ্বীপ’ সংক্রান্ত পাকিস্তানী পুরনো বিবাদ উসকে দিয়ে শেখ হাসিনাকে ভারতীয় সেবাদাস প্রমাণের নানা ফন্দিফিকির করা হয়। জেনারেল জিয়া জনগণকে সাবধান করে দিয়ে বলেন,‘বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন শক্তির সাথে হাত মিলিয়ে বিদেশি শক্তিবর্গ দেশের ভিতর বিশংখলা ও অশান্তি সৃষ্টির জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর ভারতের আগ্রাসন জুজুর ভয় দেখিয়ে তথাকথিত বিপ্লব ও সংহতির নামে খালেদ মোশাররফকে হত্যার মাধ্যমে ক্ষমতার রাজনীতিতে যে জিয়ার অভিষেক, এবং ভারতবিরোধীতাকে পূঁজি করে শুরু হয়েছিল বিএনপির রাজনীতি; সেই বিএনপি এখন ভারততোষণে ব্যস্ত হয়ে। যা আমাদের মতো নালায়েকদের ধান্দায় ফেলে দিয়েছে। কেননা জন্মলগ্ন থেকেই পাকিস্তান প্রীতি ও ভারতবিরোধীতাই ছিল যে দলটির নীতি সেই দলের চেয়ারপার্সান বেগম খালেদা জিয়া যখন ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন,‘পেছনে নয় তাকাতে হবে সামনে, এবং ভারত সফর নতুন দিনের সূচনা করেছে।’

এতসবের পরও বিএনপি ভারতে আস্থায় নিতে পারেনি। কারণ ভারত ভাল করেই জানে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপি মুখে যত ভাল কথাই বলুক না কেন, বিএনপি আসলেই পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের আর্শীবাদপুষ্ঠ। বিশেষ করে বিএনপির জন্ম ইতিহাসের সাথেই রয়েছে ভারতবিরোধীতার বীজ প্রোথিত।গত লোকসভা নির্ববাচনে কংগ্রেসের ভরাডুবির পর বিএনপি ও তার মিত্ররা ভেবেছিল, বিজেপি নিরঙ্কুশ বিজয়ের মাধ্যমে তাদেরই জয় হয়েছে, একটি সাম্প্রায়িক দল হিসেবে বিজেপি সরকার বাংলাদেশের বিএনপির প্রতি হাত বাড়িয়ে দেবে, এবার শেখ হাসিনার কপালে দুঃখ আছে। কেননা, বিদায়ী কগ্রেসের নেতৃত্বাধীন জোটের আওয়ামী লীগের প্রতি দুর্বল থাকার কারণে এত সন্ত্রাস ও নাশকতা করেও শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটাতে পারেনি। উল্টো শেখ হাসিনার কৌশলী রাজনীতির কাছে চরমভাবে পরাজিত হয়ে এখন কপাল চাপড়াচ্ছে। নির্বাচনে জয়ী বিজেপি নেতা মোদি নাকি বিএনপি নেতা তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণও জানিয়েছিলেন। তারেকের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে এই আমন্ত্রণের খবর ফলাও করে প্রচারও করা হয়। আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের মিত্র ভারতীয় কংগ্রেস সাধারণ নির্বাচনে পরাজিত হওয়ায় বিএনপি-জামায়াত জোট এবং বিএনপি ঘরানার বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে অতি আনন্দ পরিলক্ষিত হলেও ভারতের রাজনৈতিক দলগুলো যে বাংলাদেশের দলগুলোর মতো হঠকারী ও হুজুগে নয়, সেটিই প্রমাণ হলো নরেন্দ্র মোদি সরকারের অবস্থানের মধ্য দিয়ে। প্রতিবেশী দেশটির শীর্ষ নেতারা শত্রু-মিত্র চিনতে ভুল করেন না। সে জন্যই দু’দেশের সম্পর্ক এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সুদৃঢ়। ভারতের বিগত সাধারণ নির্বাচনে বিজেপি’র নিরঙ্কুশ জয়ের পর এদেশের ভারতবিরোধীরা ভেবেছিলেন, এই বুঝি প্রকারান্তরে তাদেরই বিজয় হলো। বিজেপির জয়ে বিএনপির উচ্ছ্বাস এবং নেতাদের অভিনন্দন বার্তা নরেন্দ্র মোদির কাছে পৌঁছেছিল ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ এবং বাংলাদেশ সরকারের আগেই। নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করে অভিনন্দন জানান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া ও তাঁর পুত্র তারেক রহমান।

বিএনপি সমর্থিত কিছু ভারিতবিরোধী রাজনৈতিক দল ও ভারতবিরোধী মনোভাবের বুদ্ধিজীবীও ভারত বন্দনায় মেতে ওঠে এবং বর্তমানে তারা ভারতকে হিসেবে রেখেই কথা বলছেন। বর্তমানে তাইতো বিএনপি তাদের বুদ্ধিজীবীরা ভারতের অনুগ্রহ লাভে রীতিমতো মরিয়া। বিরোধিতা আর নয়, বরং উল্টো তাঁরা বৃহৎ প্রতিবেশী দেশটির আশীর্বাদ চাইছেন। সম্প্রতি বিএনপির অবরোধ ও নাশকতা কেন্দ্রীক রাজনীতিতে বিএনপি বিজেপি প্রধান অমিত শাহর ফোন নিয়ে যে কেলেঙ্কারীর জন্ম দিয়েছে, তাতে চায়ের কাপে রীতিমতো ঝড় বয়ে যাচ্ছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ নাকি খালেদা জিয়াকে ফোন করে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেনি। অথচ, বিএনপি নেতারা ফলাও করে এ সংবাদটি গণমাধ্যমে প্রচার করে। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা সাময়িক চাঙ্গা হলেও তা চুপসে যেতে সময় লাগেনি। এ বিষয়ে ভারতীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে বিএনপির নেত্রীর সাথে ভারতীয় জনতা পার্টির সভাপতির ফোনালাপের বিষয়টি অস্বীকার করে বিষ্ময় প্রকাশ করে। ফলে ভূয়া ফোনালাপের বিষটি বিএনপির জন্য বুমেরাং হয়।

তাহলে বিএনপির এতদিনে শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে যে, উপমহাদেশের রাজনীতিতে কোন বড় ধরনের গুণগত পরিবর্তন ঘটে গেছে। ভারতবিরোধিতার সেই পুরনো কার্ড দিয়ে খেলাটা আর জমবে না। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বৈরী রেখে এদেশে ক্ষমতার রাজনীতিতে আর সুবিধা করা যাবে না। সে কারণেই এখন চলছে উল্টো ভারতের প্রতি বিশ্বস্ত হবার প্রতিযোগিতা। চরম ভারতবিরোধী বিএনপির এখন ভারততোষণ নীতির করুণ হাল দেখে।

সবশেষে এই বলেই নিবন্ধের ইতি টানতে চাই যে, আওয়ামী লীগের জন্যে বিএনপির বর্তমান ‘ভারততোষণ নীতি’ ‘শাপে বর’ হলো এই কারণে যে, আগামী আগামীতে বিএনপি আর আওয়ামী লীগকে ‘ভারতের দালাল’ বলে গালাগাল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ পাবে না; উল্টো আওয়ামী লীগই বিএনপির বিরুদ্ধে ভারততোষণের তরতাজা অস্ত্রটি ব্যবহারের সুযোগ পাবে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে।